শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

কৃষ্ণপক্ষের রাত।চারিদিক নিকষ কালো অন্ধকার। একফালি শীর্ণকায় চাঁদটিকে আর দেখা যাচ্ছে না। পাগলা কোকিলটার ডাকে হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে গেল। জেগে জেগে আকাশকুসুম ভাবছি। ভাবছিলাম এখানে যদি একটা ঠিকঠাক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকত, রাত-বিরেতে মানুষের সুরাহা হত। গাড়ি ভাড়া করো, তারপর মাইলের পর মাইল কাতরাতে কাতরাতে সদরের কোনো হাসপাতালে। এখানেই শেষ নয়, কেস ক্রিটিক্যাল হলে রেফার। সদর থেকে বর্ধমান, বর্ধমান থেকে কলকাতায়। মিনিমাম একটা অক্সিজেন সাপোর্ট মেলাও এখানে অসম্ভব।

আমাদের বাড়িটা নদীতে যাবার রাস্তার ধারেই। শ্মশান খুব দূরে নয়। বলো হরি হরি বল – এ পথে অহরহ।

পরদিন সকালে, মধুর মা উঠোন ঝাঁট দিতে দিতে খবর দেয়,
‎”জানেন মাসিমা, কাল হারুর বাবা দেহ রেখেছে।”

“সে কী গো !” মা বিস্ময় প্রকাশ করে বলে ওঠেন, “হঠাৎ কী এমন হলো ?”

“কিছু বুঝতে দিলো না মানুষটো। ক’দিন থেকেই ভাত গিলতে গেলে দম আটকে যেত। ডাক্তারে ধরতে পারে নি। “

এসবই ভাবছিলাম।

নদীর ওপারে রয়েছে আরেকটি গ্রাম। ওখানে বেশিরভাগ মুসলমান। হাড়ি, ডোম, বাগদি, বাউড়ি প্রভৃতি দু’চার ঘর মানুষ আছে বটে তবে একই পাড়ায় নয়। প্রত্যেকের নিজস্ব গন্ডি আছে এবং দূরত্ববিধি আছে তাই বাছবিচার থাকলেও সংঘর্ষ কম। এলাকা শান্তিপূর্ণ। মানুষের অন্যান্য চাহিদার তুলনায় শান্তির চাহিদা এখানে বেশি। ভোট আসে, ভোট যায়, যেটুকু দেশের সবার জন্য হয় এরা সেটুকুরই ভাগ পায়, অন্য কোনো দাবি এদের থেকে কখনো উঠে আসেনি। এখন পাকা রাস্তা হয়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি পড়েছে, সর্বশিক্ষার দৌলতে একটাদুটো স্কুলও হয়েছে কিন্তু চিকিৎসার ব্যাপারে কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। মাঝেমাঝে কোনো এন-জি-ও ক্যাম্প করে। ডাক্তার, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আসেন। সুগার প্রেসার চেক হয় – কাগজে ছবি হয়। ডাক্তার বলতে কোয়াকরাই ভরসা।

হরিপুরের চাঁদনি আমারই ক্লাসমেট। তিন কিমি পথ হেঁটে, ওই রাক্ষুসে ময়ূরাক্ষী পেরিয়ে ও স্কুলে আসত।

প্রতিদিন একটাই জামা। নীল রঙের হাঁটু পর্যন্ত। বুকে পিঠে ঝালর দেওয়া। মাথায় একগাদা নারকেল তেল। টানটান করে কালো ফিতে দিয়ে বাঁধা কলা বিনুনি। গায়ে বেশ ঘেমো গন্ধ, মাথায় উকুন ভেসে বেড়াতো। ওকে সবাই এড়িয়েই চলত। ক্লাস এইটের পর সে আর এমুখো হয়নি। জানিনা কেন। হয়তো বিয়ে হয়ে গেছে। এইট পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছে সেটাই অনেক। গরিবের সংসার , চারজন ভাইবোন। চাঁদনির কাছেই শুনেছি ওর আব্বু সাপে কাটা রোগীদের ঝাড়ফুঁক করে। আরো কত রকমের রুগী হয়। শহর থেকেও লোক আসে জটিল সব রোগ নিয়ে। গাঁয়ে তো সাপে কাটা রুগীই বেশি।

