
১
হিমাদ্রি সাওপাওলো….
বয়স গোটা তিরিশেক হবে। বাপের ছোট পুত্র। একটি প্রাইভেট স্কুলের ইতিহাস শিক্ষক। মাইনে প্রায় হাজার পনেরো। ভাগ্যিস বউ বাচ্চা নেই। এই মাইনেতে শহরবাজারে চালানো কঠিন। একসময় সরকারী চাকরি বাকরির অনেক পরীক্ষা দিয়েছিল কিন্তু বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি। শখ ফটোগ্রাফি ও স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি নির্মাণ। প্রকৃতির টানে প্রাইভেট স্কুলের লম্বা গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে মাঝেমাঝেই বেরিয়ে পড়েন। গতকাল রাত্রি দশটা’র ট্রেনে নেমেছেন এখানে। অল্প দামের হোটেল। পরিচয়পত্র স্ক্যানিংয়ের সময় প্রত্যেকবার সেই একই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। বড়ো বড়ো চোখ ক’রে ম্যানেজার প্রথমে আপাদমস্তক পরীক্ষা করেন। তারপর লিঙ্গনির্ণয় সমাপন হলে প্রশ্ন করেন ‘আপনার রিলিজিওন’?
- ‘বৈষ্ণব’।,
মানে, ধর্মাচরণে নয়, ভাবনায়। - ‘নিরামিষ’ ? ‘
- না, পুরোপুরি নন-ভেজ’।
এবার চোখ দুটো এক চক্কর ঘুরে জাবদা খাতাটা সই করার জন্য এগিয়ে দেন। খোদার ওপর খোদকারি না করতে পারলেও বাবার ওপর মনেমনে একচটকা বাদানুবাদ চলতেই থাকে হিমের। অদ্ভুত তাঁর বাবা। কী না – ব্রাজিল। ফুটবল অন্তপ্রাণ মিস্টার শম্ভু । তাই ছেলের নামে জুড়ে দিলেন রাজধানী। ওমনি সাঁ সাঁ করে ছুটতে শুরু করল এই অদ্ভুত পরিচিতি।
বাড়ি থেকে বেরোতেই মিস্টার বক্সীর সঙ্গে দেখা। বাজারের থলি থেকে মুখ বের করে এক গোছা পেঁয়াজকলি জানান দিল,’ শুধু আমাকে না প্লাস্টিকের প্যাকেটের দিকেও তাকাও’। শীতের পটল, বাম হাতের তিন আঙুলের প্লাস্টিকে ছোটবড়ো প্রায় তিন-চার প্রকার মাছ। রিক্সা হাঁকিয়ে সোজা ফ্ল্যাটের গ্যারাজ অব্দি।
- “কোথায় যাচ্ছ হে – খাজুরাহ নাকি ব্রাজিল ?” -“কই আর পারলাম – ট্যাঁকের জোর চাই”
এই টিটকিরি করেই ওনার আনন্দ। গীতবিতান এপার্টমেন্টের কেউ জানে না ওনার ব্যবসাটা কী ! ভাবখানা অবশ্য জমিদারসুলভ । তবে এটুকু জানেন সবাই – উনি একটি সিসিটিভি। পাঁচতলার ব্যালকনি থেকে নজর রাখেন সারা পাড়ার। সকালসন্ধ্যা মোড়ে আড্ডা। চা চপ সিঙারা নিয়ে পাড়ার কিছু ঝানু লোকজনকে হাতে রাখা, কালী দুগ্গা সরস্বতী কার্তিক গণেশ সবাই ওনার আহ্বানে সাড়া দেন। লোকজনকে সেইসব উপলক্ষে প্রসাদ খাওয়ান সঙ্গে জেনে নেন তাঁদের হাঁড়ির খবর।

