শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Category: কবিতা

  • নবজাতক

    নবজাতক

    বৃষ্টির অ্যাবস্ট্র্যাক্ট প্রচ্ছদ ছিঁড়ে জেগে উঠছো তুমি,মেঘের কিনারে ঝুলে থাকে ক্ষুধানিবৃত্তির আলো,সেই দীপ্তি যেন অনিবার চৈতন্য মন্থনের।সমস্ত দুর্বিপাকের মধ্য থেকে কীভাবেটেনে আনো নতুন পথের দিশা!ফিউশনে জেগে ওঠে অনন্ত পরমাণুর মহিমা,ভিজে মাটির ভিতরে সতেজ ভ্রুণের ঘ্রাণেমাতৃত্বের নিমগ্ন প্রত্যাশার আনন্দ!অভিসন্ধির বিবর্ণ আগাছার বাড়বাড়ন্ত-এগিয়ে চলতে গেলে পায়ে জড়ায়অবাঞ্ছিত গুল্মলতা! মনে হয় কোনও হনন মুহূর্ত এসেনীল মৃত্যুর মতো জড়িয়ে…

  • একগুচ্ছ হাইকু

    একগুচ্ছ হাইকু

    [জাপানি হাইকু-র ছন্দ, অক্ষর মেনে চলে না, চলে দল বেঁধে অর্থাৎ syllabic। তিনটি পঙক্তিতে বিন্যস্ত:প্রথম পঙক্তিতে ৫টি দল , ২য় তে ৭টি দল,৩য় পঙক্তিতে ৫টি দল , মোট ১৭টি দল থাকে । সেই অর্থে হাইকুকে বাংলায় দলবৃত্ত ছন্দও বলা যেতে পারে যদিও অধিকাংশ হাইকু লেখক নিজের নিজের মর্জি অনুযায়ী লেখেন।] [A Japanese poem of seventeen…

  • বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (১)

    বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (১)

    [এটি বাঙালির একশো বছরের অর্থাৎ বঙ্গাব্দের চতুর্দশ শতকের ইতিহাসের একটি ধারাবিবরণী। গ্রামীন কথকতার আসরে যেভাবে সাধারণত পাঁচালি গান পরিবেশিত হয়, এটি তার উপযোগী করে রচনা করা হয়েছিল এই শতকের শুরুতে। পাঁচালির মাঝে মাঝে যাতে বিশিষ্ট রচয়িতাদের কবিতা বা গান সংযোজন করা যায়, তার দিকে লক্ষ রেখেই পাদটীকায় বিভিন্ন গানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাঠ্য রচনা…

  • ফাঁদ

    ফাঁদ

    ১ মাস্টারমশাই শিখিয়েছিলেন কীভাবে ভয় পেতে হয়মা বাবা বাড়ির বড়োরাও সকাল বিকেল সন্ধ্যা পাখিপড়া করে মুখস্থ করিয়েছিলেন ভয় পাওয়ার ইতিবাচক ফলাফল…. পাশের বাড়ির অকেজো লোকটা জীবন দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিল ভয় না পেলে সমাজ সংসার কীভাবে তলিয়ে যায় স্পর্ধার আকাশে…… প্রত্যেকটা বস সদর্পে ঘোষণা করেছে,“ভয়, না পেলে বেরিয়ে যাও।” ভয় পেতে পেতে কবেই হারিয়ে ফেলেছি ভাষা…

  • ব্রাত্যজন

    ব্রাত্যজন

    শ্রী দেবব্রত বিশ্বাস, চিরঞ্জীবেষু সেদিন মৃত্যু কণ্ঠ রুদ্ধ গানের ভিতর,বরফের মতো ধ্বনিহীন নীল অভিমানী স্বর,ভিতরে ভিতরে স্তব্ধ গানের স্থির কল্লোলতার ছিঁড়ে যাওয়া যেন তানপুরা শূন্য অতল। ব্রাত্যজনের রুদ্ধ তখন রবীন্দ্রনাথ,মৌন খসিয়ে নেমে আসছিল অনন্ত রাত। এই স্তব্ধতা ক্ষান্ত বজ্র-মেঘ গর্জনে,ভাটিয়ালি সুর ভাঁটার টানেতে দূর থেকে দূরে,বৃষ্টিক্লান্ত মেঘ ভাঙা জল নীলাঞ্জনের,জল তার গানে রেশ রেখে যায়…

  • বিলীন হওয়ার আগে

    বিলীন হওয়ার আগে

    সুস্বাস্থ্য ধানের মতো আমাদের জীবনগুলোআরো বেশি সোনালি হতে পারতো।শুকনো নদী পেতে পারতো আরেকটু জল,আকাশ হতে পারতো আর একটু নীল।রুদ্ধ দরজাগুলোতে মাঝে মাঝে শুনিঝোড়ো হাওয়ার অভিঘাত!অথচ ভয়ের মুখোশ পরে বসে আছি।মাঝিভাই নৌকা ভিড়াও-কূলে কূলে ভেসে থাকার বিলাসিতা আর নয়,চলে যাব মাঝদরিয়ায়।দুরন্ত ঢেউয়ের ঝুঁটি চেপে ধরবশিশুর মতো হেসে হেসেবিলীন হয়ে যাওয়ার আগেসমুদ্র-দানোকে শান্ত করার স্পর্ধা দেখিয়েমিশে যাওয়া…

