শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

আমার সুভাষচন্দ্র: কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন

(পঞ্চম পর্ব)

খোসলা কমিশনের রায়ের কয়েক বছরের মধ্যেই কেন্দ্রে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের পতন ঘটে এবং প্রথম অকংগ্রেসি সরকার গঠিত হয়। এই পরিস্থিতির সুযোগে আবার নেতাজির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ও নতুন তদন্তের দাবি নিয়ে রাজনীতিকরা সরব হতে থাকেন। “নেতাজি : মৃত না জীবিত?” নামে সমর গুহ একটি বই লেখেন। কেন্দ্রে জনতা পার্টির সরকারের লন্ডনের হাইকমিশনার লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে চিঠি দেন নেতাজি সংক্রান্ত ব্রিটিশ সরকারের নথিপত্র প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে। আবার সোভিয়েত রাশিয়ার কাছে নেতাজি সংক্রান্ত কোনো তথ্য আছে কিনা জানতে চেয়ে সেদেশের সর্বোচ্চ নেতা ব্রেজনেভকে চিঠি লেখেন সমর গুহ।

১৯৭৮ সালে সমরবাবু একটি অদ্ভুত কাজ করেন। কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে তিনি ‘ঈশ্বরের নামে শপথ করে’ ঘোষণা করে বসেন যে, নেতাজি জীবিত আছেন, এমন প্রমাণ তাঁর কাছে আছে। প্রমাণস্বরূপ তিনি সেই ‘জীবিত নেতাজী’র একটি আলোকচিত্র পেশ করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান যে, নেতাজি সুস্থ দেহে সন্ন্যাসজীবন যাপন করছেন এবং ওই ছবিটি নাকি আগের বছর ভারতেরই একটি মন্দিরের সামনে তোলা। এর সঙ্গে তিনি একথাও বলেন যে, বর্তমানে নেতাজি কোথায় আছেন সেকথা জানানোর অনুমতি তিনি পাননি। সেই ছবিটির সঙ্গে নেতাজির মুখের সাদৃশ্য থাকায় এবং পশ্চাদ্পট ঝাপসা হওয়ার কারণে কোথায় তোলা বোঝা না যাওয়াতে প্রাথমিকভাবে সেটি অনেকের মনে বিশ্বাস জন্মায়। বেশ মনে আছে, নেতাজি আমাদের সমসময়ে বেঁচে আছেন, আমাদেরই মতো একই আলো-হাওয়ায় বিচরণ করছেন, এরকম একটি রোমাঞ্চকর কল্পনা আমাকেও অভিভূত করেছিল এবং সেই ছবিটির দিকে বারবার তাকিয়ে মনে নানারকম ভাবকল্পনার উদয় হয়েছিল, যার প্রতিক্রিয়ায় জন্ম নিয়েছিল একটি কবিতা। তার কিছুটা অংশ এখানে তুলে দিলে সে সময় আমাদের মনে যে-সুভাষচন্দ্র বাস করতেন, তাঁকে অনেকটা চেনা যাবে :-

“…ছবিতে দেখেছি তুমি মন্দিরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে–
মুখে প্রশান্ত হাসি, হাতে লীলায়িত ভঙ্গিমা।
কিন্তু আমরা দেখতে চেয়েছি রাজর্ষিমূর্তি,
আমরা কান পেতে থাকি, তোমার ঘোড়ার খুড়ের শব্দের জন্য!
আমরা বুঝতে পারি না তোমার এই গোপন ব্রতের অর্থ কী!
বুঝি না এই লুকিয়ে থাকা কি দুর্মর অভিমান,
নাকি এও এক ত্যাগ তিতিক্ষার পরীক্ষা!…
আমরা জানি না অনেক কিছু
আমরা বুঝি না, পারি না অনেক কিছু,
আমরা শুধু দাবি করতে পারি, প্রার্থনা জানাতে পারি
আর সব প্রার্থনা, অজ্ঞতা, অসহায়তার ওপারে দাঁড়িয়ে তুমি বুদ্ধের হাসি হাসো…
যন্ত্রণাবিদ্ধ হৃৎপিণ্ড বুকে নিয়ে যে-হাসি হাসতে শুধু তুমিই পারো।“
[কবিতার নাম “ছবি দেখে’]

