শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

“নমস্কার স্যার, আমি দীপঙ্কর, মানে, সেদিন ফোন করে আসব বলেছিলাম।”

“হ্যাঁ গুড মর্নিং, মনে আছে। আসুন বসুন, একটু চা দিতে বলি?”

“হ্যাঁ স্যার। চা চলতে পারে।”

“লিকার চলবে তো?”

“মানে? লাল চা? আমার অম্বলের রোগ নেই।”

“অম্বল?”

“মানে যাদের গ্যাস সুগার থাকে, তারাই তো দুধ চিনি বাদ দিয়ে খায়।”

“ও তাই বুঝি? আমি দার্জিলিংএর ফ্লেভার এনজয় করতে লিকার নিই।”

“আমাদের পাড়ায় সিরাজদার দোকানে, দার্জিলিং কোথায় পাব স্যার? চায়ের মধ্যে একটু দুধের সর, তেজপাতা, এলাচ দিয়ে চমৎকার বানায় স্যার। ক্লাসের ফাঁকে কয়েকবার খেয়ে ফেলি।”

“সিরাজের দোকান মানে? আপনাদের জায়গাটা কি মুসলমান অধ্যুষিত?”

“তেমন নয়, আসলে জুটমিল এরিয়া স্যার। হিন্দু, মুসলমান, আদিবাসী, বিহারী, মাদ্রাজি, নেপালি সব রকমই আছে। হনুমানজীর মন্দির আছে, সন্ধেবেলা তুলসীদাসী গান হয়। আজান শোনা যায়, পোঙ্গল, দসাইন হয়, রবিবার চার্চেও যায়। পুরো জাতীয় সংহতির একটা ছোট মডেল।”

“আজকাল কিন্তু, এই একই বৃন্তে দুটি কুসুম, ব্যাপারটা মার্কেটে খাচ্ছে না।”

“অ্যাঁ! তাই নাকি? তবে আমাদের ওখানে কোন সমস্যা নেই। আসলে পুরানো মফঃস্বল এলাকা, বড় কোন মার্কেট নেই।”

“তা বেশ! মার্কেট না থাকলে আপনার বিকেলে ঘুরতে কোথায় যান?”

“ঘুরতে বাজারে কেন যাব? আমরা একটু গঙ্গার ধারে গিয়ে বসি বা কখনও স্টেশনে গিয়েও বসি। বাজারে যাই না।”

“আহা! সে বাজার নয়, আমি মার্কেটের কথা বলেছি।”

“ওই হল! ইংরাজীতে মার্কেট মানে তো বাজার।” 

“আচ্ছা ঠিক আছে, লিভ ইট। শপিংমলের ব্যাপারটা এখনও আপনার পরিধির বাইরে। যাইহোক কাজের কথায় আসি। আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?”

“ওই যে স্যার, সেদিন বলেছিলাম, আমাদের স্কুলের একশো বছর হয়ে গেল।”

“বাহ! একশো বছর! সাংঘাতিক ব্যাপার।”

“তা তো বটেই। তাই আমরা এটাকে একটু স্মরণীয় করতে চাই।”

“ওয়ান্ডারফুল, এ তো খুব ভাল কথা। তা কী করছেন?”

“আমরা এই উপলক্ষে সারা বছর জুড়ে নানা রকম অনুষ্ঠান করছি। যেমন সঙ্গীত, আবৃত্তি, অঙ্কন, ফুটবল, ক্রিকেট, বিতর্ক ইত্যাদি নানা প্রতিযোগিতা। আশেপাশের সব স্কুলকে নিমন্ত্রণ করছি স্যার।”

“সব স্কুল বলতে?”

“আমাদের চারপাশের পঞ্চাশটা স্কুলকে নিমন্ত্রণ করেছি।”

“বলেন কী? এত স্কুল আছে?”

“কী বলছেন স্যার! আমাদের মহকুমায় অন্ততঃ দেড়শো হাই স্কুল আছে।”

“তাই নাকি? সেগুলোতে ক্লাস হয়?”

“কেন হবেনা?”

