শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Category: ঝুমা বন্দ্যোপাধ্যায়

  • খরা

    খরা

    ফাগুন শেষে মাটির কষ্ট, তৃষ্ণা কাতর প্রাণআগুন ছোঁয়া শস্য ক্ষেতে,মনের বিরূপ টান। দীঘল চোখে শুকিয়ে কাজলরাতমোহিনী হাঁকে,‘জল চাই গো, জল যে খরা,জল কোথাকে পাই’-এ পোড়া দেশ ক্লান্ত বড়ো,নটে গাছটি মুড়াই আরোবাউড়ি পাড়ার পথে ঘাটেউড়ছে ধুলোর ছাই।‘জল চাই গো, জল যে খরা,জল কোথাকে পাই।’ ফাগুন শেষে একলা ঘর- একলা মনের টানরাত দুপুরে প্রসব ব্যথায়পোয়াতি আনচান। ঋণের…

  • খোঁখীর বিয়ে

    খোঁখীর বিয়ে

    ঠিক দশটা বেজে পাঁচ, ট্রেন ছাড়ল। খানিকটা গিয়েই অবশ্য দাঁড়িয়ে পড়ল। উন্নয়নের ঠ্যালা, রেল ব্রীজ মেরামতি চলছে। তবে পনেরো মিনিট রেস্ট নিয়ে এক্সপ্রেস গতিতে এবার সে টগবগিয়ে ছুটল । পৌষ মেলার ভিড়। তারই মাঝে প্রথমে মায়ের ফোন, তারপর রত্নার,”কী রে, কতদূর?” রত্না আমার ছোটবেলা থেকে ছায়াসঙ্গি । দু’বছর পর দিল্লী থেকে ফিরে বেচারি হাঁকপাক করছে…

  • নীলকুঠির রোদ্দুর

    নীলকুঠির রোদ্দুর

    ১হিমাদ্রি সাওপাওলো…. বয়স গোটা তিরিশেক হবে। বাপের ছোট পুত্র। একটি প্রাইভেট স্কুলের ইতিহাস শিক্ষক। মাইনে প্রায় হাজার পনেরো। ভাগ্যিস বউ বাচ্চা নেই। এই মাইনেতে শহরবাজারে চালানো কঠিন। একসময় সরকারী চাকরি বাকরির অনেক পরীক্ষা দিয়েছিল কিন্তু বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি। শখ ফটোগ্রাফি ও স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি নির্মাণ। প্রকৃতির টানে প্রাইভেট স্কুলের লম্বা গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে মাঝেমাঝেই বেরিয়ে…

  • ফাঁদ

    ফাঁদ

    ১ মাস্টারমশাই শিখিয়েছিলেন কীভাবে ভয় পেতে হয়মা বাবা বাড়ির বড়োরাও সকাল বিকেল সন্ধ্যা পাখিপড়া করে মুখস্থ করিয়েছিলেন ভয় পাওয়ার ইতিবাচক ফলাফল…. পাশের বাড়ির অকেজো লোকটা জীবন দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিল ভয় না পেলে সমাজ সংসার কীভাবে তলিয়ে যায় স্পর্ধার আকাশে…… প্রত্যেকটা বস সদর্পে ঘোষণা করেছে,“ভয়, না পেলে বেরিয়ে যাও।” ভয় পেতে পেতে কবেই হারিয়ে ফেলেছি ভাষা…

  • আঁধার পেরিয়ে

    আঁধার পেরিয়ে

    ১ “কাহার অভিষেকের তরেসোনার ঘটে আলোক ভরে।উষা কাহার আশিস বহিহল আঁধার পার।” মাঝেমধ্যে কিছু লাইন আমার ভিতর রাজত্ব করে। দেবদারু পাতায় সাজানো ছোট্ট মঞ্চ – সেখানে একটা হারমোনিয়াম তবলা ও মাইক্রোফোন। সন্ধের একটু আগে কালবৈশাখী থামলে বেজে ওঠে কিশোর কুমারের কণ্ঠে এই গানের কলি – পাড়ার রবীন্দ্রজয়ন্তী। এখনও একটা ঘোর। এখানে আমি সেরকম কিছু একটা…

  • ছড়াপুরে রবি

    ছড়াপুরে রবি

    ওই দেখো, উড়োজাহাজ দেখো ওই উড়োজাহাজ, ছুটে যায় বহুদূর হাঁদা চলে ছড়াপুর চলে হাঁদা ছড়াপুর, পেরিয়ে শহর-গ্রাম কত নদী রোদ্দুর। নীচ-পানে তাকায় সে তাকায় সে নীচ-পানে, এ বাবা! ছোটো হয় মাঠঘাট নদী যেন সরু সুতো সরু সুতো হয় নদী, আল্পনা এঁকে রাখা পৃথিবীর জল পাট। বন-ছাদ দেখেনি সে দেখেনি সে বন-ছাদ, অগণন গগন-বিলাসী মহীরুহ গাছেদের…