কিন্তু এই ভাবকল্পনার ঘোর অচিরেই কেটে গেল যখন ছবিটি পেশ করার কয়েক দিনের মধ্যেই কংগ্রেসি নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায় আরেকটি সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে প্রমাণ করে দিলেন যে, ওই ছবিটি জাল! দাদা শরৎ বসুর একটি ছবির ওপর নেতাজির একটি ছবির মাথার অংশটি কেটে বসিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছিল। নেতাজি রিসার্চ ব্যুরো প্রকাশিত একটি বই থেকেই এই দুটি ছবি নেওয়া হয়েছিল, সুব্রতবাবু সেটিও সবার সামনে পেশ করেন। বলা বাহুল্য, তখন ফটোশপের যুগ ছিল না, আর এই পুনর্নির্মাণটিও অত্যন্ত কাঁচা ধরনের হয়েছিল। কাজেই সমরবাবুর পেশ করা ‘জীবিত নেতাজি’র ছবিটি যে ভুয়ো, মূল ছবিগুলি সামনে আসার ফলে সে কথা পরিষ্কার হয়ে যায়। এই একটি ন্যক্কারজনক কাজের ফলে যে-শ্রদ্ধা ও জনপ্রিয়তার আসনে এতদিন সমরবাবু অধিষ্ঠিত ছিলেন, সেখান থেকে তাঁর চিরতরে পতন হয় এবং আমার তরুণ-মনে নেতাজির ফিরে আসা নিয়ে যে স্বপ্নকল্পনাটি এত বছর ধরে লালিত হয়েছিল সেটিরও সমাধি রচিত হয় বলা চলে। তখন অবশ্য কারোরই জানা ছিল না যে, উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদে বসবাসরত এক রহস্যময় সন্ন্যাসী ছিলেন সমরবাবুর উদ্দিষ্ট সেই ‘জীবিত নেতাজি’, যিনি পরবর্তীকালে গুমনামী বাবা নামে খ্যাত হন।

কবিতার খাতায় সজীব আমার সুভাষচন্দ্র

সন্ন্যাসীর বেশে নেতাজির বেঁচে থাকার কাহিনীর প্রতিক্রিয়ায় রচিত আমার যে কবিতাটির উল্লেখ এইমাত্র করলাম, সেটির সূত্র ধরে মনে পড়ে গেল, এরকম কোন বিশেষ ঘটনা ব্যতিরেকেই আমার কবিতার খাতায় জন্ম নিয়েছিল আমার আবাল্য অনুসৃত সেই বীরকে নিয়ে লেখা বেশ কিছু কাব্য-অর্ঘ্য। অর্থাৎ আমার কবিতার খাতার পাতায় চিরসজীব সেই মানসনায়ক ছিলেন পুরোপুরি আমার নিজের সুভাষচন্দ্র। তিনি এমন একটি নক্ষত্র, যিনি সব অন্ধকারে সতত দীপ্যমান থাকেন তা-ই নয়, বরং আমার মনে তার দীপ্তি ক্রমবর্ধমান:-

“সেই নক্ষত্র ক্রমশ জ্বলজ্বলে হয়েছে আরও—
সাম্প্রতিক সব যন্ত্রণার, অবিশ্বাসের নৈশাকাশে
বিস্ময়ের জ্যোতির্বিন্দু হয়ে আছে আজও
ওই একটিমাত্র নক্ষত্র
… যা জেগে থেকে আলো দিচ্ছে আমারই অস্তিত্বকে
মূল্যবোধের চেতনার ঘূর্ন্যাবর্তে পড়েও
চোখ রাখতে পারি তার দিকে
নানা রঙের চশমা চোখে দিয়েও
একই জ্যোতি দেখেছি সেই ধ্রুব নক্ষত্রের!”
[সেই নক্ষত্র]

উল্লেখযোগ্য যে, এসব কবিতার অধিকাংশই আজও আমার সেই কবিতার খাতাতেই বন্দী রয়েছে। এর দু’ একটি ছাড়া কখনো কোনোটি কোন পত্রপত্রিকায় প্রকাশের জন্য আমি পাঠাইনি। তাই এই সুযোগে তার কিছু নমুনা তুলে ধরছি পাঠকদের সামনে। ১৯৭৫ সালে খোসলা কমিশনের নেতাজির মৃত্যুসংবাদের সমর্থনে ঘোষিত রায় নিয়ে জনমনে অসন্তোষ ও অবিশ্বাস তো ছিলই এবং তখন নতুন করে আবার তাঁর সন্ন্যাসীবেশে বেঁচে থাকার জনশ্রুতি ছড়িয়ে পড়া শুরু হয়। এই প্রেক্ষিতে আমি লিখেছিলাম :-

