
“আমার আঙুলগুলো একটু টেনে দে না।” শ্রাবণীর কথায় একটু অবাক হয় অপ্রতীম। তবুও পুরোনো বন্ধুর হাতের আঙুলগুলো আলতো করে চাপ দিয়ে টেনে দিতে থাকে। শ্রাবণী বলে, “আগের মতো নরম আর নেই, বল?”
কথাটা শোনামাত্র কেমন যেন থমথমে হয়ে উঠল। এতগুলো দিন, ঝপ করে চোখের পলকে পার হয়ে গেল! এখনও তো মনে হয়, ঠিক কলেজবেলা! ক্লাস শেষে সবাই একসঙ্গে এলোমেলো গল্প করতে করতে হেঁটে যাওয়া।
অরণ্য এসেছে ডালাস থেকে। উদ্দেশ্য বাবার বাৎসরিক পারলৌকিক কাজ। বহুদিন পর, কোন একটা কারণে দেশে আসতে পেরে নিজের কেজো জগত থেকে নির্ভেজাল ছুটি পেয়েছে। পুরোন বন্ধুদের খবর দিয়েছে। অন্তত একবার সমাজ মাধ্যমের বাইরে এসে, সরাসরি দেখা হোক। যদিও কোন আনন্দ সমাগমের ডাক নয়, তবু বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার লোভেই চার পাঁচজন স্কুল কলেজের পুরোন বন্ধু হাজির। অপ্রতীম, শঙ্খ, শ্রাবণী, প্রমিতা, অবিনাশ।
অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত। কিছু স্মৃতিচারণ, গান, আন্তরিক কথার পর মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন। অরণ্য অন্যান্য অতিথিদের নিয়ে ব্যস্ত। তার মাঝেও বন্ধুদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবি তোলা, খুচরো কিছু ফেলা আসা মুহূর্তের স্বাদ।
শহরতলির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যাঙ্কোয়েট থেকে যখন খাওয়া দাওয়া সেরে অপ্রতীম, শঙ্খ, শ্রাবণী, প্রমিতা, অবিনাশ-রা বেরলো তখন ঘড়িতে দুপুর তিনটে। জায়গাটা বেশ নিরিবিলি, দুপুরবেলা রাস্তাঘাটে তেমন তাড়া নেই। অপ্রতীম প্রস্তাব করে, “কাছেই আমার একটা ফ্ল্যাট আছে। তোরা যদি বিশ্রাম করতে চাস, আসতে পারিস।”

অবিনাশ বলে ওঠে, “আমার হবে না ভাই। বিকেলে ডাক্তার দেখাতে যাব। ট্রাইগ্লিসারাইডটা গোলমাল করছে, ইউরিক অ্যাসিড ভাল না। আরও লম্বা ফিরিস্তি আছে, পরে ডিটেলে বলব।”
অবিনাশকে বিদায় দিয়ে, অন্য তিনজন হইহই করে ওঠে। “চল চল, এই দু ঘন্টার অনুষ্ঠানে, এতদিনের গল্প শেষ হয় না।”
শ্রাবণী বলে, “অরণ্যকেও ডাকি?”
শঙ্খ হেসে ওঠে, “তোর এখনও অরণ্যকেই চাই? তোকে ফাঁকি দিয়ে তো ডালাস চলে গেল।”
শ্রাবণীও রসিকতায় হেসে ওঠে, “তোরা পারিসও। প্রায় চার দশক পার করা স্কুল লাইফের ইনফ্যাচুয়েশন থাকে?”
প্রমিতা বলে, “ওকে ডাকাই যায়, তবে আজকের অনুষ্ঠানে ও হোস্ট। বাড়িতে বেশ কিছু আত্মীয় স্বজন রয়েছে। তাদের ফেলে কি আসতে পারবে?”
