
কবি সত্যেন দত্তের প্রয়াণে রচিত রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত কবিতাটির কয়েকটি ছত্র এ-রকমঃ- “আজো যারা জন্মে নাই তব দেশে,/ দেখে নাই যাহারা তোমারে, তুমি তাদের উদ্দেশে/ দেখার অতীত রূপে আপনারে করে গেলে দান/ দূর কালে। তাহাদের কাছে তুমি নিত্য গাওয়া গান/ মূর্তিহীন!…” অনাগত কালের কাছে এই ‘নিত্য গাওয়া গান’ হয়ে থেকে যাওয়া যে খুব সহজ ব্যাপার নয়। অত্যন্ত বিরল যে ক’জন মানুষ ভারত-ইতিহাসে সেই চিরকালীন আসনটি অলঙ্কৃত করার অধিকার লাভ করেছেন, আমাদের জীবনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র তেমনই একজন অলোকসামান্য পুরুষ। অন্তত নিজের দিক দিয়ে বলতে পারি, নিরন্তর অধ্যয়ন ও অনুধ্যানের মধ্য দিয়ে যে সুভাষচন্দ্র আজও আমার মনে চিরজীবিত, তিনিই আমার নিজের সুভাষচন্দ্র। আমার উত্তর-কৈশোর ও তরুণবেলায় সেই সুভাষ-অধ্যয়ন ও অনুসরণের স্মৃতিচারণাই বর্তমান রচনাটির উপজীব্য। স্কুল ও কলেজের অধ্যায়নপর্ব পার করে আমার জীবনের প্রথম তিন দশক এই ধারা বিবরণীর সময়পরিধি।

অধ্যয়ন ও অনুসরণের দীর্ঘ পথরেখা
সেই সময়কার বাঙালি সমাজের আর পাঁচটি বালকের মতোই আমার জীবনেও সুভাষচন্দ্রের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল একেবারেই ছেলেবেলায়, আমি যখন নিতান্তই স্কুলের ছাত্র। পাঠ্য বইয়ের বাইরে সুভাষচন্দ্রের জীবনকাহিনী ও চিন্তাভাবনার অধ্যয়নের ভিত্তির ওপর সে-সময়টাতে আমার মনের মধ্যে ধীরেধীরে তৈরি হয়ে উঠছিল আমাদের কয়েক প্রজন্মের বরেণ্য সেই নায়কের এক মানসমূর্তি। বইপত্রে যেসব মহাপুরুষের কাহিনী পড়তাম, তাঁদের মধ্যে সুভাষচন্দ্রই ছিলেন একমাত্র চরিত্র, যাঁর শুধু জন্মদিনই পালন করা হত। তাঁর কোন মৃত্যুদিন জানা ছিল না বা বলা উচিত, তাঁর প্রচলিত মৃত্যুসংবাদে বেশিরভাগ মানুষই বিশ্বাস করত না। তারা আশা করে থাকত, নেতাজি আবার ফিরে এসে অসুস্থ দেশের হাল ধরবেন! গল্পের অরণ্যদেবের মতোই অজর, অমর ও সর্বশক্তিমান ছিল তাঁর সেই ভাবমূর্তি! তখন প্রতিদিন তাঁর পায়ের শব্দ শোনার জন্য উৎকর্ণ হয়ে থাকত আমাদের কত অতন্দ্র দুপুর! যে কোনোদিন সশরীরে নেতাজি ফিরে আসতে পারেন, এমন অসম্ভবপ্রায় স্বপ্ন অবিশ্বাস্য সারল্যে আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন আমাদের গুরুজনেরাও। এমনই এক আশ্চর্য সময়ে বাস করতাম আমরা, যখন কান পাতলেই যেন শোনা যেত তাঁর ঘোড়ার খুরের শব্দ! বাস্তবে-কিংবদন্তিতে মেশানো সুভাষের সেই ভাবমূর্তি যে তাঁর রক্তমাংসের মূর্তিকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল, তার প্রমাণ আজও মেলে সারা দেশে আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়কবেশে নির্মিত তাঁর অশ্বারোহী প্রতিমূর্তিগুলির মধ্যে। এ-কথা আজ আমার যাঁরা সমবয়সী বাঙালি, তাঁদের বিশ্বাস করতে খুব একটা অসুবিধা হবেনা যে, সে-সময়টাতে নেতাজি ছিলেন আবালবৃদ্ধবনিতা সবারই হীরো, তাঁর নিন্দুক বা সমালোচক ছিল নিতান্তই দুর্লভ! এরকম এক আবহে একরকম অজান্তেই যেন আমার সুভাষ-অনুধ্যান শুরু হয়েছিল — অনুসরণের জন্য চোখের সামনে উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল এক দীর্ঘ পথরেখা!

