Tag: Jhuma Bandyopadhyay

কবিগুরুর বাংলা
(জনৈক আধুনিক ভক্ত ও কবিগুরুর সংলাপ) ভক্ত –আমি পরানের সাথে খেলিব আজিকেমরণখেলানিশীথবেলা।সঘন বরষা, গগন আঁধার,হেরো বারিধারে কাঁদে চারি ধার,ভীষণ রঙ্গে ভবতরঙ্গেভাসাই ভেলা;বাহির হয়েছি স্বপ্ন-শয়নকরিয়া হেলারাত্রিবেলা।রবি –আজি হতে শতবর্ষ পরেকে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানিকৌতূহলভরে–আজি হতে শতবর্ষ পরে। ভক্ত – কে কে, ওখানে কে দাঁড়িয়ে, কে আপনি? রবি- এটাই ভবিতব্য, মানুষ আমার কবিতা পড়ছে আমাকে না…

বিন্দি
আমার মেজকার মেয়ে বিন্দি দিদি। সেই আমাদের পরিবারের তথা গ্রামের আদর্শ। বিন্দিদি পড়তে বসলে, আমাদেরও পড়তে বসতে হয়, বিন্দি ভালো রেজাল্ট করলে আমাদের তাঁর গু পর্যন্ত খেয়ে খারাপ রেজাল্টের খেসারত দিতে হয়। যেদিন মাধ্যমিকের রেজাল্ট বের হল, মা বলল, ‘যা বিন্দির গু খেয়ে আয়, মেয়েটাকে দেখেও তোর কোনো শিক্ষা হয় না।’ তাই বলে রসগোল্লার বদলে…

স্বাধীনতা
১স্বাধীনতা ছাড়া এতসুখ পেতাম কোথায় ? ধ’রে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেবনতুবা মেরে হিন্দুস্থান ‘তোর বাপের দেশে গিয়ে কথা বলরাতদুপুরে সবুজ আলো, ‘মাইরি বলছি, এক্কেবারে ডাঁশা। খুলে ফেলো দেখি তালা’।গাছের ডালে ডালে ঢিল বেঁধে টাঙিয়ে দিয়েছি ইচ্ছে গুলো। “জয় শ্রীরাম অথবা আল্লাহ আকবর” – সব দোষ ওই লালমুখোদের … ফাটাও গলা। “সারে জাঁহাসে আচ্ছা”। হা হা, স্বাধীনতা…

মৃন্ময়ীকে
কত কিছু বলতে ইচ্ছে করে পারি না, থেমে যাই থমকে দাঁড়াই দাঁড়িয়ে টোকা মারি দরজায় দরজায় কেউ খোলে না খুললেই দেশদ্রোহী দূর থেকে নজর রাখে ড্রোন কমেন্ট সেকশনে ঘৃণার আগুনে পুড়তে পুড়তে এই কঙ্কালসার ছিবড়ে প্রেমটুকুও শিকার হয় শ্লীলতাহানির প্রত্যেকেই ঘৃণার কথা শুনতে চেয়েছিল প্রত্যেকেই একটা বড়োসড়ো যুদ্ধের যোদ্ধা হতে চেয়েছিল প্রত্যেকেই চেয়েছিল দ্রোহের আগুনে…

একদিন চাঁদনি রাতে
কৃষ্ণপক্ষের রাত।চারিদিক নিকষ কালো অন্ধকার। একফালি শীর্ণকায় চাঁদটিকে আর দেখা যাচ্ছে না। পাগলা কোকিলটার ডাকে হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে গেল। জেগে জেগে আকাশকুসুম ভাবছি। ভাবছিলাম এখানে যদি একটা ঠিকঠাক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকত, রাত-বিরেতে মানুষের সুরাহা হত। গাড়ি ভাড়া করো, তারপর মাইলের পর মাইল কাতরাতে কাতরাতে সদরের কোনো হাসপাতালে। এখানেই শেষ নয়, কেস ক্রিটিক্যাল হলে রেফার। সদর থেকে…