“যদি শুনি সে আর বেঁচে নেই,
তবে প্রাণ হাহাকার করে ওঠে!
তার পায়ের শব্দে স্পন্দিত হবে বলে যে অপেক্ষমান প্রভাত,
তা যেন বেদনায় অন্ধকার হয়ে যায়! কিন্তু যদি শুনি সে বেঁচে আছে,
গেরুয়াধারী হয়ে ঘুরছে নিজের মোক্ষসন্ধানে –
তবে তা সহ্য করতে পারি না।
তার চেয়ে বলো, সে মারা গেছে –
পেয়েছে শত্রুমর্দন যুদ্ধশেষের বীরগতি,
কিংবা বলো, সে বন্দী হয়েছে অজ্ঞাত অরাতির হাতে;
কিন্তু বোলো না — সে গুহাশ্রয়ী হয়ে
জ্বেলেছে আত্মমুক্তির ধুনি –
যখন তার ভাইবোন জ্বলছে দুঃসহ জীবনজ্বালায়।”
[‘তার সম্পর্কে: ১৯৭৫’]

একই সময় লেখা আরেকটি কবিতায় রূপায়িত হয়েছিল নেতাজির ফিরে আসা নিয়ে দেশবাসীর অন্তহীন প্রতীক্ষার কথা :-

“এখনো স্বপ্ন দেখে সেই নির্ঝরের
রোদে পোড়া শুষ্ক মৃত দেশ—
স্বপ্ন দেখে ফিরে এসেছে সেই মহানদ
যা একদিন ছেড়ে গিয়েছিল এই ভূভাগ,
প্রতিদিন আশা করে –
কাল ভোরে দেখা যাবে ডুবে গেছে সব মাঠঘাট,
ভরে গেছে সারা দেশ সে বিপুল নির্ঝরের সর্বপ্লাবী ঢলে!….”

‘একটি দেশের স্বপ্ন’ শিরোনামে এই কবিতাটি জয়শ্রী পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল রচনার প্রায় ১৬ বছর পরে।

১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধী যখন আভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা জারি করেন, তখন দেশের মানুষের অনেক গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতায়। স্বদেশের স্বাধীনতার সেই দুর্দিনে আমার মনে পড়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই অবিসংবাদী নায়কের কথাই :-

“আরেকটি অভিযান দরকার দিল্লির দিকে,
কারণ সেখানে আজও পুঞ্জীভূত মত্ত স্বেচ্ছাচার,
ক্ষমতা বদল শুধু, মসনদ ঠিকই আছে টিকে!
দূর অস্ত তাই আজও নয়া রাজধানীর প্রাকার।
সে প্রাকারে আজও এসে ধাক্কা দেয় তপ্ত দীর্ঘশ্বাস
প্রপীড়িত ভারতের, সে প্রাকার ধ্বংস হয়ে যাক –
এই প্রার্থনায় আজও ষাট কোটি প্রাণ গোনে মাস,
উৎকর্ণ — নতুন করে শুনতে সে ‘চলো দিল্লি’ ডাক!….”
[‘আজ আবার দিল্লি চলো’]

এরই বছর দু’য়েক পরে লেখা আরেকটি কবিতায় আপামর মানুষের মানসলোকে সুভাষচন্দ্রের অনপনেয় উপস্থিতির কথা বলা হয়েছিল :-

“মহার্ঘ যৌবন ছিল, ছিল তার লেলিহান ছোঁয়া –
তারই জোরে আজও সে যে অনস্ত ভাস্বর ধ্রুবতারা,
রাজ্যপাট ছিল না, যা ছিল তাও ঢেলেছে অনলে,
ছড়িয়ে ছড়িয়ে গেল যেন রক্তগোলাপের দল –
জীবন, মরণ, যশ, লোককান্ত সুদীপ্তি বৈভব!
অশান্ত উদ্যম ছিল অনিকেত — অবিনাশী প্রাণ –
তারই জোরে গেয়ে গেল মৃত্যুকে নস্যাৎ করা গান;
সেই গান আজও বাজে, আজও সেই আগুনের দাহ!”
[‘ বিজয়ী’ ]

এরই সমকালে আমার রচিত আরেকটি কবিতার শিরোনাম ছিল ‘কেমন মানুষ’। তার প্রথম স্তবকটি ছিল এরকম:-

“কেমন মানুষ বটে, সে যে কেমন মানুষ বটে
তাকে ঘিরে দেশ-বিদেশে গল্প আজও রটে!
অন্ধকারে চলতে একা কে দেখি রয় পাশে,
তার যে শুনি পায়ের ধ্বনি মরি যখন ত্রাসে
তার প্রিয় মুখ বারে বারে স্বপ্নে ভেসে ওঠে –
কেমন মানুষ বটে সে যে কেমন মানুষ বটে!..”

