শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা


ফাগুন শেষে মাটির কষ্ট, তৃষ্ণা কাতর প্রাণ
আগুন ছোঁয়া শস্য ক্ষেতে,
মনের বিরূপ টান।

দীঘল চোখে শুকিয়ে কাজল
রাতমোহিনী হাঁকে,
‘জল চাই গো, জল যে খরা,
জল কোথাকে পাই’-
এ পোড়া দেশ ক্লান্ত বড়ো,
নটে গাছটি মুড়াই আরো
বাউড়ি পাড়ার পথে ঘাটে
উড়ছে ধুলোর ছাই।
‘জল চাই গো, জল যে খরা,
জল কোথাকে পাই।’

ফাগুন শেষে একলা ঘর- একলা মনের টান
রাত দুপুরে প্রসব ব্যথায়
পোয়াতি আনচান।

ঋণের দায়ে ধুঁকছে চাষী
ছড়াচ্ছে শোক লাশে-
নদীর কপাল ঝরাচ্ছে ঘাম
একফোঁটা প্রাণ আশে।
রাতমোহিনীর ছড়ায় ব্যথা-
‘জল চাই গো, জল যে খরা’,
জিভ শুকিয়ে কাঠ।
জলের ঘরে হরেক পোকা
আমি তুমি খাচ্ছি ধোকা
কৃশানু মাঠ ঘাট।

এ দেশ তবু নকল হাসে, মানুষ ভাসে মিষ্ট ভাষে
জীবন মরণ ধর্ম সাধন
জল-অভাবী মৃত মাসে।

ঘুরছে মরা বাতাস, ত্রস্ত আল-আকাশ
ফিরতি পথে শুকনো পাতার ঘ্রাণ-
অশথ তলায় বাঁশের মাচায়
দুলছে শতক, দুলছে দশক
দোদুল্যমান-
নানান অপমান।

[লেখকের অন্য রচনা]

আপনি এই পত্রিকা পড়ছেন জেনে ভাল লাগল।

নতুন লেখা বা ভিডিও সংযোজন, অথবা রবিচক্রের অন্যান্য খবরাখবর সম্পর্কে জানতে, ইমেল নথিভুক্ত করতে পারেন।

We don’t spam! Read our privacy policy for more information.