“তাহলে তো তোদের অনেক টাকা হওয়ার কথা!”
কথাটা শুনে ও কেমন যেন উদাস হয়ে যেত।
তারপর বলত, “আব্বুতো চাষ করেই সংসার চালায়। পীর বাবার দোয়ায় রোগ সারে।”

ওরা ধর্মে আলাদা হলেও তাই লোকজন সব্বাই ওদের শ্রদ্ধা করে। অসহায়তাই মানুষকে মানুষের কাছে টানে।

কোকিলটা এতক্ষনে থামল। কতক্ষণ আর হাঁকডাক চালিয়ে যাওয়া যায়। ঢকঢক করে এক গ্লাস জল খেলাম। নেট অন করে ফেসবুকে ঘুরেও বেড়ালাম খানিকক্ষণ। আমি দোতালার ঘরে থাকি। যত রাত বাড়ে ততই স্পষ্ট হয় ছোটোখাটো শব্দ। সামনের বাড়ির জানালা থেকে ফিসফিসিয়ে ওঠে হেমন্ত বেলার দম্পতির নিত্যকার কলহ। ওদের এখন হিসেব মেলাবার পালা।

“আমার জন্যই এ বাড়ির শ্রী ফিরেছে, নাহলে কোথায় ভেসে যেতে তোমরা কে জানে। এতকিছু করেও মন পেলাম না। ভালো লাগলো তোমার ওই চিমসে মধুর মা’কে।”

এই অংশটুকুই তীব্র রোষে সংসার-দেওয়াল ভেদ করে ছুটে বেড়িয়ে এল। কাকীমা সব সহ্য করে দিব্যি আদর্শ স্ত্রীর ভূমিকায় চুটিয়ে অভিনয় করে গেলেন। যতই ঢাকাচাপা দিক, হাড় জিরজিরে চেহারাখানা মনেরই জীর্ণতা তুলে ধরে। আজকে তাদের ঝগড়া বেশ অনেকদূর গড়িয়েছে। ডাক্তারকাকু চিৎকার চেঁচামেচি শুনে কড়া নাড়লেন।

‎কাকীমা তৎক্ষণাৎ মুখোশ পরে দরজা খুলে দিলেন।
‎”আসুন দাদা। কই কিছু হয়নি তো।”
‎”না হলেই ভালো।”
‎ডাক্তার কাকা বললেন, “আর বলিস না রাত-বিরেতে কল আছে বাগদি পাড়ায়। দেখিগে কী হল।”

পরদিন সকালে মধুর মা কাজে এসে মায়ের কাছে তাঁর গত রাতের বিভীষিকা সবিস্তারে কেঁদেকেটে বর্ণনা দিল।
‎”ছেলে আমার দোপর থেকে কিছু গিলতে পারছে না। দম আটকে যেচে। বৌদি, হাজার পাঁচেক টাকা দেন, কান্দিতে ভালো ডাক্তার দেখাবো।”

‎ “সরকারী হাসপাতালে নিয়ে যাও।”
‎মা ভাবলেন গরীবের সংসারে খরচা যদি কমে।

‎মধুর মা চেঁচিয়ে উঠল, “উওরা ফেলে রাখবে।”
‎মধুর মা আমাদের পাড়ায় তিন বাড়িতে কাজ করে।
‎তিন ছেলের মা। মধু , রাম , প্রাণ। বড়ো চাষবাস করে, মেজো কেরালায় রাজমিস্ত্রি, ছোটো ড্রাইভার। যে ড্রাইভার সে কলকাতায় এক বিরাট নেতার গাড়ি চালায়। ইনকাম তাঁর নেহাৎ মন্দ নয়।

জমি বলতে নিজেদের তিন বিঘা, বাকিটা ভাগের।
‎আমাদের দুই বিঘা মধুরই হাতে। যা ফসল হয় তার যৎসামান্যই আমাদের দেয়। প্রতিবারই কোনো না কোনো অজুহাত থাকে ফসল ভালো না ফলার। মধুর মা কোনোরকমে বাসন ধুয়ে, ঘর মুছে দম ফেলেন কাকীমার কাছে। সে বাড়িতে তার প্রচুর কাজ। আলাদাভাবে কী পায়, সেটা অবশ্য আড়ালে আবডালে পাড়ার সকলেরই জানা। ভদ্রসমাজে সেসব কথা না বলাই ভালো। কেউ ভাববে গরিবের ওপর দোষ চাপিয়ে দেওয়া সহজ, আবার কেউ ভাববে বাবুদের এইরকম একটুআধটু দোষ থাকারই কথা।