সুভাষ অনুধ্যান : পত্রপত্রিকায় চিঠিপত্র ও বিতর্ক

আমাদের বর্তমান আলোচ্য পর্বে অর্থাৎ আমার সুভাষচর্চার প্রথম দুই দশকের মধ্যে বিভিন্ন সাময়িকপত্রে সুভাষচন্দ্র বিষয়ে সম্পাদকীয় দপ্তরে পাঠানো আমার যে ক’টি চিঠি ছাপা হয়েছিল, তা এখানে উল্লেখ করা যায়। এই ধরনের প্রথম চিঠিটি যে দেশ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল ১৯৬৭ সালে এবং তখনও আমি যে স্কুলের গণ্ডী পার হইনি, সে কথা আগেই উল্লেখ করেছি বলে এখানে তার পুনরাবৃত্তি করছি না। এর পরবর্তী চিঠিটির ইতিহাস দিয়েই এই প্রসঙ্গ শুরু করা যেতে পারে।

পশ্চিমবাংলায় সে-সময়ে কংগ্রেস রাজত্বের অবসান হয়ে বামপন্থী প্রভাবিত যুক্তফ্রন্ট সরকারের আমল শুরু হয়েছে ও সেইসঙ্গে নকশালবাড়ি আন্দোলনের ঢেউ এসে রাজনীতির আঙিনায় আছড়ে পড়ছে। বাংলার যাত্রা জগতেও তখন আধুনিক রাজনৈতিক পালার এক জোয়ার এসেছে। তখন বিখ্যাত বামপন্থী নাট্যকার উৎপল দত্ত রচিত ‘জালিয়ানওয়ালাবাগ’ নামে একটি যাত্রাপালা বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। ১৯৭০ সালের সেই পালার একটি চরিত্রের মুখ দিয়ে গান্ধীজীকে ব্রিটিশের দালাল বলা হয়েছিল। এ নিয়ে প্রবল বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হলে উৎপল দত্ত স্বয়ং দৈনিক বসুমতী পত্রিকায় একটি চিঠি লিখে তাঁর ওই উক্তির সপক্ষে সুভাষচন্দ্র গান্ধীকে ‘ভারতে ব্রিটিশের সেরা পুলিশম্যান’ বলেছিলেন বলে দাবি করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় আরেকজন পত্রলেখক আবার গান্ধীর পক্ষ সমর্থন করে লেখেন। এই দুই ধরনের মূল্যায়নকেই খণ্ডন করতে চেয়ে আমি একটি চিঠি লিখেছিলাম, যা পত্রিকাটিতে প্রকাশিত হয়েছিল (২১-৩-১৯৭০)। উৎপল দত্তের বক্তব্য প্রসঙ্গে আমি ওই চিঠিতে লিখেছিলাম, ‘ব্রিটিশের পুলিশ’ শব্দবন্ধটি সুভাষচন্দ্রের নিজের তৈরি নয়, তিনি অপর এক ব্যক্তির মতামতটি উদ্ধৃত করে সেটিকে সমর্থন করেছিলেন মাত্র। বস্তুত গান্ধীকে সাম্রাজ্যবাদীদের দালাল বলা একমাত্র পাগলেরই সাজে এবং সেরকম পাগলামি সুভাষচন্দ্রের ছিল না। তিনি গান্ধীজীর ইতিবাচক কীর্তিটুকু সশ্রদ্ধভাবে স্বীকার করে তাঁর ত্রুটিগুলো সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ করেছিলেন। তিনি গান্ধী রাজনীতির যুক্তিনিষ্ঠ সমালোচনা করেছিলেন এবং বর্তমানেও সেটিরই প্রয়োজন।

গান্ধী ও সুভাষ (রেখচিত্র শিল্পীঃ লেখক)

বসুমতীতে প্রকাশিত বক্তব্যে উৎপল দত্ত লিখেছিলেন, গান্ধীর অহিংসা নীতি ও আপোষপন্থী মনোভাব ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ক্ষতি করেছিল ও সেজন্য তিনি গান্ধীবাদীদের ‘বার্ধক্যপীড়িত’ মনোভাবের সমালোচনাও করেছিলেন। এই সূত্রে আমি লিখেছিলাম, “বর্তমানে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন, গান্ধীজীর অহিংস আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতাকে কতটা ত্বরান্বিত করেছে এবং রাজনীতিতে গান্ধীজীর ধর্মনীতির প্রয়োগ আন্দোলনের কতটা ক্ষতিসাধন করেছে। ‘অন্ধ’ গান্ধীবাদীদের বার্ধক্যপীড়িত মতবাদ যেমন সে গবেষণায় বিঘ্ন ঘটাবে, তেমনি ‘গান্ধীজী ব্রিটিশের দালাল’ — এ ধরনের অন্ধবিদ্বেষপূর্ণ মতবাদ তাকে বিভ্রান্তও করবে।”