আমার জ্ঞানবয়স থেকেই বাড়িতে আসত আনন্দবাজার পত্রিকা ও সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকা। সেগুলিতে প্রকাশিত নেতাজী বিষয়ক সব সংবাদের নিয়মিত পাঠক ছিলাম আমি। নেহরুর আমলের শেষের দিকেই ভারত সরকার নেতাজির ছবি সম্বলিত দুটি ডাকটিকিট ও ফার্স্ট ডে কাভার প্রকাশ করেছিল। এ দুটি যেন অন্যান্য ডাকটিকিটের তুলনায় আরেকটু অতিরিক্ত উৎসাহের সঙ্গে আমার স্ট্যাম্প অ্যালবামে যুক্ত হয়েছিল। নেহরুর মৃত্যুর কয়েক মাস পরেই যখন দিল্লিতে আয়োজিত হল নেতাজির আলোকচিত্রের এক প্রদর্শনী, তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সি ডি দেশমুখ নেতাজিকে বর্ণনা করলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান বলে, কিংবা নেতাজির জন্মদিনে প্রথম বাণী দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শাস্ত্রীজি, খবরকাগজের পাতায় ছাপা সেই উদ্দীপক সংবাদগুলোর কথা আজও মনে পড়ে। এরকমই আরো কয়েকটি উপলক্ষ ছিল ১৯৬৫ সালে শাস্ত্রীজির কলকাতায় এসে নেতাজির প্রথম পূর্ণাবয়ব মূর্তির উন্মোচন, ১৯৬৭ সালে জাপান থেকে নেতাজির একটি তরবারি প্রথমে কলকাতায় ও পরে দিল্লির লালকেল্লায় নিয়ে এসে সম্মান প্রদর্শন, ১৯৬৮ সালে আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠার রজত জয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ ডাক টিকিট প্রকাশ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান, ১৯৬৯ সালে কলকাতার শ্যামবাজারে নেতাজির অশ্বারোহী মূর্তির বহু প্রতীক্ষিত উন্মোচন, ১৯৭০ সালে কলকাতায় এক প্রদর্শনীতে পশ্চিমবঙ্গের উপমুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি “নেতাজি সম্পর্কে অতীতে আমরা ভুল বলেছিলাম!” ইত্যাদি। প্রতিবছর তেইশে জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের সব খবরকাগজেই নেতাজিকে নিয়ে ছাপা হত পাতা-জোড়া শ্রদ্ধার্ঘ্য! সংবাদপত্র থেকে কেটে নিয়ে এই সব ছবি ও লেখাই আমি সংগ্রহ করে রাখতাম। যখন কোন বই বা পত্রিকাতে নেতাজির কোন ছবি দেখে আকৃষ্ট হতাম, যা কেটে নেওয়া সম্ভব হত না, তখন তাতে দমে না গিয়ে আমি হয় ট্রেসিং পেপারের সাহায্য নিয়ে সেই ছবিগুলোর পেন্সিল দিয়ে ছাপ তুলে অথবা সেগুলি দেখে নিজেই হাতে এঁকে তার প্রতিলিপি তৈরি করে ফেলতাম। এছাড়া যে সময় সুভাষচন্দ্র ভারতবর্ষে সশরীরে বিরাজ করছেন, তখন তাঁর যেসব ছবি বা বিবৃতি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হত, তার কিছু নমুনাও পাওয়া গিয়েছিল আমার বাবার তরুণ বয়সের সংগ্রহ থেকে। এই সবরকম উপকরণই একটি খাতায় সেঁটে নিয়ে আমি তৈরি করেছিলাম বিশালাকৃতি এক নেতাজি-অ্যালবাম।

