
(ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার জীবনকাল ১৮৯৮ থেকে ১৯৩৬। সালভাদোর দালির অন্তরঙ্গ বন্ধু , নাট্যকার কবি – যাকে স্পেনের উগ্র জাতীয়তাবাদী শক্তি গুলি করে মেরেছিলো। সুনীল গাঙ্গুলীর একটা কবিতাও আছে – কবির মৃত্যু। শহীদ লোরকার মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায় নি। কিন্তু তার কবিতা রয়ে গেছে। কালের স্রোতের শীর্ষে।)
নিদ্রাহীন প্রেমের রাত
রাত আমাদের কাছে এসেছিল, পূর্ণিমাকে নিয়ে।
আমি কেঁদে ফেলেছিলাম,
তুমি হেসেছিলে।
আমি যন্ত্রনায় –
পায়রা আর সময়ের শেকলে
ককিয়ে উঠেছিলাম,
তুমি ঈশ্বরকে অবজ্ঞা করেছিলে।
তারপর রাত একসময়ে আমাদের ছেড়ে গেলো।
ব্যাথায় ব্যাকুল স্ফটিক, তুমি কেঁদেছিলে
দূর থেকে দূরতর হয়ে যাওয়া
নিবিড়তার শোকে।
তোমার হৃদয়ের চোরাবালিতে
থোকো থোকো যন্ত্রণার গুচ্ছ হয়ে
ফুটে উঠেছিল আমার বিষাদ।
তারপর বিছানায় সঙ্গী হলো ভোর।
ফিনকি দিয়ে সূর্য রক্ত
ঝরে পড়লো, অন্তহীন
আমাদের মুখে।
তারপর বন্ধ বারান্দায় আগুন দিয়ে
জ্বলে উঠলো সূর্য।
রামধনু প্রবালের গা থেকে
ছড়িয়ে পড়লো দৈনন্দিনের শাখা –
হৃদয় আবরণ।

বন্দিনী
এলোমেলো, অস্থির
ডালপালা সরিয়ে
মেয়েটা চলে গেলো।
পায়ে পায়ে –
আমার একান্ত বেঁচে থাকা।
এলোমেলো, অস্থির
ডালপালা সরিয়ে
মেয়েটা পুড়ে গেলো।
মেঘমুক্ত আরশির কপালে
মোহিনী সূর্যক্ষরণ।
এলোমেলো, অস্থির
ডালপালা সরিয়ে
মেয়েটা বলে গেলো –
ঘুরে ঘুরে, বন্দি আমি
সময়ের শিশির কান্নায়।