এছাড়া অপর একজন পত্রলেখক মন্তব্য করেছিলেন, গান্ধীজী ইচ্ছা করলে কমিউনিস্টদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে “নেতাজিকে অনেক সুন্দর সুন্দর বিশেষণে ভূষিত করতে পারতেন”, কিন্তু তা না করে তিনি যে নীরবতা পালন করেছিলেন, তাতে গান্ধীজীর মহত্ত্ব এবং “নেতাজির প্রতি তাঁর স্নেহের ভাব” প্রকাশ পেয়েছে। এই প্রসঙ্গে আমি এই পত্রলেখককে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলাম যে, কংগ্রেসে গান্ধিবাদী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুভাষচন্দ্রের বিদ্রোহকে গান্ধী একটি চিঠিতে ‘বখাটে ছেলের মতো আচরণ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। মোটের ওপর প্রবাদপ্রতিম সেই আঠারো বছর বয়সের দুঃসাহসে আমি বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই আমার নিজের ইতিহাস-বিশ্লেষণ উপস্থিত করেছিলাম, যা সেই রাজনৈতিক অস্থিরতার যুগে দক্ষিণপন্থী ও বামপন্থী কোনও পক্ষকে খুশি না করারই কথা!

খবরের কাগজের ‘চিঠিপত্রে জনমত’ বিভাগে প্রকাশিত আমার এই বক্তব্যের সূত্রে একটি ছোট ঘটনা মনে পড়ে গেল। এই চিঠিটি যখন দৈনিক বসুমতী-তে প্রকাশিত হয়, তখন আমি নরেন্দ্রপুরের কলেজ-ছাত্র হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হলেও চিঠির নিচে আমার ঠিকানা হিসেবে ‘জামশেদপুর -৯’ ছাপা হয়েছিল। এরপর জামশেদপুরের কিছু বাঙালি তরুণ একদিন আমার বাড়িতে এসে আমার খোঁজ করে। আমি বাড়িতে না থাকায় আমার মায়ের প্রশ্নের উত্তরে তারা জানিয়েছিল, কাগজে প্রকাশিত আমার চিঠিটির ব্যাপারে তারা নাকি আমার সঙ্গে আলোচনা করতে চায়। পরে মা যখন এ ব্যাপারটা আমাকে জানান, তখন তিনি এভাবে প্রকাশ্যে আমার রাজনৈতিক মতামত ব্যক্ত করার ব্যাপারে কিছু উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছিলেন মনে আছে। আগেই বলেছি, তখন পশ্চিমবঙ্গে নকশালপন্থী রাজনীতির অভ্যুদয় হয়েছে এবং রাজনৈতিক মতবাদের অনৈক্যজনিত অস্থিরতা ও অসহিষ্ণুতার আবহে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছিল। (উৎপল দত্তের ভক্তের সংখ্যাও নেহাত কম ছিল না) সেই প্রেক্ষিতে আমার মায়ের আশঙ্কা খুব যে অমূলক ছিল এমনটা বলা যায় না।

১৯৭৩ সালে হিন্দি সাপ্তাহিক ধর্মযুগ পত্রিকায় ‘সচমুচ রাজনীতি কিতনী বদল গয়ী হ্যায়’ শিরোনামে ড. গোবিন্দ দাস নামে এক লেখকের একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। এই লেখক ছিলেন সে সময়কার এক কংগ্রেস-নেতা, যিনি ১৯৬৯ সালে জাতীয় কংগ্রেসের বিভাজনের পর আদি কংগ্রেস (বা সিন্ডিকেট) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস – আর নামে পরিচিত যে নতুন দলটি গঠিত হয়েছিল, তাতে যোগ দিয়েছিলেন। আলোচ্য প্রবন্ধটিতে তিনি অতীতে কংগ্রেসের ইতিহাসের বিভিন্ন মতবিরোধ ও বিভাজনের কাহিনী নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। এই লেখকের আরেকটি পরিচয় ছিল তিনি ১৯৩৯ সালে জাতীয় কংগ্রেসে গান্ধী-সুভাষ বিরোধের সময় ত্রিপুরীতে কংগ্রেস অধিবেশনের অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি ছিলেন ও সুভাষচন্দ্রের বিরুদ্ধে আনা কুখ্যাত পন্ত্ প্রস্তাবের সমর্থনে ভাষণ দিয়েছিলেন। গান্ধীপন্থী নেতা গোবিন্দবল্লভ পন্তের আনা ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল যে, নির্বাচিত কংগ্রেস সভাপতি যে-ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করবেন, তা গান্ধীজীর অনুমোদিত হতে হবে। গান্ধীজীর মতের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়ে সুভাষচন্দ্র যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারেন, তা সুনিশ্চিত করাই ছিল এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য। এই প্রস্তাবকে সমর্থন করে শেঠ গোবিন্দদাস তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, বলশেভিক দলে স্তালিনের যা স্থান, জার্মানির নাৎসি দলে হিটলারের যা স্থান কিম্বা ইতালির ফ্যাসিবাদীদের মধ্যে মুসোলিনির যা স্থান, কংগ্রেসে গান্ধীজীরও সেই স্থান। গণতান্ত্রিক দল হিসেবে পরিচিত ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের ইতিহাসে এই দুই গোবিন্দের বাণীই কুখ্যাত হয়ে আছে এবং অনেকেই জানেন, ওই পন্ত্ প্রস্তাব পাশ করিয়ে সুভাষচন্দ্রের হাত পা বেঁধে দেবার ফলেই তাঁকে শেষ পর্যন্ত সভাপতিপদ ত্যাগ করতে হয়েছিল।