অপ্রতীম বলে, “ঠিক আছে, ওকে জানিয়ে রাখছি, যদি আরেকটু পর সময় পায়, আসবে।”
হাসি ঠাট্টার আবহে, অপ্রতীমের গাড়িতে সকলে উঠে বসে। এলাকাটি বেশ শান্ত সমাহিত। প্রচুর গাছের ছায়া ঘেরা বেশ সুন্দর করে সাজানো শহর। বর্ষার আবহে গাছপালারাও অনেক সজীব আর প্রাণবন্ত। অরণ্যদের ব্যাঙ্কোয়েট থেকে অপ্রতীমের আবাসনে পৌঁছতে মিনিট পনেরো সময় লাগে। বিশাল ফটক, বেসরকারি উর্দিধারী প্রহরীর গেট খুলে দেয়। নির্দিষ্ট জায়গায় গাড়ি পার্ক করে, সবাই নেমে আসে। প্রচ্ছন্ন গর্ব নিয়ে অপ্রতীম বলে, “এই ফ্ল্যাট-টা এমনিই পড়ে আছে, ব্যবহার হয়না।”
সকলে চোখ তুলে ইমারতগুলোর উচ্চতা, আর তার সঙ্গে বৈভবের সুসামঞ্জস্য লক্ষ করে। আজকাল দামী আবাসনগুলোতে যেমন হয়, সব কিছু খুব সাজানো গোছানো। নিয়মিত পরিচর্যা করার লোক রয়েছে। লিফ্ট দিয়ে সতেরো তলায় উঠে, নিজের ফ্ল্যাটের চাবি ঘোরায় অপ্রতীম। দরজার পাশে লাগানো ডিজিট্যাল ডিসপ্লে, এখান থেকে গেট, পার্ক, সুইমিংপুল, জিম, কমিউনিটি হল ইত্যাদি সব জায়গার সঙ্গে ভিডিও কল করা যায়। দুই কামরার ফ্ল্যাট সুন্দর করে সাজানো। শঙ্খ চোখ ঘুরিয়ে বলে, “ব্যবস্থা ভালই। তুই বলছিস ব্যবহার হয় না। তবে টিভি ফ্রিজ ফার্নিচার দেখে তো, সেটা মনে হচ্ছে না।”
প্রমিতা বলে, “এটা কি তোর সিক্রেট বাগানবাড়ি? সেকালের জমিদারদের মতো ফূর্তি করার জায়গা!”
অপ্রতীম হেসে ফেলে, “কী যে বলিস? আমার কি সে দম কখনও ছিল? তোরা তো ছোট থেকে দেখেছিস?”
শ্রাবণীর ঠোঁটে অর্থপূর্ণ হাসি ভেসে ওঠে।
অপ্রতীম বলে ওঠে, “হাসলি যে বড়?”
শ্রাবণী বলে, “রিক্সাওয়ালার কথা ভেবে হাসছি।”
অপ্রতীমের মনে পড়ে যায়, সে এক বৃষ্টিদিনের কথা! ও আর শ্রাবণী রিক্সায়। ছাঁট বাঁচাতে পর্দা টেনে দিয়েছিল রিক্সাওয়ালা। ভরা বর্ষায় ছোট্ট একটু ঘেরাটোপ। কিন্তু তার বেশি আর কিছু এগোয়নি। নিজের মনে হেসে ওঠে।

অন্যরাও হাসিতে যোগ দেয়, কারণ ওদের কৈশোর উত্তীর্ণ সময় এই গল্প মুখরোচক হয়ে আড্ডায় ঘুরতো।
অপ্রতীম বেডরুম দুটো খুলে দিয়ে বলে, “যে যেখানে পারিস গড়িয়ে নিতে পরিস।”
প্রমিতা বলে, “দরজা খুলে রাখতে হবে?”
আবার সবাই হেসে ওঠে।
অপ্রতীমের ফ্ল্যাট, তাই এখন আপ্যায়নের দায়িত্ব ওর, “কী খাবি বল? বিয়ার আনাই?”
শঙ্খ বলে, “এই তো গাদাগুচ্ছের মাছভাত সাঁটিয়ে এলি! এখন আবার কী খাবি?”
ঘরের এসিগুলো চলতে শুরু করেছে। আবহাওয়া বেশ আরামপ্রদ। বিছানায় গা এলিয়ে শ্রাবণী বলে, “পান খাওয়াবি? আজকাল কী সব হাজমোলা দেওয়ার রেওয়াজ হয়েছে! নেমন্তন্ন বাড়িতে পান না খেলে সম্পূর্ণ হয়না।”
অপ্রতীম ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে বলে, “চার কিলোমিটার দূর থেকে আসবে। মিনিট কুড়ি লাগবে।”
শঙ্খ বলে, “ও বাবা! পান-ও অ্যাপ থেকে কেনা যায়? জানা ছিল না।”
প্রমিতা বলে, “আনাচ্ছিস যখন, দু বোতল ঠান্ডা জল আনা। তোর ঘরে তো ফ্রিজ শুধু শোভা বর্ধন! চলে না নিশ্চয়ই।”
অপ্রতীম বলে, “কেউ তো থাকেই না। চলবে কখন?”
