শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Category: বিষয়

  • দুটি কবিতা

    দুটি কবিতা

    এটুকুই দুচোখে দুচোখ রাখাঅনৃত মায়ায়বেঁধে নেওয়া ভঙ্গুর সময়এটুকুই, আর কিছু নয় ঋণ তুমি চলে গেলেতোমার পদচ্ছাপ নেওয়া হল না তুমি চলে গেছআমি দিক-ভোলা বোষ্টুমির মতোভর দুপুরে পা ছড়িয়ে বসে গান গাইদাওয়ার চারপাশে মাধবীলতা আর সন্ধ্যামালতি লাগিয়েছিপথ ভুলে আস যদিনীলকমল হৃদয়টির সাথে কচি-গোলাপ রঙঅঞ্জলির অভাব হবে না তুমি এলে না, আসবে না আরতবু আমি অপেক্ষায় থাকি…সাঁঝঘরের…

  • মেঘদূত ভাবানুবাদ (পর্ব – ১০)

    মেঘদূত ভাবানুবাদ (পর্ব – ১০)

    পূর্বকথনঃ–ধনপতি কুবের। কৈলাসে তার আবাস। নগরীর নাম অলকা। পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের ধাম। সুউচ্চ প্রাসাদ ভবন নগরীর আকাশকে স্পর্শ করছে। ভবনের ছাদ শিখীর নৃত্যে ছন্দিত। মধুপ গুঞ্জরিত শতশতদলে সরোবরগুলি সদা আন্দোলিত। রাত্রি নিত্য জ্যোৎস্নাজড়িত। আনন্দাশ্রুছাড়া নয়নসলিল সেখানে বিরল। আর বয়স তো যৌবনেই আবদ্ধ। কুবেরের কর্মসচিব যক্ষ। তরুণবয়স সদ্যপরিণীত। সুন্দরী বধূটি। তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা, তন্বী, শিখরীদশনা,পাকা বিম্বফলের মতো অধর।…

  • ডঃ কৃষ্ণেন্দু সেনগুপ্তর মরমী কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের দুঃখ জয়ের গান

    ডঃ কৃষ্ণেন্দু সেনগুপ্তর মরমী কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের দুঃখ জয়ের গান

    রবিচক্রের কবি-স্মরণের অনুষ্ঠানঃ আগস্ট, ২০২২। “রবীন্দ্রনাথের দুঃখ জয়ের গান” অভিধায় এগারোটি গানের এক অসামান্য মালা গেঁথেছিলেন রবিগানের বিদগ্ধ শিল্পী ডক্টর কৃষ্ণেন্দু সেনগুপ্ত রবিচক্রের সান্ধ্য আসরে। রবীন্দ্রনাথের গান শ্রোতাকে তার ব্যক্তিগত দুঃখানুভূতিকে অতিক্রম করে পৌঁছে দেয় স্বর্গীয় সৌন্দর্যানুভূতিতে। কৃষ্ণেন্দু বাবুর অন্তর মথিত করা কণ্ঠে ও অনবদ্য গায়কীতে তার স্পর্শ পেয়েছিলেন সেদিনের শ্রোতারা। তাঁর সুনির্বাচিত গানগুলির অনুষঙ্গে…

  • স্বাধীনতা, তুমি কোন্‌ পথে?

    স্বাধীনতা, তুমি কোন্‌ পথে?

    স্বাধীনতা! লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্ত-রঞ্জিত স্বাধীনতা। কত কত একনিষ্ঠ দেশসাধকের বুকের মধ্যে প্রতিনিয়ত স্পন্দন তোলা স্বাধীনতা। হাজার হাজারকবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-দার্শনিকের মননসাধনায় জারিত স্বাধীনতা। কত কত নাম-না-জানা ইতিহাসে স্থান-না-পাওয়াদের সংগ্রামের ফসল স্বাধীনতা। এ’ স্বাধীনতা বড় যত্নে, বড় আদরে, বড় শ্রদ্ধায় লালন করারই তো কথা ছিল। কথা ছিল ওই নাম-না-জানাদের সামনের সারিতে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার। কিন্তু আমরা সেই একাগ্রতা নিয়ে,…

  • পেয়েছি ডাক, চলেছি আমি তাই

    পেয়েছি ডাক, চলেছি আমি তাই

    ছুটির দরখাস্ত তো অনেক আগেই দাখিল করেছেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু ২২ শ্রাবণ ১৩৪৭-এ বসে আর ঠিক একটা বছর পরে ওই দিনটিতেই তাঁর ছুটি মঞ্জুর হবে কেই বা জানত! কেই বা সেদিন ভেবেছিল, কুহেলিকা উদ্ঘাটন করে সূর্যের মতো নূতনের আর প্রকাশ ঘটাতে আসবে আর একটাই মাত্র ২৫ বৈশাখ। ছুটিটা তো তাঁর মিলেইছিল, কিন্তু তাঁর আগে কড়ায়-গণ্ডায় পাওনাটা…