আমার সংগৃহীত সবচেয়ে পুরানো সংবাদপত্রের কর্তিকাগুলি ছিল ১৯৬৫- ৬৬ সালের। তখন থেকে শুরু করে সাত আট বছরের স্কুলজীবনে সেই কিশোরের এ ব্যাপারটা লক্ষ করতে অসুবিধা হয়নি যে,নেতাজির যেকোনো অবদানকেই স্বীকৃতি দেবার ব্যাপারে দিল্লিতে অধিষ্ঠিত কংগ্রেস সরকারের ছিল কেমন যেন একটা কুন্ঠিত কার্পণ্য! নেতাজির জন্মদিনটিতে পশ্চিমবঙ্গে (এবং আমাদের জামশেদপুরের মতো বহির্বঙ্গের বাঙালি উপনিবেশগুলিতেও সব বাংলা মাধ্যম স্কুলে) ছুটি দেওয়া হত বটে, কিন্তু দিনটির কোনও সর্বভারতীয় স্বীকৃতি ছিল না। এছাড়াও আকাশবাণীতে নেতাজির জন্মদিনে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার, বা সংসদ ভবনে নেতাজির ছবি রাখা ইত্যাদি সব প্রশ্নেই বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের দলবদ্ধভাবে কেন্দ্র সরকারের ওপর রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করতে হত। এরকমই একটি ইস্যু তৈরি হয়েছিল দিল্লির লালকেল্লায় এর ইতিহাসকে উপজীব্য করে নির্মিত একটি আলো ও শব্দভিত্তিক নিয়মিত প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে। নেতাজি তাঁর সেনাদলকে আহ্বান জানিয়েছিলেন দিল্লির লালকেল্লায় গিয়ে স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলনের। অথচ লালকেল্লায় এই অনুষ্ঠানটির ধারাভাষ্যে নেতাজির সেই আহ্বানের বিশেষ কোন উল্লেখই ছিলনা! এ কারণে তখন নেতাজি অনুরাগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। দেশ পত্রিকায় ‘দিল্লির ডায়েরী’ নামে এক নিয়মিত বিভাগে এ বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন সাংবাদিক খগেন দে সরকার। সেই সূত্র ধরে ওই পত্রিকায় ১৯৬৭ সালে আমার লেখা প্রথম চিঠিটি প্রকাশিত হয়েছিল। সেই স্কুলপড়ুয়া কিশোর নেতাজির সংগ্রামের সঙ্গে লালকেল্লার অনুষঙ্গ জড়িত থাকার প্রসঙ্গটি নিয়ে সোচ্চার হয়েছিল তার জ্ঞানবুদ্ধিমতো, প্রশ্ন তুলেছিল নেতাজির বক্তৃতার রেকর্ড সহজলভ্য হলেও কেন লালকেল্লার অনুষ্ঠানে তাঁর কণ্ঠস্বর শোনানো হয় না। প্রকাশিত হবার পর সেই চিঠিটি চোখে পড়েছিল আমার স্কুলের বাংলা শিক্ষক বিজয় ব্যানার্জি স্যারের। তিনি সেদিন ক্লাসের নিয়মিত পড়া মুলতুবি রেখে এই প্রসঙ্গটি নিয়ে আলোচনা করে কাটিয়ে দিয়েছিলেন পুরো একটি পিরিয়ড! এর কয়েক দিন পরেই সংসদে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন প্ৰজা সমাজতন্ত্রী পার্টির নেতা সমর গুহ, যাঁর বক্তব্যের অনেক অংশেই সেই স্কুলবালকের পত্রিকায় ছাপা চিঠিটির বক্তব্যের প্রতিধ্বনি ছিল। খবরকাগজ পড়ার সময় আমার বাবা এই জায়গাটি সবুজ পেন্সিলে দাগিয়ে পাশে মন্তব্য লিখেছিলেন যে, মনে হয় আমার ওই চিঠিটি পড়েই যেন সেই সাংসদ ওই কথাগুলি বলেছিলেন! (এখানে উল্লেখ না করে পারছিনা যে, এর চার দশক পরে যখন স্ত্রীপুত্রের সঙ্গে এক শীতের সন্ধ্যায় লালকেল্লার প্রাঙ্গণে বসে সেই শব্দ-আলোর অনুষ্ঠানটি শোনার সুযোগ আমার হয়েছিল, তখন নেতাজির কণ্ঠস্বর শুনে রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম ও মনে পড়ে গিয়েছিল কিশোরবেলায় লেখা দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত আমার সেই সামান্য চিঠিটির কথা।)

নেতাজি-চেতনার জাগরণ ও দুটি ছায়াছবি