শহর বাজারে যে হারে একাকিত্বের বহর বাড়ছে তাতে ওনার মতো কিছু মানুষের প্রয়োজন আছে বৈকি। ওনাকে বাগে আনতে হিম ঠকাস করে পেন্নাম ঠুকে দিলেন। ব্যস, ওমনি ঝুরিঝুরি সুবচন। এই যেমন, “আজকাল বিত্তবান মানুষ দেখা যায় বটে কিন্তু চিত্তবান কোথায়? ছেলেমেয়েরা প্রাচীন আদর্শ সব ভুলে গেছে “- এইসব আরকি।
সইটই করে হোটেলের ঘরে ঢুকতেই কেমন একটা গুমো গন্ধ । ব্যাগপত্তর রেখেই হিম নেমে পড়ল ঘর ঠিক করতে। জানলা খুলে জোরে ফ্যান চালালো। পাখাটা প্রথমে একটা তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে নড়ে উঠল। মাথার ওপর দু’চার পিস ঝুল, টিকটিকির ডিম উড়ে এল। আর একটা কালো টিকটিকি ভয়ে তড়াক করে লাফ মেরে সটান ঝপাং ওই খাটের নীচে। এরপর পর্দাগুলো সে পাল্টে ফেলল। কলকাতা থেকে ব’য়ে আনা একগোছা রজনীগন্ধা ছোট ঝাপসা হয়ে যাওয়া কাঁচের গ্লাসটার জলে রেখে দিল। সাদার ওপর হলদেটে বিভিন্ন দেশের মানচিত্র হয়ে যাওয়া নানা আকৃতির ছোপওয়ালা চাদরটা পাল্টে বিছিয়ে দিল তন্তুজের বেড কভার। এটাই হিমাদ্রির এসথেটিক সেন্স। স্কুল থেকে বাড়ি সর্বত্র এই পরিচর্যার ছাপ। হিমের মা অবশ্য ছেলের এই কাজটিতে বেশ চাপ অনুভব করেন। প্রায়শই শুনতে হয়,
-‘”খোদা তোকে ভুল করে পুরুষ বানিয়েছে।”
হিমের জবাবটি তবে বেশ চমৎকার,
- “ভাগ্যিস, তুমি বানাওনি।” কোনোরকমে জুতো ছেড়ে বিছানায় নিজেকে এলিয়ে ফিল্মি ম্যাগাজিন বের করে চোখ বোলাতে লাগলো , কেমন যাবে 2020, সংখ্যাতত্ব কী বলছে, শীতে আর্থ্রাইটিসের সমস্যা, বিউটি রেজলিউশন, পেঁয়াজহীন আমিষদিন। প্রবল ঠান্ডায় মডেলদের ছোট ছোট জামা দেখে বেশ একটা ব্রাজিলিয়ান উষ্ণতাও অনুভব করল। গা থেকে পুলওভার, মাঙ্কি ক্যাপ খুলে মোবাইলে মেসেজ দেখেই একঝলক বিদ্যুৎ চমকে উঠল – শবনম আসছে কাল। একসাথেই ওরা যাবে নীলকুঠিতে।
২
টিউলিপের ফোন এল।
টিউলিপ সিনহা।
একটি নামী কলেজের আংশিক সময়ের বাংলার শিক্ষিকা।
তারাশঙ্কর ও তাঁর সাহিত্যে সমকালীন রাজনীতি বিষয়ে গবেষণা করেছেন। প্রতি ক্লাস পিছু পাঁচশ টাকা পান। অবসরে টিউশন। কলেজের চাকরিতে পাশ করেছে বটে কিন্তু কবে যে জয়েন করবে সে সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। ইতিমধ্যে যথেষ্ট নামডাক। হিমের সাথে পরিচয় ভুবনেশ্বরের লিঙ্গরাজ মন্দিরে। মন্দিরের পান্ডারা ওকে হাজার টাকার পুজোর নামে যখন নাজেহাল করছিল সেইসময় হিন্দি সিনেমার নায়কের মতো তাঁর জীবনে প্রবেশ করে হিম। -“ফোনটাকে দয়া করে সাইলেন্ট মোডে রাখবে না। কোথায় কোথায় যাচ্ছ একটু জানিয়ে দেবে।”

