শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

আমি, আমরা আর রবীন্দ্রনাথ

এই লেখার কেন্দ্রে চার সদস্য রয়েছে – আমি, আমরা, তুমি এবং রবীন্দ্রনাথ। বাজার ছাড়া সমাজের সর্বত্র, এমনকি এই পত্রিকাতেও এই চার চরিত্র হাত ধরাধরি করেই আছে। বাজারে অবশ্য কেউ কারুর নয়। চলুন, ঢুকে পড়া যাক এই চার সদস্যের মাঝখানে। শুরুতে যে কথাটা ব’লে নেওয়া ভালো, তা হলো, ব্যক্তি যেমন নিজের ‘আমি’কে খুঁজছে প্রতি মুহুর্তে, তেমনি রবীন্দ্রনাথের ‘আমি’কেও খুঁজে বেড়াচ্ছে। দেখা যাক, রবীন্দ্রনাথ কীভাবে নিজের আমি’কে খুঁজেছেন।
আমি কান পেতে রই – ও আমার আপন হৃদয়গহনদ্বারে – বারে বারে
কোন গোপন বাঁশির কান্নাহাসির গোপনকথা শুনিবারে”

সঞ্চারীতে কী লেখা –

কে সে মোর, কেই বা জানে / কিছু তার দেখি আভা, কিছু পাই অনুমানে, কিছু তার বুঝি না বা।
অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথের যে ‘আমি’ সে তারই বা কে, সেই বার্তাই উৎসারিত হচ্ছে ভিতর থেকে –
মাঝে মাঝে তার বারতা, আমার ভাষায় পায় কি কথা
ও সে আমায় জানি পাঠায় বাণী গানের তানে লুকিয়ে তারে।

স্বভাবতই এখন প্রশ্ন হলো – আমি কে? এ প্রশ্ন দিয়ে এই ভাবনার যাত্রা শুরু হলো। কে এই যাত্রা আরম্ভ করলো? আমি-তুমি-আমরা-আপনারা যারা এই লেখা পড়ছি, এমনকি যারা পড়ছে না, সবাই। নানা ভাবনার নানা প্রান্তে সবার ‘আমি’ ঘুরে মরছে ‘আমি’ কে! কেউ ভালো কিছু ব’লে বা ভালো ফল ক’রে – ভাবছে ‘আরিব্বাস, আমি কে’। কেউ আবার তেমন ভালো না করেও ভাবছে ‘যাহ, আমি তাহলে কে’। তাই প্রথম প্রশ্ন হল কে এই আমি? আমরা কে? তুমিই বা কে? রবীন্দ্রনাথ কে – সেটা অবশ্য আমরা জানি। জানি কি?
সহজ পাঠের মতো করে বলতে হয় আমরা ‘অনেক’। আমরা হলাম অনেক ‘আমি’-র সম্মিলন। আমার যেমন আমি, তোমারও তো আমি, আরও যাদের দেখা যাচ্ছে না – তাদের সবার ‘আমি’ মিলে আমরা। তাই আমরা’র মধ্যে সব আমি’রা কেউ কখনো মিশে এক হয়ে যায়নি। কখনো কোনো কারণে মিলেমিশে আছে, পাশাপাশি আছে, কখনো মারামারি, খুনোখুনি করছে। আবার কখনো সমঝোতাও ক’রে নিচ্ছে। এইভাবে সবাই এক একটি ‘বিষয়’ বা সাবজেক্ট হয়ে আছে। যে আজ গান শুনছে, যে আজ এই লেখাটা পড়ছে, যে মাটি কাটছে, যে ফসল ফলাচ্ছে, যে বৃষ্টির আশংকায় ক্ষেতের ফসল আগে তুলে নিচ্ছে, – তারা প্রত্যেকে এক একটি আলাদা বিষয়, যে চা দিচ্ছে আর যে চা নিচ্ছে তারাও এক একটা বিষয়। যে গোলাপ বেচতে বসেছে আর যে গোলাপ কিনে প্রিয়জন’কে দিল এরা প্রত্যেকে এক একটি স্বাধীন বিষয়। তাই ‘কে সেই মানুষ’ বললেই হবে না, তাদের প্রতিনিধিত্ব করলেও হবে না। তাদের ‘আমি’কে চিনতে হবে। তবেই আমরা’ বা ওরা’র হদিশ মিলবে।
কিন্তু চিনতে গিয়ে আমরা প্রায়শই অন্যের আমি’সত্তাকে স্বাধীন দেখতে চাই না, সাধারণত নিজের ‘আমি’কে যত্ন করে সামনে টেনে, তুলনা করে তবে চেনার চেষ্টা করি। তখনই কিন্তু উল্টোদিকের মানুষটা ‘অপর’ বা other হয়ে পড়ে। আর তাকে বা তার ‘আমি’কে চেনা সম্ভব নয়। একদিকে সমাজে নারী’কে অনেকক্ষেত্রেই ভোগ্যবস্তু ব’লে মনে করা হয়, আবার তার বিপরীতে কেউ কেউ নারীর সুরক্ষা দেবার, নারী’কে প্রতিষ্ঠা পাইয়ে দেবার দায়িত্ব নিয়ে ফেলেন (মনে রাখতে হবে, রামমোহন, নর্মান বেথুন, বিদ্যাসাগর থেকে সাবিত্রীবাই ফুলে, বেগম রোকেয়া নারীর অধিকারের লড়াই লড়েছিলেন)। কিন্তু নারীর যা অধিকার, আজ সামাজিক ক্ষেত্রে সেটাই যদি তাকে পুরস্কৃত করা হয় তাহলে ‘আমি’র নাগাল পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে সমাজে নারী সেই other বা ‘অপর’ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। শুধুই কি নারী, সমাজ সংসারে যে ‘আমি’-দের আর্থিক বা সামাজিক ক্ষমতা কম, তাদের করুণা এবং দখলদারির দৃষ্টিতে দেখার এক অদ্ভুত প্রবণতা থাকে। তাদের নিয়ে লড়ার নামে তাদের জন্য কিছু ক’রে দেওয়ার একটা চেষ্টা দেখা যায়।