  • পরানের সাথে খেলিব আজিকে- ২ 

    পরানের সাথে খেলিব আজিকে- ২ 

    ” হে রুদ্র, তোমার দুঃখরূপ, তোমার মৃত্যুরূপ দেখিলে আমরা দুঃখ ও মৃত্যুর মোহ হইতে নিষ্কৃতি পাইয়া তোমাকেই লাভ করি…. তোমার সেই ভীষণ আবির্ভাবের সম্মুখে দাঁড়াইয়া যেন বলিতে পারি, আবিরাবীর্ম এধি, রুদ্র বত্তে দক্ষিণং মুখং তেন মাং পাহি নিত্যম।”(মাঘ উৎসবের ভাষণ থেকে, ১৩১৪ সাল) কবির ছোটো ছেলে শমীন্দ্র বেড়াতে গিয়েছিলেন মুঙ্গেরে, কবির এক বন্ধুর বাড়িতে। এগারো…

  • প্রবৃত্তি ও পরিবার

    প্রবৃত্তি ও পরিবার

    ১ ঘরটা প্রায় সারাদিনই বন্ধ থাকে। দরজা, জানলা, আলমারির পাল্লা, নেভা সুইচের সারি, স্নানঘরে শুকনো খটখটে মেঝে, বন্ধ স্টপককের পিছনে থমকে থাকা জল আর তার সমোচ্চশীলতার চাপ – এমনকি শামুকশিশুও আনমনে ঘোরে না, ফেরে না, অনুভবহীনতার সে ফাঁকা জমিতে। এসব সময়েই জন্মদিনের ঘুম ভাঙায় একাধিক ব্যাঙ্কের নানাবিধ বৈধ শুভেচ্ছা – হ্যাপি বার্থডে – তোমার ভবিষ্যৎ…

  • ভিড়

    ভিড়

    “কী আইন বানাইয়া গেল, কী শাসন দেখাইয়া গেলব্রিটিশ সরকারবেরেন খাটাইয়া বানাইছে জেলখানা-আআবেরেন খাটাইয়া বানাইছে জেলখানা-আআআ”দিনিয়া নদীর পাড়ে একটা মোটা পাকুরগাছের নিচে বসে একমনে গান গাইছে রফিক। রথের দিন গোপীনাথ সাহার আটচালায়, কাঠামো পুজো করে মূর্তি বানানো কাজ শুরু হয়েছে। এখন পুজো যত এগিয়ে এসেছে, মূর্তি ক্রমশঃ প্রাণ প্রতিষ্ঠার দিকে এগোচ্ছে। গ্রামের দুয়েকটা বাচ্চা প্রায় রোজ…

  • বিপিনবিহারী গাঙ্গুলী – অগ্নিযুগের এক অনন্য চরিত্র

    বিপিনবিহারী গাঙ্গুলী – অগ্নিযুগের এক অনন্য চরিত্র

    একটি কাহিনি দিয়ে শুরু করি দেশের স্বাধীনতার জন্য নিবেদিতপ্রাণ এক অকুতোভয় মহাজীবনের কথা। ১৯১৫-এর ২  আগস্ট। চব্বিশ পরগণা জেলার আগরপাড়া স্টেশনে বিকেল ৫ টা ১৪-র  ট্রেনে সোদপুরের দিক থেকে নামলেন দুই যুবক ভ্রাতা, ক্ষেত্রনাথ পাল আর ননীনাথ পাল। এঁরা ছিলেন পৌরসভার ট্যাক্স সংগ্রাহক ওরফে সরকার বাবু। দু’জনের সঙ্গেই তখন সারাদিনের সংগ্রহ।  আগরপাড়া স্টেশন থেকে যে…

  • পাহাড়ের দিনলিপি

    পাহাড়ের দিনলিপি

    গত ১৫ ই  জুন ছিল আমাদের কলকাতা থেকে কালিম্পং রওনা হবার দিন। তার কিছু আগে থেকেই শুনছি উত্তর বঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা। কলকাতা আর দক্ষিণ বঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যখন বহুকাল বৃষ্টির দেখা নেই, উত্তর বাংলা তখন ভেসে যাচ্ছে অবিরল ধারাবর্ষণে। অতএব যাত্রাপথে বাধাবিঘ্নের আশঙ্কা যথেষ্ট ছিল, কিন্তু সেরকম কোন সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি। তিস্তাবাজারে পৌঁছেই…