মাত্র মাস ছয়েকের আলাপ কিন্তু টিউলিপ তাঁকে হাড়ে মজ্জায় চিনে ফেলেছে। বড্ডো উদাসীন বিশেষত বেড়াতে গেলে কোনো কিছু ভালো লাগলে তাঁর মুগ্ধতা সীমা ছাড়ায়। এবারে সে যাবে ‘আমাদের ছোট নদী চলে আঁকেবাঁকে’র দেশে। যত রকম অদ্ভুতুড়ে ব্যাপারস্যাপার হিমের মাথাতেই ঘুরপাক খায়। রাত্রে খাবার জন্য দারাশিকো নিজের হাতে বানিয়ে এনেছে ডিম তড়কা। রুটি গড়াটা যদিও তার আয়ত্তের বাইরে তাই স্টেশনের দোকান থেকে কিনতেই হল। টিউলিপ হিমকে এই নামেই ডাকে।
-“আচ্ছা আচ্ছা” বলে ফোনটা কেটে দিল হিম।
লাভ ইউ ডার্লিং অথবা গুড নাইট বেবি জাতীয় কোনো প্রেমবাচক বিশেষণ তার অভিধানে নেই। তারপর হিমের যা লজ্জা লজ্জা ভাব। প্রথম থেকেই কেমন যেন এড়িয়ে যেতে চায়। অথচ ঠ্যালায় পড়লে
-”বাঁচাও বাঁচাও।”

মডেল হিসেবে শবনম বেশ মানানসই। হিমের শর্ট ফিল্মের স্ক্রিপ্টটা টিউলিপেরই লেখা। সাহেবরা কবেই চলে গেছে তবু এই ভাঙাচোরা কুঠিবাড়িটি আজও দামি। ঝাঁ চকচকে ঢঙে সারিয়ে দিলে বাড়িটি তার মর্যাদা হারাবে অথচ বিধাতা সৃষ্ট এই প্রতিবন্ধী মানুষগুলো যেন চিরকালের ফেলনা। এদের বেঁচে থাকা ব্যতীত কোনো চাহিদা থাকতে নেই। ডক্টর মিত্র অবশ্য বলেছেন, টিউলিপের সন্তান ধরণে কোনো সমস্যা নেই এবং স্বাভাবিক সন্তানই আসবে। স্বাভাবিক না হলেই বা ক্ষতি কি ? সে যখন নিজেকে মেনে নিতে পেরেছে আরেকজনকেও পারবে। কিন্তু হিম – সে কি পারবে ? হিম কোনোদিন জানতেও পারবে না। সব কিছু দেখা যায় না। আড়ালে থাকে অনেক বেশি। সেখানে সে আলো ফেলবে না। নিজের সুখের জন্যই সে হিমকে জড়িয়েছে কল্পনার অক্ষরে। কখনো ভেবেছে কী হিম তাকে কেমন ভাবে নেবে ? স্রষ্টা যখন তার শরীরটাকে পঙ্গু বানিয়েছে মনটাকেও তো ভাবতে পারার সক্ষমতা বঞ্চিত করতে পারত – তাহলে সে বেঁধে রাখতে পারত সমস্ত কামনা।
ক্রুদ্ধ শোকে পৃথিবী ডুবে যায়।
৩
আয়নায় নিজের চেহারা দেখে বিরক্ত হয় টিউলিপ।