আজ আধুনিক বিশ্বে ক্ষমতার সংস্কৃতি কখনো ধর্মে, কখনো বর্ণে, কখনো রাজনীতিতে, সংগঠনে সহযোগীকে বা পাশের মানুষটিকে ছেঁটে কেটে দলা পাকিয়ে সবার সাথে কেমন একটা ‘কিম্ভুত’ বানিয়ে তুলেছে। যেমন, দর্শক, শ্রোতা, ভোটার, মানুষ, সংখ্যা, জনগণ এমন নানারকম।
ঠিক যেন রক্তকরবী নাটকে সোনার খনি-র যক্ষপুরে শ্রমিক ফাগুলাল, চন্দ্রা এবং বিশু-র কথা –
নাটক-১
চন্দ্রা – কতদিনে তোমাদের কাজ ফুরোবে?
বিশু – “পাঁজিতে তো দিনের শেষ লেখে না। এক দিনের পর দু দিন, দু দিনের পর তিন দিন; সুড়ঙ্গ কেটেই চলেছি, এক হাতের পর দু হাত, দু হাতের পর তিন হাত। তাল তাল সোনা তুলে আনছি, এক তালের পর দু তাল, দু তালের পর তিন তাল। যক্ষপুরীতে অংকের পর অংক সার বেঁধে চলেছে, কোনো অর্থে পৌঁছয় না। তাই ওদের কাছে আমরা মানুষ নই, কেবল সংখ্যা। ফাগুভাই, তুমি কোন সংখ্যা।
পিঠের কাপড়ে দাগা আছে, আমি ৪৭ফ।
আমি ৬৯ঙ। গাঁয়ে ছিলুম মানুষ, এখানে হয়েছি দশ-পঁচিশের ছক। বুকের উপর দিয়ে জুয়োখেলা চলছে”।
চন্দ্রা – বেয়াই ওদের সোনা তো অনেক জমল, আরো কি দরকার।
দরকার বলে পদার্থের শেষ আছে। খাওয়ার দরকার আছে, পেট ভরিয়ে তার শেষ পাওয়া যায়, নেশার দরকার নেই, তার শেষও নেই। ঐ সোনার তালগুলো যে মদ, আমাদের যক্ষরাজের নিরেট মদ। বুঝতে পারলে না?
চন্দ্রা – না।
বিশু – মদের পেয়ালা নিয়ে ভুলে যাই ভাগ্যের গন্ডির মধ্যে আমরা বাঁধা। মনে করি আমাদের অবাধ ছুটি। সোনার তাল নিয়ে এখানকার কর্তার সেই মোহ লাগে। সে ভাবে সর্বসাধারণের মাটির টান ওতে পৌঁছয় না, অসাধারণের আসমানে ও উড়ছে।