আমাদের কিশোরবেলায় সমসাময়িক জনমানসে নেতাজির জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে ধারণা ও চেতনার জাগরণে উল্লেখযোগ্য অবদান যুগিয়েছিল দুটি ছায়াছবি – একটি হিন্দি ও অন্যটি বাংলা। দুটি ছবিই মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৬ সাল নাগাদ। বাংলা ‘সুভাষচন্দ্র’ ছায়াছবিটির পরিচালক ছিলেন পীযূষ বসু। এটিতে সুভাষচন্দ্রের ছেলেবেলা, কিশোরকাল ও যৌবন বয়সের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল যথাক্রমে আশিস ঘোষ, সমরকুমার ও অমর দত্ত এই তিন অভিনেতাকে। সুভাষচন্দ্রের শিক্ষাগুরু বেণীমাধব দাস ও রাজনৈতিক গুরু চিত্তরঞ্জন ছাড়াও এই ছবিতে উপস্থিত করা হয়েছিল স্যার আশুতোষ, আচার্য জগদীশচন্দ্র ও আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রের মতো বাংলার নবজাগরণের উজ্জ্বল নানা চরিত্রকে। অসাধারণ অভিনয় ছাড়াও এই ছবির বিশেষ সম্পদ ছিল রজনীকান্ত, দ্বিজেন্দ্রলাল, অতুলপ্রসাদ ও স্বামী বিবেকানন্দ প্রমুখের রচিত বিভিন্ন গান। এর মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল লতা মঙ্গেশকরের কন্ঠে গাওয়া ‘একবার বিদায় দে মা’ গানটি, যেটির কথা হয়তো আমাদের সমবয়স্ক ও সমমনস্ক বাঙালিরা এখনো স্মরণ করতে পারবেন। কাঠজুরি নদীর ধারে বালির ওপর একাকী বসে থাকা বালক সুভাষ ও সামনে দিয়ে এই গান গাইতে গাইতে চলে যাওয়া এক অন্ধ ভিক্ষুক ও তার মেয়ের ছবিটি এখনো যেন চোখে ভাসে! এই ছবিটির কাহিনী শেষ হয়েছিল সুভাষচন্দ্রের প্রথম কারাবরণের ঘটনায়। এই ঘটনাটিকে যথেষ্ট নাটকীয়ভাবে উপস্থাপিত করতে গিয়ে ছবিটিতে কিছু কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়েছিল, কিন্তু তা দর্শকের মনে কাঙ্খিত শ্রদ্ধা ও মুগ্ধতার আবেশসৃষ্টিতে যে যথেষ্ট সফল হয়েছিল। যুবাবয়সী সুভাষের চরিত্রে অমর দত্তের সেই মর্যাদাব্যঞ্জক অভিনয় ও দৃপ্ত ভঙ্গিমা আজও মনে গাঁথা হয়ে আছে!

নেতাজির জীবনভিত্তিক অপর ছবিটি হিন্দিতে তৈরি করেছিলেন হেমেন গুপ্ত, নাম ছিল ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস’। এই ছবিতে নামভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন অভী ভট্টাচার্য। সুভাষের কলেজজীবন থেকে শুরু করে আজাদ হিন্দ ফৌজের অভিযান পর্যন্ত ছিল এর কাহিনীকালের ব্যাপ্তি। এই ছবির বিশেষ আকর্ষণ ছিল কবি প্রদীপ রচিত কয়েকটি দেশাত্মবোধক গান, যা যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছিল। এগুলির সুরকার ছিলেন সলিল চৌধুরী ও কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে ছিলেন হেমন্তকুমার ও মান্না দে-র মতো বরেণ্য শিল্পীরা। ইউটিউবে নেই বলে বর্তমান প্রজন্মের কাছে অপরিচিত হলেও এই ছবিটির “সুনো রে সুনো দেশ কে হিন্দু মুসলমান’, ‘জন্মভূমি মা’, ‘দুশমনোঁ সাবধান’ ইত্যাদি কয়েকটি গান জনপ্রিয় হয়েছিল মনে আছে। চিত্রনাট্য রচনায় দু একটি ক্ষেত্রে অবশ্য কল্পনার মাত্রা একটু চড়া হয়ে গিয়েছিল, যেমন সুভাষের কলেজজীবনে সেই ওটেন সাহেবের লাঞ্ছনার ঘটনা (বাংলা ‘সুভাষচন্দ্র’ ছবিটিতে অবশ্য এই দৃশ্যটি সংযতভাবে ও ঐতিহাসিক সাক্ষ্য অনুসরণ করে নির্মিত হয়েছিল) কিংবা রণাঙ্গনে আজাদ হিন্দ ফৌজের লড়াইয়ের দৃশ্য। এরকম একটি দৃশ্যে প্রচুর হাততালি পড়েছিল মনে আছে, যখন একটি মোটর সাইকেলে চড়ে নেতাজিবেশী অভী ভট্টাচার্য যুদ্ধক্ষেত্রে এসে একাই একটি ব্রিটিশ ট্যাংককে ধ্বংস করে দেন!

