
ছোটবেলা থেকেই বড় ভুলো আমি। এর জন্যে কি কম বকুনি খেয়েছি! মা মুদির দোকান থেকে চিনি কিনতে পাঠিয়েছে, আমি ভুল করে চা কিনে ফিরেছি, তাও বেশ দেড় ঘন্টা পর l আসলে আমি তো ভুলে যাই কিনা, কিসের জন্যে, কেন, কোথায় গিয়েছি l বড়ো হারিয়ে যাই আমি l কেমন যেন নিজের থেকে অনেক অনেক দূরে l বাবা-মা আদর করে ডাকতেন ‘ভুলি’ l তা আমি অবশ্য তাতে কোনদিন কিছুই মনে করিনি l শ্বশুরবাড়িতে নতুন নামকরণ হলো ‘ট্যালা’ l তা বেশ, তাই সই, কিন্তু, এই যে সেদিন বাড়ি ফিরতে গিয়ে যে কি আচমকা ঝামেলিটা হলো, আপনাদের কি আর বলি l বেশ বাজার-টাজার করেছি, ব্যাগ ভর্তি আলু, পটল, মাছ, সব্জি আর তারপর বাড়ির রাস্তাটা বেমালুম ভুলে গেছি l কি আপদ, এখন আমি কি করি ! যাক গে, একজন ভালোমানুষ দেখে ভদ্রমহিলাকে জিজ্ঞাসাই করে ফেললুম, মনে হলো এঁকে বাড়ির কাছাকাছি দেখেছি কখন l ‘আচ্ছা দিদি, আমার বাড়ির রাস্তাটা ঠিক মনে করতে পারছি না, একটু বলতে পারেন ?’ বিশ্বাস করুন, ভদ্রমহিলা কেমন আঁতকে উঠলেন, আর তারপরই এবাউট টার্ন, সোজা গট গট করে উল্টো দিকে হাঁটা দিলেন l আমার কেমন মনে হতে লাগলো, এ আমার বাড়ির কাছের বাজার না l অন্য কোথাও, একটু দূরের বাজার l তখন আর কি করি, বাধ্য হয়ে বাড়িতে ফোন করতে যাচ্ছি, দেখি ছেলের নাম মনে পড়ে না l খুব কাহিল হয়ে দোকানের সামনে খানিকটা বসে পড়লাম l দোকানি ছেলেটা শেষকালে রিক্সা ডেকে আমাকে বাড়ি পাঠায় l বাড়ি চেনে, কারণ ওদের বলে দিলে ওখান থেকে মাসকাবারি জিনিসপত্র পাঠিয়ে দেয় মুটের মাথায় করে l

এই হেন আমি, বাড়ি ফিরেই মনে হলো, যেন রাজ্য জয় করে ফিরেছি l বাব্বা, আর বেরোই? শেষকালে যদি বেমালুম হারিয়েই যাই l নিজের ছবি নিরুদ্দেশ হিসেবে খবরের কাগজের ‘পরে দেখতে চেষ্টা করলুম l উফ্ না না, একগাদা আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব, আর আমি কিনা হারিয়ে গেছি ! কি লজ্জা কি লজ্জা ! যাই হোক, এই সব গুরুগম্ভীর চিন্তা ভাবনা আপাতত মন থেকে বাদ দিয়ে বাজারের খুঁটিনাটিতে মন দিলুম l আলু, পটল, মাছ, ডিম, মাংস সব ঠিক আছে, কিন্তু এ’গুলো যেন কি? এদের কি বলে? কি ফল যে এরা .. উফ্, এই দেখ, পেটে আসে তবু মুখে আসে না … বহুক্ষণ কী ফল, কী ফল করতে করতে হাজার গন্ডা ফলের নাম মনে আসতে লাগলো l শেষকালে সাহায্যকারিনী মেয়ে, মায়াকে ডাকতে হলো l মায়া এসেই চোখ কপালে তুলে বললে, “ও কি গো বৌদি, দু হাতে দুটো আপেল নিয়ে, ও কি করছ l” অ, এই গুলো আপেল, আশ্চর্য এতক্ষণ ধরে ‘আপেল’ নামটা মনে করতে পারলুম না l সাধে কি আর মা বলতেন ভুলি … ঠিকই বলতেন l কিন্তু সে তো মা বলতেন, আমার নামটা যেন কি? আরে সত্যি তো, কি নাম আমার! কি ভাগ্যিস, লেখার টেবিলে আমার নামে আসা একখানা চিঠির খাম ছিল, তাই ঝট করে পড়ে নিলুম l বাব্বাহ্, এতক্ষণে শান্তি! বাড়ি, নাম আপেল সব ঠিকঠাক আছে l যাই স্নানে যাই l

