শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (৬)

এ পর্যন্ত বলা হল নানারকম প্রসঙ্গে
কয়েক দশক জুড়ে যা যা ঘটেছিল বঙ্গে।।
বেছে বেছে তুলেছি আমরা ঘটনা-নিচয়
হয়তো ফোটে নি তাতে সামগ্রিক পরিচয়।।
রাজনীতি-মহলের কথাই বেশি ছিল তাতে,
ঢুকি নি ততটা আমরা অন্য আঙিনাতে।।
এবার তাতে ক্ষান্ত দিয়ে আমরা কিছুক্ষণ,
অন্যান্য মহলের কথাও করব উত্থাপন।
এমনই এক বিষয় বঙ্গের নারী জাগরণ,
এবার এই প্রসঙ্গে কিছু শোনো সভাজন।।
বঙ্গদেশে ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতক
এনেছিল পাশ্চাত্যের শিক্ষার আলোক।।
বঙ্গে নবজাগরণের কৃতী পুরুষগণ
ধন্য সেই আলোয় করিয়া অবগাহন।।
তাঁহাদেরই হাত ধরে বঙ্গনারীগণ
ক্রমে ক্রমে শিক্ষাঙ্গনে করে পদার্পণ।।
তাঁরাই শেখান পত্নী-জায়া-কন্যাদের
নির্ভয়ে তুলতে দাবি স্ব-অধিকারের।।
শিক্ষা সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ সংস্কার–
সব ক্ষেত্রে অগ্রণী ছিল ঠাকুর পরিবার।।
কত কৃতী পুরুষেরা সে বাড়ির সন্তান,
জ্ঞানে-কর্মে সে বাড়ির নারীও আগুয়ান।।
সাহিত্য-সংগীত-নাট্য-পত্রসম্পাদনা–
সে বাড়ির কন্যাদের অশেষ গুণপনা।।

স্বর্ণকুমারী দেবী, তাঁর সম্পাদিত ভারতী পত্রিকা ও তাঁর রচিত একটি উপন্যাসের প্রচ্ছদ

মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ পরিবারের প্রধান,
বাঙলার প্রগতিতে তাঁর অশেষ অবদান।।
স্বর্ণকুমারী দেবী তাঁর অন্যতমা কন্যা —
ঔপন্যাসিক ও ভারতী-র সম্পাদিকা ধন্যা।।
ইন্দিরা এ পরিবারের প্রথম স্নাতিকা,
ইংরেজি-ফরাসি পড়া লেখিকা, গায়িকা।।
সুনয়নী ঠাকুরবাড়ির আরেক দুহিতা —
সাহিত্যে-সঙ্গীতে-শিল্পে তিনি গুণান্বিতা।।
অবনীন্দ্র ও গগনেন্দ্র দুই শিল্পী দাদা তাঁর,
চিত্রশিল্পে তাঁরও যে প্রতিভা চমৎকার।।
[ধুয়া – আহা, বেশ বেশ বেশ! আহা, বেশ বেশ বেশ!]