এই সিনেমা দুটির প্রস্তুতি পর্বে এর যেসব সংবাদ ও ছবি আনন্দবাজার ও দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হত সেগুলো পড়ে ছবি দুটি দেখার আগেই এর সব তথ্যই জানা হয়ে গিয়েছিল ও ছবিগুলি দেখার জন্য অধীর প্রতীক্ষা মনের মধ্যে তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ছবি দুটি যখন জামশেদপুরে প্রদর্শনের জন্য মুক্তি পেল, তখন আগ্রহী বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে সিনেমা হলে গিয়ে লাইনও দিয়েছিলাম। সে সময় জনপ্রিয় ছবিগুলির সমস্ত গানের পদ বা লিরিকগুলি আলাদাভাবে পুস্তিকাকারে ছাপা হত ও সিনেমা হলে শোয়ের সময় বিক্রি হত। হিন্দি নেতাজি ছবিটির গানগুলির সেরকম একটি পুস্তিকা আজও আমার সংগ্রহে রয়েছে।
মৃত্যু নয় — ‘অন্তর্ধান’ !
সে সময় সর্বাধিক আলোচিত নেতাজি সংক্রান্ত আরেকটি জনপ্রিয় বিষয় ছিল তাঁর মৃত্যুরহস্য নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা ও নতুন তদন্তের দাবি। এর আগেই ১৯৫৬ সালে নেহরু সরকারের গঠিত শাহনওয়াজ কমিটি তদন্ত করে রায় দিয়েছিল যে, ফরমোজার তাইহোকুতে ১৯৪৫ সালে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত এরপরেও দেশের অধিকাংশ মানুষকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। অবশ্য এসবই ছিল আমার জ্ঞানোন্মেষের আগের ঘটনা। আগেই বলেছি যে, আমরা জ্ঞানবয়স থেকেই শুনে এসেছিলাম, প্রকৃতপক্ষে নাকি বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়নি এবং তিনি তখনও বেঁচে আছেন। অন্তত এমনটাই তখন অধিকাংশ বাঙালির অটল বিশ্বাস ছিল। তাই নেতাজির মৃত্যুরহস্য না বলে সব কাগজেই একে ‘অন্তর্ধান রহস্য’ বলে উল্লেখ করা হত। এই রহস্য উদঘাটনের জন্য তখন ক্রমাগত রাজনীতিকদের ও জনগণের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হত এবং এই সংক্রান্ত সব খবরই মনোযোগ দিয়ে পড়ার পর সেগুলি কাগজ থেকে কেটে আমি একটি খাতার পাতায় সেঁটে রাখতাম। এ কথা বললে হয়তো অত্যুক্তি হবে না যে, নেতাজি কোথাও আত্মগোপন করে আছেন এবং উপযুক্ত সময়ে আত্মপ্রকাশ করবেন — বয়স বা শিক্ষা-দীক্ষা নির্বিশেষে অধিকাংশ বাঙালির এই বিশ্বাস ছিল তাদের নেতাজি অনুরাগেরই একটি অপরিহার্য উপাদান, নেতাজির মৃত্যু হয়েছে একথাটা বলা বা স্বীকার করা গরিষ্ঠ বাঙালির কাছে যেন এক ধরনের অপরাধ বলে গণ্য হত।
১৯৬৪ সালে ২৩শে জানুয়ারি যখন প্রথম নেতাজির সম্মানে দুটি ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়, তখন ভারত সরকারের বিবৃতিতে প্রথামতো এগুলিকে ‘নেতাজি স্মারক ডাকটিকিট’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, কারণ প্রয়াত ব্যক্তিদের স্মরণেই তখন প্রায় সব ডাকটিকিট প্রকাশিত হত। কিন্তু নেতাজির মৃত্যু মেনে নিতে নারাজ বাঙলার মানুষ’স্মারক’ শব্দটি নিয়ে আপত্তি তোলায় শেষ পর্যন্ত ভারত সরকারকে তাদের ভাবাবেগের কাছে নতিস্বীকার করে সেটিকে ‘নেতাজি জয়ন্তী ডাকটিকিট’ বলে ঘোষণাটি সংশোধন করতে হয়েছিল মনে আছে।

