শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা


দরজায় নক করে ঘরে ঢুকে সবিতা বললো, ‘ম্যাডাম, আপনার সঙ্গে দুরন্ত সংবাদ চ্যানেলের সম্পাদক ও সঙ্গে সাংবাদিক প্রিয়ন্ত মজুমদার দেখা করতে এসেছেন। এই যে কার্ড পাঠিয়েছেন। বলছেন, খুব জরুরি দরকার। ’
ইনস্টাগ্রামটা বন্ধ করে রুমেলা বললো, ‘ঠিক আছে, তুই বসতে বল। আর কফি বা কোল্ড ড্রিঙ্কস কী খাবে দেখ। আমি একদম মেক আপ ছাড়া আছি। একটু টাচ দিয়ে যাচ্ছি।’
একটু পরে অভিনেত্রী রুমেলা চট্টোপাধ্যায় এলেন। বললেন, ‘নমস্কার। প্রিয়ন্তদা আপনি আসবেন আগে জানালেন না তো!’

প্রিয়ন্ত একগাল হেসে বললো, ‘জানাইনি, কারণ সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম। ইনি আমাদের চ্যানেল হেড…।’
প্রিয়ন্তর মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে রুমেলা বললো, ‘প্রসন্ন সুন্দর বাগচী। কে না চেনেন ওনাকে। আচ্ছা, আপনারা কেন এসেছেন, একটা গেস করতে পারি কি?’
প্রিয়ন্ত বললো, ‘করুন।’
‘আমার মনে হয়, আপনাদের চ্যানেলে মহালয়া অনুষ্ঠানে আমাকে দুর্গা সাজার অফার নিয়ে এসেছেন। কিংবা পুজো সংক্রান্ত কোনও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হবে।’
প্রিয়ন্ত বললো, ‘এক শতাংশও হল না।’
রুমেলা বললো, ‘বেশ, আপনারাই বলুন।’
প্রিয়ন্ত প্রসন্নকে বললো, ‘দাদা, আমি বলব, না আপনি?’
প্রসন্ন বললো, ‘তুমিই বল।’
প্রিয়ন্ত বললো, ‘আমাদের কাছে আপনার ব্যাপারে একটা স্কুপ নিউজ আছে। সেটা নিয়ে আমরা একটা স্পেশাল শো করতে চাই। তাই আপনার কাছে এসেছি একটা পারমিশন নিতে আর একটা কন্ট্র্যাক্ট সই করতে।’
কথাটা শুনেই কেঁপে উঠলো রুমেলার বুক। তাহলে কী ওরা সব জেনে গেলো? আমি তো খবর চাপা দিয়েই রাখতে চেয়েছিলাম। তবু অবাক করা মুখ করে সে বললো, ‘বাবা, আমাকে নিয়ে কী এমন স্কুপ আছে যে সাতসকালে ছুটে আসতে হলো।’
প্রিয়ন্ত বললো, ‘সে তো বলবোই। শুনুন সকাল সকাল শুধু কফি খেয়ে যাব না। একটু ব্রেকফাস্টের ব্যবস্থা করুন।’
প্রিয়ন্তর কথায় একটু অপ্রস্তুত হল প্রসন্ন। সে বললো, ‘না না আমি কিছু খাবো না।’
রুমেলা বলল, ‘না না, আপনার মতো এমন একজন বড় মাপের মানুষ আমার বাড়িতে প্রথম এলেন, কিছু তো খেতেই হবে। আপনারা বসুন। আমি একটু আসছি।’ ভিতরে গিয়ে সবিতাকে কিছু খাবার পাঠানোর কথা বলে আবার ঘরে এলো রুমেলা। সোফায় বসতে না বসতেই তার হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে দিলো প্রিয়ন্ত।
কাগজটা দেখেই রুমেলা বলে উঠলো, ‘ও মাই গড। এ কাগজ আপনারা পেলেন কী করে?’
প্রিয়ন্ত বললো, ‘সেটা পরের কথা। এই খবর আমরা ছাড়া আর কোনও মিডিয়া জানে না। ’
কী বলবে ভেবে পায় না রুমেলা। সে ভাবে, নিশ্চয়ই ডক্টরের চেম্বার থেকে এটা ফাঁস হয়েছে। সে বললো, ‘দেখুন এখনই আমি চাই না, মিডিয়া এটা জানুক।’
প্রসন্ন বললো, ‘এগজ্যাক্টলি। আমরাও তাই চাই। বরং আমরা তার থেকে একটু বেশিই চাই। সেইজন্যই আপনার কাছে আসা।’
রুমেলা বললো, ‘আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।’
প্রসন্ন বললো, ‘আপনাকে মুখে কুলুপ লাগাতে হবে। আপনার প্রেগনেন্সি নিয়ে কোনও মিডিয়ার কাছে মুখ খুলবেন না। এ ব্যাপারে যে কোনও ছবি এবং খবর শুধু আমরাই প্রকাশ করবো। তবে একেবারে শেষে গিয়ে বলতে হবে আপনার সন্তানের বাবা কে। সে ব্যাপারে আপনার সঙ্গে আমরা একটা কন্ট্র্যাক্ট সাইন করতে চাই। ডিল অনুযায়ী আপনাকে বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ষাট লক্ষ টাকা দেব।’