সুনয়নী দেবী ও তাঁর আঁকা দুটি ছবি

সরলা দেবী দেবেন্দ্রনাথের অন্যতমা দৌহিত্রী,
স্বদেশী আন্দোলনের তিনি উৎসাহী এক নেত্রী।।
বাঙলাদেশে জাতীয়তার করতে উদ্বোধন
প্রতাপাদিত্য উৎসব তিনি করেন প্রবর্তন।।
বিক্রী যাতে হয় সহজে স্বদেশীয় পণ্য
লক্ষ্মীর ভান্ডার স্থাপন তিনি করেন সেই জন্য।।
শক্তিচর্চায় যুবকদলকে রাখিতে নিরত
প্রচলন করেন তিনিই বীরাষ্টমী ব্রত।।
এছাড়াও ঠাকুর-বাড়ির সাহসী এই কন্যা
আরো নানা ক্ষেত্রে ছিলেন অগ্রণী অনন্যা।।
ইংরেজিতে বি. এ. ডিগ্রী পান তিনি যখন
চাকরি নিয়ে মহীশূর রাজ্যে করলেন গমন।।
নারীজাতির এই সাহস আর এ স্বাবলম্বন
বাঙালি সমাজে অভিনব ছিল বিলক্ষণ।।
ভারতী পত্রিকারও তিনি কৃতী সম্পাদক,
বিবেকানন্দ তাঁর অন্যতম প্রশংসক।।
এরপরে যোগ দিয়ে নারীমুক্তির সংগ্রামে
স্থাপন করেন ভারত স্ত্রী মহামন্ডল নামে
সংগঠন এক এলাহাবাদে, লক্ষ্য ছিল তার–
নারীদের শিক্ষা ও সামাজিক অধিকার।।
অসহযোগ আন্দোলন যখন শুরু হয়,
তাতে যোগ দিয়ে তিনি ভ্রমেন দেশময়।।
চরকা ও অসহযোগ-তত্ত্ব করেন সম্প্রচার।
সাহিত্যে, গানেও স্ফূর্ত প্রতিভা তাঁহার।।
কোন ক্ষেত্রেই পিছপা যে নয় বাঙালি নারী–
সরলা দেবী চৌধুরানী দৃষ্টান্ত এক তারই।।
জাতিধর্মভেদের ঊর্ধ্বে ভারতমাতার ছবি
স্বরচিত সঙ্গীতে এঁকেছিলেন এই কবি।।
কলকাতায় কংগ্রেসের মঞ্চে তাঁর মন্দ্রস্বরে
পশিল এ সঙ্গীত সবার মর্মের ভিতরে।।

চরকার সামনে সরলা দেবী চৌধুরানী ও (ঘড়ির কাঁটার দিকে যথাক্রমে) সরোজিনী নাইডু, সুচেতা কৃপালনী, লতিকা বসু ও লীলা রায় (নাগ)।

(●সরলা দেবী রচিত ‘নমো হিন্দুস্থান’ গানের অংশ-)
“অতীত-গৌরববাহিনী মম বাণী! গাহ আজি হিন্দুস্থান ।
মহাসভা-উন্মাদিনী মম বাণী! গাহ আজি হিন্দুস্থান!
কর বিক্রম-বিভব-যশঃ-সৌরভ পূরিত সেই নামগান !
বঙ্গ, বিহার, উৎকল, মাদ্রাজ, মারাঠ, গুর্জর, পঞ্জাব, রাজপুতান!
হিন্দু, পার্সি, জৈন, ইসাই, শিখ, মুসলমান!
গাও সকল কণ্ঠে, সকল ভাষে ‘নমো হিন্দুস্থান!’
(কোরাস) হর হর হর জয় হিন্দুস্থান —
হরে মুরারে হিন্দুস্থান, জয় জয় ব্রহ্মন্ হিন্দুস্থান,
অলখ নিরঞ্জন হিন্দুস্থান, জয় যিহোবা হিন্দুস্থান,
আল্লা হো আকবর হিন্দুস্থান! নমো হিন্দুস্থান!…”

কাদম্বিনী গাঙ্গুলী, জ্যোতির্ময়ী গাঙ্গুলী, যামিনী সেন এবং সরোজনলিনী দত্তের জীবনকাহিনীর প্রচ্ছদচিত্র

আরও কত কীর্তিমতী বাঙলার নারীগণ
নানা ক্ষেত্রে দেখান নিজ প্রতিভার স্ফুরণ।
কাদম্বিনী বাংলার প্রথম মহিলা ডাক্তার–
তাঁরও অন্যতম ব্রত সমাজের সংস্কার।।
একনিষ্ঠ চিকিৎসক হিসাবে যশস্বিনী,
মহিলা সম্মেলনেরও সদস্য যে তিনি।।
তাঁর কন্যা জ্যোতির্ময়ী নানাগুণান্বিতা,
শিক্ষাব্রতী, দেশনেত্রী রূপে সুবিদিতা।।
নারীদের অধিকার অর্জন ছিল তাঁরও লক্ষ্য –
নানারকম সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সুদক্ষ।।
ব্রিটিশপ্রভুর অত্যাচারে কখনো আবার
অগ্নিবৃষ্টি করেছিল লেখনী যে তাঁর।।
দেশপ্রেমে কলেজের অধ্যাপনা ছাড়িয়া
আন্দোলনে ঝাঁপ দেন মনপ্রাণ দিয়া।।
সত্যাগ্রহ, লবণ আইন অমান্য আন্দোলন
এসবেও সক্রিয় তিনি ছিলেন বিলক্ষণ।।
নারীর সর্ব অধিকার আদায়ে অবিচল
কংগ্রেসে গড়েন নারী স্বেচ্ছাসেবী দল
(ধুয়া – ” আগে কহ আর, আহা, আগে কহ আর!”)

