Tag: Poetry
দুটি কবিতা
এটুকুই দুচোখে দুচোখ রাখাঅনৃত মায়ায়বেঁধে নেওয়া ভঙ্গুর সময়এটুকুই, আর কিছু নয় ঋণ তুমি চলে গেলেতোমার পদচ্ছাপ নেওয়া হল না তুমি চলে গেছআমি দিক-ভোলা বোষ্টুমির মতোভর দুপুরে পা ছড়িয়ে বসে গান গাইদাওয়ার চারপাশে মাধবীলতা আর সন্ধ্যামালতি লাগিয়েছিপথ ভুলে আস যদিনীলকমল হৃদয়টির সাথে কচি-গোলাপ রঙঅঞ্জলির অভাব হবে না তুমি এলে না, আসবে না আরতবু আমি অপেক্ষায় থাকি…সাঁঝঘরের…
বাদশা খান- শেষ অভিবাদন
তোমাকে কখনও দেখিনি খবরকাগজ বা বইয়ের পাতার বাইরে,তবু জানতাম, তুমি আছ —আমাদের জন্মের সাথে পাওয়া আরও কতো সম্পত্তির মতো।তথ্যচিত্রে দেখেছি তোমাকে মুক্তিযুদ্ধের অধ্যায়গুলো জুড়ে ভাস্বর…দেখেছি- কত লম্বা হয়েও গান্ধীর পেছনে অনুগমনে নত তোমাকে,দেখেছি তোমার সামনে নেহরুও কত খাটো– চেষ্টা করে হাত রাখছেন তোমার কাঁধে.ছবিতে দেখেছি, তুমি দাঁড়িয়ে আছ সুভাষচন্দ্রের পাশে,যেন অগ্নির পাশে প্রাচীর– পূর্বের পাশে…
বাইশে শ্রাবণের কবিতা
তোমার সুরে আকাশজুড়ে ঘন আড়ম্বর মেঘ ডাকছে যেন যুগান্তরে … তামসী-নীল সমুদ্র মুখর গীতবিতানে বৃষ্টি ভেঙে পড়ে। বৃষ্টি পড়ে সে কোন শ্রাবণের স্মৃতিতে বাজে তোমার মল্লার, সে সুর যেন স্বপ্ন নির্জনে নিষাদ ছোঁয়া নীরব হাহাকার। প্রমত্ততা স্বেচ্ছাচারী মেঘে তোমার সুরে তখন উঠি জেগে , মেঘের পরে মেঘ ঘনিয়ে আসে প্রলয় মাতে ভরা সর্বনাশে। বজ্রপাতে মেঘের…
দুটি কবিতা
দৃষ্টিকোণ কিছুটা সুযোগ পেলে সকলেই জাল ছুঁড়ে মারে যেভাবে হাত পা বেঁধে পশুর শিকার হয় বনে, তবুও অনেক দেহ পিষে গিয়ে বেঁচে যেতে পারে বাকিরা আটক হয় না জেনেই শুধু প্রয়োজনে। অপর শিবির থেকে যে কথাটা অপরাধমুখী— একই কথা নিজ মুখে স্বাভাবিক মনে হলো যাঁর, তাঁরাই তো আজীবন অকারণে রয়ে যাবে সুখী তাঁদের আয়নাটাও মাঝে…
মহাকবি কালিদাসকৃত মেঘদূতের ভাবানুবাদ (পর্ব-৭)
পূর্বকথনঃ–ধনপতি কুবের। কৈলাসে তার আবাস। নগরীর নাম অলকা। পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের ধাম। সুউচ্চ প্রাসাদ ভবন নগরীর আকাশকে স্পর্শ করছে। ভবনের ছাদ শিখীর নৃত্যে ছন্দিত। মধুপ গুঞ্জরিত শতশতদলে সরোবরগুলি সদা আন্দোলিত। রাত্রি নিত্য জ্যোৎস্নাজড়িত। আনন্দাশ্রুছাড়া নয়নসলিল সেখানে বিরল। আর বয়স তো যৌবনেই আবদ্ধ। কুবেরের কর্মসচিব যক্ষ। তরুণবয়স সদ্যপরিণীত। সুন্দরী বধূটি। তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা, তন্বী, শিখরীদশনা,পাকা বিম্বফলের মতো অধর।…
দুটি কবিতা