রুমেলা বললো, ‘ওরে বাবা, এখনই তো আমি এনিয়ে কিছু বলতে পারব না। আমাকে ভাবতে হবে। তবে আপনাকে জানিয়ে রাখছি, ইনফর্মেশন বা ছবি, সবকিছু আপনাদেরই শুধু দেব। তবে রেটটা আর একটু বাড়াতে হবে। আর আমার এখন মাত্র টুয়েলভথ উইক। অন্তত কুড়ি সপ্তাহের আগে আমি খবরটা প্রকাশ করতে চাইছি না।’
‘ঠিক আছে, কন্ট্র্যাক্ট অ্যামাউন্ট অবশ্যই আলোচনা সাপেক্ষ। তবে আপনি এই অবস্থায় যদি শ্যুটিং করেন, সেক্ষেত্রে কয়েকদিনের মধ্যে মানুষ বুঝে যাবে।’
রুমেলা বললো, ‘দিন দশেকের মধ্যে আমি হংকং চলে যাচ্ছি। ওখানে মাস দুয়েক থাকব। এর মধ্যে আপনাদের সঙ্গে কন্ট্র্যাক্টটা সেরে নেব। তবে ওটা এক কোটি টাকা করুন। আপনাদের চ্যানেলেই শুধু আমি ছবি পাঠাব। বেবিবাম্পের ছবিও দেব। সেরকম হলে হংকং থেকে আপনাদের লাইভ ইন্টারভিউ দেব।’
প্রসন্ন বললো, ‘বাজারের অবস্থা খুব খারাপ। কোভিড পিরিয়ডের পর অ্যাড রেভিনিউ খুব একটা ভালো নয়। টাকাটা তুলতে পারব না। আপনাদের ইন্ডাস্ট্রির অবস্থাই একবার ভাবুন না। একের পর এক ছবি ফ্লপ হচ্ছে।’
কথাটায় খুব সূক্ষ্ম একটা খোঁচা ছিল। বুঝতে পারলেও সেটাকে গায়ে না মেখে রুমেলা বললো, ‘দেখুন আমার বিয়ের সময় তিন কোটি টাকায় আপনাদের সঙ্গে কন্ট্র্যাক্ট সাইন করেছিলাম। আপনারা আমার বিয়ে নিয়ে ভালোই বিজনেস করেছিলেন। শুনলাম দিন পাঁচেকের ব্যবসায় আপনারা ছয়-সাত কোটি টাকা অ্যাড রেভিনিউ পেয়েছিলেন।’
প্রসন্ন হেসে বলল, ‘কী যে বলেন। কোনওক্রমে লাখ খানেক টাকা প্রফিট হয়েছিল।’
রুমেলা বললো, ‘সে নাহয় হলো। কিন্তু আমার বিয়ে ভাঙার স্টোরি নিয়ে তো ভালোই ব্যবসা করেছিলেন। আপনারা সবাই আমাকে নিয়ে প্রফিট করে গেলেন, মিডিয়া, অ্যাড, ফিল্ম জগৎ সকলেই। অথচ আমার জীবনটা একটা লোকসানের জীবন হয়ে গেলো।’
ব্যাপারটা খুব সিরিয়াস দিকে চলে যাচ্ছে দেখে হাল ধরলো প্রিয়ন্ত। বললো, ‘একটা কথা বলবো?’
‘বলুন না। তবে আমি যা বলবো, সব আনঅফিসিয়ালি। কিছু প্রকাশ করতে পারবেন না।’
প্রিয়ন্ত বললো, ‘সে ঠিক আছে। আপনার অনুমতি ছাড়া আমাদের মিডিয়া একলাইনও ফলস গসিপ করেছে? বলছি, ডিভোর্সের পর এখন বাজারে মানুষের মধ্যে আপনাকে নিয়ে খুব কৌতূহল!’
রুমেলা হাসে। ‘জানি তো। মানুষের কৌতূহল হল, কোন পুরুষের সঙ্গে আমি বিদেশ যাচ্ছি, কার সঙ্গে শুচ্ছি ইত্যাদি। তারপর আমার প্রেগনেন্সির খবর ছড়ালে মানুষ আলোচনা করতে শুরু করবে, কে আমার সন্তানের বাবা! কয়েকটা নামও আলোচনায় আসবে। পরিচালক প্রবুদ্ধদা, ইন্দ্রনীল, সুশোভন তাইতো?’
প্রিয়ন্ত কপালে হাত ঠেকিয়ে বললো, ‘আপনাকে স্যালুট। উপরতলায় বসে একেবারে নীচেরতলায় মানুষের আলোচনারও খবর রাখেন দেখছি।’
রুমেলা বললো, ‘ওরাই আমাদের ভগবান। ওরা যেদিন আমাদের ছবি দেখবে না, সেদিন আমাদেরও সবকিছু ধসে যাবে। ল্যান্ডস্লাইডের মতো।’
প্রসন্ন বললো, ‘এবার আমরা উঠবো। তবে আপনার হংকং যাওয়ার আগে আমরা কন্ট্র্যাক্টটা সাইন করিয়ে নিতে চাই।’
রুমেলা বললো, ‘না না এখনই যাবেন কী, দাঁড়ান। হয়ে গেছে অল্প কিছু খেয়ে যান। আর একটা কথা। এক কোটির মধ্যে আমাকে পঞ্চাশ লক্ষের চেক দেবেন। বাকিটা ক্যাশ।’
প্রসন্ন হাত তুলে বললো, ‘ঠিক আছে। কোনও সমস্যা নেই। তবে পরে আবার একটা চুক্তি করব। সেটা হল, আমরাই প্রথম মানুষের কাছে আপনার সন্তানের মুখ দেখাবো।’
রুমেলা হেসে বললো, ‘সে অনেক দূরের ভাবনা।’
প্রিয়ন্ত বললো, ‘আমাদের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা সবসময় আপনার সঙ্গে থাকবে।’



