Category: অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী

বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (২)
[এটি বাঙালির একশো বছরের অর্থাৎ বঙ্গাব্দের চতুর্দশ শতকের ইতিহাসের একটি ধারাবিবরণী। গ্রামীন কথকতার আসরে যেভাবে সাধারণত পাঁচালি গান পরিবেশিত হয়, এটি তার উপযোগী করে রচনা করা হয়েছিল এই শতকের শুরুতে। পাঁচালির মাঝে মাঝে যাতে বিশিষ্ট রচয়িতাদের কবিতা বা গান সংযোজন করা যায়, তার দিকে লক্ষ রেখেই পাদটীকায় বিভিন্ন গানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাঠ্য রচনা…

বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (১)
[এটি বাঙালির একশো বছরের অর্থাৎ বঙ্গাব্দের চতুর্দশ শতকের ইতিহাসের একটি ধারাবিবরণী। গ্রামীন কথকতার আসরে যেভাবে সাধারণত পাঁচালি গান পরিবেশিত হয়, এটি তার উপযোগী করে রচনা করা হয়েছিল এই শতকের শুরুতে। পাঁচালির মাঝে মাঝে যাতে বিশিষ্ট রচয়িতাদের কবিতা বা গান সংযোজন করা যায়, তার দিকে লক্ষ রেখেই পাদটীকায় বিভিন্ন গানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাঠ্য রচনা…

স্মৃতির চিঠি : ভবতোষ দত্ত
ভবতোষ দত্ত নামটি শুনলেই বাঙালি সুধীজনের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যাঁর কথা মনে পড়ে তিনি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ লেখক অধ্যাপক ভবতোষ দত্ত। কিন্তু তাঁরই সমকালে যে একই নামে আরেকজন বিশিষ্ট বিদ্বজ্জন ছিলেন, যিনি বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক এবং লেখক হিসেবেও যথেষ্ট যশস্বী, সে কথা হয়তো সবাই জানেন না।এই শেষোক্ত ভবতোষ দত্তই আমার এই লেখাটির উপজীব্য বলে প্রথমেই এই…

বাদশা খান- শেষ অভিবাদন
তোমাকে কখনও দেখিনি খবরকাগজ বা বইয়ের পাতার বাইরে,তবু জানতাম, তুমি আছ —আমাদের জন্মের সাথে পাওয়া আরও কতো সম্পত্তির মতো।তথ্যচিত্রে দেখেছি তোমাকে মুক্তিযুদ্ধের অধ্যায়গুলো জুড়ে ভাস্বর…দেখেছি- কত লম্বা হয়েও গান্ধীর পেছনে অনুগমনে নত তোমাকে,দেখেছি তোমার সামনে নেহরুও কত খাটো– চেষ্টা করে হাত রাখছেন তোমার কাঁধে.ছবিতে দেখেছি, তুমি দাঁড়িয়ে আছ সুভাষচন্দ্রের পাশে,যেন অগ্নির পাশে প্রাচীর– পূর্বের পাশে…

উন্মূলন
অদূরে কোর্ট-বাড়িটা নানা লোকের ভিড়ে আর তাদের আওয়াজে গমগম করছে। এ-পাশটায় মাঠে টেবিল পেতে বসা কিছু লোকজন খাতাপত্র লেখায় ব্যস্ত, তাদের ঘিরেও থোকা থোকা কিছু লোকের ভিড়। আর এক পাশে কিছু খাবারের দোকানের ছাউনি, তার সামনে কাঠের বেঞ্চি পাতা । সেই দোকানের সারি যেখানে শেষ হয়েছে, সেখানে একটা গাবগাছের ঝাঁকড়া ছায়া, লোকজনের ভীড় কম। সেই…

নজরুলকে নিবেদিত দুটি কবিতা
(এক) ● কবি নজরুলকে ওগো দুর্বাসা! বাজাবে না সুর আগুনের জ্বালা মাখা? দেখাবে না আর অন্ধ আকাশে জ্বলে ‘ধূমকেতু’-লেখা? জ্বলন্ত শিখা যৌবন-ছবি টকটকে রঙে আঁকা, উগ্র গরল – নীলকন্ঠের বিরাট বেদনা ঢাকা – মহাউদ্গার-জ্বালা নিয়ে শুধু ঘুরবে কালের চাকা? সংগীতধ্বনি শোনে নাকো আজ কেউ সিন্ধুর রোলে, ‘বাঁশের বাঁশি’র উদাস সে সুর কখন যে গেছি ভুলে!…

সুকুমার রায় ও বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতি – প্রয়াণ শতবর্ষে ফিরে দেখা
সুকুমার রায় সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ একদা লিখেছিলেন, “…তাঁর স্বভাবের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতির গাম্ভীর্য ছিল, সেজন্যই তিনি তাঁর বৈপরীত্য এমন খেলাচ্ছলে দেখাতে পেরেছিলেন।” যে ধরণের বৈপরীত্য সুকুমারের খেয়াল-রসসিক্ত রঙ্গসাহিত্যের মুখ্য উপজীব্য, তার পেছনে বৈজ্ঞানিক বুদ্ধিসঞ্জাত কোনো গাম্ভীর্যের ক্রিয়া নিহিত ছিল, এমন কথা বললে প্রথমে তা’ কিছুটা স্ববিরোধী শোনাতেই পারে। তার প্রধান কারণ, আমরা সুকুমারের এ ধরনের তাবৎ…
