শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

“সেপার বাংলা” নিবাসী ক্লিনটন বি সিলি

বিস্মৃতিচারণা (১৬)

নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিক। নিজামের শহর হায়দরাবাদে বসেছে নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের বাৎসরিক অধিবেশন। সমাগত দেশ ও বিদেশের বাংলা সাহিত্যের স্বনামধন্য কুশীলবরা।

সম্মেলনের প্রথম দিনের সকালের আসরটি তখন ভারি আকর্ষণীয় হোত। বিশিষ্ট অতিথিদের সাহিত্য-আলোচনায়, মননশীল বিতর্কে প্রাণবন্ত হয়ে উঠত এই প্রারম্ভিক অধিবেশন।

সেদিনের অধিবেশন-মঞ্চে আসীন মুখ্য আলোচকদের মধ্যে এপার বাংলার অগ্রগণ্য কিছু সাহিত্যিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের বুধমন্ডলী। আর ছিলেন এক ভিনদেশী, ছিপছিপে ঋজু চেহারার উজ্বল গৌরবর্ণ মানুষ, যাঁর পরণে ছিল হালকা গেরুয়া রঙের পাঞ্জাবী ও সাদা পায়জামা, কাঁধে ছিল খদ্দরের শান্তিনিকেতনী ঝুলি, সৌম্যকান্ত মুখমন্ডলে হালকা দাড়ি। স্বাভাবিকভাবেই সব অতিথিদের মধ্যে দর্শক ও শ্রোতৃমন্ডলীর কৌতুহলের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি… বাংলা সাহিত্যের মেলায় কে এই ভিনদেশী অতিথি?

Clinton B. Seely

অধিবেশন শুরু হল। বিশিষ্ট বক্তাদের আলোচনায় উঠে এল এপার বাংলা-ওপার বাংলার প্রেক্ষাপটে বাংলা সাহিত্যের ক্রমবিবর্তন ও সমৃদ্ধির ইতিহাস।

বলা বাহুল্য, তখনও পর্যন্ত এপার বাংলায় বাংলা সাহিত্যের প্রবহমানতার ধারা রীতিমত সজীব। পূর্ণ উদ্যমে লিখে চলেছেন সুনীল, শীর্ষেন্দু, সমরেশ (মজুমদার), সঞ্জীব, শংকর, বুদ্ধদেব (গুহ), দিব্যেন্দু, সুভাষ, নীরেন, শঙ্খ, শক্তি প্রমুখরা। এঁদের মধ্যে কয়েকজন উপস্থিত সেই সভায়।

অন্যদিকে দেড় দশকের কিছু আগে ভাষাগত স্বাজাত্যবোধের আবেগকে বুকে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ। ওখানে বাংলা সাহিত্য চর্চায় জোয়ার এসেছে নতুন করে। অতিথি সাহিত্যিক, সাহিত্য অধ্যাপকদের বক্তৃতায়, ভাষ্যে, কথকতায় ঝরে পড়ছে সেই আবেগ, যার সঙ্গে একাত্ম হচ্ছেন এপারের সাহিত্যিকরাও।

এই প্রসঙ্গে পাঠককে স্মরণ করিয়ে দেওয়া ভাল যে, ২০২৪-এর অগাস্ট-পরবর্তী অধ্যায়ে ওপার বাংলার সংস্কৃতিতে যে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী স্রোত বইছে, যেখানে বাংলা ভাষা আজ আর শ্রদ্ধা, গর্ব ও মর্যাদার আসনে নেই, তা সেদিন যে-কোনো বাঙালির দুঃস্বপ্নের বাইরে ছিল। আমার এই কাহিনি যেহেতু প্রায় তিন দশক আগের, এটি পাঠের সময় সেই প্রেক্ষাপটকেই পাঠককে স্মরণে রাখতে হবে।

আজও মনে পড়ে, নানান আলোচনার ফাঁকে মনে দাগ কেটে গিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের বিভাগীয় অধ্যক্ষের করা দুটি মন্তব্য। প্রথমটির প্রসঙ্গ রবীন্দ্রনাথ।…

