
(জনৈক আধুনিক ভক্ত ও কবিগুরুর সংলাপ)
ভক্ত –
আমি পরানের সাথে খেলিব আজিকে
মরণখেলা
নিশীথবেলা।
সঘন বরষা, গগন আঁধার,
হেরো বারিধারে কাঁদে চারি ধার,
ভীষণ রঙ্গে ভবতরঙ্গে
ভাসাই ভেলা;
বাহির হয়েছি স্বপ্ন-শয়ন
করিয়া হেলা
রাত্রিবেলা।
রবি –
আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি
কৌতূহলভরে–
আজি হতে শতবর্ষ পরে।
ভক্ত – কে কে, ওখানে কে দাঁড়িয়ে, কে আপনি?
রবি- এটাই ভবিতব্য, মানুষ আমার কবিতা পড়ছে আমাকে না চিনে।
ভক্ত- সত্যি, যা ভাবছি একি তাই, একী সত্য? আপনি ভূত না, ভবিষ্যৎ নাকি আমার টনিকের কেরামতি ? আজ একটু বেশিই টেনেছি বোধহয়।
রবি – কোনোটাই নই, আমি বর্তমান। ঘোর সত্য বলেই না, এখনও আমাকে কেউ পড়ছে। সত্য মিথ্যার বিভ্রমে আমরা চিরদিন বিভ্রান্ত। শুধু সীতা নয়, প্রত্যেকে নিরন্তর এই অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে চলেছি। যে যুগে জন্মেছিলাম, সেই যুগ থেকে আজও এই ব্যাপারটি আমাদের পরম আশ্রয়। ভক্ত, এ প্রশ্ন তো আমার –
এ কি সত্য সকলই সত্য, হে আমার চিরভক্ত ।।
মোর নয়নের বিজুলি-উজল আলো
যেন ঈশান কোণের ঝটিকার মতো কালো এ কি সত্য।
ভক্ত – স্যার, ঘোর সত্য। কলিকালে আপনাকে আশ্রয় করেই তো বেঁচে আছি।
রবি – আবার স্যার ! অথচ সবাই জানে স্যার উপাধি আমার কাছে কতখানি বিষ, ঔপনিবেশিক নির্লজ্জতার বোঝা। এই বোঝা বইতে বইতে জনগণ হ্যমলিনের বাঁশির সুরে পতনের দিকে ধাবমান। যা কিছু আমি বর্জন করেছি, তোমরা তাই নিয়েই মেতে রয়েছ, দেখছি।
ভক্ত – স্যার, যখন এ যুগের সবই জানেন তাহলে প্রতিকারের পন্থা বাতলে দিন।
রবি – সারাজীবন ধরে কবিতা গল্পে গানে কর্মে এই পথই তো বাতলে গেছি, বৎস।
ভক্ত – সে সব এখন আমাদের বাতেলা। আপনার গদ্য পদ্য গান আওড়াতে না পারলে এখন জাতে ওঠা যায় না স্যার। আপনি আপনার জাত চিনিয়ে গেছেন, আর আমরা আপনার জাত ভাঙিয়ে লড়ে খাচ্ছি।
রবি – আচ্ছা, এই যে তুমি আমাকে পড়ছ, এতে তোমার কোনো লাভ কি হচ্ছে?
ভক্ত – স্যার, আপনাকে তো পড়িনি, আপনার গদ্য পদ্য গান …..
রবি – আরে, এসবই তো আমি।
ভক্ত- আপনিই তো একটু আগে বললেন, আপনাকে না চিনেই পড়ছি। এখন তো কইয়ে থেকে কবি গাইয়ে সবার একটাই বুলি, আমাকে নয়, আমার লেখাকে চেনো। স্যার, আপনিই উল্টো বলছেন। ওদের মতন অভিনেতা হতে পারলেন না কেন?
রবি- আমার তো কারোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা ছিল না যে মিথ্যের আবরণ দিয়ে নিজেকে ঢেকে রাখতে হবে। আমি চেয়েছিলাম অসীমের পথে শোকের উত্তরণ …
ভক্ত – এত দার্শনিক ব্যাপার লোকে খাচ্ছে না স্যার। আমাদের জ্ঞানবুদ্ধি এখন আপনার ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
রবি – বাঃ, এত অত্যন্ত সুখের কথা। মর্ত্যবাসীর চিন্তা চেতনার এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন জানতেও পারতাম না, তুমি এভাবে স্মরণ না করলে।
ভক্ত – স্যার, সবই আপনার নামের টনিকের কেরামতি।
রবি – টনিক ? বলছ , কী হে ! আমার গান কবিতা এখন এমন ঔষধি গুণ প্রাপ্ত হয়েছে ?
