শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (৭)

সোনার বাংলার ইতিহাসের প্রসঙ্গে এখন
ধর্ম-আন্দোলনের কথা করিব বর্ণন।।
ধর্মচর্চার সঙ্গে সঙ্গে জগতের কল্যাণ
রামকৃষ্ণ মিশনের ছিল বিশেষ অভিজ্ঞান।।
শতকের শুরুতে হলে প্লেগের প্রাদুর্ভাব ,
ছিল স্বাস্থ্যচেতনা ও চিকিৎসার অভাব —
বিবেকানন্দের নির্দেশে তাঁর শিষ্যগণ
দুর্গতদের সেবায় রত ছিলেন অনুক্ষণ।।
কলকাতার পথঘাট ও পল্লী জঞ্জাল পরিকীর্ণ,
ঝাড়ু হাতে নিবেদিতা সেথা হন অবতীর্ণ।।
সদানন্দের সঙ্গে তিনি অকুণ্ঠিত চিতে
চিকিৎসার পরিষেবা দেন পল্লীতে পল্লীতে।।
দুর্ভিক্ষের প্রকোপে উত্তরবঙ্গে, বৈদ্যনাথে
রামকৃষ্ণ সংঘের কর্মীরা নিরত সেবাতে।।
ভাগলপুরে কলেরার প্রকোপে ও বন্যায়
দার্জিলিং-এর ধসে বা দুর্ভিক্ষে খান্ডোয়ায়–
সর্বত্র তৎপর এই সংঘের সেবাব্রতীগণ’ –
অখণ্ডানন্দ, শিবানন্দ এঁদের কয়েকজন।
নির্মলানন্দ, কল্যাণানন্দ, ত্রিগুনাতীতানন্দ
দুঃস্থের সেবায় নিয়োজিত — তুচ্ছ বাধাবন্ধ।।
বহির্বঙ্গের নানাস্থানেও সংঘের কর্মীগণ
অনাথ আশ্রম, সেবাকেন্দ্র করেছেন স্থাপন।।

কনখলে রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম ও সঙ্ঘের কয়েকজন সন্ন্যাসী

অভেদানন্দ এই সংঘের এক বিদগ্ধ সন্ন্যাসী
বিদেশে সনাতন ধর্মের ব্যাখ্যানে যশস্বী।।
বেদান্তে বিশেষ ব্যুৎপন্ন, বাগ্মী সুলেখক,
ইংল্যান্ড জাপান আমেরিকায় দক্ষ প্রচারক।।
দেশে ফিরে হিমালয়ে করেন পর্যটন —
তিব্বতে বৌদ্ধ শাস্ত্রাদি করেন অধ্যয়ন।।
রামকৃষ্ণ মিশন ছেড়ে তিনি স্বতন্ত্র এক সংস্থা
শ্রীরামকৃষ্ণ বেদান্ত মঠ করেন প্রতিষ্ঠা।
( ধুয়া – ” আগে কহ আর, আহা, আগে কহ আর!”)

ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতীক ও প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্ৰণবানন্দ

প্রণবানন্দ সেবাব্রতে কীর্তিমান সন্ন্যাসী,
ধর্ম, জনস্বাস্থ্য শিক্ষার প্রসারে প্রয়াসী।।
হিন্দুদের সব সম্প্রদায়কে করিয়া সংহত
সুস্থ সবল জাতির নির্মাণ ছিল যে তাঁর ব্রত।।
তেরো শত চব্বিশ সনে তিনি এই উদ্দেশ্যে
ভারত সেবাশ্রম সংঘ স্থাপেন বঙ্গদেশে।।
ক্রমে দেশবিদেশে হয় এর কার্যের বিস্তার–
দুর্যোগে দুর্গত ত্রাণে কাজ এর চমৎকার।।
এই সঙ্ঘেরই কীর্তি হিন্দু তীর্থস্থল সংস্কার,
বন্ধ করতে সেসব তীর্থে পান্ডার অত্যাচার।।
শক্তি ও বীর্যের সংস্কৃতির চর্চায় অবিচল,
গড়েন হিন্দু মিলন মন্দির এবং রক্ষী দল।।
গ্রামীণ শিল্পের উজ্জীবন, দরিদ্রের উন্নয়ন -;
সমাজকল্যাণ ব্রতে তাঁহার কীর্তি অগণন।।