“রবীন্দ্রনাথকে আপনারা বড় সহজে পেয়েছেন। আমরা পেয়েছি অনেক রক্তচক্ষুকে অস্বীকার করে বুকের রক্ত দিয়ে। তাই আমরা বড় সযতনে আগলে রাখার চেষ্টা করি তাঁকে। তাঁর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেকটা ঘরের মানুষের মতো। সেই কারণেই হয়তো রবি ঠাকুরকে নিয়ে আপনাদের সঙ্গে আমাদের আবেগ, অনুশীলন ও চর্চার ধরণে ও আঙ্গিকে একটু তফাৎ আছে। তিনি আমাদের প্রতিদিনের যাপনে উপস্থিত, আমরা তাঁকে আদর করে বসতে দিই আমাদের দাওয়ায়। আপনারা রবি ঠাকুরকে রাখেন ঠাকুরের সিংহাসনে উচ্চাসনে, পুজো করেন মহা সমারোহে।”

বলা বাহুল্য, খুব বিনম্রভাবে বক্তা কথাগুলো বললেও তার অন্তর্নিহিত ভাবটা সেদিন আমাদের কাছে তৃপ্তিদায়ক হয়নি। মনে মনে সত্যিটাকে অস্বীকারও করতে পারিনি।

দ্বিতীয় মন্তব্যটি ছিল বঙ্কিমচন্দ্র প্রসঙ্গে। অস্বীকার করব না, এই মন্তব্যটিতে তিনি আমাদের কিছুটা বিস্মিতই করে দিয়েছিলেন। সেই সময়কালের কিছু আগে পশ্চিমবঙ্গের প্রবল পরাক্রান্ত ক্ষমতাসীন দলের উচ্চ পদাধিকারী জনৈক প্রবীণ নেতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে প্রকাশ্য সভায় ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে চিহ্নিত করেছিলেন, যা এপার বাংলায় বিদগ্ধ মহলে বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করে অধ্যাপক মশাই জানিয়েছিলেন, “মুসলমান সম্প্রদায়ভুক্ত একজন বাংলা সাহিত্যের অনুরাগী হিসেবে বলছি, একটি দুটি শব্দ বা শব্দবন্ধে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সমগ্র বঙ্কিম সাহিত্য অনুধাবন করলে তাঁকে কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক মানসিকতার ঔপন্যাসিক বলা যায় না। আমরা তা মনেও করিনা। বঙ্কিমচন্দ্রের কাছে বাঙালির ঋণ অপরিশোধ্য।”

মন্তব্যটিতে স্বস্তিবোধ করেছিলাম। বুঝেছিলাম, রাজনৈতিক বিজ্ঞজনেরা অনেক সময়ে তাঁদের বিশ্বাসের সঙ্কীর্ণ দৃষ্টিকোন ও দায়বদ্ধতা দিয়ে ভিন্ন অঙ্গনের বড় মাপের প্রতিভার মূল্যায়ন করেন, যার থেকে ঐতিহাসিক ও নান্দনিক সত্য দূরবর্তী হয়। সাহিত্যের নিষ্ঠাবান পূজারীদের তো সে দায় নেই।

যাক সে কথা।

সকালের প্রথম পর্বে দুই বাংলার সাহিত্যিক ও সাহিত্য সমালোচকদের আলোচনায় আমরা শুনলাম রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দ-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের গতি-প্রকৃতি, চিরায়ত ও সমকালীন সাহিত্যের সামাজিক পটভূমি। সব মিলিয়ে পাওয়া গেল দুই বাংলার ভাষা ও সাহিত্যের প্রবহমানতার একটা সংক্ষিপ্ত রূপরেখা। সাহিত্যের এই মিলনমেলায় সেদিন এপার-ওপার একাকার হয়ে আমাদের রাঙিয়ে তুলেছিল।

সেদিনের প্রভাতী অধিবেশনে সম্ভবত শেষ বক্তা ছিলেন গৌরবর্ণ ঋজু চেহারার সেই ভদ্রলোক, যিনি এতক্ষণ নিমগ্ন চিত্তে শুনছিলেন দুই বাংলার সাহিত্যিক ও সাহিত্যরসিকদের আলোচনা। এবার ডাক পড়ল তাঁর। সভার সঞ্চালক তাঁকে সংক্ষিপ্ত কথনে পরিচয় করিয়ে দিলেন। ভদ্রলোকের নাম, ক্লিনটন বি সিলি। মার্কিন নাগরিক, পেশায় অধ্যাপক। অধ্যাপনা করেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যক্ষ তিনি। মাইকেল থেকে জীবনানন্দ তাঁর ভালবাসার, চর্চার ও লেখালেখির জগৎ। আমন্ত্রণ পেয়ে সুদূর আমেরিকা থেকে ছুটে এসেছেন বঙ্গ সাহিত্যের এই মিলনমেলায়। বাংলা ভাষা নিয়ে কী বলেন এই আমেরিকাবাসী সাহেব অধ্যাপক, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতুহল তৈরি হল আমাদের শ্রোতাদের মধ্যে।