স্নান সেরে এসে টি ভি চালিয়েছি l আজকাল যে কি সব ভালো ভালো বিদেশী অনুষ্ঠান হয় l কাকতালীয় ব্যাপার l ভুলো মন নিয়ে এক আলোচনায় বসেছেন বিশেষজ্ঞরা l তাঁর একটা কি যেন গাল ভরা পোশাকি নাম আছে, কিন্তু এখন বাপু অতশত মনে আসছে না l ওরা একটা টেস্ট দিল l সে আমিও করতে পারি ওদের সাথে সাথে l তিনটি শব্দ, আপেল, টেবিল আর বই এই নিয়ে একটা বাক্য রচনা l সে আর এমন কি l সেই টেস্ট নিলেই বোঝা যাবে আমার ভুলো মনটা কোনো গভীর অসুখের পূর্বাভাস কি না l এ আর এমন কি – ফু: l ওই তো আপেল, টেবিল আর? আর একটা কি যেন শব্দ ? কি যেন শব্দ, কি যেন শব্দ … কয়েক সেকেন্ডও হয়নি, আমি ভুলে গেছি কী শব্দ! হাত তুলে দিলুম, মেনে নিলুম, আমার ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার l আসুন উনি বিকেলে, সব বলতে হবে, তারপর একটা যা হোক কিছু ব্যবস্থা l
সারাদিন আর কিছু ভুললুম না, ওষুধ, তাও খেলুম ঘড়ি ধরে l শুধু একবার ফ্রিজকে টি ভি বলাতে মায়া খুব অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো l টি ভিতে সে মাছ মাংস কি ভাবে ঢুকিয়ে রাখতে পারে, এই ভেবেই বোধহয় l
ছেলে মেয়েরা বাড়িতে ফিরল সন্ধ্যেতে l ওদের বাবার আরও দেরী হয় l মনে হয় উনিই একমাত্র অফিসটাকে উদ্ধার করে দেন হয়ত কাজ করে l ওদের খেতে দিয়ে আমি ওদের সামনে চেয়ারে বসে পড়লাম l এই সময়ে আমরা গপ্পগুজব করি অনেক l সারাদিন অফিসে কী কী হলো, কোন সিনেমা দেখতে যাওয়া যেতে পারে তিনজনে, এই সপ্তাহে উইকেন্ডের মেনু কী হবে, সেজ ঠাকমা কদিন এসে থাকবেন এখানে, তাতে কোন কোন সুবিধে অসুবিধে হবে ওদের, এই সব উনোকটি চৌষট্টি আর কি l কিন্তু আজ আমার মুখ দেখে কিছু টের পেয়েছে ওরা l “কি মা তোমার কাক্কেশ্বর আজ খেতে আসেনি? না কি কুট্টুস ছানার তবিয়ত ঠিক নেই? বাবা কিছু বলেছে ? মায়া পিসি অ্যাবসেন্ট?” এক সাথে প্রশ্নবানের ছররা ওদের মুখ থেকে l আমি মুখ গোমড়া করে বললুম, “আমি না খুব ভুলে যাচ্ছি l” “ওহঃ …….” বলে স্বস্তির নি:স্বাস ফেলল ছেলে আর মেয়ে একসাথে l “ডোন্ট ইউ ওয়ারী মাদার l কিচ্ছু হবে না, আমরা আছি, তোমাকে মনে করিয়ে দেব l” ওদের আলো আলো মুখদুটোর দিকে তাকিয়ে ঠিক বলতে পারলাম না, এটা ঠিক সে ভুলে যাওয়া না, এ এক অসুখ l যে অসুখটা এবার হয়ত আমাকে পাকিয়ে ধরেছে, ময়াল সাপের মত l এর থেকে আর বুঝি রেহাই নেই l