শূন্য কলরোল
মঞ্চ গড়ে এই আয়োজনসুরক্ষাকে আগলে রাখে বিধিবদ্ধ ঋণমিষ্টি সুবাস নাই বা মিলুকচলতে থাকুক ভুলের খেলাজল খায় না প্লাস্টিক ফুল মজলিসটি বেজায় পোক্ত – ফায়দারা শৌখিন। তীব্র ভাবে আঁকড়ে ধ’রে তারই অংশ হইসুযোগ বুঝে ঘৃণা ছুড়িআড়াল পেলে লুকাই সুখযদিও উদ্ধৃতিরা বড়োই সাধারণচিরাচরিত স্বভাবখানা –বরাবরই বয়ে বেড়ায় কালের বোঝামানোন্নয়ন করে না সমর্থন। তোমার দেশ তোমার বেশ সাজুক…

স্বপ্নতরু
পরার্থপরতার প্রতি জগবন্ধুর আর আস্থা রইল না। তাঁর অফিসের বস চক্রবর্তীবাবু অতীব সদাশয় পরোপকারী মানুষ । তাঁর কন্যা গত কয়েকদিন আগেই অকাল বিধবা হলেন। বাড়ির ফলবতী আমগাছটা বাজ পড়ে নষ্ট হল। জগবন্ধুর স্ত্রীর দ্বিতীয় সন্তান হবার সময় রক্তাল্পতা জনিত কারণে প্রসবের সময় বিরল গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন হল , তখন এই মানুষটিই শোনা মাত্র নিজের রক্ত…

খরা
ফাগুন শেষে মাটির কষ্ট, তৃষ্ণা কাতর প্রাণআগুন ছোঁয়া শস্য ক্ষেতে,মনের বিরূপ টান। দীঘল চোখে শুকিয়ে কাজলরাতমোহিনী হাঁকে,‘জল চাই গো, জল যে খরা,জল কোথাকে পাই’-এ পোড়া দেশ ক্লান্ত বড়ো,নটে গাছটি মুড়াই আরোবাউড়ি পাড়ার পথে ঘাটেউড়ছে ধুলোর ছাই।‘জল চাই গো, জল যে খরা,জল কোথাকে পাই।’ ফাগুন শেষে একলা ঘর- একলা মনের টানরাত দুপুরে প্রসব ব্যথায়পোয়াতি আনচান। ঋণের…

খোঁখীর বিয়ে
ঠিক দশটা বেজে পাঁচ, ট্রেন ছাড়ল। খানিকটা গিয়েই অবশ্য দাঁড়িয়ে পড়ল। উন্নয়নের ঠ্যালা, রেল ব্রীজ মেরামতি চলছে। তবে পনেরো মিনিট রেস্ট নিয়ে এক্সপ্রেস গতিতে এবার সে টগবগিয়ে ছুটল । পৌষ মেলার ভিড়। তারই মাঝে প্রথমে মায়ের ফোন, তারপর রত্নার,”কী রে, কতদূর?” রত্না আমার ছোটবেলা থেকে ছায়াসঙ্গি । দু’বছর পর দিল্লী থেকে ফিরে বেচারি হাঁকপাক করছে…

নীলকুঠির রোদ্দুর
১হিমাদ্রি সাওপাওলো…. বয়স গোটা তিরিশেক হবে। বাপের ছোট পুত্র। একটি প্রাইভেট স্কুলের ইতিহাস শিক্ষক। মাইনে প্রায় হাজার পনেরো। ভাগ্যিস বউ বাচ্চা নেই। এই মাইনেতে শহরবাজারে চালানো কঠিন। একসময় সরকারী চাকরি বাকরির অনেক পরীক্ষা দিয়েছিল কিন্তু বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি। শখ ফটোগ্রাফি ও স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি নির্মাণ। প্রকৃতির টানে প্রাইভেট স্কুলের লম্বা গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে মাঝেমাঝেই বেরিয়ে…