কামিনী রায় সমাজকর্মী, কবি ও লেখিকা
বেথুন কলেজেও তিনি ছিলেন অধ্যাপিকা।।
মহিলাদের ভোটাধিকার করিতে অর্জন
করেন তিনি বঙ্গীয় নারী সমাজ গঠন।।
নারী শ্রম কমিশনের সদস্যাও তিনি,
এ কল্যাণব্রতে তাঁর সঙ্গী কাদম্বিনী।।
নারী শ্রমিকদের দশার তদন্ত করিতে
এ দু’জন উড়িষ্যায় যান কুণ্ঠাহীন চিতে।।
এছাড়া যামিনী সেন তাঁহারই ভগিনী –
মহিলা চিকিৎসক রূপে হন যশস্বিনী।।

অবলা বসু ও বিদ্যাসাগর বাণীভবন

নারীর কল্যাণকর্মে সর্বদা অগ্রণী
ছিলেন অবলা বসু, জগদীশ-ঘরণী।।
বিধবাদের প্রশিক্ষণ আর সশক্তিকরণ,
শিক্ষার প্রসার আর নারী উন্নয়ন —
এই লক্ষ্যে অবিচল থেকে আজীবন
গড়িয়া তোলেন তিনি নানা সংগঠন।।
গ্রামে গ্রামে স্থাপিলেন শ’ দুয়েক স্কুল,
নারী শিক্ষা সমিতি তাঁর কীর্তি এক অতুল।।
বিদ্যাসাগর বাণীভবন, নারী শিল্পভবন
ইত্যাদি সংস্থাও তিনি করেছেন গঠন।।
ব্রাহ্মবালিকা শিক্ষালয়ের ছিলেন সম্পাদিকা,
নিবেদিতার শিক্ষাব্রতেও তিনি সহায়িকা।।
[ধুয়া- ” আহা, বেশ বেশ বেশ! আহা, বেশ বেশ বেশ!”]

নারী মুক্তির আরেক দূতী সরোজনলিনী,
গুরুসদয় দত্তের তিনি যোগ্য অর্ধাঙ্গিনী।।
বিশ ও ত্রিশের দশকে তিনি বাংলার নানাস্থানে
মহিলা সমিতি গড়েন নারীদের কল্যাণে।।
নারী শ্রমিক লীগেরও তিনি সচিব একজন,
নারীজাগরণ ছিল তাঁর ব্রত অনুক্ষণ।।

আরেক ভাস্বতী নারী বেগম রোকেয়া
নারীশিক্ষার প্রসারে চিরস্মরণীয়া।।
নারীবাদী, মুক্তদৃষ্টি সুদক্ষ লেখিকা,
মুসলিম নারীদের তিনি আলোকবর্তিকা।।
গৃহ-অন্তরালে তাঁর পাঠাভ্যাস শুরু,
প্রথমে দাদা ও পরে স্বামী তাঁর গুরু।।
ক্রমে হয় সাহিত্যিক প্রতিভা বিকাশ,
পত্রপত্রিকায় নানা রচনা প্রকাশ।।
স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে ব্রত হল তাঁর
সমাজ সংস্কার আর শিক্ষার বিস্তার।।
প্রথমে ভাগলপুরে, পরে কলকাতায়
নারীদের উন্নয়নে তাঁর কর্মধারা ধায়।।
করিলেন তিনি মুসলিম নারী সংগঠন
আঞ্জুমানে খাওয়াতিন-এ- ইসলাম‘ স্থাপন।
নারীদের শিক্ষাই ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান —
সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল তাহারই প্রমাণ।।