যাই হোক, আমার ডাক্তারের কাছে যাওয়া স্থির হলো l উনি সময় করে আমাকে নিয়ে যাবেন l যে কোনো কারণে, দেখলুম মানুষটা একটু চিন্তিত, গাড়িতে বসে কাছ থেকে দেখলুম ভালো করে l একটু বয়স্ক লাগছে ওঁকে l বললুম, তোমার শরীরটা, উনি অল্প হেসে বললেন, “আজ চিন্তাটা তোমার জন্যেই, যা বললে, আমার শুনে ভালো লাগলো না, দেখ কি হয় l” আমি জানি কী হবে, ডাক্তার ওই গাল ভরা অসুখের নামটা বলে দেবেন মুখের উপরে l দিলেনও তাই l প্রথম পরীক্ষা ছিল, কিছু জিনিস চিনে নিয়ে নামগুলো বলা, একটা ছাড়া সব পেরেছিলুম l রেজাল্ট বেরোনোর দিন, পাশ করলে যে মুখ নিয়ে ছেলেমেয়েরা বাপ মায়ের দিকে এগিয়ে আসে আমি ঠিক সেইরকম করে স্বামীর দিকে এগিয়ে গেলুম বিজয়গর্বে l উনি বললেন, “তাহলে হয়ত তেমন কিছুই না l অল্প ওষুধে ভালো হয়ে যাবে l” এই প্রথম আজ বাড়ি থেকে বেরোনোর পর থেকে, উনি হাসলেন l আশ্চর্য ওঁকে হাসলে এখনো সেই ‘ময়নামতির মাঠের পারের’ সেই যুবকটির মতই দেখতে লাগে l
এর পর আবার পরপর টেস্ট হলো আর আমি সবকটাতে ফেল করে গেলুম l ডাক্তার খুব গম্ভীর মুখে নাকের কাছে চশমা নামিয়ে কিন্তু চশমার উপর থেকে আমাদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বললেন – “ব্যাড কেস অফ অল্জ্হেইমের, এর প্রগতি বা prognosis খুব তাড়াতাড়ি l ওষুধ দিচ্ছি, কিন্তু এর উৎস অনেক ছোট বয়েসেই l আমাদের যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে l” বাড়ি ফেরার সময় উনি খুব চুপ হয়ে গেলেন l স্বাভাবিক! একটা আলু পটলের মত বেঁচে থাকা হতে চলেছে আমার l কি করেই বা মেনে নেন তিনি l

ঠিক হলো, ছেলেমেয়েদের সব বলে দিতে হবে l আর বাড়ি ফেরার পথে আমি ওঁকে সেই মোক্ষম কথাটি বলেই ফেললাম l আমি এই রকম ‘আমি না’ হয়ে বাঁচব না l যখন দেখব নিজেকে হারিয়ে ফেলছি আমি নিজেকে নিজে শেষ করে দেব l উনি কিচ্ছু বললেন না l সাদা রুমালটা বের করে অন্য দিকে ফিরে হয়ত চোখ মুছলেন l
ছেলে মেয়েরা জানলো সবই l সেই রাতে বাড়িতে যেন বরফ পড়ল l টি ভি নেই, ওদের হাসির আওয়াজ নেই, পশুপাখিগুলোও নিশ্চুপ, মায়ের দু:খে l বাড়ির গাছগুলোও মনে হলো মুষড়ে পড়েছে কেমন l আমার খুব মন খারাপ হলো, ইশ্, বেচারাগুলোর আমার জন্যে কত্তো মন খারাপ হলো বলত ? তাই সেই রাত্রে আমি ছেলেমেয়েদের জন্য বিশেষ নৈশভোজ তৈরী করে দিলুম l ভাত, চিংড়ি ভাপা, মুগ ডাল, ঝুরো আলুভাজা আর পায়েস l খাবার সময় ছেলেমেয়ের মুখে হাসি ফুটল l জড়িয়ে ধরে বলল, “কে বলেছে তোমার কিছু হয়েছে ? তুমি একই আছ মা, ও মা ….”