  • দুটি কবিতা

    দুটি কবিতা

    এটুকুই দুচোখে দুচোখ রাখাঅনৃত মায়ায়বেঁধে নেওয়া ভঙ্গুর সময়এটুকুই, আর কিছু নয় ঋণ তুমি চলে গেলেতোমার পদচ্ছাপ নেওয়া হল না তুমি চলে গেছআমি দিক-ভোলা বোষ্টুমির মতোভর দুপুরে পা ছড়িয়ে বসে গান গাইদাওয়ার চারপাশে মাধবীলতা আর সন্ধ্যামালতি লাগিয়েছিপথ ভুলে আস যদিনীলকমল হৃদয়টির সাথে কচি-গোলাপ রঙঅঞ্জলির অভাব হবে না তুমি এলে না, আসবে না আরতবু আমি অপেক্ষায় থাকি…সাঁঝঘরের…

  • মেঘদূত ভাবানুবাদ (পর্ব – ১০)

    মেঘদূত ভাবানুবাদ (পর্ব – ১০)

    পূর্বকথনঃ–ধনপতি কুবের। কৈলাসে তার আবাস। নগরীর নাম অলকা। পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের ধাম। সুউচ্চ প্রাসাদ ভবন নগরীর আকাশকে স্পর্শ করছে। ভবনের ছাদ শিখীর নৃত্যে ছন্দিত। মধুপ গুঞ্জরিত শতশতদলে সরোবরগুলি সদা আন্দোলিত। রাত্রি নিত্য জ্যোৎস্নাজড়িত। আনন্দাশ্রুছাড়া নয়নসলিল সেখানে বিরল। আর বয়স তো যৌবনেই আবদ্ধ। কুবেরের কর্মসচিব যক্ষ। তরুণবয়স সদ্যপরিণীত। সুন্দরী বধূটি। তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা, তন্বী, শিখরীদশনা,পাকা বিম্বফলের মতো অধর।…

  • বাদশা খান- শেষ অভিবাদন

    বাদশা খান- শেষ অভিবাদন

    তোমাকে কখনও দেখিনি খবরকাগজ বা বইয়ের পাতার বাইরে,তবু জানতাম, তুমি আছ —আমাদের জন্মের সাথে পাওয়া আরও কতো সম্পত্তির মতো।তথ্যচিত্রে দেখেছি তোমাকে মুক্তিযুদ্ধের অধ্যায়গুলো জুড়ে ভাস্বর…দেখেছি- কত লম্বা হয়েও গান্ধীর পেছনে অনুগমনে নত তোমাকে,দেখেছি তোমার সামনে নেহরুও কত খাটো– চেষ্টা করে হাত রাখছেন তোমার কাঁধে.ছবিতে দেখেছি, তুমি দাঁড়িয়ে আছ সুভাষচন্দ্রের পাশে,যেন অগ্নির পাশে প্রাচীর– পূর্বের পাশে…

  • মেঘদূত ভাবানুবাদ (পর্ব – ৯)

    মেঘদূত ভাবানুবাদ (পর্ব – ৯)

    পূর্বকথনঃ–ধনপতি কুবের। কৈলাসে তার আবাস। নগরীর নাম অলকা। পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের ধাম। সুউচ্চ প্রাসাদ ভবন নগরীর আকাশকে স্পর্শ করছে। ভবনের ছাদ শিখীর নৃত্যে ছন্দিত। মধুপ গুঞ্জরিত শতশতদলে সরোবরগুলি সদা আন্দোলিত। রাত্রি নিত্য জ্যোৎস্নাজড়িত। আনন্দাশ্রুছাড়া নয়নসলিল সেখানে বিরল। আর বয়স তো যৌবনেই আবদ্ধ। কুবেরের কর্মসচিব যক্ষ। তরুণবয়স সদ্যপরিণীত। সুন্দরী বধূটি। তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা, তন্বী, শিখরীদশনা,পাকা বিম্বফলের মতো অধর। হরিণনয়না, ক্ষীণকটি, নিম্ননাভি। যক্ষের কাজে ঘটে প্রমাদ। মন চলে যায় নিজ কক্ষের বাতায়নপথে। তার কর্মশৈথিল্যে ক্রুদ্ধ কুবের ধৈর্য হারালেন। নির্বাসন দিলেন অলকা থেকে রামগিরি আশ্রমে ।একাকী যক্ষ চলে এলেন সেই আশ্রমে। ক্ষীণদেহ, প্রিয়াবিযুক্ত। কণকবলয় হাত থেকে যাচ্ছে খুলে। ঘনিয়ে এল নীল নব মেঘমালা নিয়ে আষাঢ় মাস। জনপদে যবে প্রবেশিবে তুমি ব্রহ্মাবর্তনাম, দেখিবে ক্ষাত্রসংঘাতক্ষত কুরুক্ষেত্র ধাম। শতদলপরে বর্ষণসম তব, রাজন্যগণে বিদ্ধ করেন অর্জুন পান্ডব। স্বজনের প্রতি প্রীতি পরবশ বলরাম, ত্যজিয়াছিলেন রেবতীলোচন বিম্বিতসুরাপান সরস্বতীর স্বাদু জলপানে তৃপ্ত তাঁহারই সম, বাহিরে কৃষ্ণ, অন্তরে শুচি হইও হে অনুপম। কনখল থেকে নাতিদূরস্থ হিমালয় অবতীর্ণা গঙ্গাসমীপে যাইও হে মেঘ, জহ্নুমুনির কন্যা। একশত ষাট সগরতনয় যাহার পুণ্যপরশে,…