যা-ই হোক, ধর্মযুগ-এর এই লেখাটি পড়ার আগে আমি জানতাম না যে, সুদূর অতীতের এই সুভাষবিরোধী নেতা স্বাধীনতা-পরবর্তী কংগ্রেসে এতদিন পরেও সক্রিয় আছেন! লেখাটি পড়ার পর আমি তাঁর অতীত কীর্তি ও বর্তমান অবস্থানকে কটাক্ষ করে পত্রিকাটির সম্পাদকীয় দপ্তরে পাঠানো একটি চিঠিতে লিখেছিলাম যে, এই প্রবন্ধে লেখক কংগ্রেসে অতীতের বিরোধকাহিনীর লম্বা লম্বা বর্ণনা দিয়েছেন, কিন্তু ত্রিপুরী কংগ্রেসে নির্বাচিত সভাপতি সুভাষচন্দ্রের প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছিল সে সম্পর্কে একটি কথাও বলেননি! সে সময় তিনি জনমতের নির্দেশকে (অর্থাৎ সুভাষচন্দ্রের সভাপতি নির্বাচনে জয়লাভ) উপেক্ষা করে কংগ্রেসে (গান্ধীর) একনায়কতন্ত্রকে সমর্থন করেছিলেন, অথচ আজ কংগ্রেস বিভক্ত হবার পর তিনি নতুন জনসমর্থিত দল নব কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন, সত্যিই রাজনীতি কত বদলে গেছে! আমি ভেবেছিলাম, হয়তো বা আমার এই খোঁচার প্রতিক্রিয়ায় শেঠ গোবিন্দ দাসের মতো বর্ষীয়ান নেতা বা তাঁর কোনও ভক্ত হয়তো এই পত্রিকার চিঠিপত্র বিভাগে প্রত্যুত্তর দেবেন। কিন্তু আমার সেই অনুমানমতো কিছু ঘটেনি। তবে দূর অতীতে আমার প্রিয় নায়ককে যারা রাজনীতির মঞ্চে আক্রমণ করেছিলেন, তাদের একজনকে মুখের ওপর জবাব দিতে পেরেছি বলে আমি বেশ কিছুটা আত্মপ্রসাদ অনুভব করেছিলাম মনে আছে।

