শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Category: তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়

  • মানব সভ্যতায় বেগ ও আবেগ

    মানব সভ্যতায় বেগ ও আবেগ

    বিগত শতকের চারের দশকে দিল্লির ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক পটভূমিতে লেখা সাড়া জাগানো গ্রন্থ ‘দৃষ্টিপাত’-এ ‘যাযাবর’ ছদ্মনামের আড়ালে খ্যাতিমান সাংবাদিক-সাহিত্যিক বিনয় মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন – “আধুনিক বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে আবেগ। তাতে আছে গতির আনন্দ, নেই যতির আয়েস।” মন্তব্যটি বিগত আট দশক ধরে সাহিত্য-পিপাসু বাঙালির মনের মণিকোঠায় আজও সজীব, যা আলাপে আলোচনায় প্রবন্ধে নিবন্ধে অতি ব্যবহারেও…

  • রেবতীভূষণ

    রেবতীভূষণ

    চলচ্চিত্র প্রযোজক বি এন সরকারের অনুরোধে বাংলা ভাষার সর্বপ্রথম অ্যানিমেশান ছবি ‘মিচকে পটাশ’এর চরিত্রায়ণ রেবতীভূষণেরই। ছবি আঁকার পাশাপাশি ছড়া লেখা, গান বাজনা, সাঁতারেও রেবতীভূষণের বিপুল উৎসাহ আজীবনের। তাঁর রচিত ছড়ার সঙ্কলনটির নাম “ছড়ানো বই”।

  • শ্রুতিতে পত্রসাহিত্যঃ রবীন্দ্রনাথের চিঠি অমিয় চক্রবর্তীকে

    শ্রুতিতে পত্রসাহিত্যঃ রবীন্দ্রনাথের চিঠি অমিয় চক্রবর্তীকে

    রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের উল্লেখযোগ্য কবি অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০১ সালে। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর যখন যোগাযোগ হয়, তিনি তখন ১৬ বছরের একটি কিশোর। অচিরেই কবির স্নেহধন্য হয়ে ওঠেন অমিয়। সেই সময়টিতে তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার অকালবিয়োগে সে প্রবলভাবে কাতর ও চূড়ান্ত অবসাদগ্রস্ত অবস্থায় দিনযাপন করছে। স্নেহসিক্ত কবি এক অসামান্য মনোবিদের মত একটির পর একটি চিঠিতে উজ্জীবিত করতে থাকেন…

  • ‘মাংপবী’ মৈত্রেয়ী দেবীর সান্নিধ্য-সুখ

    ‘মাংপবী’ মৈত্রেয়ী দেবীর সান্নিধ্য-সুখ

    বিস্মৃতিচারণা (১১) সময়টা আশির দশকের একেবারে গোড়ার দিক। সম্ভবত ১৯৮১ সাল। আমার পিতৃদেবের আগ্রহে বাড়িতে আসতে লাগল মৈত্রেয়ী দেবীর একের পর এক অসামান্য সব গ্রন্থ। ‘ন হন্যতে’ পড়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। এরপর হাতে এল ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ’। নেশা গভীর হল। আরও, আরও, আরও। এক মহীরুহর মানসকন্যার কলমে বিশ্ববরেণ্য কবির ব্যক্তিসত্তার অন্তরমথিত করা অনিঃশেষ উন্মোচন। পরের পর…

  • হাসির সাতকাহন ও বাঙালি

    হাসির সাতকাহন ও বাঙালি

    মানুষের অভিব্যক্তির সর্বোত্তম প্রকাশ হাসিতে। প্রফুল্লতা, আনন্দ, উচ্ছ্বাস হইতে শুরু করিয়া বেদনা, যন্ত্রণা, দুঃখ পর্যন্ত নানা আঙ্গিকের হাসির রকমফেরে আবেগের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ। পৃথিবীতে মানুষই একমাত্র প্রাণী যে হাসিতে জানে, হাসিকে মূলধন করিয়া বন্ধুত্বের বন্ধনীতে বাঁধা পড়ে। হাসির স্বপক্ষে সর্বাপেক্ষা বড় যুক্তি বোধহয় ইহাই যে হাসির আবেদন সার্বজনীন, দেশ-কাল, এমনকি ভাষা-নিরপেক্ষ। দেশ ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে…