এইভাবেই অতীত ইতিহাস থেকে সম্প্রতিকাল পর্যন্ত বারবার আমাদের ‘আমি’দের মিশিয়ে, এক ডিসিপ্লিন বা অর্ডারের মধ্যে শুধুই জনগণ বানিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে। আর যারা এ কাজ করেছে, তারা কিন্তু জন সংখ্যা-র বুকের উপর দাঁড়িয়ে নিজেদের বৃহৎ ‘আমি’-কেই প্রতিষ্ঠা করেছে।
আমরা তো দেখেইছি, দুই মহাযুদ্ধের ইতিহাসে একদিকে ইহুদীদের প্রতি নাৎসীদের দানবীয় অত্যাচার, আবার সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে গত পঞ্চাশ বছর ধরে প্যালেস্তিনীয়দের উপর ইজরায়েলী অত্যাচার। ধর্মের নামে, উন্নয়নের নামে মানুষ খুন – এই যাবতীয় ঘটনা সাধারণ ‘আমি’ ও ‘আমরা’কে ইতিহাসে অনেক পিছনে ঠেলে দিয়েছে। যে ঘটনা আজও ঘটে চলেছে। ধর্মের নামে, পুণ্যের নামে পদপিষ্ট হয়ে বেওয়ারিশ মানুষ মরছে।
তাই আগে আমাদের নিজেদের ব্যক্তিটার দিকে ফিরতে হয় – নিজেকে জানতে হয়, চিনতে হয়। এটা সবার আগে – এই যে আমি, সে আসলে কে? কী করে জানব এর কথা?
গ্রীক দার্শনিক প্লেটো’র কথোপকথন (ডায়ালগ- রিপাবলিক) থেকে জানা যায় গুরু সোক্রাতিস বলতেন, ‘নিজেকে জানাটাই জ্ঞানের প্রথম কথা’ (To Know Thyself is the beginning of Wisdom)। আবার ভারতে বেদান্তেও আত্মজ্ঞান বা ‘আমি’-কে এক বা অদ্বিতীয়ম বলে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথের দর্শন জগতে মুখ্য কথা হল এই যে – আমি-র দুই পর্যায়। একদিকে আমি-র মুখ্য ‘জ্ঞান’ আর অন্যদিকে দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা থেকে উপার্জিত ‘আমি’, এই দুই ধারণার সম্মিলনে সৃষ্টি ‘আমি’। মুখ্য আমি এবং উপার্জিত আমি-র মহাসম্মিলনই হল আমার ‘আমি’ এবং আপনার ‘আমি’।
একজন শিল্পী আগে ছবি আঁকে তারপর ছবি বিক্রী করে জীবনধারণ করে, একজন কাঠের মিস্ত্রী আগে নিপূণ হাতে আসবাব বানায়, তারপর তার বাজার মূল্য নির্ধারিত হয়, তেমনি একজন অটোচালক-এর ‘আমি’ শহরের বুকে অটো চালিয়ে তার পরিচিতি উপার্জন করে। সমাজে নানারকম উদ্দেশ্যে বা অভিপ্রায়ে মুখ্য ‘আমি’ কাজকর্ম, প্রতিষ্ঠা দিয়ে আর এক ‘আমি’কে উপার্জন করে। আবার নিজের মুখ্য আমি এবং উপার্জিত আমি-কে কারুর কাছে অবলীলায় বিক্রীও করে দেয়।
তবে মুখ্য ‘আমি’র পণ্য মূল্য হয় না। যেমন আসবাব, পণ্যের সঙ্গে এক নিপূণ গল্প যুক্ত হয় তবে তার মূল্য ধরা হয় এবং কেনাবেচা চলে। একদিকে দামি, অদামি পণ্যের মূল্য আবার অন্যদিকে শিক্ষকের মূল্য, ছাত্রের মূল্য, জ্ঞানের মূল্য, পরিবেশন বা পারফরমেন্সের মূল্য – এই সবের নেপথ্যে নানারকম নিপূণ গল্প সৃষ্টি হয়। রবীন্দ্রনাথ এখানেই রসিকতা করে বলছেন –
“মানুষ অনেকখানি ছেলেমানুষ, তাকে রূপকথা বা গল্প দিয়ে ভোলাতে হয়”। (গল্পসল্প। রাজারানী)
তাই আমি’র এই বিরাট রূপকথার নাগাল পেতে গেলে বাস্তবিক নানা ঘটনা এবং নানা মতের আদানপ্রদান, কথা ও কাহিনি যা প্রচলিত আছে, এমনকি প্রতিদিনকার নানা কাহিনি দিয়ে আমাদের আমি-কে সাজিয়ে তুলতে হয়।
রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, “পশুপাখির জীবন হলো আহার নিদ্রা সন্তানপালন। মানুষের জীবন হলো গল্প। কত বেদনা, কত ঘটনা; সুখদুঃখ রাগবিরাগ, ভালোমন্দের কত ঘাত প্রতিঘাত। ইচ্ছার সঙ্গে ইচ্ছার, একের সঙ্গে দশের, সাধনার সঙ্গে স্বভাবের, কামনার সঙ্গে ঘটনার কত আবর্তন। নদী যেমন জলস্রোতের ধারা, মানুষ তেমনি গল্পের প্রবাহ। তাই পরস্পর দেখা হতেই প্রশ্ন এই, ‘কি হলো হে, কী খবর, তার পরে?’ এই তার পরে’র সঙ্গে তার পরে বোনা হয়ে পৃথিবী জুড়ে মানুষের ‘আমি-র’ গল্প গাঁথা হচ্ছে”।
কারণ – ‘মানুষের প্রধান লক্ষণ এই যে, মানুষ একলা নয়। প্রত্যেক মানুষ বহু মানুষের হাতে তৈরি’। (বাংলাভাষা পরিচয়)।