বেগম রোকেয়া ও সাখওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল

বঙ্গনারীর কীর্তিগাথা শেষ হবার নয়,
আরো কত ভূখণ্ড তাঁরা করেছেন জয়।।
রাজনীতির সংগ্রামেও তাঁরা কম কিবা–
বাসন্তী ও উর্মিলা দেবী, বিমলপ্রতিভা,
ইন্দুপ্রভা দাশগুপ্ত, দুকড়িবালা দেবী,
সুশীলা ও বেলা মিত্র নমস্য দেশসেবী।।
ইংরেজিতে কাব্য লিখে হলেন যশস্বিনী
প্রবাসী বাঙালি দেশনেত্রী সরোজিনী
গান্ধীজির সব আন্দোলনেই অগ্রবর্তিনী।।
কংগ্রেসের সভাপতিও হয়েছিলেন তিনি।।

সুচেতা কৃপালনী এক বাঙালি দুহিতা,
মহিলা কংগ্রেস নেত্রী রূপে সুবিদিতা।।
ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে হন তিনি গ্রেপ্তার,
অসামান্য ছিল সংগঠনী শক্তি তাঁর।।
সমাজসংস্কার ও রাজনীতি দুয়েই অনুরাগ-
দীপালী সংঘে‘র প্রতিষ্ঠাত্রী লীলা রায় (নাগ)

সমাজসংস্কার ও রাজনীতি দুয়েই অনুরাগ।।
লতিকা ঘোষ লীলার সমতুল্যা আরেক নারী
অক্সফোর্ডের ডি লিট এবং রিসার্চ ডিগ্রিধারী।।
দুঃস্থা নারীদের দেন ধাত্রীবিদ্যায় প্রশিক্ষণ,
তাদের মনে দেশপ্রেমের বীজ করেন রোপন।।
মহিলা রাষ্ট্রীয় সংঘ স্থাপন করেন তিনি,
তাঁর নেতৃত্বেই মহিলাদের ভলেন্টিয়ার বাহিনী
কলকাতার রাজপথে করেছিল কুচকাওয়াজ —
নারীরাও চেয়েছিল সেদিন সোচ্চারে স্বরাজ।।

বিস্মরণেই রয়ে গেছেন কত না বীরনারী —
দৌলতুন্নেশা, ফুলবাহার বিবি দৃষ্টান্ত তাহারই।।
সশস্ত্র সংগ্রামেও বাংলার নারীদের নেই জুড়ি–
বীণা, কল্যাণী,শান্তি দাস, সুনীতি চৌধুরী।।
ইংরেজ নিধনে ব্রতী এইসব বীরাঙ্গনা —
এদেরই সগোত্র সুহাসিনী ও কল্পনা।।
ননীবালা দেবী এক তেজস্বিনী নারী,
প্রথম নারী রাজবন্দীর গৌরব তাঁহারই।
অস্ত্র হাতে না ধরেও তিনি বীরাঙ্গনা
সয়েছেন পুলিশের হাতে অকথ্য লাঞ্ছনা।।
বিপ্লবী যুবকদের তিনি দিয়েছেন আশ্রয়,
অন্যের ঘরণী সেজে করে অভিনয়।।
এমন আরোও ছিলেন সাহসিনী কন্যা–
সহিষ্ণুতায়, আত্মত্যাগে এঁরা সব অনন্যা।।
[. ধুয়া:- “এঁরা সব অনন্যা, আহা, এঁরা সব অনন্যা।” ]
প্রয়োজনে করেছেন এ নারীরা হেসে
পুলিশের চোখ এড়িয়ে পুরুষের বেশে
গুপ্ত বিপ্লবীদের আড্ডায় অস্ত্রের চালান
এবং গোপন বার্তার আদান প্রদান।।
সেবা, প্রেম ও ত্যাগে এঁরা হলেও কোমলা,
তিতিক্ষা সাহসে শৌর্যে ছিলেন না অবলা।।