ইদানীং ভীষণ ক্লান্ত লাগে। পঁচিশ সপ্তাহ হয়ে গিয়েছে। এখনই আর ভারতে ফিরবে না রুমেলা। বেবির জন্মের পর সে একেবারে ফিরবে। মিডিয়ার অসভ্যতা এড়াতেই সে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইন্দ্রনীল কয়েকদিন থেকে ফিরে গিয়েছে। ওর শ্যুটিং আছে। হংকংয়ে নিউটাউন প্লাজার পাশেই একটা হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের আঠারো তলায় তার ফ্ল্যাট।

এখানে বারান্দায় বসে অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়। চুপ করে বসে দেখে সে। দূরের সবুজ পার্কগুলো। চলন্ত ছোট ছোট গাড়ি। শিং মুন নদীর শান্ত জল। পা ছড়িয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে বেনিয়ান ব্রিজ। বেশ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে স্মোক করার জন্য ঠোঁটটা সরসর করে। কিন্তু ডাক্তারের নিষেধ থাকায় এখন আর সে স্মোক করছে না। মদ খাওয়াটাও এখন বন্ধ রেখেছে। তার ফলে একটা উইথড্রয়াল সিনড্রোম কাজ করছে। সন্ধ্যার পর থেকেই মাথাটা ঝিম ঝিম করে, চোখ দু’টো টনটন করে। অনেকটা রাত হয়ে গিয়েছে। দূরের মায়াবি আলোগুলো যেন স্বপ্নজগতের মতো। কোমর টনটন করছে। বিছানায় এসে শুয়ে পড়ে রুমেলা। ঘরে ঢুকে সবিতা বললো, ‘ম্যাডাম কিছু খাবেন না?’
মুখের ভেতরটা তেতো হয়ে আছে। সব খাবারই বিস্বাদ লাগে। রুমেলা বললো, ‘না, কিছু খেতে ভালো লাগছে না। দস্যিটা পেটের ভেতরে কেমন লাফালাফি করছে। মাঝে মাঝে পা-ও ছুঁড়ছে।’
‘ডাক্তারকে কি একবার ফোন করবো?’
‘না কিছু করার দরকার নেই, তুই শুয়ে পড়। তেমন হলে আমি তোকে ডাকবো।’
চুপ করে শুয়ে থাকে রুমেলা। পেটের ভেতর অসম্ভব তোলপাড় অবস্থা। ঘরের মধ্যে মায়াবী নীল আলো। পেটটা চেপে ধরে থাকে। হঠাৎই সে চমকে ওঠে। কে যেন ‘মা’ বলে ডাকলো। তাকাতেই দেখলো ঘরের নীল আলোয় একটা ছায়ামূর্তি। প্রথমে সে কিছু বুঝতে পারছিল না। ভালো করে চোখ মুছে তাকাতেই দেখলো, ছোট্ট একটা ভ্রুণের মতো শিশু। তাড়াতাড়ি উঠে বসার চেষ্টা করে রুমেলা। কিন্তু পারে না। সেই ছায়াটা ঘরের নীল আলোয় তার খাটের চারপাশে যেন পরীর মতো উড়ছে।