মধুর বাবা বহুদিন থেকে শয্যাশায়ী। মধুর বউ শ্বশুরের যত্নআত্তির কোনো ত্রুটি করে না। মধুর মা অবশ্য বউয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বাকি দুই ছেলেও টাকাপয়সা পাঠায়। ব্যাঙ্কের খাতায় সেসব জমা পড়ে। বিপদে আপদে সে টাকা মধুর মা ভাঙতে চায় না। ঠিক বুদ্ধি করে ধার দেনা করে কাজ চালিয়ে নেয়। কষ্টের দিনে কেউ সুদও চাইতে পারে না। তবে হ্যাঁ, সময়মতো শোধ করে। সাধারনত ধার দিয়ে ফেরত চাওয়া অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কিন্তু মধুর মায়ের মধুর আর্তির কাছে আমার মা, কাকা, ডাক্তার কাকা সকলেই পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হয়।

বিকেলে কাজ করতে মধুর মা আসেনি। খোঁজ নিয়ে জানলাম ওরা মধুকে কান্দি নিয়ে গেছিল কিন্তু ডাক্তার রোগ ধরতে না পেরে বর্ধমান নিয়ে যেতে বলেছে। তাই সেখান থেকে সোজা ওরা পৌঁছে গেছে বর্ধমানের কোনো এক নার্সিংহোমে।

রাত্রি আটটার দিকে ফোন এল মায়ের কাছে। ডাক্তার মধুকে বারবার জিজ্ঞেস করছে সাপে কেটেছে কিনা। মধু ঠিক মনে করতে পারছে না। তবে মাঠের ধারে আলপথের আগাছা পরিষ্কার করার সময় তার পায়ের কাছে কয়েকটা চিতি সাপের বাচ্চা খেলা করছিল বটে। ডাক্তার আন্দাজ করেই চালিয়ে দিলেন আন্টিভেনম। ধীরে ধীরে হলুদ হয়ে যাওয়া শরীরটা স্বাভাবিক বর্ণ ফিরে পেল। তিন দিন তিন রাত যুদ্ধ শেষে ফিরে এল মধু। সমস্যা যে পুরোপুরি গেল এমনটা নয়, বরং মাসখানেকের মধ্যেই আবার ফিরে এল গিলতে না পারার কষ্ট।
চাঁদনির কাছেই শুনেছি চিতির বিষ রয়ে রয়ে ওঠে। বিষে অবশ হয়ে যায় গলার পেশী। এদের কালাচও বলে।

এদের বিষ কিন্তু শঙ্খচূড়, কেউটে বা অন্য বিষধর সাপের থেকে তীব্র । এই সাপ ফনাহীন, এর কামড়ে ব্যথা হয় না, জায়গাটা ফোলেও না। ফলে যাকে কামড়াল সে বুঝতে পারে না। অথচ আস্তে আস্তে নার্ভে বিষের লক্ষণগুলি দেখা যায়। শুরু হয় পেটে ব্যথা, গলায় ব্যথা কিংবা শরীর জুড়ে অস্বস্তি, যেন জ্বর আসছে।চিকিৎসা সময় মতো শুরু না হলে অবধারিত মৃত্যু। এই সাপের আরও নাম আছে–শিয়রচাঁদা, নিয়রচাঁদা, ডোমনাচিতি, শাঁখাচিতি ইত্যাদি। কালাচ (ডোমনা চিতি) ও ঘর চিতি সাপকে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন। এর ফলে সম্পূর্ণ নির্বিষ ঘরচিতি সাপের কামড়ে ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকি অজ্ঞান হয়ে যান এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানুষ সাপের কামড়ে বিষের সংক্রমণের থেকে বেশি ভয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাই এই ভীতি দূর করার জন্য অবশ্যই সব বিষধর সাপ ও নির্বিষ সাপ চেনার সাথে সাথে একই প্রকৃতির, একই রকম দেখতে এই দুটি সাপকে অবশ্যই চিনে রাখা অতি আবশ্যিক।