Clinton B. Seely

অধ্যাপক সিলি কথা শুরু করলেন বাংলাতেই। বললেন, আপনাদের মতো সাবলীলভাবে বাংলা বলতে আমি পারব না। তবে যথাসম্ভব চেষ্টা করব বাংলায় বলতে।

প্রথমেই একটা প্রশ্ন তুললেন তিনি। বললেন, “এতক্ষণ আলোচনা শুনছিলাম আপনাদের। আপনারা বলছেন, এপার বাংলা এবং ওপার বাংলার কথা। সীমানার দুই পারের দুই বাংলাকে নিয়ে আপনারা ভাবছেন, আলোচনা করছেন। খুব ভাল কথা। কিন্তু আপনারা তো বলছেন না, এই দুই বাংলার বাইরে ইংল্যান্ড, আমেরিকা ও পাশ্চাত্য দেশগুলোতে যে কোটি কোটি বাঙালি বসবাস করেন, সংখ্যায় সীমিত হয়েও বিদেশে বিভুঁইয়ে বসে যাঁরা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা করেন, তাঁদের জগতের কথা? তাঁরা কি তবে আপনাদের ভাবনায় বাঙালি নন? তাঁদের যে জগৎ কি নাম দেবেন সেটির?”

“সুতরাং আসুন, তাঁদের জগতের একটা নামকরণ করি আমরা। এরপর মৃদু হেসে আমেরিকান সাহেব মিষ্টি করে বললেন, “তাঁদের জগৎটার নাম হোক ‘সেপার বাংলা’। আমি সেই বাংলারই প্রতিনিধি।”

বিপুল করতালিতে মুখর হলেন শ্রোতৃমন্ডলী। সাহেব তখন আমাদেরই একজন। বাঙালির বৃহত্তর ভুবনের বাসিন্দা ও প্রতিনিধি।

অধ্যাপক ক্লিনটন বি সিলির পরিচিতি পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তারিতভাবে পেয়েছিলাম বাংলাদেশের খ্যাতনামা সংবাদপত্র The Daily Star-এর প্রতিবেদন থেকে। তাঁরা লিখছিলেনঃ

“The author of the book ‘Barisal and Beyond: Essays on Bangla Literature’ (New Delhi: Chronicle Books; 2008) is the protagonist of a charming inter-cultural romance. Clinton Seely is one of fewer than a handful of living Westerners who fortuitously fell in love with Bengali literature and made a distinguished career of teaching it – at the University of Chicago in his case…”

“His thesis, published as A Poet Apart: A Literary Biography of the Bengali Poet Jibanananda Das (1889-1954), won him West Bengal’s most prestigious literary award. His other publications include three translated volumes, of which the one of Michael Madhusudan Datta’s epic, The Slaying of Meghnada: A Ramayana from Colonial Bengal, got him the A.K. Ramanujan Book Prize for Translation.
The present volume is a mixed bag of essays and lectures covering a number of significant aspects of Bengali literature.”

এই প্রেক্ষাপটে (যা তখন আমার অজ্ঞাত ছিল) আমাদের মুগ্ধতা বাড়িয়ে সিলি সাহেবের এর পরের আলোচনায় উঠে এসেছিলেন মাইকেল থেকে রবীন্দ্রনাথ এবং পরিশেষে তাঁর অতি প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশ। তাঁর ভাষ্যে মূর্ত হয়ে উঠেছিল জীবনানন্দের রূপসী বাংলা, বনলতা সেন, আধুনিক বাংলা কবিতার বর্ণাঢ্য জগৎ!