১৯৭৫ সালে সমাজতান্ত্রিক জার্মানি নামে এক পত্রিকায় সিপিআই দলভুক্ত লেখক গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের এক প্রবন্ধে মনিপুরে ১৯৪৪ সালে আজাদ হিন্দ ফৌজের অভিযানকে ফ্যাসিস্ট আক্রমণ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এই সূত্রে উল্লেখযোগ্য, এর মাত্র দু বছর আগে অর্থাৎ ১৯৭৩ সালে কলকাতায় আন্তর্জাতিক নেতাজি আলোচনাচক্রে আমি উপস্থিত ছিলাম, সেখানে পঠিত এক প্রবন্ধে এই লেখক মন্তব্য করেছিলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে নেতাজি সম্পর্কে কমিউনিস্ট পার্টির মূল্যায়ন ভুল ছিল (এ সময় প্রচুর হাততালিও পড়েছিল)। আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের সূত্রে সেই পত্রিকার ‘সম্পাদক সমীপেষু’ বিভাগে চিঠি লিখে আমি প্রশ্ন তুলেছিলাম, নেতাজি সম্পর্কে ওই ‘বিপ্লবী’ দলটির মতের কি আবার বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে! নাকি একবার আলোচনাচক্রের শ্রোতাদের সামনে নেতাজীর প্রশংসা করে বাহবা কুড়ানো ও পরক্ষণেই কমিউনিস্ট পত্রিকায় পুরানো প্রথামতো তাঁর কুৎসা গাওয়া আরেকটি বিপ্লবী কৌশল? (২২/৮/১৯৭৫ তারিখে প্রকাশিত) গৌতমবাবুকে সমালোচনা করে আরো দু’একজন চিঠি লিখেছিলেন। এর জবাবে তিনি অবশ্য “আমি প্রবন্ধে কোথাও নেতাজি ও আই, এন, এ-র নাম উল্লেখ করিনি” ইত্যাদি সাফাই দিয়ে আনন্দবাজার ও দেশ পত্রিকায় চিঠি লেখেন। মনে আছে, এর বেশ কয়েক মাস পরে আমার সিপিআই সমর্থক ছোটমামার কাছে শুনেছিলাম যে, কমিউনিস্টদের নেতাজি-নীতি সম্পর্কে পত্রলেখকদের এই সমালোচনা (তাঁর ভাষায় ‘বিষোদগার’) সিপিআই পার্টি মহলে কিছুটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। আমিও যে ওই অপকর্মকারীদের একজন — আমার কাছে এ কথা শুনে তিনি অবাক হয়ে যান।

তখনকার অন্যতম জনপ্রিয় ইংরেজি সাপ্তাহিক ইলাস্ট্রেটেড উইকলি অব ইন্ডিয়া-তে ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত ড. রফিক জাকারিয়ার একটি প্রবন্ধে সুভাষচন্দ্রের সমালোচনা করে লেখা হয়েছিল যে, তিনি নাকি একনায়কতন্ত্রের সমর্থক ছিলেন ও ভারতের মানুষের সমস্যা সম্পর্কে তাঁর ধারণার অভাব ছিল এবং তিনি তাঁর অভীষ্টসাধনে ব্যর্থ হয়েছিলেন ইত্যাদি। এটির প্রতিবাদেও আমি পত্রিকাটির সম্পাদকের দপ্তরে পত্রাঘাত করতে ছাড়িনি। শুধু হিটলারের সাহায্য নেবার জন্য নেতাজিকে ডিক্টেটর আখ্যা দেওয়ার নিন্দা করে আমি লিখেছিলাম যে, নেতাজিকে কোনমতেই ব্যর্থ বলা চলে না, কারণ জিন্নার মতো একটি স্বতন্ত্র বাসভূমি আদায় করা বা কংগ্রেসের নেতৃত্ব দখল করা কদাপি তাঁর অভীষ্ট ছিল না – তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল ভারতের স্বাধীনতা। সেই লক্ষ্যের সাধনে নেতাজির মুখ্য ও সুনির্দিষ্ট ভূমিকার কথা ইতিহাসবিদরা স্বীকার করেছেন।

এর পরবর্তীকালেও সুভাষচন্দ্রের নানা কর্মকৃতি, মতাদর্শ এবং তাঁর অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা, যুগান্তর, সংবাদ প্রতিদিন ইত্যাদি দৈনিকপত্রে ও দেশ, চতুরঙ্গ, সমতট ইত্যাদি সাময়িক পত্রিকায় আমার প্রচুর চিঠি প্রকাশিত হয়েছে তবে সেগুলি আমাদের বর্তমান আলোচনার সময়পরিধির অন্তর্ভুক্ত নয়।

সুভাষ-অনুধ্যান : রচনা প্রকাশের সূত্রপাত

যে সময়ে আমি কলেজের পাঠ সাঙ্গ করে বেরিয়ে আসি মোটামুটি সেই একই সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নেতাজি সম্পর্কিত আমার নানা প্রবন্ধ প্রকাশিত হতে শুরু করে। কলেজে থাকতেই অবশ্য নেতাজি সম্পর্কিত আমার প্রথম মৌলিক লেখাটি কলেজপত্রিকায় ছাপা হয়েছিল, সে কাহিনী আগেই বলেছি। বাইরের কোনও পত্রিকায় প্রকাশিত আমার প্রথম লেখাটির শিরোনাম ছিল “নেতাজির কর্মকৃতির মূল্যায়ন প্রসঙ্গে”, যা ছাপা হয় ১৯৭২ সালে জয়শ্রী পত্রিকার পৌষ ১৩৭৯ সংখ্যায়।