রুমেলা বলে, ‘তুই কে রে সোনা!’
‘আমি তোমার ছেলে মা। এখনও পৃথিবীর আলো দেখিনি।’
‘ওভাবে ঘুরছিস কেন সোনা, আমার কাছে আয়।’
‘না, মা। আমি তোমার কাছে যাব না।’
‘কেন রে সোনা আমার?’
‘মা তুমি আমাকে জন্মানোর আগেই বিক্রি করে দিয়েছো।’
‘না রে সোনা। তোকে কখনও বিক্রি করতে পারি? তুই যে আমার বুকের ধন।’
‘মোটেই না। আমি জন্মানোর আগেই আমাকে নিয়ে তুমি ব্যবসা করছো। এক কোটি টাকা দিয়ে মিডিয়ার কাছে আমাকে বিক্রি করে দিয়েছো। আমি অভিমন্যুর মতো সব শুনেছি। আচ্ছা মা, আমি কী এমন দোষ করেছি বলতে পারো।’
‘এমন করে বলিস না বাবা, বিশ্বাস কর। আমি এভাবে ব্যাপারটা দেখিনি।’
‘তুমি হিরোইন, স্টার, সেলিব্রেটি। তাই এসব নৈতিকতার কথা তুমি ভাবোনি।’
‘সত্যিই ভাবিনি রে। বিশ্বাস কর। আর আমি ভুল করবো না।’
‘আমার বাবা কে, তাই নিয়ে মানুষের মুখে মুখে রসালো আলোচনা। তুমি সেটাকেও বিক্রি করতে চাইছো। এটা কতবড় লজ্জার, তা তোমরা ভাবতেও পারছো না। আমি তোমাদের কাছে থাকবো না মা।’
বুকের ভেতরটা যেন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল রুমেলার। হাউহাউ করে কেঁদে উঠলো সে।
‘একী বলছিস বাবা। আমাকে ক্ষমা করে দে। আর এমন হবে না। আমি তো তোর মা। আমাকে এমন কষ্ট দিস না বাবা।’
‘তোমরাও আমাকে কম কষ্ট দাওনি মা।’
হঠাৎ যন্ত্রণায় কঁকিয়ে ওঠে রুমেলা। আচ্ছন্ন ভাবটা কেটে যায়। স্বপ্ন না সত্যি, বুঝতে পারে না। পেটের ভেতর অসহ্য দাপাদাপি। ভীষণভাবে পা ছুঁড়ছে নতুন প্রাণটা। যেন প্রতিবাদে ফেটে পড়তে চাইছে। ওফ! আর পারছে না রুমেলা। সবিতাকে এখনি ডাকতে হবে। ডাক্তারকে না ডাকলে কিছু একটা হয়ে যেতে পারে। তাড়াতাড়ি উঠে বসল সে। আস্তে করে মাটিতে পা ফেলল। তখনই মাথাটা ঘুরে ঘরের মেঝের উপর সে পড়ে গেল। ‘ওঃ’ করে চিৎকার করে উঠল।
এক অনন্ত যন্ত্রণার জগতে যেন সে ঢুকে পড়লো। সমস্ত শরীরটা দুমড়ে মুচড়ে ছোট হয়ে যাচ্ছে। পেটের সব নাড়ি যেন ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে। ছটফট করে রুমেলা। অচৈতন্যের অন্ধকার গহ্বরে হারিয়ে যাওয়ার আগে সে শুধু বুঝতে পারলো, তার দুই উরুর মধ্য দিয়ে একটা তরল, উষ্ণ স্রোত বয়ে যাচ্ছে।

[লেখকের অন্য রচনা]

[চিত্র ঋণ- সাটারস্টক সহ আন্তর্জাল]

Facebook Comments Box

আপনি এই পত্রিকা পড়ছেন জেনে ভাল লাগল।

নতুন লেখা বা ভিডিও সংযোজন, অথবা রবিচক্রের অন্যান্য খবরাখবর সম্পর্কে জানতে, ইমেল নথিভুক্ত করতে পারেন।

We don’t spam! Read our privacy policy for more information.


0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x