Category: প্রবন্ধ

নাগরিক কবিয়াল ভূপেন হাজারিকার শতবর্ষ
‘বিস্তীর্ণ দু’পারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনে নিঃশব্দে নীরবে, ও গঙ্গা তুমি, ও গঙ্গা বইছো কেন—’। এই গান তাঁকে অমর করে রেখেছে। তবে গানটি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা হলেও এটি অনুপ্রাণিত। গানটির একটি প্রেক্ষিত রয়েছে। প্রায় একশো বছর পূর্বে, ১৯২৭ সালে দুই বন্ধু কবি অস্কার হ্যামারটাইন জুনিয়র এবং সুরকার জেরোম কার্ন তাঁদের পরবর্তী প্রযোজনার জন্য একটি গান…

নিঃশব্দ চিৎকার
“এ শহরে এত দুঃখ কেন?” পৃথিবী নাম্নী জনপদের প্রতি, প্রতি-প্রজন্মের শিশু দৃষ্টির অন্তর্দর্শনে সৃষ্ট, এক শিশু সারল্যে ভরা অন্তরের সহজ প্রশ্ন আজও প্রতিধ্বনিত হয়ে চলেছে ক্রমান্বয়ে… তবুও সময় এ প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয় বার বার…দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে এ প্রশ্ন সময়ের কাছে! ভবা’র অন্তরে লুকিয়ে থাকা কাঞ্চন “বাড়ি থেকে পালিয়ে” এ প্রশ্ন করেছিল কোনো এক…

ঋত্বিকের চিত্রনামা
এই কাহিনী ঋত্বিক ঘটকের।ঋত্বিকের জন্ম ঢাকায় ৪ নভেম্বর ১৯২৫; মৃত্যু কলকাতায় ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬। ইহলোক যখন ছাড়লেন, বয়সটা তদুপযুক্ত নয়। বেহিসেবি জীবনে অর্থকষ্টে রোগে ভুগে জীবনদীপ আস্তে আস্তে নিভে আসছিল। তবে পঞ্চাশোর্ধে বনং ব্রজেৎ উপমাটা ঠিক খাটবে না, কেননা তাঁর বেপরোয়া মেজাজ, এলোমেলো প্রকাশ, অতীতের আকৃতি এবং সংযমের ন্যূনতা সমস্ত মিলিয়ে বাঙালি মন থেকে তাঁর…

চিত্তপ্রয়াণ – একটি জাতির শোকাশ্রু
দার্জিলিঙে ১৯২৫ সালের ১৬ই জুন আকস্মিকভাবে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের জীবনাবসান হয়েছিল। তখন তাঁর বয়স ৫৫ বছরও পূর্ণ হয়নি। মৃত্যুর আগের দু সপ্তাহের ও অব্যবহিত পরের মুহূর্তগুলির স্মৃতিচারণ করে ইতিহাসবিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, দেশবন্ধুজায়া বাসন্তী দেবীর নাকি ইচ্ছা ছিল যে দার্জিলিংয়েই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হোক। কিন্তু তাঁর অগণিত অনুরাগীদের মনোভাব ছিল অন্যরকম :- “এই পাহাড়ে দেশটিতে…

কাহিনী দুটো, প্রশ্ন একটাই
রবীন্দ্রনাথের সব থেকে আলোচিত, বহু পঠিত এবং অবশ্যই বিতর্কিত দুটি উপন্যাস হচ্ছে –‘ঘরে-বাইরে’ এবং ‘চার অধ্যায়’। বই দুটি প্রকাশের সময়েই বিতর্কের ঝড় উঠেছিল, আজও তর্ক শেষ হয়নি। সেদিন রবীন্দ্রনাথের আত্মপক্ষ সমর্থন সবাইকে সন্তুষ্ট করেনি, আজও অনেককেই করে না। এই দুটি উপন্যাসকে কেন্দ্র করে তৎকালীন রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি ইত্যাদি নিয়ে অনেক আলোচনার অবকাশ আছে যা আজও…

‘বিষণ্ণ খড়ের শব্দ’
অনতিঅতীতের অতিমারীর পটভূমিতে জীবনানন্দের প্রয়াণ দিবসের স্মরণ

“জাগরী” ও তার লেখক
কিন্তু ফাঁসির আগের আশংকায় ভরা রাতটি চারজনের কেমন কেটেছিল তা সহজেই অনুমেয়। অন্তরঙ্গ আত্মীয়তায় আবদ্ধ কিন্তু নিঃসঙ্গ চারজন মানুষ সেই রাত্রির দুঃসহ অন্ধকার থেকে ফিরে তাকায় তাদের অতীতের দিকে। যে অতীত ক্ষমাহীন বর্তমানের কাছে কত স্নিগ্ধ ও সান্ত্বনাময়। একটি রাতের কালো কষ্টিপাথরে তাদের সমগ্র জীবনকে বিচার করে তারা ।

রেলপথের পাঁচালী
বাঙালির কাছে দুর্গা পুজোর সঙ্গে রেলগাড়ির সম্পর্ক অনেকটা বিয়েবাড়ির সঙ্গে লুচি ভাজার গন্ধের সম্পর্কের মতো। পুজো মানেই বাড়ি ফেরা, আবার পুজো মানেই বাড়ি ছেড়ে দাও ছুট। পুজো কাছাকাছি এলেই, উত্তরে না দক্ষিণে, পাহাড়ে না সমুদ্রে, নাকি স্রেফ শিমুলতলা, মধুপুর, কারমাটার, যাওয়া হবে এবার তাই নিয়ে বাড়িতে বাড়িতে পলিটবুরোর মিটিং । মোদ্দা কথা পুজো মানেই একদল…