আচ্ছা, ধরাই যাক না, আমরাই তো বিভিন্ন পরিসরে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথকেই গড়ে তুলেছি। এই গড়ে তোলা মোটেই একরকম নয়। তাঁর লেখা পড়ে, না পড়ে, গান শুনে, কখনো বুঝে, এমনকি কখনো না-বুঝেও তার সাথে কখন একাত্ম হয়ে গিয়েছি। আবার কিছু পপুলার গান শোনা ছাড়া বাকি লেখা, গান পড়তে ভুলেও গেছি। অবশ্য পড়তেই হবে এমন কোনো মাথার দিব্যিও তো নেই। তাই কখনো এমনিই ভালো লাগছে বলে শুনেছি। আমরাই কেউ তপস্বী সেজেছি, সংস্কৃতি-বাজারে, এমনকি বিয়ের বাজারে সেই রবীন্দ্রনাথ-কেই ইচ্ছেমতো বিক্রী করেছি।
আমরাই কেউ রবীন্দ্রনাথ-কে গুরু জ্ঞানে পুজোও করেছি। কখনো এক ঠাকুরের সঙ্গে আরেক ঠাকুর, আবার কখনো এক ঠাকুরের বিপক্ষে অন্য ঠাকুর। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের ‘আমি’-র নাগাল কি পেয়েছি? কেউ আছেন এখানে? অথচ কী করে যেন বুঝে যাই রবীন্দ্রনাথ ‘কেন’ এটা বলতে চেয়েছেন, কী ভেবেছিলেন, কেন ভেবেছিলেন আরও কত কী। আর এই কাজ করতে গিয়ে অনেকেই তাঁর ব্যক্তিজীবনের অন্দরের কথা টেনে আনতে শুরু করেছেন। অনেকটা রহস্যভেদ করার মত। ভাবখানা এমন – এই দেখো আবিষ্কার করে ফেলেছি।
কবি শঙ্খ ঘোষ একে এক অদ্ভুত ‘ডিটেকটিভগিরি’ বলছেন। আর আমরা তো সবাই জানি যে, রবীন্দ্রজীবনের অন্দরে এই ‘ডিটেকটিভগিরি’ নিয়ে কত বই প্রকাশিত, আর তাদের বাজারমূল্য নেহাত কম নয়, বরং যথেষ্ট। কাদম্বরী দেবীর সঙ্গে কীরকম গভীর সম্পর্ক, এই লাইনে পরবর্তীকালে আরও কেউ কেউ ছিলেন কিনা, যেমন কিশোর বয়সে, আন্না, ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো – এসব গল্প তো আজও তো বিকোচ্ছে।
আর রবীন্দ্রনাথ কী বললেন! ‘রবীন্দ্রকাব্যপ্রবাহ’ পড়ে রবীন্দ্রনাথ প্রমথনাথ বিশীকে লিখেছিলেন, ‘শেষকালে আমাকে নিয়ে পড়েছিস। ‘বিষয়’ হিসেবে আমি কি নিতান্ত সহজ’। (কবির অভিপ্রায়)। সোনার তরী কবিতায় কবি কী বলতে চেয়েছিলেন, সে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ-কেও পাঠক হতে হয়েছিল, নিজের আমি-কে খুঁজতে।
অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ-কেও আমরা উপার্জন করি, কিন্তু কবি-র আমি-কে টেনে আনতে পারি না। ক্ষমতাবানও উপার্জন করে, আবার তস্য সাধারণ আমি-ও করে। অর্থাৎ সবশেষে সত্ত্বা সেই দুটো; আমি ও রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথ তো নেই। যা পড়ে আছে সে শুধুই ‘আমি’ আর রবীন্দ্রনাথের লেখা, গান।
কিন্তু আমরাও যেমন ‘আমি’-কে খুঁজে বেড়াচ্ছি, রবীন্দ্রনাথের রাজা নিজেকে খুঁজছে, নন্দিনী নিজেকে খুঁজছে, পঞ্চক নিজেকে খুঁজছে, রবীন্দ্রনাথ হয়ত নিজেকেই খুঁজছেন ধনঞ্জয় বৈরাগীর মধ্যে।