Seely on Madhusudan
Seely on Jibanananda

আলোচনার শেষভাগে নিজেই একটি অতি পরিচিত প্রশ্নের অবতারণা করলেনঃ “আজকাল প্রায়শই একটা কথা শুনি। তা হল, রবীন্দ্রনাথ কি এখনও প্রাসঙ্গিক? এর উত্তর হিসেবে আমার একটি সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা শোনাব আপনাদের।”

বলতে শুরু করলেন ‘সেপার বাংলা’র অধিবাসী অধ্যাপক মশাই।

“গত বছর গ্রীষ্মের ছুটিতে আমি সস্ত্রীক পাহাড়ে কটা দিন কাটাবার পরিকল্পনা করি। সেই অনুযায়ী একদিন সকালে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। হাইওয়েতে কিছুক্ষণ চলার পর একটু নির্জন পরিবেশে আমাদের সাময়িক বিশ্রাম নিতে নিতে ফ্লাস্কের কফির কাপে চুমুক দিতে ইচ্ছে করল। হাইওয়ের জঙ্গলাকীর্ণ একটি জায়গায় আমি গাড়ি থামিয়ে বনেটে ঠেস দিয়ে দাঁড়ালাম। আমার স্ত্রী তাঁর ফ্লাস্ক থেকে কফি ঢেলে আমার হাতে দিলেন। আমরা দুজনে সবুজ বনানীর মাঝে নিরালাকে উপভোগ করতে করতে টুকটাক কথা বলছিলাম ও কফিতে চুমুক দিচ্ছিলাম।”

“হঠাৎই আমাদের সচকিত করে সামনের ঘন জঙ্গলটি সামান্য নড়ে উঠল। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম, কোনো বন্য জন্তু নয় তো?… আমাদের স্বস্তি দিয়ে জঙ্গল ভেদ করে বেরিয়ে এলেন চারটি শহুরে মানুষ। পরনে টি শার্ট ও বারমুডা, পায়ে স্নিকার, মাথায় বৃটিশ হ্যাট, গলায় ক্যামেরা।

কিন্তু তাঁরা এই গভীর অরণ্যে কি করছিলেন? আমার প্রশ্নের উত্তরে তাঁরা জানালেন যে তাঁরা বৃটিশ পর্যটক। তাঁরা জেনেছেন যে জঙ্গলটি হলিডেইংয়ের জন্য নিরাপদ। তাই জঙ্গলের মধ্যে তাঁবু খাটিয়ে তাঁরা প্রকৃতিকে উপভোগ করতে এখানে এসেছেন।

আলাপ পর্ব ও টুকটাক গল্প করতে করতে চোখে পড়ল ওদের একজনের হিপ পকেটে উঁকি দিচ্ছে একটা ছোট বই। মাস্টারমশাইসুলভ কৌতুহলে জিগেস করলাম, ‘ওটা কি বই পড়ছ?’

উত্তর শুনে আমি তাজ্জব। লোকটি ইংরেজিতে বলল, ‘বইটার নাম,’ গীতাঞ্জলি’। লেখক একজন এশিয়াবাসী কবি। নাম, রবীন্দ্রনাথ ট্যাগোর।’

আমি তাকে শুধোলাম, ‘এই জঙ্গলে বসে তুমি গীতাঞ্জলি পড়ছ কেন?’

সে বলল, ‘এই অরণ্যের নিরালা ও স্তব্ধতার মধ্যে যখন তুমি একা, তোমার মাথার ওপর উন্মুক্ত আকাশ ও অরণ্য, এই বইয়ের কবিতাগুলোর মধ্যে দিয়ে তুমি ঈশ্বরের সন্ধান পাবে। আমার মতে এই বই পড়ার উপযুক্ত জায়গা এইখানেই।’

সেই মুহূর্তে আমার মুখে কোনো কথা এল না। আমি স্তব্ধ হয়ে তার কথাগুলো অনুধাবন করার চেষ্টা করছিলাম।”

আলোচনার সমাপ্তিতে অধ্যাপক সিলির মন্তব্য,”ঘটনাটি ব্যতিক্রমী হলেও আমি বিশ্বাস করি, রবীন্দ্রনাথ ফুরোবার নন।”

[লেখকের অন্য রচনা]

আপনি এই পত্রিকা পড়ছেন জেনে ভাল লাগল।

নতুন লেখা বা ভিডিও সংযোজন, অথবা রবিচক্রের অন্যান্য খবরাখবর সম্পর্কে জানতে, ইমেল নথিভুক্ত করতে পারেন।

We don’t spam! Read our privacy policy for more information.


0 0 votes
Article Rating
2 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Saurav Bhattacharjee
Saurav Bhattacharjee
7 months ago

খুব ভালো লাগল বিষয়বস্তু, লেখার ধরন, নতুন একজন গুণী মানুষ সম্বন্ধে তথ্য।

Tanmay Banerjee
Tanmay Banerjee
Reply to  Saurav Bhattacharjee
7 months ago

ধন্যবাদ।