পা দুটো সেই পাঁচ বছর বয়স থেকেই বেঁকে গেছে। সঙ্গে গাঁটে ব্যথা। নাচের ক্লাসে আর যেতে পারেনি। চেন্নাই, ব্যাঙ্গালোর থেকে শুরু করে আয়ুর্বেদ, হোমিও প্রায় সব ডাক্তার দেখিয়েছে বাবা কিন্তু ফল কিছুই মেলেনি। দেহটা দিনকে দিন অদ্ভুত ভাবে ছোট হয়ে গেছে। কিন্তু মন ? – তাকে সে বেঁধে রাখতে পারেনি। বাবা মাও তাকে বইতে বইতে ক্লান্ত। একা একা ছাড়তে ভয় পায়। এছাড়া আত্মীয় স্বজনের বিদ্রুপ তো আছেই। খুব কম আত্মীয় তাঁদের সাথে যোগাযোগ রাখে। দাদা বৌদি অবশ্য তাকে পছন্দ না করে পারে না। ভাইঝি টুসিকে নিজ হাতে মানুষ করেছে। বৌদির চাকরিতে যা ঝক্কি – টিউলিপ না থাকলে সামলে রাখা মুশকিল হত।
প্রায় বৌদিকে অফিসের কাজে অন্য রাজ্যে যেতে হয়। সে তো এক দু’দিনের ব্যাপার নয় হপ্তা খানেকের ব্যাপার। আজকাল টিউলিপের সাজতে বেশ ভালো লাগে যদিও নিজেকে সাজাতে হিমসিম খায়। কিন্তু দমন করতে পারেনা কুরুপা থেকে সুরুপা হওয়ার অবান্তর ইচ্ছা। আচ্ছা, মণিপুর রাজকন্যার কি এছাড়া কোনো উপায় ছিল না? প্রেম অসুন্দরকে সুন্দর করেছিল নাকি অসুন্দর প্রেমে সুন্দর হয়ে ওঠে – এই দ্বন্দ্ব তাকে বিমূঢ় করে তোলে। কত মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে রূপের শাসনে প্রতিষ্ঠা করে সেটা তাদের মোটেও অন্যায় নয়। তাঁর যদি আকর্ষণীয় চেহারা থাকত সেও নিশ্চয় দেহকে এমনই মন্দির বানিয়ে সাজিয়ে তুলত।

মাঝেমাঝে হিমাদ্রির জন্য ওর মায়া হয়। কোনোভাবে হিমের ভালোমানুষির সুযোগ নিয়ে ঠকাচ্ছেনা তো? হেমন্তের রাত্রে ভিতরের নরম শব্দগুলো শিরশিরিয়ে ওঠে। গায়ে চাদরটা টেনে নেয়। উষ্ণতার হাহাকার তাঁর যাপন জুড়ে। নিজেকে প্রমাণ করতে করতে এক বুক পলি টেনে বয়ে চলা। আবার পরক্ষণেই মনে হয়,’ ধূর! এত ভাবব না, যা হবার তাই হবে। মানিয়ে যখন নিতেই হবে মেনে চলার কষ্টকে আপন না করা মানেই নিজেকে জগতের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা’। ‘আজ জোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে’ – গানটা বন্ধ করে ‘বম চিকি বম’ চালিয়ে নিজেকে মাটিতে ফিরিয়ে আনে।
৪
একটু আগেই হিমের হোয়াটসআপ – “আজ সকালে শবনম আসছে। ও এলে আমরা নীলকুঠি যাব।”
টিভিতে তখন খবরের শিরোনাম- এক পুলিশ তাঁর স্ত্রীকে পরকীয়ার অপরাধে খুন করেছে। টিউলিপের বড়’দা বৌদিকে বলছে,
- ‘ঠিক করেছে।”
বৌদি অবশ্য এটা মানতে পারেনি। দিব্যি, একচোট দিয়ে দিল – “শোনো, বেশি কথা বলোনা, তোমাদের প্রত্যেকটাকেও গুলি করে মারা উচিত। ঝি থেকে ভাইঝি কোথাও চান্স নিতে ছাড়ো না, আবার অধিকার? “
-“সব ইস্যুকে নিজের দিকে টেনে নারীবাদী দৃষ্টিতে দেখাই তোমার কাজ। মনের দুটো কথা বলাও পাপ” – এই বলে বড়’দা টিভি ছেড়ে মোবাইলে মনোনিবেশ করলেন।