নব্য শিক্ষার আলো চোদ্দ শতকের দান,
তবে কেন পিছে রবে বাংলার মুসলমান!
একটি সংস্থার জন্ম দেয় কলকাতায় এই জাগৃতি
নাম তার বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি।।
শহিদুল্লাহ ছিলেন প্রাণপুরুষ এই সংস্থার —
নিজস্ব এক সাহিত্য পত্রিকা ছিল তার।।
ঢাকায়ও প্রগতিপন্থী বুদ্ধিজীবীগণ
মুসলিম সাহিত্য সমাজ করেন স্থাপন।।
কালক্রমে মুক্তবুদ্ধি এঁদেরই কয়জন
গড়িয়া তোলেন বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন।।
জ্ঞানের বিস্তার এবং সংস্কারমুক্তির বর্তিকা
জ্বেলেছিল এই গোষ্ঠীরই বার্ষিকপত্র ‘শিখা‘।।
নবীন এই ভাবধারার ছিলেন ধারক ও বাহক —
মোতাহার হোসেন, আব্দুল কাদির আর ইমদাদুল হক।।
আব্দুল ওদুদ, আবুল ফজল, আনোয়ারুল কাদির ,
এঁরাও সদস্য ছিলেন নবীন এই গোষ্ঠীর।।
মুসলিম চেতনায় এনে দিক পরিবর্তন
জাতীয় জীবনের স্থায়ী উন্নতি সাধন,
যুক্তিবাদ ও ঐহিকতাসহ মানবতা,
ধর্মীয় অন্ধতামুক্ত বিজ্ঞানমনস্কতা —
এইসব আদর্শের প্রচার আর প্রসারই সতত
ছিল এই ভাবুকসমাজের জীবনের মূল ব্রত।।
[ধুয়া- ” আহা, বেশ বেশ বেশ! আহা, বেশ বেশ বেশ!”]

শিক্ষা, চিন্তাচেতনার এই অগ্রগতির ক্ষণে
কয়েকজন মুসলমান নারী ছিলেন না পিছনে।।
শামসুর নাহার মাহমুদ এঁদের প্রথম স্নাতিকা —
শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক এবং সমাজসেবিকা।।
মুসলিম মহিলা সমিতির ছিলেন সম্পাদিকা,
নারীমুক্তি আন্দোলনের পথপ্রদর্শিকা।।
মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকী কবি যশস্বিনী,
প্রথম মুসলিম মহিলা আধুনিক কবি তিনি।।
সুফিয়া কামাল স্বশিক্ষিতা অগ্রণী লেখিকা,
নারী প্রগতির উদ্যোগে পথপ্রদর্শিকা।।
বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদিকাও তিনি,
প্রবন্ধ, গল্প কবিতা ও ভ্রমণকাহিনী —
সিদ্ধহস্ত ছিলেন সব ধরনের রচনায়,
স্বতন্ত্র তাঁর কণ্ঠস্বর কবিতার আঙিনায়।।
নুরজাহান বেগম একজন কৃতী সম্পাদিকা
ছয় দশক ধরে সামলেছেন ‘বেগম’ পত্রিকা।।

মুসলিম সমাজেরও ছিল বিভিন্ন পত্রিকা-
মোহাম্মদী, নবনূর, লহরী ও শিখা ।।
মিহির ও সুধাকর, কোহিনুর, ইসলাম,
বাসনা, বেগম, হাফেজ — আরো কত নাম!
আল-এসলাম, মোসলেম ভারত, কিংবা সওগাত –
নানামুখী আদর্শ এদের — বিচিত্র আস্বাদ।।
কারো বা প্রেরণাস্থল আরব, তুরস্ক –
কেউ আবার আধুনিক — প্রগতিমনস্ক।।

[লেখকের অন্য রচনা]

Facebook Comments Box

আপনি এই পত্রিকা পড়ছেন জেনে ভাল লাগল।

নতুন লেখা বা ভিডিও সংযোজন, অথবা রবিচক্রের অন্যান্য খবরাখবর সম্পর্কে জানতে, ইমেল নথিভুক্ত করতে পারেন।

We don’t spam! Read our privacy policy for more information.


0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x