“না, কাগজে টিভিতে সমানে দেখাচ্ছে টিচার-রা রাস্তায় বসে আছে।”

“কী বলব স্যার! সমস্যা তো আছেই। কত কম শিক্ষক নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। তার মধ্যেই চেষ্টা তো করে যেতেই হবে, তাই না? বাচ্চাগুলোর মুখের দিকে তাকালে, আমাদের শক্তি বেড়ে যায়, স্যার। ওরা তো আমাদের ভরসাতেই রয়েছে। ক’য়েক বছর পর, ওরাই তো আমাদের জায়গা নেবে। তাই আমরা যদি একটু সাহায্য না করি, সব তো ভেঙে পড়বে।”

“ভেঙে এখনও পড়েনি বলছেন?”

“হয়তো পড়ছে। কিন্তু ভাঙনের ভেতরেও তো কাজ করে যেতে হবে। এখান থেকে উদ্ধারের পথ তো, এখান থেকেই খুঁজে বার করতে হবে।”

“আপনাদের এক্সোপাজার তেমন নেই। একশো বছর ধরে একই গন্ডীতে আটকে আছেন।”

“বুঝলাম না স্যার।”

“আমি দেশ বিদেশে বহু স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি ঘুরে দেখেছি। মানে, আমার কাজের সূত্রেই যেতে হয়। জানেন, আমাদের একটা ধারণা ছিল, পড়াশুনা মানে স্ট্রাগল করা। যেটা হয়তো আমদের আগের আগের জেনেরশনের লোকেরা করেছেন। কিন্তু সময় তো আর থেমে থাকে না। সেদিনের সমাজ আর আজকের সমাজে অনেক পার্থক্য আছে।”

“আবার বুঝলাম না।”

“ওই যে বললাম, আপনাদের ওই এক্সপোজারটাই নেই, বুঝবেন কী করে?”

“তাহলে স্যার, আপনিই বুঝিয়ে দিন।”

“দেখুন, সে যুগে আমাদের দেশের ইনফ্রাস্ট্রাকচারই খুব পুওর ছিল। লোকজনকে তিন মাইল পথ হেঁটে, কখনও সাঁতার কেটে নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়েছে। এখন কি সে অবস্থা আছে?”

“স্যার, হয়তো কিছু জায়গাতে এখনও খুব খারাপ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।”

“সে সামান্য হ্যান্ডফুল হবে। বেশিরভাগ জায়গাতে রিমার্কেবল ডেভেলপমেন্ট হয়েছে। তাই একালের ছেলেমেয়েদের, যদি পুরানো দিনের মতো হাঁটিয়ে, সাঁতার কাটিয়ে স্কুলে পাঠাই, তাহলে পুরো এনার্জি ওয়েস্ট হয়ে যাবে, তাই না?”

“স্যার, ওরা তো সাঁতার কেটে স্কুলে আসে না।”

“দ্যাট ইউ আর। তাই ওদেরকে আরও সুযোগ দিতে হবে, যাতে ওদের লাইফ আরও ইজি হয়ে যায়, সো দ্যাট দে কান জাস্ট মাল্টিপ্লাই। দে ডোন্ট নিড টু বদার অন সিলি ইনফ্রা থিং।”

“বুঝলাম না স্যার।”

“আপনি কি কিছুই বোঝেন না? ছাত্রছাত্রীরা আপনাকে স্যার বলে ডাকে? বাই দ্য ওয়ে, আপনি কী পড়ান?”

“আমি গণিতের শিক্ষক স্যার।”

“গণিত! ইউ মিন ম্যাথেমেটিক্স? ভাবা যায় না।”

“কেন স্যার? আমি তো দিব্যি ভাবতে পারি। ঐকিক নিয়ম থেকে পিথাগোরাস হয়ে ক্যালকুলাস, কোনটাতেই কোন সমস্যা হয় না।”

“আপনি সত্যিই বুঝবেন না। আপনার ক্লাসরুমে এসি আছে?”

“এসি? মানে এয়ার কন্ডিশন? কী যে বলেন স্যার? ত্রিশ ইঞ্চি দেওয়াল, চূন সুরকির গাঁথনি, জ্যৈষ্ঠ মাসেও শীত করে। তবে সিলিং ফ্যান আছে স্যার।”

“আই সি! ডিজিট্যাল ব্ল্যাকবোর্ড? এটা নিশ্চই আছে?”