নাটক-২
রাজা – আচ্ছা নন্দিনী, আমাকে কী মনে কর, খুলে বলো তো।
নন্দিনী – কতবার বলেছি, তোমাকে মনে করি আশ্চর্য। প্রকান্ড হাতে প্রচন্ড জোর ফুলে ফুলে উঠছে, ঝড়ের আগেকার মেঘের মতো – দেখে আমার মন নাচে।
রাজা – রঞ্জনকে দেখে তোমার মন যে নাচে, সেও কি –
নন্দিনী – সে নাচের তাল আলাদা, তুমি বুঝবে না।
রাজা – কিছু কিছু বুঝি। আমি জানি রঞ্জনের সঙ্গে আমার তফাতটা কী। আমার মধ্যে কেবল জোরই আছে, রঞ্জনের মধ্যে আছে জাদু।
নন্দিনী – জাদু বলছ কাকে।
রাজা – বুঝিয়ে বলব? পৃথিবীর নীচের তলায় লোহা, সোনা, সেইখানে রয়েছে জোরের মূর্তি। উপরের তলায় একটুখানি কাঁচা মাটিতে ঘাস উঠছে, ফুল ফুটছে – সেইখানে রয়েছে জাদুর খেলা। দুর্গমের থেকে হীরে আনি মাণিক আনি, সহজের থেকে ঐ প্রাণের জাদুটুকু আনতে পারি নে।
নন্দিনী – তোমার এত আছে, তবু অমন লোভীর মতো কথা বলো কেন?
রাজা – আমার যা আছে সব বোঝা হয়ে গেছে। সোনাকে জমিয়ে তুলে তো পরশমণি হয় না – শক্তি যতই বাড়াই, যৌবনে পৌঁছল না। তাই পাহারা বসিয়ে তোমাকে বাঁধতে চাই। রঞ্জনের মতো যৌবন থাকলে ছাড়া রেখেই তোমাকে বাঁধতে পারতুম। এমনি করে বাঁধনের রশিতে গাঁট দিতেই সময় গেল। হায় রে, আর সব বাঁধা পড়ে, কেবল আনন্দ বাঁধা পড়ে না।

আবার অচলায়তন নাটকে রবীন্দ্রনাথ পঞ্চক-‘কে’ নির্মাণ করেছেন, যে শিক্ষার জগদ্দল অচলায়তন থেকে মুক্তি চায়, পালিয়ে চলে আসে সবার মাঝে, যেখানে জাত, ধর্ম বলে কিছু নেই। দাদাঠাকুর-কে সে বলছে,

নাটক-৩
পঞ্চক – ঠাকুর, আমাকে কিন্তু তুমি বড়ো অস্থির করে তুলেছ। এক-এক সময় ভয় হয় বুঝি কোনোদিন আর মন শান্ত হবে না।
দাদাঠাকুর – আমিই কি স্থির আছি ভাই? আমার মধ্যে ঢেউ উঠেছে বলেই তোমারও মধ্যে ঢেউ তুলছি।
পঞ্চক – কিন্তু তবে যে তোমরা ঐ শোণপাংশুরা বলে তোমরা কাছে তারা খুব শান্তি পায়, কই শান্তি কোথায় ! আমি তো দেখি নে।
দাদাঠাকুর – ওদের যে শান্তি চাই। নইলে কেবলই কাজের ঘর্ষণে ওদের কাজের মধ্যেই দাবানল লেগে যেত, ওদের পাশে কেউ দাঁড়াতে পারত না।
পঞ্চক – তোমাকে দেখে ওরা শান্তি পায়?
দাদাঠাকুর – এই পাগল যে পাগলও হয়েছে শান্তিও পেয়েছে। তাই সে কাউকে খ্যাপায়, কাউকে বাঁধে। পূর্ণিমার চাঁদ সাগরকে উতলা করে যে মন্ত্রে, সেই মন্ত্রেই পৃথিবীকে ঘুম পাড়িয়ে রাখে।
পঞ্চক – ঢেউ তোলো ঠাকুর, ঢেউ তোলো, কূল ছাপিয়ে যেতে চাই। আমি তোমায় সত্যি বলছি আমার মন খেপেছে, কেবল জোর পাচ্ছি নে – তাই দাদাঠাকুর, মন কেবল তোমার কাছে আসতে চায় – তুমি জোর দাও – তুমি জোর দাও – তুমি আর দাঁড়াতে দিয়ো না’…।