এখন যতটা পারছি পড়ে ফেলছি জানেন, যে সব বই না-পড়া ছিল l এখনও বাইরে গিয়ে বাড়ি ফিরতে পারি l আমার গলাতে একটা কার্ড ঝোলে, তাতে নাম ঠিকানা সব, কেউ কেউ ভাবে কি অদ্ভূত, কেউ আবার পাত্তাও দেয় না l আসলে আমাদের এই বিরাট পৃথিবীতে সব মানুষের এত এত সমস্যা তাতে আমাদের আর অন্যের বিষয় নেই মাথা ঘামাবার সময় কোথায়? ভালই একদিকে, বিড়ম্বনা কম l আমি আগের মতই, ওয়াকে যাই, বাজার করি, দোকান করি আর ভুলতে থাকি l এখন এমন হয়েছে, শুধু তাৎক্ষণিক ব্যাপারগুলোই মনে রাখতে পারি l এত যে পড়াতাম, পড়তাম, লিখতাম, কিচ্ছুই আর মনে পড়ে না ; সেদিন আমাকে দেখাবার জন্য ছেলেমেয়েরা আমার করা আবৃত্তির ভিডিও বের করল l দেখলুম, তারপর ওদের জিজ্ঞাসা করলুম, “এ কি সত্যি আমি?” খুব খুশি হলুম মনে মনে জানেন, ও তাহলে আমি এসবও করেছিলুম l কে জানে …
দিন যাচ্ছে না, জল l আমার কাছে সব দিন একরকম l সেই চার্লস ল্যাম এর “The Superannuated Man” এর মতই l এসেস অফ এলিয়া সম্প্রতি পড়ছি আবার, তাই মনে করতে পারলুম l আপনাদের বলতে পারলুম l পড়তে এখনও খুব ভালো লাগে l কী রান্নায় কী ফোড়ন, ভুলে যাই l সবথেকে যেটা খারাপ হলো সেদিন, আমি কী একটা রান্না করছি, মায়া সব হাতের কাছে জোগাড় দিয়েছে l হঠাৎ মেয়ে এসে পেছন থেকে আমাকে আদর করে জড়িয়ে ধরল, এমনি আমার ছেলেমেয়েরা খুব আদরপ্রবণ, আমারই মত, ওদের প্রকাশটা বড় বেশি l আদর করে, বেরিয়ে গেল কিচেন থেকে আর আমি মায়াকে জিজ্ঞাসা করে বসলুম, আচ্ছা মায়া, “এই মানুষটির মা যেন কে” … মায়া অবাক হলো না, ও জানে আমার অসুখের কথা, শুধু বলল, “ওর মা তো তুমি, বৌদি …” আমি বললুম … “হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিক তাই, আমিও তো তাই ভাবছিলুম l”
ওদের মোটামুটি বলে রেখেছি, আমি ইউথানেসিয়া বা স্বেচ্ছামৃত্যু নেব নিজের জন্যেই l যদিও সেটি আইনত সঙ্গত নয় l আমি আস্তে আস্তে করে নিজেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলছি যে l আর হাসতে পারি না, তেমন করে, কারণ আমি বুঝতেই পারি না ওরা কী বলছে, অর্ধেক সময়ে, বুঝতে আমার খুব অসুবিধে হয় l কোনো কাজ করতে পারি না l কি করতে হবে, তাও বুঝতে পারি না আমি l খিদে পেলেও বুঝি না আমি, বলেই টাইম করে আমাকে খাওয়ানো হয় l ছেলেমেয়েরা আমাকে হাসাতে চায়, আনন্দ দিতে চায় l কী কী সব মজার জিনিস চালিয়ে দেয় টেলিভিশনে, আমাকে দেখায়, আমি হাসি কি না আমি বলতে পারি না l ওষুধ জড়ো করে রেখেছি, এইটুকু সেন্স থাকতে থাকতেই আমার চলে যাওয়া দরকার l পশুদের এই ওষুধ দিয়ে পুট টু স্লীপ করা যায় l আগে ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখেছিলুম ওই ওষুধের নাম l