গল্প শুনতে, ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

“সেটা কী স্যার?”

“সেটা কী! ওই যে বললাম। আপনার এক্সপোজার নেই। সারা পৃথিবীতে এখন ডিজিট্যাল বোর্ড ছাড়া কোন ক্লাস হয় না। পুরো স্কুল সেন্ট্রাল এসি।”

“না স্যার, আমরা এখনও চক ডাস্টার দিয়েই কাজ চালাই। তবে অসুবিধা হয় না।”

“ওটা আপনি ভাবছেন। কত রিসোর্স, কী যেন বলে, অপচয় হচ্ছে জানেন?”

“কেন স্যার? আমরা প্রত্যেক বাক্স চকের হিসেব রাখছি।”

“হ্যাঙ অন ইয়োর চকের বাক্স। আমি বলছি ল্যান্ড রিসোর্সের কথা। গোটা রাজ্যে সাড়ে ছয় হাজার আপনাদের মতো স্কুল আছে। প্রতিটা স্কুল অ্যাভারেজ অ্যান একর অফ ল্যান্ড। এগুলোকে যদি পাবলিক স্কুলের স্ট্যান্ডার্ড ফেসিলিটি তে ডেভেলপ করা যায়, তাহলে কত বড় ইন্ডাস্ট্রি হবে, ক্যান ইউ ইমাজিন?”

“স্যার, আমরা তো স্কুলকে ইন্ডাস্ট্রি করতে চাইনা। সব কর্পোরেট হয়ে গেলে, কারা পড়বে? এইসব ছেলেমেয়েদের অভিভাবকদের তো এত ক্ষমতাই নেই যে ওরা সেখানে আসতে পারবে? আমাদের তো সমস্ত ভারতবর্ষকে নিয়ে ভাবতে হবে, তাই না?”

“আপনার চোখে উৎসাহ দেখে, ভাল লাগছে।”

“সবাই তো চারিদিক থেকে শুধু নেই নেই বলে চলেছে। নেই তো ঠিক, তা বলে তো হাত গুটিয়ে বসে থাকা চলে না।”

“আচ্ছা আপনার ধারণা নিয়ে আপনি চলুন। এখন আমাকে কী করতে হবে? সাথে সাথে চা খেয়ে নিন। আর এইগুলো স্পেশাল কুকি, ব্রিটেন থেকে এনেছিলাম গত সপ্তাহে।”

“একটা দিন আপনাকে চাইছি স্যার। আমাদের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে থাকবেন। আপনার মতো ব্যক্তিত্বর সংস্পর্শে এলে ওরা অনেক কিছু পাবে স্যার।”

“আমার তো একটা এপিয়ারেন্স ফিস লাগে। আপনাদের সেটা কি প্রভিশন আছে?”

“তা স্যার, বলুন কত? আমরা চেষ্টা করব। আসলে, একশ বছর তো কম সময় নয়। আমরা মনে রাখার মতো একটা কাজ করতে চাই।”

“আপনাদের তো নিশ্চই বাংলা মিডিয়ম।”

“আমাদের পুরো মহকুমায় তিরিশটা মতো ইংরাজি হাইস্কুল আছে। তাই দিয়ে কি সবার কুলোবে? তাছাড়া অত টাকা দেওয়ার মতো লোক কই? অগত্যা বাংলা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু আমাদের পড়ার মান কিন্তু মোটেই খারাপ নয়। আপনি আমাদের একশো বছরের রেজাল্ট দেখবেন। ধারাবাহিকভাবে ভাল।”

“আচ্ছা দেখবো। তবে আপনার মতো ধুতি পাঞ্জাবি পরে যেতে হবে নাকি?”

“সে আপনি, আপনার পছন্দ মতো পোশাক পরবেন।”

“আপনি কি রোজ এই পরেই স্কুলে যান।”

“কী করব বলুন স্যার? ছাত্রছাত্রীরা বড্ড গরীব স্যার। ওদের সামনে দামি জামা কাপড় পরতে লজ্জা করে।”

“গাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে? আপনার ছাত্রছাত্রীরা লজ্জা পাবে না তো?”