পরমহংস যোগানন্দ – যোগাসনে (বাঁ দিকে) ও ন্যু ইয়র্কে শিষ্যশিষ্যাদের সঙ্গে

বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীবংশে জাত এক সন্তান,
ব্রাহ্ম সংস্কারক হিসেবে ছিলেন খ্যাতিমান।।।
শিক্ষার প্রসার, সমাজসংস্কারকর্মে ছিল নিষ্ঠা,
নানা স্থানে ব্রাহ্মমন্দির করেছেন প্রতিষ্ঠা।।
পরে তাঁর মত এবং পথের হয় পরিবর্তন –
উজ্জীবিত করেন নব্য বৈষ্ণব আন্দোলন।।
ধর্মগুরুরূপে ছিল তাঁর খ্যাতি অপার –
বিপিন পাল, অশ্বিনী দত্ত শিষ্য ছিলেন তাঁর।।
পাশ্চাত্যে বিবেকানন্দ যে কাজ করেছিলেন শুরু,
সেই পথে চলেছেন আরো কত ধর্মগুরু।।
পরমহংস যোগানন্দ যোগী এক বঙ্গের,
প্রতিষ্ঠা করেন তিনি যোগদা সৎসঙ্গের।।
মার্কিন একেশ্বরবাদী এক সংস্থার আমন্ত্রণে
বিশ্বধর্ম সম্মেলনে যোগ দেন বোস্টনে।।
তারপর তিন দশক তিনি থেকে যান সেই দেশে।।
সেখানে তাঁর ক্রিয়াযোগ তত্ত্ব প্রচারের উদ্দেশ্যে
আত্ম-উপলব্ধি কেন্দ্র করেন তিনি স্থাপন,
মার্কিন নাগরিকত্বও করেছিলেন গ্রহণ।।
ইউরোপ আমেরিকায় করেন যোগের প্রচার
সেখানে অনেক ছিল শিষ্য শিষ্যা তাঁর।।
[ধুয়া- ” আহা, বেশ বেশ বেশ! আহা, বেশ বেশ বেশ!”]

স্বামী অভেদানন্দ, বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী, রাম ঠাকুর

অভয়চরণ গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের উদগাতা,
হরেকৃষ্ণ আন্দোলনের তিনি প্রতিষ্ঠাতা।।
ভক্তিবেদান্ত স্বামী নামে বিশ্বখ্যাত হন,
স্থাপিলেন কৃষ্ণচেতনার সংগঠন ইসকন।।
ইংল্যান্ড আমেরিকায় বৈষ্ণবধর্মের প্রচার
সাতের দশকে ছিল অতুল কীর্তি তাঁর।
বৈষ্ণব ব্রহ্মচারী ডক্টর মহানামব্রত
ধর্ম প্রচার সংগঠনে ছিলেন নিরত।।
চারের দশকে যান তিনি মার্কিন মুলুকে
সনাতন ধর্ম প্রচারের স্বপ্ন নিয়ে বুকে।।
যোগ দেন শিকাগোর বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে
সফল হন ডক্টরেট ডিগ্রির অর্জনে।।
নিজ ধর্মমতাদর্শ প্রচারের উদ্দেশ্যে
ধর্মসভা করেন তিনি ঘুরে নানা দেশে।।
পাঁচ বছরের বেশি সময় থাকিয়া প্রবাসে
নিষ্ঠাভরে রত তিনি ছিলেন এ প্রয়াসে।।
দেশপ্রেম ও ঈশ্বরপ্রীতি তাঁহার জীবনে
সমন্বিত হয়েছিল সুষম মিলনে।।
বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তার পুনর্গঠনে
যোগদান করেন তিনি বাক্যে-কায়ে-মনে।।
বিপন্ন হিন্দুদের সেথা করে সুসংহত
প্রচারযুদ্ধ চালিয়ে যান মহানামব্রত।।
ধ্বংস-ধ্বস্ত-জীর্ণ হিন্দু দেবালয় যত,
তার সংস্কারে ব্রতী তিনি ছিলেন সতত।

ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ও তাঁর সৎসঙ্গ আশ্রম

বঙ্গদেশে আরো ছিলেন আধ্যাত্ম-পথিক —
তারাপীঠে বামাক্ষ্যাপা বিখ্যাত তান্ত্রিক।।
নিগমানন্দ, শ্যামাচরণ লাহিড়ী মহাশয়,
রাম ঠাকুর — খ্যাতি এঁদেরও কম নয়।
অনুকূল ঠাকুরও খ্যাত সাধকদের ভিতরে,
সৎসঙ্গ গড়িলেন পাবনায়, পরে দেওঘরে।।
জগদ্বন্ধু সুন্দর ধর্মগুরু আরেকজন,
পূর্ববঙ্গে স্থাপিলেন তিনিই শ্রী অঙ্গন।।
মহানাম সম্প্রদায়ের তিনি প্রতিষ্ঠাতা,
কীর্তনের মাধ্যমে ঈশ্বর-ভজনার উদগাতা।।
আরো কত যোগী সাধক ছিলেন এ বাংলায়,
স্বল্প পরিসরের সবার নাম করা না যায়।।
সাধক ছাড়াও বঙ্গে ছিলেন সাধিকারা,
ভক্তদের শ্রদ্ধেয় ত্যাগ-তিতিক্ষার দ্বারা।।
দুর্গা পুরী, গৌরী মা ও আনন্দময়ী মা
প্রচার করেন ধর্ম, নীতি, ঈশ্বরের মহিমা।।

আনন্দময়ী মা, গৌরী মা, দুর্গাপুরী দেবী

এ ছাড়াও ছিলেন এমন অনেক নারীনর,
সারা জীবনের কাজে যাঁহারা ভাস্বর।।
নন তো তাঁরা একটি দুটি ঘটনার নায়ক,
জীবনব্যাপী কর্মই তাঁদের পরিচায়ক।।
[ধুয়া – ” আহা, বেশ বেশ বেশ! আহা, বেশ বেশ বেশ!]

গুরুসদয় দত্ত প্রবর্তিত ব্রতচারী আন্দোলন

গুরুসদয় দত্ত বাংলার সুসন্তান একজন
ব্রতচারী আন্দোলনের করেন প্রবর্তন।।
তরুণতরুণীদের নৈতিক চরিত্রগঠন,
সত্যনিষ্ঠা, দেশপ্রেম আর পল্লী-উন্নয়ন,
শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যগঠন- এসব লক্ষ্য নিয়ে
এ আন্দোলন গ্রামে গ্রামে দেন তিনি ছড়িয়ে।।
সঙ্গে সঙ্গে লোকনৃত্য-লোকশিল্পের উজ্জীবন
ও সংরক্ষণ ব্রত তাঁর ছিল অনুক্ষণ।।
সহজ সরল ভাষাতে এর বার্তা সুমহান —
দিকে দিকে ছড়াইল তাঁর ব্রতচারী গান।।

[ব্রতচারী গান :- ‘কোদাল চালাই’ :]
“লাগো কাজে কোমর বেঁধে, খুলে দেখ জ্ঞানের চোখ
কোদাল হাতে খাটে যারা, তারাই আসল ভদ্রলোক।
চল্ কোদাল চালাই
ভুলে মানের বালাই-
ঝেড়ে অলস মেজাজ
হবে শরীর ঝালাই।।
যত ব্যাধির বালাই
বলবে “পালাই পালাই”-
পেটে খিদের জ্বালায়
খাব ক্ষীর আর মালাই।।”

স্যার বীরেন ও বার্নপুরে (কুলটি) ইস্কো-র প্রধান কার্যালয়

স্যার রাজেন এযুগের এক কৃতী শিল্পপতি,
সে-সঙ্গে প্রযুক্তিবিদ ও সুদক্ষ স্থপতি।।
তাঁরই প্রযত্নে নির্মিত মার্টিন রেলপথ,
ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধ এবং বেলুড় মঠ।।
স্যার বীরেন মুখার্জি ছিলেন সুসন্তান তাঁহার,
সুবিখ্যাত মার্টিন বার্ন কোম্পানির কর্ণধার।।
দেশে ভারী শিল্পের তিনিই স্থাপন করেন ভিত্তি,
বার্নপুর ইস্পাত কারখানা তাঁর অন্যতম কীর্তি।।

দাশনগরে আলামোহন দাশের মূর্তি, ইনসেটে তাঁর আত্মজীবনীর প্রচ্ছদ

আলামোহন দাশ আরেকজন জনকল্যাণব্রতী,
নানা শিল্প গড়ে তোলায় পারঙ্গম অতি।।
ব্যাংক, বীমা, রাসায়নিক, যন্ত্র, বস্ত্র, পাট বা চিনি–
হেন শিল্প নাই যাহাতে সফল হননি তিনি।।
[ধুয়া- “আগে কহ আর, আহা, আগে কহ আর!”]