পঞ্চকের মধ্যে সেই মুখ্য ‘আমি’ আসলে এমনই স্বাধীন। সে নিঃশর্ত মুক্তি চায়। তাসের দেশ নাটকেও রাজপুত্র-কে যেন রঞ্জনের মতো সেই একই শৃঙ্খলা (Order) ভাঙার খেলায় দেখা যাচ্ছে এই গানটিতে,
আমার মন বলে চাই, চাই গো, যারে নাহি পাই গো।
সকল পাওয়ার মাঝে আমার মনে বেদন বাজে, নাই নাই গো।
হারিয়ে যেতে হবে
আমায় ফিরিয়ে পাব তবে… নন্দিনী

প্রায়শ্চিত্ত নাটকেও ধনঞ্জয় বৈরাগী আর প্রতাপাদিত্য-এর মধ্যে যে কথা তাতে যেন রবীন্দ্রনাথের ভিতরে এক প্রবল বৈপ্লবিক ‘আমি’-কেই খুঁজে পাচ্ছি,

নাটক-৪
‘প্রতাপাদিত্য – …মাধবপুরের প্রায় দুবছরের খাজনা বাকি – দেবে কি না বলো।
ধনঞ্জয় – না মহারাজ, দেব না।
দেবে না, এত বড়ো আস্পর্ধা।
যা তোমার নয় তা তোমাকে দিতে পারব না।
আমার নয়!!
আমার ক্ষুধার অন্ন তোমার নয়। যিনি আমাদের প্রাণ দিয়েছেন এ অন্ন যে তাঁর, এ আমি তোমাকে দিই কী বলে?
তুমিই প্রজাদের বারণ করেছ খাজনা দিতে?
হাঁ মহারাজ, আমিই তো বারণ করেছি। ওরা মূর্খ, ওরা তো বোঝে না – পেয়াদার ভয়ে সমস্তই দিয়ে ফেলতে চায়। আমিই বলি, আরে আরে এমন কাজ করতে নেই – প্রাণ দিবি তাঁকে প্রাণ দিয়েছেন যিনি…’।

এই করতে করতে রাজা-‘কে’ও তো টেনে নামানো হয়েছে তার ক্ষমতার সিংহাসনের ‘আমি’ থেকে। রাজা-কে বানিয়ে তোলা হয়েছে মাটির লোকের শরিক, রাজা-র ‘আমি’ নিজেই নিজের বিরুদ্ধে লড়ছে।
মনের মধ্যে, সম্পর্কের মধ্যে এই বিদ্রোহ তো আমি’র মুখ্য জ্ঞান এবং উপার্জিত জ্ঞান’এর বিরোধেরই ফসল যে বিরোধেই আমি’ সত্ত্বাকে চেনা যায়। তাই এইসব মানুষ তো দৈবাৎ হাতে ঠেকে, সহজলভ্য তো নয়। কাজেই সবার ‘আমি’, বিশৃঙ্খলার ‘আমি’, স্বাধীন, ‘আমি’কে চেনা দরকার সর্বাগ্রে। যে মুক্তির প্রবল দাবি দেখা যায় চিত্রাঙ্গদার ‘আমি’র মধ্যে,
‘আমি চিত্রাঙ্গদা, আমি রাজেন্দ্রনন্দিনী।
নহি দেবী, নহি সামান্যা নারী।
পূজা করি মোরে রাখিবে উর্ধ্বে
সে নহি সে নহি,
হেলা করি মোরে রাখিবে পিছে
সে নহি সে নহি।
যদি পার্শ্বে রাখ মোরে
সংকটে সম্পদে,
সম্মতি দাও যদি কঠিন ব্রতে
সহায় হতে,
পাবে তবে তুমি চিনিতে মোরে’।

তাই বারবার মুখ্য আমি আর উপার্জিত আমি-কে চিনতে, জানতে চাইছেন রবীন্দ্রনাথ,
‘মানুষের প্রকৃতির মধ্যে সবই যদি চিরন্তন হয়, কিছুই যদি তাহার নিজে গড়িয়া লইবার না থাকে, আপনার মধ্যে কোথাও যদি সে ইচ্ছা খাটাইবার জায়গা না পায় তবে তো সে মাটির ঢেলা। আবার যদি তাহার অতীতকালের কোনো চিরন্তন ধারা না থাকে, নিজের ইচ্ছা অনুসারেই আগাগোড়াই নিজেকে যদি তাহার রচনা করিতে হয় তবে সে একটা পাগলামি, একটা আকাশকুসুম’ (আত্মপরিচয়)।
তাহলে, আমি আসলে আমার সেই ইচ্ছা খাটানোর পরিসর, আমার আমাকে, আপনার আমি-কে গড়ে তোলবার সৃজনশালা। একদিকে প্রমুখ ‘আমি’, চিরন্তন ‘আমি’ আর একদিকে উপার্জিত ‘আমি’ অর্থাৎ গড়ে তোলা ‘আমি’, আমার সৃষ্টি করা ‘আমি’।
সেই ‘আমি’-র চাওয়া নিজের খুশিমতো স্বতন্ত্র ও পরিপূর্ণ রূপ পেল,
এই যে আমি ওই আমি নই, আপন মাঝে আপনি যে রই,
যাই নে ভেসে মরণধারা বেয়ে –
মুক্ত আমি, তৃপ্ত আমি, শান্ত আমি, দৃপ্ত আমি,
ওরি মাঝে দেখছি আমি চেয়ে…’। (যে আমি ওই ভেসে চলে)।