সেই সময় নেতাজি সম্পর্কে যেসব বিতর্ক/অভিযোগ প্রচলিত ছিল, আমার জ্ঞান বুদ্ধিমতো নানা বইপত্র ঘেঁটে সেগুলি খণ্ডন করার চেষ্টা করেছিলাম এই প্রবন্ধে। এই লেখাটির উপশিরোনামগুলির কয়েকটি ছিল এরকম :- ‘নেতাজি কি দেশদ্রোহী ছিলেন?’, ‘নেতাজি কি ডিক্টেটর ছিলেন?’, ‘নেতাজির কোন্ রাষ্ট্রব্যবস্থা কাম্য ছিল?’, ‘নেতাজি কি রাশিয়া-বিরোধী ছিলেন?’, ‘নেতাজি কি বিদেশী সাহায্য নিয়ে অন্যায় করেছিলেন?’, ‘নেতাজি কি জাপানের পুতুল ছিলেন?’ এবং সবশেষে ‘নেতাজি কি ব্যর্থ হয়েছিলেন?’। সে সময় নেতাজি সম্পর্কিত এই সমালোচনাগুলি মুখ্যত কমিউনিস্ট মহলেই উত্থাপিত হত। প্রসঙ্গত, সিপিআই-এর সক্রিয় সমর্থক ও কর্মী আমার সেই মামা (প্রবীর গুহ), রাজনীতির নানাব্যাপারে তাঁর এই অসমবয়সী ভাগনের সঙ্গে বন্ধুর মতোই খোলাখুলি আলোচনা ও তর্কবিতর্ক করতেন, যা থেকে আমি নেতাজি সম্পর্কিত এই বিতর্ক বা অভিযোগগুলি সংগ্রহ করেছিলাম। কিন্তু আমার তরফে এর জবাবগুলো সাজিয়ে তৈরি করা বারো পৃষ্ঠার এই দীর্ঘ প্রবন্ধটি তাঁকে দেখাবার কোন সুযোগ আমি পাইনি।

জয়শ্রী পত্রিকায় প্রকাশিত দুটি প্রবন্ধ

জয়শ্রী-তে প্রকাশিত আমার আরও দুটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ ছিল ‘সুভাষচন্দ্র : বাংলা কবিতায়’ (১৯৭৭) আর ‘নেতাজির পরিকল্পনায় ভারতীয় সংগ্রামের শেষ পর্ব’ (১৯৭৮)।

দৈনিক খবরকাগজের পাতায় আমার যে প্রথম প্রবন্ধটি ছাপা হয়, সেটির শিরোনাম ছিল ‘কয়েকটি সমস্যা : সুভাষ দর্শনের আলোকে’। ১৯৭৩ সালে কলকাতায় এক নেতাজি-জন্মদিনের পূণ্যপ্রভাতে নেতাজি ভবনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাবার আগে কাগজের স্টলে সত্যযুগ নামে এক বামপন্থী দৈনিক পত্রে এই লেখাটি দেখতে পেয়ে তরুণ লেখকের মনে যে রমণীয় বিস্ময়ের সঞ্চার হয়েছিল, তার স্মৃতি আজও মনে আছে। ১৯৭৬ সালেও নেতাজির জন্মদিবসের সকালবেলায় আমার অনুরূপ অনুভূতি হয়েছিল, যখন কলকাতার দু’টি দৈনিক পত্রিকায় আমার লেখা দেখতে পাই।

জয়শ্রী ও বসুমতীতে প্রকাশিত দুটি রচনার প্রথম অংশের ছবি

১৯১৬ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে সুভাষচন্দ্রের বহিষ্কারের সূত্রে অধ্যাপক এডওয়ার্ড ওটেনের নাম সকলের কাছেই পরিচিত। ১৯৭৩ সালে তাঁর প্রয়াণের পর ‘সেই ওটেন সাহেব’ নামে আমার একটি রচনা প্রকাশিত হয়েছিল দৈনিক বসুমতী কাগজের রবিবারের সাময়িকী বিভাগে (৩-৬-১৯৭৩)। ছাত্রদের সঙ্গে তাঁর ওই সংঘাতের সমকালীন প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তীকালে সুভাষচন্দ্র সম্পর্কে ওটেনের লেখা কবিতা ও মন্তব্য এই লেখাটিতে আলোচিত হয়েছিল।

( পরবর্তী পর্বে সমাপ্য )

[লেখকের পূর্ববর্তী রচনা]

Facebook Comments Box

আপনি এই পত্রিকা পড়ছেন জেনে ভাল লাগল।

নতুন লেখা বা ভিডিও সংযোজন, অথবা রবিচক্রের অন্যান্য খবরাখবর সম্পর্কে জানতে, ইমেল নথিভুক্ত করতে পারেন।

We don’t spam! Read our privacy policy for more information.


0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x