শঙ্খ বলে, “আমি মিষ্টি দই খাব। নিমন্ত্রণ বাড়িতে ওই আইসক্রিম খেয়ে ঠিক মন ভরে না।”
কেউ সোফায়, কেউ বিছানায়, কেউ চেয়ার টেনে বসে।
প্রমিতা বলে, “অরণ্যর বৌকে দেখলি? এই বয়েসেও বেশ ধরে রেখেছে।”
বাকিরা আবার হেসে ওঠে। শঙ্খ বলে, “ওটা ওর পার্টনার। বৌ ছেড়ে গেছে অনেকদিন। এই মেয়েটি ওর স্টুডেন্ট ছিল।”
প্রমিতা বলে, “ওমা! তাই নাকি? জানতাম না তো? দিব্বি তো ফ্যামিলিতে মিশে গেছে।”
শ্রাবণী বলে, “তোদের মতো বুড়ো হয়ে যাবে নাকি? ওর ধ্বক আছে, একটা বাচ্ছা মেয়েকে পটিয়েছে। আমি, আমার পঞ্চাশোর্ধ আঙুলগুলো একটু টেনে দিতে বললাম, তাতে তোদের বন্ধু ঘেমে গেল।”
অপ্রতীম প্রতিবাদ করে, “মোটেও ঘেমে যাইনি।”
শঙ্খ বলে, “শরীর নিয়ে আমাদের নানা রকম ধারণা। লক্ষ কর, শরীর-ই একমাত্র বস্তু, যেটা আমাদের সঙ্গে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সঙ্গে থাকে।”
শ্রাবণী বলে, “তাহলে আর পাঁচটা বস্তুর মতো, শরীরেরও সুখ অসুখ বলে কিছু নেই?”
শঙ্খ বলে, “ঠিক করে নজর কর, নিজেরাই বুঝতে পারবি। আমাদের মধ্যেই কেউ কেউ অসুখের গল্প বলে খুব সুখ পায়।”
অপ্রতীম বলে ওঠে, “অবিনাশ?”
শঙ্খ বলে, “অবিনাশ আমাদের বন্ধু, ওর অবর্তমানে ওকে নিয়ে আলোচনা করছি না। তবে অনেকেই এমন আছেন। তাই অসুখ মানে দুঃখ বা খারাপ নাও হতে পারে। যেমন খ মানে কী?”
প্রমিতা বলে, “খ হল একটা বর্ণ। তার আবার মানে কী?”
শঙ্খ বলে চলে, “খ মানে আকাশ। আবার দেহতত্ত্ব অনুসারে মানব শরীরকে রথের সঙ্গে তুলনা করা হয়। আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো সেই রথের চাকা। চাকার কেন্দ্র হল খ, যেখান দিয়ে আকাশ দেখা যায়। সেই খ-য়ে যদি যথেষ্ট পরিমাণে লুব্রিক্যান্ট থাকে তবে রথের অ্যাক্সেল ভাল করে ঘোরে, তাকে বলে সু-খ আর যদি ক্যাঁচক্যাঁচ আওয়াজ হয়, তখন হয় অসু-খ।”
ঠিক তখন দরজার ডিসপ্লেটি ডিংডং শব্দ করে জেগে ওঠে। একটি পরিশ্রান্ত ডেলিভারি বয়-এর মুখ দেখা যায়। অপ্রতীম বলে ওঠে, “আমাদের পান, জল, দই এসে গেছে। এটাও আমি ডিজিট্যাল-খ দিয়ে দেখলাম। আমার সু-খ হল!”
সবাই আরেক প্রস্থ হেসে ওঠে।
পান, মুখে দিয়ে প্রমিতা বলে, “এবার উঠবো। মেয়ে কলেজ থেকে ফিরবে।”
অপ্রতীম বলে, “তোদের ঘর বিছানার ব্যবস্থা করে দিলাম, ঘুমোলিও না, কিছু করলিও না।”
কথার মধ্যেই বৃষ্টি এলো। ছাদ থেকে মেঝে অবধি লম্বা শার্সির ওপর জলের দাগ কেমন রূপকথার আবহ সৃষ্টি করে। শ্রাবণী ব্যালকনির দিকে চলে যায়। এলোমেলো বৃষ্টির ছাঁট চোখে মুখে লাগছে। অপ্রতীম পাশে গিয়ে দাঁড়ায়, অনেক উঁচু থেকে নিচের পৃথিবী কেমন ঝাপসা হয়ে গিয়েছে। শ্রাবণী জিজ্ঞেস করে, “শঙ্খ আর প্রমিতা কি পাশের ঘরে?”
“জানিনা?”
“কেন জানিস না?”
“যে যার নিজের খ খুঁজে নিক।”
“এখনও খোঁজা বাকি রয়েছে? জীবনের আর কতটুকুই অবশিষ্ট?”
“যেটুকু আছে, আরণ্যর মতো সেটাকেই চেটেপুটে খাওয়ার চেষ্টা কর।”
“সব সময় কি হাভাতের মতো চেটেপুটে খেতেই হবে?”
“কিন্তু আমি তো কাঙাল। সারা জীবন দুমুঠো সুখের জন্য হাত বাড়িয়ে থাকলাম।”

তখন বেডরুমে, একটা মোড়াতে বসে প্রমিতা। শঙ্খ ওর গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে। প্রমিতা বলে, “সময়কে উল্টো ঘোরানো যায়না শঙ্খ।”
“উল্টো ঘোরাতে তো চাইনা। যেখানে আছে সেখানেই যদি বশ করা যায়?”