কালচের গায়ের রং কালো (নীলচে আভা যুক্ত) বা গাঢ় বাদামী। মাথা আঙুলের ডগার মতো গোল। মাথার খানিকটা পিছন থেকে জোড়ায় জোড়ায় সাদা ব্যান্ড থাকে। ব্যান্ড লেজের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত থাকে। জিভ টকটকে লাল। মারাত্মক বিষধর। খাড়া দেওয়ালে চাপতে পারে না। গভীর রাতে বের হয়।

ঘরচিতির গায়ের রং হালকা বাদামী বা পোড়া ইটের মতো। মাথা চ্যাপ্টা। ঘাড়ের পিছন থেকে সাদা ব্যান্ড শুরু হয়। লেজের দিকে এই ব্যান্ড থাকে না।
জিভ হালকা গোলাপি রং-এর। সম্পূর্ণ নির্বিষ। রাত দিন সব সময় বের হয়। খাড়া দেওয়ালে চাপতে পারে (এরা ঘরের আলনা, দেওয়াল আলমারি, দেওয়াল ঘড়ির পিছনে, ঘরের চালে,ঘুলঘুলিতে, দেয়ালের ফাঁকে লুকিয়ে থাকে টিকটিকি শিকার ধরার জন্য।)

মধুর মায়ের কাছে এসব শুনে চলে গেলাম নদীর ওপারে চাঁদনির খোঁজে। এতবছর পর আমরা কেউ কাউকে চিনতে পারব কিনা কে জানে! মধুকে অবশ্য কলকাতায় অনেক ডাক্তার বদ্যি দেখানো হচ্ছে। ওরা নামী ডাক্তার ছাড়া দেখায় না। পয়সা হয়তো জোগাড় হয়ে যায়। কিন্তু সারছে কই। নদী পেরিয়ে মাইল খানেক হাঁটলেই পীরবাবার থান। চিনিয়ে দেবার মানুষের কোনো অভাব নেই। রোগের মতো শত্রু নেই। একমাত্র সেই পারে বিভেদ ঘোচাতে। রক্তের প্রয়োজন হলে কেউ খোঁজেনা দাতার ধর্ম গোত্র।

দাড়ি টুপি আছে। পরনে লুঙ্গি। গায়ে গামছা। থান বলতে একটি তুতগাছের তলায় কয়েকটি চকচকে পাথর। নকল জরির ওড়না দিয়ে ঢাকা। সামনে ধানের পালুই। কয়েকটা ছাগল টেনেটুনে বের করে চিবচ্ছে খড়। আধ ন্যাংটা ছেলেমেয়েগুলো গাছের ডাল ধরে ঝুলে দোল খাচ্ছে। এক বয়স্ক মহিলা দূরে বসে অপেক্ষা করছে পীর বাবার।

“কখন আসবেন উনি?”

“ভাত কটা খেয়ে।”
এখানকার চাষা মানুষেরা মাঠে চাষের কাজ সেরে বিকেলে ভাত খায়। সেই কোন সকালে পান্তা খেয়ে কাজে বেরোয়।

“আপনার কী হয়েছে মাসিমা?”

“আমার কিছু হয়নি বাবা, আমার সব পাপ ওই ছেলের ওপর গিয়ে পড়েছে। ছেলের আমার প্যাটের দোষ। কোনো ওষুধ ধরে না।”

“পীর বাবার ওষুধে কাজ দেয়?”

“তার কেপাতেই ছেলে আমার বেঁচে আছে।”
চাঁদনির দাদুও এই কাজ করতেন। ওর ঝাঁপিতে কত ম্যাজিক আছে সেসবের কথা কাউকে বিশ্বাস করানোর ক্ষমতা আমার নেই। বিভিন্ন রকমের গাছের গুনাগুন ওরও জানা। কিন্তু সে এখন কোথায় ?
পীরবাবা গাছতলায় বসলেন নামাজ পড়ার ভঙ্গিতে।
গলায় রুদ্রাক্ষের মালা দেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম এটা পরেন কেন ?
আমি শিব ভক্ত বাবা।

