Category: কবিতা

জীবনানন্দ
দ্রোহের আগুনে পুড়ছিল জীর্ণতা ,স্থবির আঁধার, স্বপ্ন, পুরাণ কথা,বিনির্মাণের তীব্র সে ঝঙ্কারশব্দে পয়ারে বেজেছিল বোধে তাঁর। ক্রমশ একাকী নিজেরই মুদ্রাদোষে ,নির্জনতার সেতার রক্তকোষে,ভাঙনের তীরে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেনস্থির আঁধারের বুকে বনলতা সেন । ধানসিড়ি আজও পউষের জ্যোৎস্নায়,পৃথিবী প্রবীণ মিরুজিন নদীতীরে,তবুও রক্ত-রণ-উন্মাদনায়ঘুরে ঘুরে ফেরে আপন নষ্ট নীড়ে। হাজার বছর জোনাকির মতো জ্বলে,মহাপৃথিবীর মৃতদের কলরোলেনিহিত সত্য মৌন অন্ধকার –…

উত্তরের জাহাজ
তিনটে জাহাজ হাওয়া ভরা পালে বেঁধে নিল দূরপাল্লা, বুড়ো ক্যাপ্টেন বুকে ক্রশ আঁকে, সারেঙরা হাঁকে আল্লা। কুন্ডলী পাকে অজগর বাঁকে ক্ষ্যাপা ঢেউ বুঝি গিলে খায় – পাগলা হাওয়ার তালতরঙ্গে তটিনী-নটিনী নেচে যায়। খুশীর তুলিতে ব্যাথার ইজেলে লোহিত-নীলাভ বীতশোক ; জাহাজ চলেছে বারদরিয়াতে, এপারে,ওপারে বহু লোক। প্রথম জাহাজ পশ্চিমা মুখে চকমকী চরে নোঙ্গর পায়, বরফে বাঁধানো…

ঘুণ
ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l ভোট ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l তামঝাম ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l রোশনাই ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l রক্ত মুখ ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l উৎসব ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l পিশাচ ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l খুন ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l বলাৎকার ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l সমন্বয়…

ভেঙে যায় শব্দের অহঙ্কার
পোস্টঅফিসের মোড়ে হঠাৎ দেখলাম তাঁকেশব্দহীন জটলায়। ব্যস্ত শহর।গাড়ির হর্ন।পথচারীর হন্তদন্ত হেঁটে যাওয়া —সমস্ত কোলাহল অতিক্রম করে বক্তব্য রাখছেন তিনিনির্বাক ঈশারার অমোঘ সংকেতে।সামনে ফেস্টুন হাতেশব্দের জগৎ থেকে নির্বাসিত নাগরিক ভিড়।প্রতিবাদ আর প্রত্যয়ের অভিব্যক্তি মুহুর্মুহু জেগে উঠছেশব্দকে অতিক্রম করে যাওয়া ভাষাহীন মুখে। ওরা দেখেনিচারপাশের সব আলো যেন নিভে এলোঅন্ধকার জনারণ্যে জেগে রইল সেই নিঃশব্দ ভিড়আরমৃত জোনাকির মতো…

একটি অবিস্মরণীয় কবিতার জন্ম
৯ মে, ১৯৩৮। ফ্লোরেন্স শহরের Teatro Comunale এ এক মহা আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে মিলিত হবে ইতিহাসের দুই কুখ্যাত নায়ক। একটু আগেই ফ্লোরেন্সের Via del Corso দিয়ে ঝড়ের বেগে বেরিয়ে গেছেন কবির ভাষায় “un messo infernale” নরকের এক দূত। উন্মত্ত আলালা আলালা ধ্বনির সঙ্গে স্বর সংগতি রেখে আর্ণো নদীর রাগী ঢেউগুলি তীরভূমিতে আছড়ে…

কোথায় এসেছিলাম কী রেখে যাব
মিথ্যে বললে চড় খেতে হত,গুরুজন ও শিক্ষকের প্রতি আনুগত্য ছিল নিষ্প্রশ্ন,সাত সমুদ্র তেরো নদীর রূপকথা ছিল,যোগ্যকে সম্মান করার সহবৎ,জ্যান্ত ট্যাংরা কুড়ি টাকা কেজিতে,সঞ্চয়িতা আর সঞ্চিতা ছিল ধর্মগ্রন্থ। একটি প্রবাদ শুধু যোগসূত্র।আগে ছিল আভিধানিক,এখন প্রয়োগে প্রকৃষ্ট উদাহরণ –চোরের মায়ের বড় গলা।চোখের আড়ালে হিমবাহরা গলে চলেছে,সমুদ্রে জল বাড়ছে সারাক্ষণ;অনুভূমিক বাসস্থান দ্রুত কমছে,সব নবনির্মাণ বিপজ্জনকভাবে উল্লম্ব;সৃষ্টি ফিরছে ধ্বংসের…

শ্রী ঈশ্বরচন্দ্র শর্ম্মাকে নিবেদিত দুটি কবিতা
কে যায় ? তিনি হেঁটে চলেছেন। দৃপ্ত পদক্ষেপ। ইস্পাতের মতো দৃঢ় শিরদাঁড়া, সোজা। মাথা উঁচু। সূর্যের দিকে হেঁটে যাওয়া দীর্ঘতম বৃক্ষের মতো।