কিন্তু সেই আমি-র মধ্যে যে বিপুল অনিশ্চয়তাও রয়েছে সে প্রসঙ্গে বলছেন,

‘আমি যা ভাবি, যা সিদ্ধান্ত করছি, আমি যে আগাগোড়া কেবল তাই-ই, তা তো নয়। আমি যা ভালোবাসি নে, যা ইচ্ছে করি নে, আমি যে তাও। আমার জন্মাবার আগেই আমার সৃষ্টি হয়ে গেছে। আমি তো নিজেকে বেছে নিতে পারি নি, হাতে যা পেয়েছি তাকে নিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে’। (ঘরে বাইরে)।.

আসল কথা ‘আমি’ নিজেকে যেভাবে জানতে চাইছে। এ যেন আমি’সত্তার অন্দরের কাহিনি, যেখানে আমি’র অন্দরকে ডাকছেন রবীন্দ্রনাথ,

এসো আমার ঘরে
বাহির হয়ে এসো তুমি যে আছ অন্তরে।

কীভাবে আসবে?

স্বপন দুয়ার খুলে এসো, অরুণ আলোকে
এসো মুগ্ধ এ চোখে
ক্ষণকালের আভাস হতে চিরকালের তরে।

তারপর বলছেন,

দুঃখসুখের দোলে এসো, প্রাণের হিল্লোলে এসো

শেষে বলছেন,

ফিরে আসার অরূপবাণী, ফাগুনবাতাসে
বনের আকুল নিঃশ্বাসে
এবার ফুলের প্রফুল্লরূপ এসো,
এসো বুকের ‘পরে।

অনেকেই মনে করেন রবীন্দ্রনাথ এক্ষেত্রে আত্মা’র কথা বলছেন। সম্ভবত তা নয় কারণ, অন্তরে যে ‘অচেতন’ তাকে বাইরে আসতে আহ্বান করেছেন এবং গানের শেষে ফুলের প্রফুল্লরূপে আসতে আহ্বান করেছেন। সে আত্মা কেন হতে যাবে। সেই তো মুখ্য ‘আমি’ যে অচেতন থেকে উৎসারিত হয়ে স্বপনদুয়ার পেরিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে। স্বপনে তো ক্ষণকালেরই আভাস পাওয়া যায়, তাই সেই আভাস থেকে চিরকালের জন্য প্রকাশিত হতে আহ্বান করছেন রবীন্দ্রনাথ। এই সচেতনের ‘চিরকাল’ থেকে ‘আমি’ দুঃখসুখের নানা ভাষা পেরিয়ে অবশেষে সেই প্রকৃতিতে এসে পথ সম্পূর্ণ করছে সেই ‘তুমি’তে।

কিন্তু এই যাত্রাপথে তুমি-আমি-র দ্বন্দ্ব, বিরোধ নেহাত কম হয়নি। ‘তুমি’ আসলে কে? বন্ধু থেকে ভগবান – যে কেউ হতে পারে। আসলে ‘তুমি’ একটা প্রান্ত – সীমানা। তুমি’র সাথে কী দারুণ বিরোধ, আবার দাবিও –

ফাগুনের কুসুম ফোটা হবে ফাঁকি,
আমার এই একটি কুঁড়ি রইলে বাকি।

সেদিনে ধন্য হবে তারার মালা, তোমার এই লোকে লোকে প্রদীপ জ্বালা
আমার এই আঁধারটুকু ঘুচলে ‘পরে।

তোমার সাথে নিত্য বিরোধ
আর সহে না
দিনে দিনে উঠছে জমে
কতই দেনা।
সবাই তোমায় সভার বেশে
প্রণাম করে গেল এসে
মলিন বাসে লুকিয়ে বেড়াই
মান রহে না।
কী জানাব চিত্তবেদন
বোবা হয়ে গেছে যে মন
তোমার কাছে কোনো কথাই
আর কহে না।
ফিরায়ো না এবার তারে
লও গো অপমানের পারে
করো তোমার চরণতলে
চির-কেনা।

এমন কত গান, কবিতা রয়েছে।
‘তোমার এই মাধুরী ছাপিয়ে আকাশ ভরবে,
আমার গানে নইলে সে কি কোথাও ঝরবে?’