ঠিক মেলাতে পারলাম না পীরের সঙ্গে শিবের সম্পর্ক।

এটি হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকলের নিকট পবিত্র স্থান বলে পরিচিত। এই মাজারের সীমানার মধ্যেই বহু দিন ধরে একটি শিবলিঙ্গ আছে। এই সুবাদে সকল ধর্মের মানুষ তাঁদের মনস্কামনা নিবেদন করেন। প্রতি বছর ১১ পৌষ থেকে সাত দিনের মেলা বসে এখানে। আবার করমজী তলা, মাদার শরিফ তলা, ফকির বাগান এলাকায় বসন্ত কালে ও গ্রীষ্মকালে মেলা বসে। গ্রামের আপামর হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায় মানুষ এই সমস্ত মেলায় সম্প্রীতি বজায় রেখে মেলায় যোগ দেন। ছায়াঘেরা মনোর মপরিবেশ মনকে টানে অতীতের দিকে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কত মানুষ আসে খুষ্টিগিরী দরগায় তার ইয়ত্তা নাই। কত বলা-মসিবত, রোগ-শোক, অভাব-অভিযোগ সহ যন্ত্রণাকাতর অসহায় মানুষ ফিরে পায় শান্তিময় জীবন। গতিহীন মানুষের ক্লান্ত জীবনে ফিরে আসে নতুন গতি, দিশেহারা খুঁজে পায় আলোক পথের সন্ধান। বীরভূম জেলার এই উজ্জ্বল সম্প্রীতি ক্ষেত্র ‘খুষ্টিগিরী দরগাহ শরীফ’ এর প্রতিষ্ঠাতা মহামানব সৈয়দ শাহ আব্দুল্লাহ কেরমানী। তাঁর জন্ম ৮৫৪ বঙ্গাব্দে। তিনি বিশ্ব নবীর ২৭ তম বংশধর। তাঁর উর্দ্ধতন গুরু সুপ্রসিদ্ধ পীর সুফি খাজা মঈনউদ্দিন চিশতি। আজ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচশো বছর আগে মহামানব কেরমানী সুফি মতাদর্শ প্রচারে বীরভূমের সেনভূম পরগনার গভীর জঙ্গলে উপনীত হন।
চাঁদনির আব্বু বললেন,আমার আব্বাজান তাঁর গুরুর থেকে শিখেছিলেন গাছ-বিদ্যা এই খুস্তিগিরীতেই।

“চাঁদনি কোথায় ?” আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম।

“আল্লার কাছে।”
বুকেরভিতরটা কেমন মুচড়ে উঠল। ওর টলটলে বোকা বোকা চোখ দুটো অনেকদিন আগে থেকেই যেন মৃত্যুর ছবি আঁকত। কোনোরকম মলিনতার সঙ্গে সহবাস চাঁদনিদের জন্য নয়।
ওর আব্বুর মুখে অসম্ভব অসহায়তা। তাঁর কথা মনে পড়িয়ে নিজেকে অপরাধী ভাবতে লাগলাম।

এরপর বহু জায়গায় বিফল হয়ে মধুও গেল। পীর বাবার গাছ-গাছড়ার তেলের মালিশে গলার কষ্ট কমে এল। মধুর মা কোত্থেকে খবর পেল চাঁদনি নামের পীরের মেয়েটাকে ভোর রাতে অনেকে তেঁতুলতলায় দেখেছে। একদিন ভোরবেলা গেলাম ওকে দেখতে। দেখাও পেলাম। সেদিনও ছিল কৃষ্ণপক্ষের রাত। একচিলতে সুতোর মতো চাঁদ নিভে যাবার অপেক্ষায়। আকাশ থেকে ভেসে এল সেই অদ্ভুত ক্লান্ত ঘামের গন্ধ – ‘এই তো আমি।’

[লেখকের অন্য রচনা]

আপনি এই পত্রিকা পড়ছেন জেনে ভাল লাগল।

নতুন লেখা বা ভিডিও সংযোজন, অথবা রবিচক্রের অন্যান্য খবরাখবর সম্পর্কে জানতে, ইমেল নথিভুক্ত করতে পারেন।

We don’t spam! Read our privacy policy for more information.