সন্ধ্যেবেলাতে, ছেলে-মেয়ে আমাকে অদ্ভূত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলো l ওদের স্কুলবেলায় স্কুল থেকে অনেক বাচ্চা কিডন্যাপ হচ্ছিল তখন l আমি ওদের বলেছিলাম কেউ আমার বা বাবার কিছু হযেছে বলে নিতে আসলে পাসওয়ার্ড জিজ্ঞাসা করবি l নিজেদের মধ্যে একটা পাসওয়ার্ড ঠিক করেছিলুম – ‘ভুলি নাই l’ ওমা ছেলে সেই পাসওয়ার্ড এদ্দিন পর জিজ্ঞাসা করতেই বলে দিলুম পট করে – ‘ভুলি নাই’ … কি করে বলতে পারলুম, বলতে পারব না l ওদের কি আনন্দ l ওদের চোখ দিয়ে জল পড়ছিল l
আবার একটা রাত এলো l গভীর নিশুত রাত l আমার মনেও রাত নেমেছে সে অনেক দিন l আমি নিজেকে তিল তিল করে হারিয়ে ফেলছি, বুঝতে পারি l তবু হঠাৎ ফ্ল্যাশব্যাক দেখি জীবনের l ওই সময় শুধু একটি দুটি শব্দ বুদবুদের মত ভেসে ওঠে মনের নিঝুম পুষ্করিণীতে, যেখানে শুধু আমার একার অবগাহন l
- ভুলি নাই, ভুলি নাই, ভুলি নাই l
(একজন Alzheimer’s রোগিনীর আত্মজীবনী যেমন হতে পারে)


খুব ভালো লাগলো দি
যত দূর জানি এই আন্তর্জালিক পত্রিকাটির অধিকাংশ পাঠক প্রবীণ নাগরিকের তকমা পেয়েছেন। রোগটি তাই অজানা নয়। কিন্ত সমস্যা হল জানা থাকলেও কি।
The Monkey’s Paw ( W. W. Jacobs) গল্পটি যতবার পড়ি – পরিণতি জানা থাকলেও মেরুদন্ড বেয়ে হিম স্রোত নেমে যায়। এ রকম ভয় দেখানো কি ঠিক? বরং সুনীল গঙ্গো’র মত লিখুন না ‘ ভালোবাসা নাও , হারিয়ে যেয়ো না’।
মর্মস্পর্শী।
Empathy নামের এই অনুভূতিটি খুব কম মানুষের মধ্যেই আছে।অথচ লেখকদের মূলধন তো এটাই।আর এর মূলে আছে সেই ভালোবাসা।বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই রোগের নাম শুনেছি,এর শিকার হওয়া মানুষজনের দেখাও পেয়েছি কিছু।কিন্তু যে মানুষটি এর শিকার,তার মনের ভিতরের অনুভুতি কেমন হতে পারে, তা নিয়ে ভাবার অবকাশ কখনো হয়নি। বেশির ভাগ এই ধরনের মানুষদের নিয়ে নিকটজনের হয়রানি আর বিরক্তির ছবিই চোখে পড়েছে।এঁদের যে ভালোবাসায় ঘিরে রাখা জরুরী,সেটাই আপনি বলতে চেয়েছেন গল্পে।সেটাই খুব সুন্দর করে বললেন আপনি।