একদিকে বই আর পত্রপত্রিকার মাধ্যমে তত্ত্ব ও তথ্যগতভাবে সুভাষ-অধ্যয়ন, সেই সঙ্গে স্কুলে-কলেজে নেতাজি জয়ন্তী, প্রভাতফেরি, বক্তৃতা ইত্যাদি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলেছিল আমার মনের মধ্যে প্রিয়তম এই নায়কের প্রতিচ্ছবি নির্মাণ! মনে পড়ে বাবা কিংবা দাদুর কাছে সেই বিশ্রুত নায়ককে তাঁদের চাক্ষুষ দর্শনের কাহিনীর সঙ্গেসঙ্গে সহপাঠীদের সঙ্গে তাঁকে নিয়ে সম্ভব-অসম্ভবের মিশেল দেওয়া কত না কল্পকাহিনীর আলোচনা! সে সময় প্রচলিত সবচেয়ে জনপ্রিয় গল্প ছিল জলপাইগুড়ির কাছে শৌলমারীতে এক আশ্রমবাসী সাধুর কাহিনী। অনেকে বিশ্বাস করতেন সারদানন্দ নাম নিয়ে সুভাষচন্দ্রই নাকি সাধুবেশে ওই আশ্রমে অবস্থান করছেন! এই তত্ত্বে বিশ্বাসী নানাজনের লেখা বই ও কিছু কিছু প্রচারপুস্তিকা/ বুলেটিন সেই কৈশোরেই আমার পড়বার সুযোগ হয়েছিল। এই জাতীয় দু একটি প্রচারপত্রিকায় এই সাধুকে ‘বিশ্বপিতা সারদানন্দ’ বলে উল্লেখ করা হত। আমার কলেজের সহপাঠী দীপ্তেন গাঙ্গুলীর বাড়ি ছিল উত্তরবঙ্গে, তার কাছে গল্প শুনেছিলাম, ওই সাধু নাকি প্রায়ই তাঁর ব্যক্তিগত মোটরগাড়িতে চড়ে শহরে আসতেন। গাড়ির জানালার কাচ বন্ধ থাকত, ভেতরে ধূপের ধোঁয়ার মধ্যে মেঝেতে আসন বিছিয়ে নাকি ওই সাধু বসে থাকতেন, বাইরে থেকে উঁকি মারলেও ধূপের ধোঁয়ায় কেউ কিছু দেখতে পেত না।
কবে লুকিয়ে থাকা সুভাষচন্দ্রের প্রকাশ্যে পুনরাবির্ভাব হবে এ নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনাও মাঝে মাঝেই শোনা যেত। একবার পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণীতে এক জনসভায় একটি নির্দিষ্ট দিনে সুভাষচন্দ্র আবির্ভূত হবেন, এমন ঘোষণায় সেখানে প্রচুর লোকের জমায়েত হয়েছিল। মনে আছে আনন্দবাজারের প্রথম পৃষ্ঠায় সেই খবর ছাপা হয়েছিল। আমাদের সোনালী কৈশোরের সুভাষ-অনুসরণের সেই পথটির আশেপাশেই এভাবে ঘুরে বেড়াত সম্ভব অসম্ভব রহস্যে-কল্পনায় মেশানো সুভাষচন্দ্রের ছায়ামূর্তি! (দুর্ভাগ্যবশত নেতাজিকে নিয়ে নানা কল্পকাহিনী রচনা ও রটনার ‘সেই ট্র্যাডিশন’ যেন আজ পাঁচ ছ’ দশক পার করে ও ‘সমানে চলিতেছে’)
আমাদের সেই সময়ে অবশ্য এ-সবই ছিল সেই অলোকসামান্য ব্যক্তিত্বকে অনুভবের আর অনুধ্যানের অপরিহার্য উপাদান। এইভাবেই সেই সময়টাতে সুভাষচন্দ্র বাস করেছেন আমাদের মনের ভেতরে এবং বাইরে! সুভাষ-জীবন নিয়ে ব্যক্তিগত পড়াশোনা যখন মনের ভেতরে ধীরেধীরে এক অনুপম বীরমূর্তি গড়ে তুলছিল, বাইরে আমাদের চারপাশে তখনো সঞ্চরণ করতেন এমন সব মানুষেরা, যাঁরা ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, বন্ধু বা সহকর্মী। কৈশোরে ও প্রথম যৌবনে এঁদের কয়েকজনকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া বা তাঁদের নিজমুখে সুভাষের স্মৃতিচারণ শুনতে পাওয়া ছিল আমার কাছে এক দুর্লভ সৌভাগ্যের ব্যাপার। ষাটের দশকে যখন স্কুলে পড়ি, জামশেদপুরে আমাদের পাড়ার কাছেই এক