হলুদ আলো হলুদ আলো হলুদ আলোপড়ছে এসে মেঝের ওপরউড়ছে ধুলোয়, ত্রসরেণুররোমাঞ্চে আজ একলা ঘরেডাকছে কাকে, নষ্ট সময়?ডাকছে কাকে, ভালবাসায়মেলছে পাখা, কার আশাতেহলুদ আলো পাখির মতোএই অবেলায়, বিকেলবেলায়? দোসর সে কোন দুঃখের ঘরে থাকেনি কোনদিনতবু তাকে ভালবাসিসে কোন সান্ত্বনার হাতছোঁয়ায় নি ক্লান্ত কপালে কোনদিনতবু তাকে ভালবাসিসে আমার আত্মার দোসরতাই তাকে ভালবাসি।
মহাকবি কালিদাসকৃত মেঘদূতের বাংলা ভাবানুবাদ (পর্ব-৬)
পূর্বকথনঃ ধনপতি কুবের। কৈলাসে তার আবাস। নগরীর নাম অলকা। পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের ধাম। সুউচ্চ প্রাসাদ ভবন নগরীর আকাশকে স্পর্শ করছে। ভবনের ছাদ শিখীর নৃত্যে ছন্দিত। মধুপ গুঞ্জরিত শতশতদলে সরোবরগুলি সদা আন্দোলিত। রাত্রি নিত্য জ্যোৎস্নাজড়িত। আনন্দাশ্রুছাড়া নয়নসলিল সেখানে বিরল। আর বয়স তো যৌবনেই আবদ্ধ। কুবেরের কর্মসচিব যক্ষ। তরুণবয়স সদ্যপরিণীত। সুন্দরী বধূটি। তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা, তন্বী, শিখরীদশনা,পাকা বিম্বফলের মতো…
শব্দহীন জ্যোৎস্নার ভিতর
কবি জীবনানন্দ দাশ স্মরণে কার্তিকের জ্যোৎস্নার ভিতরে তিনি আজ। কুয়াশার বুকে বেজে চলেছে একটানা কোমল গান্ধার। এখন সন্ধে। অনেক বাদামি পাতা ঘাসের ভিতরে ক্লান্তিকে পাশে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে কোনোদিন ফিরবে না বলে তার নিজস্ব নির্মাণে। এই আলো অন্ধকারে তিনি এসে দাঁড়ালেন। আজ তিনি একান্তই নিজের সঙ্গে, একা। কী এক ইশারা মনে রেখে অনেক নিঃশব্দ কথোপকথনে…
অন্ত্যজের গান
দুখিরামের রবি প্রণাম।এক কবিতা ও সুর প্রয়াস। সমবেত সুধী – সুজন,প্রগাঢ় রবীন্দ্র প্রেমী – উপস্থিত দর্শক জন –তত্ত্বজ্ঞ – জ্ঞানী – বোদ্ধা –সাংস্কৃতিক সকল যোদ্ধা –সবাই আমার শ্রদ্ধাস্পদ, সুবিনীত প্রণাম নেবেন। আসলে জানেন –আজকের এই সভায় – আমি অনধিকার প্রবেশকারী।চোর-শিকারি – যেমন ঢোকে গভীর বনে,চুপিচুপি সংগোপনে –অতর্কিত আক্রমণে –বনের পশুর প্রাণ নিয়ে নেয়।আর বিনিময় –তার…
মহাকবি কালিদাসকৃত মেঘদূতের বাংলা ভাবানুবাদ (পর্ব-৩)
পূর্বকথনঃ- ধনপতি কুবের। কৈলাসে তার আবাস। নগরীর নাম অলকা। পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের ধাম। সুউচ্চ প্রাসাদ ভবন নগরীর আকাশকে স্পর্শ করছে। ভবনের ছাদ শিখীর নৃত্যে ছন্দিত। মধুপ গুঞ্জরিত শতশতদলে সরোবরগুলি সদা আন্দোলিত। রাত্রি নিত্য জ্যোৎস্নাজড়িত। আনন্দাশ্রুছাড়া নয়নসলিল সেখানে বিরল। আর বয়স তো যৌবনেই আবদ্ধ। কুবেরের কর্মসচিব যক্ষ। তরুণবয়স সদ্যপরিণীত। সুন্দরী বধূটি। তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা, তন্বী, শিখরীদশনা,পাকা বিম্বফলের মতো…