
১
স্বাধীনতা ছাড়া এতসুখ পেতাম কোথায় ?
ধ’রে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেব
নতুবা মেরে হিন্দুস্থান
‘তোর বাপের দেশে গিয়ে কথা বল
রাতদুপুরে সবুজ আলো, ‘মাইরি বলছি, এক্কেবারে ডাঁশা। খুলে ফেলো দেখি তালা’।
গাছের ডালে ডালে ঢিল বেঁধে টাঙিয়ে দিয়েছি ইচ্ছে গুলো। “জয় শ্রীরাম অথবা আল্লাহ আকবর” – সব দোষ ওই লালমুখোদের … ফাটাও গলা।
“সারে জাঁহাসে আচ্ছা”।
হা হা, স্বাধীনতা ছাড়া এতসুখ পেতাম না মশায় –
পতাকা উঠল, জাতীয় সঙ্গীত হল , সফল মানুষের বক্তৃতা শুনে পা থেকে মাথা পর্যন্ত শিহরন জাগল।
সবচেয়ে আনন্দিত হল পাড়ার টমিরা। দু’টাকার লেড়ো বিস্কিট চিবোতে চিবোতে বেপাড়ার ঘেয়োদের মাল্যদান করল…
আবহে ‘যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।
স্বাধীনতা ছাড়া এত সুখ কোথায় পেতেন বলুনতো –
আহা, বেচারী বউটা। সংসারে শালীনতা টালিনতা মেনে চলতেই হয়। নোককি পিতিমা । শপিংমলে নাকি জিন্স টপে ফিফটি ফিফটি অফার ! মন্দিরে পুজো দিয়ে সমুদ্রে একটু ঘুরবে টুরবে। মাত্র দু’দিনেরতো ব্যাপার। কখনও বা আড়াল খুঁজে ফেসবুকে সাঁতার। একটুখানি আকাশ যেন বিশল্যকরণী।
” মা তুঝে সালাম”।
স্বাধীনতা স্বাধীনতা স্বাধীনতা
‘সুপার থার্টি’ দেখেছেন ? দেখে নিন, চাষার ছেলে কেমন করে যাচ্ছে নাসা। জিত চায় অনেক হয়েছে, ‘ওরা নয়, এবার আমরা’। লাব্রাডর পুষেছি – জিঘাংসা। মাইকিং করে গেল, ‘কাল রক্তদান’ সঙ্গে কাঙালগীতি ভজনা। ‘আসিস কিন্তু, মিডিয়া আসবে’ – সঙ্গে গিফ্ট। টিভিটা একটু খোলতো… ভাষণ দেখি। ওহ, সুবিধা পেলে কথা বলা মানা।
” বন্দে মাতরম”।

২
মোড়ে মোড়ে জটলা
গণমাধ্যমগুলি হরিনামের বাতাসা বিলি করছে পাড়ায় পাড়ায়
বদলে যাচ্ছে স্বাধীনতার ঠিকানা
স্থান-কাল-পাত্র তিনশ সত্তর নং উপত্যকা।
একটু পড়েই শুরু মাতাল হাওয়া
প্রতিবাদ কিংবা উল্লাস
সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃস্টি
মুহূর্তেই আবার চকচকে অনাত্মীয় ইতিহাস
পূর্বাভাস আবহাওয়ার।
কালো কালো শব্দে সাজানো বিষাদ সম্ভার
ঝরছে
ঝরছে
ঝরছে চিনারের পাতায় পাতায়
কাঁপছে দেহ , খামচে ধরছে শ্রাবণ শীতলতা
ধুয়ে যেতে যেতে ভস্ম মিশে যাচ্ছে শতদ্রু ধারায় ….
“স্বাধীনতা কাকে বলে , ও মরদ ?
ভালোবাসার ব্যথা … !”
যে মেয়েটা একদা পেরিয়েছিল দেশের সীমানা
তাঁর বুঝি কোনো জন্মভূমি থাকতে নেই …
এমন চুক্তির মেয়াদ যাক না ফুরিয়ে
কলহন নতুন সুরে বাঁধুক রাজতরঙ্গিনী কথা।
মোড়ে মোড়ে জটলা
গণমাধ্যমগুলি হরিনামের বাতাসা বিলি করছে পাড়ায় পাড়ায়
বদলে যাচ্ছে স্বাধীনতার ঠিকানা
স্থান-কাল-পাত্র তিনশ সত্তর নং উপত্যকা।

৩
ধাক্কা খেতে খেতে অফিস। ঘন ঘন বেজে ওঠে ফোনটা। মেঘেরা উড়ে যায় । ঠিক সোয়া দশ’ টা। ‘দিনকাল ভালো নয় – আমারও তো চিন্তা হয় – পৌঁছে খবর দিস – একটা।’
স্বাধীনতার আশিস – অফার চলছে ভ্যারাইটিস। সরোদে ‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা’। ‘সুযোগটা হাতছাড়া করিস না – কিনে নিস দু’চারটে টপ আর জিন্স।’
দাদার হোয়াটসআপ – ‘হুররে ! পেয়ে গেছি গ্রীন কার্ড। ইউ এস সিটিজেনশিপ।’ মা’কে একটু জানাস প্লিস।’ আজ রাতে জমে যাবে খিচুড়ি হিলসা – ফিরে যাক চাইনিজ।
‘থাক থাক – তোরাই বরং খেয়ে নিস। কাল মঙ্গলবার। আমার যে নিরামিষ”।
পিঠে কালসিটে। সবিতা ছুটি নেবে। জিজ্ঞেস করছিল, ‘স্বাধীনতা কী জিনিস?’ প্রভাতফেরিতে বন্দেমাতরম। ‘ওকে না হয় একটা ঝান্ডা ধরিয়ে দিস।’
বিভাজিত কোষ – তুমি আমি পরাজিত সৈনিক। দেশপ্রেম বড়ো সেকেলে। প্রয়োজনই শেষ কথা – বলছে কালের ব্যথা – ভোরের সৈনিক।