মাঠে সিপাহি অভুত্থানের অন্যতম নায়ক কুঁওর সিং-এর স্মরণে এক অনুষ্ঠানের মঞ্চে একদিন দেখেছিলাম এক বক্তা নেতাজি সম্পর্কে কিছু বলছেন। সেখানে বক্তৃতার মাঝখানে উপস্থিত হয়েছিলাম বলে তখন ওই বক্তার পরিচয় জানতে পারিনি। পরে জানতে পারি যে, তিনিই আজাদ হিন্দ ফৌজের সূত্রে বিখ্যাত ও নেতাজি তদন্তের সূত্রে বিতর্কিত শাহনওয়াজ খান। আরও পরে কলেজের পাঠ নিতে যখন নরেন্দ্রপুরে যাই, তখন সেখানে ও কলকাতায় নেতাজি-জন্মদিবসের নানা বৈচিত্র্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বা প্রত্যক্ষ করে এবং নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে আমার সুভাষ-অনুসরণের আর একটি পর্বের সূচনা হয়।
তখন নেতাজির জন্মদিনে বেতারে কথিকা শুনেছি বিপ্লবীনেতা ভূপেন্দ্রকিশোর রক্ষিতরায় বা নেতাজির সহকর্মী নরেন্দ্রনারায়ণ চক্রবর্তীর, আজাদ হিন্দ ফৌজের ‘কদম কদম বাড়ায়ে যা’, ‘শুভ সুখ চ্যায়েন কে’ ও ‘সুভাষজি সুভাষজি’ এইসব গান প্রতিবছর ২৩শে জানুয়ারি আর ২১শে অক্টোবর (আজাদ হিন্দ সরকারের প্রতিষ্ঠা দিবস) রেডিওতে শুনে শুনে রোমাঞ্চিত হয়েছি। এই সূত্রে নেতাজিকে নিয়ে রচিত দুটি চমৎকার গানের কথা মনে পড়ে, যা পরবর্তীকালে আর শুনতে পাইনি। একটি গান গাইতেন আমার কাকু, যার প্রথম কয়েকটি কলি ছিল এরকম :- “অমৃত-উৎসে জন্ম যাহার, সে যে মৃত্যুঞ্জয়–/ বিশ্বজনের চিত্ত ভরিয়া ওঠে আজি তারি জয়!/ জয় নেতাজীর, জয় নেতাজির জয়!…” অপর গানটি প্রতিবছর নেতাজির জন্মদিনে আকাশবাণী কলকাতা থেকে শোনা যেত। এর প্রথম অংশে ছিল:- “সকল ধ্বনির ঊর্ধ্বে বাজে তূর্য তব, সে যে তোমারি জয় গান!/ জয় জয়তু, জয় জয়তু, জয়তু হে বীর মহান!/ কন্ঠে কন্ঠে লয়ে দুর্জয় ছন্দ/ লক্ষ লক্ষ কোটি প্রাণের আনন্দ –/ তোমারই পথে তব মন্ত্র লয়ে মোরা নির্ভয়ে হব আগুয়ান…” ইত্যাদি। এসব গানের কথাগুলি হয়তো আজ হারিয়ে গেছে কিন্তু সুরগুলো মনের মধ্যে আজও গুঞ্জরিত হয়।
ষাটের দশকের শেষ কয়েকবছর আমি নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন কলেজে পড়াশোনা করেছি। বেশ মনে পড়ে, তখন সেখানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বা আশ্রমের নেতাজি জয়ন্তীতে সুভাষ-বিষয়ে বক্তৃতা দিচ্ছি। (মনে আছে, একবার বক্তৃতার আগে প্রিন্সিপাল স্বামী মুমুক্ষানন্দ আমাকে বলেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজির অবদান বিষয়ে বলতে গিয়ে গান্ধী- সুভাষ বিরোধের প্রসঙ্গ যেন না তুলি।) সেই সময়টাতেই কলকাতা ময়দানে এক ‘নেতাজি প্রদর্শনী’তে মৃৎ-মূর্তিতে সুভাষচন্দ্রের জীবনকাহিনী দেখে কিংবা নেতাজির জীবনবাদ সম্পর্কে বইপত্র বা প্রদর্শনীর স্মারকপত্রিকা পড়ে আমার তরুণ-মনে নির্মিত হয়ে উঠছে এক মহানায়কের আকাশছোঁয়া মূর্তি! সেই নেতাজি প্রদর্শনীতে এক যাত্রার আসরে সুভাষের ভূমিকায় এক অভিনেতাকে দেখে আমার মনে হয়েছিল মঞ্চে যেন আবির্ভূত হয়েছেন স্বয়ং নেতাজি। খুব সম্ভব এটি ছিল নিউ আর্য্য অপেরার পালা ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র’ আর নাম ভূমিকায় ছিলেন বাংলা ছায়াছবি ‘সুভাষচন্দ্র’-খ্যাত সেই অমর দত্ত। আরও পরে ওই ভূমিকায় বিশ্রুত যাত্রা-নট শান্তিগোপালকে দেখেও বেশ চমকে গিয়েছিলাম মনে আছে।