“বশ কি হয়? ফস করে জ্বলে ওঠে।”
“জ্বলে ওঠা কি খারাপ?”
“এখনও লুব্রিক্যান্ট আছে বলছিস?”
“ক’দিন আগেও রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে অনায়াসে মেয়েদের মুগ্ধ দৃষ্টি শরীরে জড়িয়ে যেত। এখন সে সব হয় না। সেবার অফিস ট্যুরে বার্লিন গিয়েছিলাম। সেখানে অনসাইটে থাকা এক কমবয়সী কলিগ, অনায়াসে তার সুন্দরী স্ত্রীকে আমার সঙ্গে দেশে ফিরতে দিলো, কোন ভয় পাচ্ছে না কেউ।”
“ভাল তো। তুই সৌজন্য দেখাতে পারছিস, বয়সের সঙ্গে শিষ্ট, ভদ্র হয়েছিস।
“আমি তো, সেটা হতে চাই না।”
প্রমিতা আলতো করে শঙ্খকে ছোঁয়, “ওদের নতুন চোখ। তাই নতুনকে খোঁজে। আমাদের পুরনো চোখে, এখনও তুই সমান অ্যাট্রাকটিভ।”
মোড়ার সামনে একটা বড় আয়নাওলা ড্রেসিং টেবিল। সেখানে দুটি প্রৌঢ় মানুষের অবয়ব দেখা যায়। শঙ্খ প্রমিতাকে বিছানার দিকে টানে। প্রমিতা খুব স্বাভাবিক গলায় বলে, “দাঁড়া, বিছানাটা একটু ঝেড়ে দিই। কতদিন ঘর বন্ধ ছিল, কে জানে? যে কোন জায়গাতে গা পাততে আমার অসুবিধা হয়।”
বিছানাটা ঝাড়তে গিয়ে বালিশ তোষকের ফাঁক দিয়ে একটা কিছু মাটিতে পড়ে। শব্দ শুনে দুজনেই সেদিকে তাকায়। একটা কন্ডোমের প্যাকেট। খোলা গলায় দুজনেই হেসে ওঠে।
ঠিক তখন দরজার পাশের ডিসপ্লে ডিংডং করে বেজে ওঠে। ব্যালকনি থেকে দরজার কাছে আসে অপ্রতীম। তাকিয়ে দেখে বৃষ্টিভেজা বিকেলে একটা বাইক নিয়ে অপ্রতীমের ছেলে গেট দিয়ে ঢুকছে, আর ওকে জাপ্টে ধরে আছে সমবয়সী একটি তরুণী। অপ্রতীম গলা তুলে বলে, “এই রে!”
বাকিরা সকলে ড্রইং রুমে চলে আসে, “কী হল?”
অপ্রতীম ডিসপ্লের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলে, “সুপ্রতীম, আমার ছেলে। সঙ্গে বান্ধবী।”
শ্রাবণী বলে, “তোর ছেলে কিন্তু ভীষণ হ্যান্ডু হয়েছে।”
শঙ্খ, “তুই যে বললি, ঘর ব্যবহার হয় না।”
অপ্রতীম, “ওর কাছেও চাবি আছে, আসতেই পারে। ওরা এখন অ্যাডাল্ট!”
শ্রাবণী বলে, “তাহলে, আমরা কী করব?”
প্রমিতা, “লেট দেম কাম। আমরা চলে যাচ্ছি।”
শঙ্খ বলে, “ওর সঙ্গে বান্ধবী আছে। আর ঘরে এইটা পেলাম, বলে হাত খুলে, প্যাকেটটা দেখায়।”

অপ্রতীমকে বেশ অপ্রস্তুত দেখায়। শঙ্খ এগিয়ে আসে, “কুল ব্রো! তোর সময়ে, তুই যা করতে পারিসনি, তোর ছেলে যদি তাই করে, তোর তো খুশি হওয়ার কথা! জল, দই-এর প্যাকেটগুলো তুলে নিয়ে চল, আমরা ওদিক দিয়ে নেমে যাই। ওদের সতেরো তলায় উঠতে উঠতে আমরা বেরিয়ে যেতে পারব।”
বাইরে বর্ষা ধরে এসেছে। বৃষ্টিস্নাত বিকেলে কয়েকজন প্রৌঢ়, ছোটবেলার চোর-পুলিশ খেলার মতো সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকে, যাতে অন্তত লিফ্টে পরের প্রজন্মের সঙ্গে দেখা না হয়। এতটা উঁচু ফ্লোর থেকে নামার সিঁড়ি! ওরা নামছে তো নামছেই, সিঁড়ি যেন শেষ হচ্ছে না।