“রসিকতা করছেন স্যার! আপনি কাছাকাছি পৌঁছে, আমায় একটা ফোন করবেন।”

“আসলে, আমি রাজি হয়েছি, অন্য একটা ব্যাপারে। ঠিক কতটা জমি আছে নিজে চোখে দেখতে চাই। তারপর সেই অনুযায়ী একটা কর্পোরেট হাউসকে যদি অ্যাট্রাক্ট করতে পারি, নাথিং লাইক ইট।”

“স্যার, আমায় কিছু বললেন?”

“হুম! না তেমন কিছু না।”

সংগ্রহ করতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন

[নির্দিষ্ট দিনে]

“হ্যালো!”

“হ্যাঁ, স্যার বলুন। আপনি এসে গেছেন?”

“হ্যাঁ, গাড়িটা পার্ক করতে চাই।”

“গেটের সামনে স্বেচ্ছাসেবকরা আছে স্যার, ওরা আপনার গাড়ি পার্ক করিয়ে, আপনাকে ভেতরে নিয়ে আসবে। আমার বলা আছে।”

জায়গাটি খুব ঘিঞ্জি। একটি নাইন-টেন-এর ছাত্র এসে সাহায্য না করলে, গাড়ি নিয়ে মুশকিল হতো। গাড়ি পার্ক করার পর, ছেলেটি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে অতিথিকে আপ্যায়ন করে স্কুলের মূল গেটের ভেতরে নিয়ে আসে। পুরানো ইঁটের পুরু গাঁথনি, তার ওপর চুনকাম করা। একশো বছর উপলক্ষে ফুল পাতা দিয়ে সাজানো। ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই একরাশ ফুলের পাপড়ি ঝরে পড়ল। ওপরের ব্যালকনি থেকে ছাত্ররা ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা করছে। কয়েকটি মেয়ে এগিয়ে এলো শ্যামলা গায়ের ওপর সাদা শাড়িতে বেশ লাগছে। তারা হাতে থালা নিয়ে, একজনের হাতে চন্দন, অন্যজনের কাছে মালা। দুজন শাঁখ বাজালো। যত্ন করে মালা আর চন্দনে অতিথি বরণ হল। একটা ডালায় পাঁচ রকমের ফল, একটি সুদৃ্শ শাল, একসেট কলম সুন্দর করে সাজানো ঝুড়িটা তুলে দিল একজন ছাত্রী।

অতিথি দৃশ্যতঃ বিগলিত। ওদের নাম জিজ্ঞেস করলে, ওরা নাম বলে, মারিয়ম টুডু, প্রিয়াঙ্কা খাতুন, জয়তী ঘোষ, মুন্নি ঘরামি। অতিথির যেন একটু গা ছমছম করে ওঠে। 

এরপর আহুত হয়ে মূল মঞ্চে উঠে বসে। সামনে শতরঞ্জিতে বসে আছে ছাত্র ছাত্রীরা তারপর সারি সারি চেয়ারে আছেন শিক্ষক আর অভিভাবকরা। অতিথি এত সবের মধ্যে একজনকে খুঁজে চলেছে, কিন্তু পাচ্ছে না। একের পর এক অনুষ্ঠান হয়ে চলেছে। মঞ্চের ওপর গান নাচ আবৃত্তি যোগাসন ইত্যদি নানা অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হল। সকলের উপস্থাপন রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। শিশুশিল্পী রজব আলি গাইল শ্যামা সঙ্গীত, কুমার কেশবমূর্তি শোনাল কর্ণাটকী সুরে বাংলা গান, মণিকা রাই শোনাল সুকুমার রায়ের কবিতা। এমন করে অনেক কিছু। এরা প্রত্যেকেই গত কয়েকমাস জুড়ে চলা আন্তঃবিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন স্থানাধিকারী। 

প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানের পর মধ্যেহ্নভোজের বিরতি। খাওয়ার সময় ফোন করে, “হ্যালো, আপনি কোথায়?”

“আমি একটু বাইরে আছি স্যার। এসে যাব। আপনি চিন্তা করবেন না। হেড স্যারকে বলা আছে, উনি আপনার খামটা তুলে দেবেন।”

“আপনি কখন আসবেন?”