স্কুলজীবনে বইপত্রের মাধ্যমে আমার যে-সুভাষ অধ্যয়ন শুরু হয়েছিল কলেজজীবনে সৌভাগ্যবশত সেটি অব্যাহত রাখার অনুকূল পরিবেশ পেয়েছিলাম। এখানকার লাইব্রেরীতে নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, দিলীপকুমার রায়, ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার প্রমুখের নানা গ্রন্থে সুভাষচন্দ্রের মূল্যায়ন ও স্মৃতিচারণ তখন আমি ক্ষুধার্ত পাঠকের একাগ্রতা নিয়ে পড়ে ফেলেছি, এমন কী এর বিভিন্ন অংশ খাতায় নোট করেও রেখেছি। সে সময়েই একদিন কলেজে এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি দেখতে পেলাম যে, সেদিন সন্ধেবেলা আশ্রমের প্রেক্ষাগৃহে গান শোনাতে আসছেন বিখ্যাত গায়ক দিলীপকুমার রায়। সুভাষচন্দ্রের কলেজজীবনের বন্ধু ও কবি দ্বিজেন্দ্রলালের পুত্র বিখ্যাত গায়ক দিলীপকুমারের সম্পর্কে আমি ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি। তাই তাঁর গান শোনার আনন্দের চেয়েও সুভাষচন্দ্রের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে কাছ থেকে দেখতে পাব, এই আনন্দটাই যেন বড় হয়ে উঠল। আমার সহপাঠীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুভাষ-ভক্ত দীপ্তেন গাঙ্গুলীর সঙ্গে আমার পরামর্শ হয়ে গেল, গানের আসরে গিয়ে ফাঁক বুঝে দিলীপ রায়ের সঙ্গে আলাপ করতে হবে আর তাঁকে কিছু প্রশ্নও করতে হবে, বলা বাহুল্য, তার সবগুলোই সুভাষচন্দ্র সম্পর্কে।
কিন্তু প্রেক্ষাগৃহে আমি আর দীপ্তেন যথাসময়ে হাজির হয়ে একরকম মানসিক ধাক্কাই খেলাম, যখন ঘোষক জানালেন, এই গায়ক দিলীপকুমার রায় কবি রজনীকান্ত সেনের দৌহিত্র, অর্থাৎ আমাদের উদ্দিষ্ট দ্বিজেন্দ্রলাল-পুত্র দিলীপকুমার রায় নন। সেদিন এই কৃতী গায়কের কন্ঠে পরিবেশিত সংগীতের রসগ্রহণে অবশ্য আমরা বঞ্চিত হইনি, কিন্তু আশাভঙ্গের ধাক্কাটাও অনেকদিন ভুলিনি। আমাদের কৈশোর-যৌবনের সেই আশ্চর্য সময়টাতে সুভাষচন্দ্রের যে কোনো অনুষঙ্গমাত্র আমাদের মনে কীরকম বিদ্যুৎ-স্পর্শ সৃষ্টি করত, সেটা বোঝাবার জন্যই এই অকিঞ্চিৎকর ঘটনাটি এখানে উল্লেখ করলাম।
(পরের সংখ্যায় দ্রষ্টব্য)


আমার মূল্যায়নে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী আন্দোলনের সব থেকে মেধাবী বীর তথা উজ্জ্বল সন্তাণ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের সবথেকে ভাগ্যহত নাগরিক। এবং এই ভাগ্যহত হওয়ার দায় ও দায়িত্ব যতটা তৎকালীন ও বর্তমান নানা সরকারের, ততটাই বা তার থেকে বেশি আমাদের বাঙালি জাতির জাদের কাছে আজ নেতাজির জন্মদিন শুধুই আরও একটা ছুটি কাটানোর মাধ্যম।
আমার আরেক ভগবানের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাবনত হয়ে বলি “জয় হিন্দ”।