‘অধিকার’ শব্দটা বড্ডো কানে লাগল। তবে কি হিমের ওপর তাঁর অধিকার জন্মে গেছে ? তাকে হারানোর ভয়ে সে কাতর? টিউলিপের মনের ভিতর তখন শবনম। যতদূর হিমের কাছ থেকে শুনেছে তাতে শবনমকে তার খুবই বন্ধুবৎসল, স্নেহময়ী বলেই মনে হয়। হিমের ছোটবেলার বান্ধবী। এখন একটা বেসরকারি কোম্পানির মার্কেটিং হেড। কিন্তু মনটা যেন ছটফট করতেই থাকে। হায়দ্রাবাদ থেকে সব কাজ ফেলে ছুটে এসেছে। এরকমটা নাও হতে পারে। মা বাবাকে দেখতেও আসতে পারে। হয়ত ব্যাপারটা পরিকল্পিত নয়। অথবা যদি ওরা প্ল্যান করেই গিয়ে থাকে তাতে ক্ষতিটা কী ? প্রায় পাঁচ সাতটা ছবি এল। মেসেজগুলো দেখতে ইচ্ছে করছিল না কিন্তু কী যে হল – প্রত্যেকটা ছবিতে ওদের অসম্ভব খুশি দেখাচ্ছিল। হিমের কোলে মাথা রেখেছে শবনম। সকালের শীতভেজা রোদ ওদের দেহে লুটোপুটি খাচ্ছে। কখনও বা কুঠিবাড়ির সারিসারি নারকেল গাছের নিচে ওদের নিবিড় সেলফি। টিউলিপের চোখ দিয়ে টপটপ করে ঝরে চলেছে অকাল বৃষ্টি। হিম কেন এই ছবিগুলোই পাঠালো? ও কী বোঝে না – না তাকে করুণা করে। এক ঝটকায় টিউলিপ আয়নার দিকে ছুটে গিয়ে দেখে তার অশক্ত অপরিপূর্ণতা। হাত পা দুটো দেহের তুলনায় কত ক্ষুদ্র – ভীষণ রকমের কুৎসিত বেমানান। শবনম সত্যিই ভোরের শিশিরের মতো স্নিগ্ধ। অভিনয়ে পারদর্শী। টিউলিপ স্ক্রিপ্ট লিখতে পারে কিন্তু স্ক্রিপ্টের মতো হতে পারে না। হিম তাকে বারবার বুঝিয়ে দিয়েছে শবনমের চরিত্রটা কীভাবে নির্মাণ করবে। কিন্তু তাকে বারবার পিছিয়ে আসতে হয়। মনের দরজা বন্ধ করে ফিরে যেতে হয় অন্ধকার চিত্রপটে। আলনার হাতলটা ধরে সে দাঁড়াবার চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। কোনোমতে ছেঁচড়ে ছেঁচড়ে জানালার কাছে আসে। একটা তুমুল ঝড় ওঠে। প্রাণপণ বাঁচতে চেয়ে কাউকে আঁকড়ে ধরতে চায়।

ইতিমধ্যে বৌদি ছুটে আসে – “টিউলিপ, টিউলিপ, এই দেখো তোমার একটা চিঠি – আপয়েন্টমেন্ট লেটার। কলেজের চাকরিটা পাকা।”
টিউলিপের বেঁকে যাওয়া শরীরটা ধীরে ধীরে সোজা হয়। প্রাণের ভিতর আরেকটা প্রাণ খুশিতে নড়েচড়ে ওঠে। হিম জানে না। সে জানাবেও না। এইটুকুই তার উষ্ণতা। দরকার কি হিমের বোঝা বাড়িয়ে? থাক না সে তার মতো। শবনম তাকে ফিরে পাক। স্ক্রিপ্টের নীল কালি তার শরীর তার শরীরে লিখে দেয় বিস্মৃতির বিমূর্ত অবয়ব। হিমশীতল মুক্ত শরীরটা ডানা মেলে উড়ে যায় নীলকুঠির রোদ্দুরে।