“সে নিয়ে চিন্তা করবেন না স্যার। আমার ছেলেমেয়েরা খুব দক্ষ। দেখবেন ওরা নিজেরাই সব করে ফেলবে।”

“তাই দেখছি, ওরাই সবকিছু পরিচালনা করছে।”

খাওয়ার পর, অতিথির ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে কিছু বলার কথা। অতিথি তৈরি ছিল, কেন পাবলিক স্কুল প্রয়োজন, কেন বিশ্বের সঙ্গে একাসনে বসতে ইংরাজি শিক্ষা আবশ্যক, এ সব নিয়ে বলতে, কিন্তু সকাল থেকে এই ছেলেমেয়েগুলো কর্মতৎপরতা দেখে, সব গোলমাল হয়ে যায়। এক নাগাড়ে ওদের প্রশস্তি জানিয়ে বক্তব্য শেষ করে। 

এরপর প্রধান শিক্ষক মশাই, অতিথিকে ঘরে এনে বসায়। একটা সুন্দর চায়ের কাপে দার্জিলিং লিকার পরিবেশন করা হল। অতিথি বোঝে, এ নিশ্চয় ওই ম্যাথস টিচার-এর কাজ। একটু চুমুক দিয়ে বলে, “আপনাদের এখানে সিরাজের দোকান কোনটা?”

“আপনি সিরাজের দোকানের কথা জানেন? আমাদের পাঁচিলের বাঁদিকে। সবাই ওর বানানো চা-ই খাই।”

“আমিও সেই চা খেতে আগ্রহী।”

“ও! তাই নাকি? বেশ।”

হেড মাস্টারমশাই কোন একজনকে ডেকে চায়ের কথা বলে দেন। তারপর একটা খাম অতিথির হাতে তুলে দেন। সেটা পেয়ে, অতিথি জিজ্ঞাসা করে, “আপনাদের দীপঙ্কর স্যার কোথায়? যিনি আমার বাড়ি গিয়েছিলেন।” অতিথি অনুভব করেন, গণিত শিক্ষককে তিনি প্রথমবার স্যার সম্বোধন করলেন।

হেড মাস্টারমশাই একটু চোখ নামিয়ে বলেন, “আসলে স্যার, ওর তো থাকার কথাই ছিল। সবকিছু গুছিয়ে তালিকা করে দিয়ে গেছে। কোর্ট অর্ডারে নাম কাটা যাওয়ার পর থেকে, বিশেষ অনুষ্ঠানে যখন বাইরের লোক আসার সম্ভবনা হয়, তখনই ও ছুটি নিয়ে ওর গ্রামে চলে যায়। এমনি দিনে ক্লাস নেয়, আমরাও ছাড়তে পারিনা যে, বাচ্চারাও ওকে খুব পছন্দ করে। তবে, ওই ঘটনার পর থেকে ও মাইনেও নেয় না স্যার। মানে আমরা দিতে পারিনা।”

অতিথি নিজের খামটা বার করে, টেবিলে রেখে বলে, “এটা আপনারা স্কুলের অন্য কাজে ব্যবহার করবেন। আমি ফিরে গিয়ে আরেকটু কিছু চেক লিখে পাঠিয়ে দেব।” 

“সে কী আমাদের সামান্য সম্মান দক্ষিণা আপনি নেবেন না।”

“আপনি রিফিউজ করবেন না প্লিজ। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি। এখানে এসে আমার চোখ খুলে গেল। এটা আমার তরফ থেকে আমার ভারতবর্ষকে নিবেদন।”

[লেখকের রবিচক্রে পূর্ব প্রকাশিত রচনা]

অন্যত্র প্রকাশিত কিছু গল্পঃ

আরও গল্প

বাংলা লাইভে প্রকাশিত গল্প

Facebook Comments Box

আপনি এই পত্রিকা পড়ছেন জেনে ভাল লাগল।

নতুন লেখা বা ভিডিও সংযোজন, অথবা রবিচক্রের অন্যান্য খবরাখবর সম্পর্কে জানতে, ইমেল নথিভুক্ত করতে পারেন।

We don’t spam! Read our privacy policy for more information.