এই মাধুরী দিয়েই শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর শেষে প্রকৃতির কাছে প্রণতি জানালেন রবীন্দ্রনাথ,

‘সব নিয়ে ধন্য আমি প্রাণের সম্মানে।
এ পারের ক্লান্ত যাত্রা গেলে থামি;
ক্ষণতরে পশ্চাতে ফিরিয়া মোর নম্র নমস্কারে
বন্দনা করিয়া যাব এ জন্মের অধিদেবতারে’।

আমি-সৃষ্টির এই চিরন্তন সম্পর্কের কোনো এক সীমায় দাঁড়িয়ে মানুষ-আমি, আমার আমি, তাঁর আমি, সীমার আমি, এমনকি অসীমের আমি সবাই শেষে এসে তোমার আমি-তে শেষ হচ্ছে, অর্থাৎ অধিদেবতার ভাষায় ফুটে উঠছে।

এই পর্যায়ে আমি’র দ্বন্দ্বের সম্পূর্ণ অবসান না হলেও অবসানের সীমায় দাঁড়িয়ে আছে ‘তুমি’। সেই তুমি-র আমি-কে রবীন্দ্রনাথও জানেন না –
‘যখন আমার আমি
ফুরায়ে যায় থামি
তখন আমার তোমাতে প্রকাশ’। (গীতালি)।

সৃষ্টির শেষ সীমায়, যেখানে আমি যে আসলে ‘কে’ এই বৃত্ত যেন পূর্ণতা পাচ্ছে। সেখানে আমি-র কাছে গোটা বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে আছে।

হঠাৎ খেলার শেষে আজ কী দেখি ছবি, স্তব্ধ আকাশ নীরব শশী রবি
তোমার চরণ পানে নয়ন করি নত, জীবন দাঁড়িয়ে আছে একান্ত।

আমাদের শিক্ষক পান্নালাল চট্টোপাধ্যায় প্রয়াণের আগে তাঁর এ জন্মের বন্ধুদের উদ্দশ্যে বলেছেন, “শুরুর দিনেও তোমরা ছিলে, আমার শেষের সময়েও তোমরা এলে”। এখানেও যেন সেই ‘আমি’র বৃত্তের একই সম্পূর্ণতা।

এই শেষ দ্বন্দ্বে, শেষ মিলনে যে ‘আমি’ সেই পরিচয়ে আমাকে যেমন অত্যন্ত খারাপ লোক হিসেবে চেনা যেতে পারে আবার গোপাল-কে অতি সুবোধ বালক হিসেবেও মনে রাখা যেতেই পারে।
এই সত্যের পরবর্তী সময়ে, অর্থাৎ যে সময়ে আমরা আজ আছি, সেইখানে আমরা যদি সবাই বুকে হাত দিয়ে বলি, ‘আমি আসলে কে’? কী পরিচয় বেরোবে? আমার ‘আমি’ ‘অপর’ হয়ে যাই নি তো? আমার ‘আমি’ কি হিন্দু বা মুসলমান বলে পরিচিত হবে? বেদান্ত-এর নামে মনুবাদ কর্মের চেয়েও ধর্মে, বর্ণে মানুষকে বিভাজন করে চলেছে প্রবল গতিতে। গোটা দেশ জুড়ে ধর্মের নামে মানুষ মারছে – আবার খবরের কাগজে পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপনেও তো জাত ধর্মে রোজ বিভাজন হচ্ছে। আমাদের নিজেদের ‘আমি’-র স্বাধীন পরিচয় কবে হবে? আমাদের ‘আমি’ তো দশ-পঁচিশের ছক নয় – এটা কবে আমরা চেঁচিয়ে বলতে পারব, কে জানে!

আপনি এই পত্রিকা পড়ছেন জেনে ভাল লাগল।

নতুন লেখা বা ভিডিও সংযোজন, অথবা রবিচক্রের অন্যান্য খবরাখবর সম্পর্কে জানতে, ইমেল নথিভুক্ত করতে পারেন।

We don’t spam! Read our privacy policy for more information.


0 0 votes
Article Rating
2 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Chandan Sen Gupta
Chandan Sen Gupta
9 months ago

বড় সুন্দর কান ধরে পড়িয়ে নিলেন গুরুগম্ভীর তাত্বিক বিষয়টি। নিজেকে খোঁজার চেষ্টা করার বড় একটা সুযোগ আর পাওয়া যাচ্ছেনা আজকের দিনে।প্রযুক্তির দারুণ অগ্রগতির যুগে নানা রকমের খেলনার প্রলোভনে সাড়া দিতে দিতে জীবনটা কেটে যাচ্ছে।

Himadri Kumar Das Gupta
Himadri Kumar Das Gupta
9 months ago

খুব ভাল লেখা