দূরবীক্ষণের সামনে রাধাগোবিন্দ চন্দ্র, উদ্ভিদ গবেষক শিবপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়


রাধাগোবিন্দ চন্দ্র সৌখিন জ্যোতির্বিদ একজন
কমদামী দূরবীনে করতেন আকাশ নিরীক্ষণ ।।
গ্রহ তারা ধূমকেতু যা পড়ত তাঁর নজরে
রাখতেন সেই বিবরণ সব লিপিবদ্ধ করে।
ছাপা হত সেসব লেখা পত্রপত্রিকায় —
এইভাবে তাঁর খ্যাতির সৌরভ চৌদিকে ছড়ায়।।
নীহারিকা, যুগল-তারা, নক্ষত্র সমস্ত
অনায়াসে চিনে নিতে ছিলেন সিদ্ধহস্ত।।
তেরো শ’ তেইশ সনে তাঁর এক কীর্তি চমৎকার —
নোভা অ্যাকুইলা -৩ নামে তারা আবিষ্কার।।
ছিল না তাঁর ডিগ্রি কোন স্কুল বা কলেজের,
এসব কীর্তি ফল শুধু তাঁর একক প্রয়াসের।।
ইংল্যান্ড-আমেরিকা-ফ্রান্স তাঁকে করেছিল দান
আকাশ পর্যবেক্ষকরূপে স্বীকৃতি-সম্মান।।

গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য ও তাঁর লেখা কয়েকটি বই


গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য প্রকৃতিবিজ্ঞানী,
যদিও কলেজের পাঠ কভু পান নি তিনি।।
নিজস্ব আগ্রহে করতেন উদ্ভিদ নিরীক্ষণ,
লক্ষ করতেন এছাড়া কীট পতঙ্গের জীবন।।
কীটপতঙ্গের জীবনযাত্রা, গতিবিধি দেখে
ক্যামেরায় তার ছবি তুলে দিতেন তিনি রেখে।।
কীটের জীবনচক্র নিয়ে মৌলিক সব পরীক্ষা –
অসামান্য ছিল তাঁর এই নিবিষ্ট নিরীক্ষা।।
এইভাবেই গড়িয়া ওঠে তাঁহার পরিচিতি —
পতঙ্গবিদরূপে তিনি লভিলেন স্বীকৃতি।।
জৈব আলোকবিদ্যাও তাঁর আগ্রহের বিষয়,
নানা পত্রে প্রকাশ হয় তাঁর প্রবন্ধনিচয়।।
উদ্ভিদ-জীবন নিয়ে তাঁহার মৌলিক গবেষণা —
তিরিশের দশকে হয় তার প্রথম প্রকাশনা।।
সংখ্যায় বাইশটির মতো তাঁর গবেষণাপত্র
ছাপা হয় ‘ন্যাচারাল হিস্ট্রি‘ পত্রে ও অন্যত্র।।
এ ছাড়াও বিজ্ঞানের জনপ্রিয়করণে
আর বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের স্থাপনে
তিনি ছিলেন সত্যেন বসুর একজন সহায়ক,
জ্ঞান ও বিজ্ঞান‘ পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক।।
বাংলা ভাষার মাধ্যমে হোক বিজ্ঞানের প্রচার
অন্যতম অভীষ্ট এই কাজটি ছিল তাঁর।।

শিবপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় এক কৃষিবিজ্ঞানী
আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রের ভাবশিষ্য এক তিনি।।
ছেলেবেলায় পৈতে ছেঁড়েন, মানেন নি ঈশ্বর –
আরাধ্য তাঁর প্রকৃতি আর দেশের নারীনর।।
চব্বিশ পরগনার বোড়ালে কৃষিশালা তাঁর ,
কত না ফুলফল শাকসব্জির সে যে এক ভাণ্ডার।।
চাষীদের কল্যাণে সংস্থাপন কৃষক সমিতি
কৃষিমেলার প্রবর্তন তাঁর বিভিন্ন কীর্তি।।
বন্ধ ছিল বিশ্বযুদ্ধে বীজ আমদানি যখন,
তিনি সচল রাখতে দেশের ফসল উৎপাদন
করেন নিজের খামার হতে বীজ সরবরাহ।
ফলন নিয়ে গবেষণাতেও তাঁর উৎসাহ।।
সংকর প্রজাতির শাকসবজি করেন তিনি সৃজন,
ব্যানার্জী’স পালং‘, ‘পলি ফ্লাওয়ার‘ তাঁরই উদ্ভাবন।।
চব্বিশটি নূতন প্রজাতির গোলাপ সৃষ্টি তাঁর —
‘রোজ সোসাইটি’র নথিভুক্ত তাঁর এই আবিষ্কার।।
কম খরচায় বাড়াতে ফলন চাই উন্নত সার —
এই উদ্দেশ্যে গোলাসার তাঁর সৃষ্টি চমৎকার।
( ধূয়া — “সৃষ্টি চমৎকার, আহা,-সৃষ্টি চমৎকার!)

পান্নালাল দাশগুপ্ত ও তাঁর জীবনী ও তাঁর রচিত বই

পান্নালাল দাশগুপ্ত একজন সমাজ-সংগঠক,
যৌবনে বিপ্লবী এবং মার্ক্সবাদী চিন্তক।।
মেছোবাজার বোমার মামলায় হইয়া গ্রেপ্তার,
অধ্যয়নে কেটেছিল জেলজীবন তাঁহার।।
ক্রমে তাঁর ভাবনাতে আসে বদল অভাবিত —
গান্ধীর সামাজিক ভাবধারায় হলেন প্রভাবিত।।
বীরভূমের বিভিন্ন জেলে কাল কাটান যখন,
নিজ চোখে দেখেন তিনি গ্রামবাসীর জীবন।।
রবীন্দ্রনাথের আদর্শ করেন তিনি গ্রহণ —
জীবন-ব্রত হল তখন পল্লী উন্নয়ন,
কুটীরশিল্পের প্রসার এবং গ্রাম পুনর্গঠন,
সেই সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামের আকর্ষণ।।
সৈন্যবাহিনীতে তিনি করিলেন প্রবেশ
লক্ষ্য –যুদ্ধবিদ্যা শিখে স্বাধীন করবেন দেশ।।
স্বাধীনতার বাণী সেথা করিয়া প্রচার
অচিরেই হইলেন তিনি গ্রেপ্তার পুনর্বার।।
বন্দীদশা হতে তিনি করেন পলায়ন,
বারো বৎসর ধরে চলে তাঁর আত্মগোপন।।
ইংরেজ-অধীনতা থেকে মুক্ত হল দেশ,
কিন্তু তবু তাঁর সংগ্রামের হল না যে শেষ।।
তেরোশো তিপ্পান্ন সনে উত্তর পূর্বাঞ্চলে
সশস্ত্র অভ্যুত্থানের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা তাঁর চলে।
আবার আটক হলেন, তারপর আবার পলায়ন –
সতত সংগ্রামে লিপ্ত শ্রান্তিহীন জীবন!
কভু স্বনির্ভর গ্রাম, আবার কভু বন্যাত্রাণ —
কখনো বা লক্ষ্য তাঁহার উদ্বাস্তু-কল্যাণ।।
কখনো বা সোচ্চার হন তিনি পরিবেশ রক্ষায় —
সব কীর্তি তাঁর বলিয়া শেষ নাহি করা যায়।।
( ধুয়া ‘- “শেষ নাহি করা যায়, শেষ নাহি করা যায়!”)

[লেখকের অন্য রচনা]

Facebook Comments Box

আপনি এই পত্রিকা পড়ছেন জেনে ভাল লাগল।

নতুন লেখা বা ভিডিও সংযোজন, অথবা রবিচক্রের অন্যান্য খবরাখবর সম্পর্কে জানতে, ইমেল নথিভুক্ত করতে পারেন।

We don’t spam! Read our privacy policy for more information.


0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x