  • শিব ঠাকুরের আপন দেশে বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনে…(১০)

    শিব ঠাকুরের আপন দেশে বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনে…(১০)

    ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রস্তুতি চলছে কাশীতে সুবর্ণ জয়ন্তী বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের। সাহিত্যপ্রেমী বাঙালির সম্বৎসরিক তিন দিনের সম্মেলন। লেখক ও পাঠকদের এ এক সর্বভারতীয় মিলনমেলা। পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের শাখা-সংগঠনের মাধ্যমে সাহিত্য-সচেতন বাঙালি জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশের মানুষের মধ্যে সম্মেলনে উপস্থিত থাকার ব্যবস্থাদি চলছে পূর্ণদ্যোমে। বলে নেওয়া ভাল, আজকের সময়ে বসে সেদিনের সাহিত্যপিপাসু সাধারণ…

  • হিসেবনিকেশ

    হিসেবনিকেশ

    আরও একটি বছর ইতিহাসের পাতায় আশ্রয় নিল। নির্দ্বিধায় বলা চলে, সে চলে গেল বেশ কিছু হাহাকার আর যন্ত্রণার স্মৃতি বুকে নিয়ে। নতুন করে আর কোনো রোজনামচা বা জমা-খরচের হিসেব তার খাতায় লেখা হবে না। বিশেষ বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতের ইতিহাস ও রাজনীতির অনুসন্ধিৎসুদের গবেষণার বিষয় হবে সে। আপাতদৃষ্টিতে এর বেশি কিছু গুরুত্ব নেই তার এই…

  • সরস সঞ্জীব-সান্নিধ্যে

    সরস সঞ্জীব-সান্নিধ্যে

    বিস্মৃতিচারণা – পর্ব (৯) আশি ও নব্বইয়ের দশকে বাংলার রসসাহিত্যের অদ্বিতীয় লেখক তিনি। বাংলা সাহিত্যের পাঠক মাত্রেই জানেন যে ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়, রাজশেখর বসু (পরশুরাম) ও শিবরাম চক্রবর্তীর পর বাংলা সাহিত্যে রসের ধারাটিকে সজীব করে তুলেছিলেন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় তাঁর সহজাত দক্ষতায়। রাজনীতি, সমাজ, গৃহকোণ সর্বত্রই অবাধে বিচরণ করেছেন রঙ্গব্যঙ্গ, বিদ্রুপ ও শ্লেষের ক্ষুরধার ও তীক্ষ্ণ লেখনীটি…

  • বাঙালি, তুমি কি পথ হারাইয়াছ?

    বাঙালি, তুমি কি পথ হারাইয়াছ?

    সব জাতিরই নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে, যেগুলো অপর একটি জাতির থেকে তাকে পৃথক করে চিনিয়ে দেয়। এই বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যখন সেই জাতির মানুষ দীর্ঘ সময়কাল ধরে সচেতন থাকে, সশ্রদ্ধ থেকে তাকে লালন করে, তখন জন্ম হয় একটি সমৃদ্ধ জাতিসত্তার। অনেক সময় সেই জাতিসত্তায় বা জাতি-বৈশিষ্ট্যে কিছু পরিবর্তন আনে কালের প্রবাহ। ফলে প্রত্যেক প্রজন্মের হাত ধরে…

  • শ্রীকান্ত-ইন্দ্রনাথের লীলাভূমিতে

    শ্রীকান্ত-ইন্দ্রনাথের লীলাভূমিতে

    বিস্মৃতিচারণা – পর্ব (৮) রাত্রে দেখা সুখস্বপ্ন যেমন কোনো ধারাবাহিকতার ধার ধারে না, ফেলে আসা বিস্মৃত সময়ের সুখস্মৃতিও ক্রমানুসারে মনের চালচিত্রে ধরা দেয় না. ওরা আসে কিছুটা অসংলগ্নতা নিয়ে, কিছুটা বিচ্ছিন্নভাবে। আপন খেয়ালে আপনিই ওরা আসে, আপনিই ভেসে চলে যায়।বিস্মৃতিচারণার এই পর্বের সূচনায় যে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি বার্ষিক অধিবেশনের মধুর স্মৃতিরোমন্থন আমার আলোচ্য বিষয়, ১০০ বছর…