ভক্ত – ওহ্, আপনি তো আবার দেবদার টনিক দেখেননি, ফাটাফাটি চলেছে কিন্তু। স্যার, এ টনিক আমার একান্ত নিজের আবিষ্কার। এসব কথা খুব সন্তর্পনে আলোচনা করতে হবে।
স্যার, স্বর্গ থেকে আবার আপনি যে এই ভাগাড়ে নজর রাখছেন, কেউ টের পেলে আপনার বিরুদ্ধে ইডি লাগিয়ে দেবে, কত মামলা ঠুকবে জানেন ?
রবি- কেন, কী পাপ করেছি আমি যে মরেও শান্তি পাব না ?
ভক্ত – স্যার, আপনি আমাদের চিনে ফেলেছিলেন, তারপর শোধরানোর চেষ্টাও করেছেন। এর থেকে বড়ো পাপ আর কী হতে পারে, স্যার।
রবি – আমারে যে নামতে হবে ঘাটে ঘাটে,
বারে বারে এই ভুবনের প্রাণের হাটে।
ব্যবসা মোর তোমার সাথে চলবে বেড়ে দিনে রাতে,
আপনা নিয়ে করব যতই বেচা কেনা ।
আপনাকে এই জানা আমার ফুরাবে না…
মানুষের ভালো করা পাপ? হায় হায়, বিধাতা কী নির্মম পরিহাস !
ভক্ত- হ্যাঁ স্যার, মহাপাপ। ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করে দেখুন, মহাপুরুষদের কী হাল করে ছেড়েছি আমরা!
রবি – তা বটে! কিন্তু দুঃখের ভয়ে থেমে থাকলে চলবে কি করে ?
ভক্ত – চলবে কি স্যর, দৌড়বে।
ভক্ত – ভালো কাজের এটাই ভবিতব্য স্যর, খারাপ লোকেরা সারাক্ষণ গন্ধ খুঁজে বেড়াবে। গন্ধ কিন্তু বেরোচ্ছেও স্যর।
রবি- কই আমি তো কোনো বদ গন্ধ পাচ্ছি না ।
ভক্ত- ভাগ্যিস, আপনি মরে গেছেন , নাকে তুলো গোঁজা থাকলে গন্ধ প্রবেশ করে না স্যর।
রবি- কিন্তু জনগণ কি সকলেই মৃত ? কারোর নাকে এই বিষাক্ত গন্ধ প্রবেশ করছে না ? ( আবহে নাসিকা গর্জনের শব্দ)
ভক্ত – আমরা ভেজাল যুগে বাস করি স্যর, তাই দুর্গন্ধই আমাদের প্রাণ বায়ু। সুগন্ধ পেলে ভয় হয়, সন্দেহ জাগে। তাছাড়া পৃথিবীতে করোনা ভাইরাসের আবির্ভাবে আমরা এখন নাক ঢেকে চলাফেরা করতে শিখে গেছি।
রবি- সে কী ! নাক না-হয় গেছে, তাই বলে, ভালো মন্দের সংজ্ঞাও পাল্টে গেছে ?
ভক্ত – স্যর, ঠিকই বলেছেন, আপনি এখনও বর্তমান। বর্তমান না বলে মূর্তিমান বললেই ভালো, স্যার। ফেসবুকে, টুইটারে, এক্স হ্যান্ডেলে, ইন্সটাগ্রামে আপনার পোস্ট আমি দেখেছি স্যার।
রবি- বলছ কি, আগে তো আমি প্ল্যানচেট করে মৃত প্রিয়জনদের আনবার চেষ্টা করতাম, তোমরা তো দেখছি মেধায় অনেক এগিয়ে গেছ। জাল কবিতে দেখছি দেশ ভরে গেছে। তা তোমার মুঠোতে ধরা ওই যন্ত্রটিরই বোধহয় এসব কেরামতি।
ভক্ত – হ্যাঁ স্যার, তা বলতে পারেন। এ যন্ত্রে আপনি যেমন মন্ত্র ঢালবেন, তেমনি সব অসম্ভব সম্ভব হয়ে যাবে।
রবি – বলো কী হে বাছাধন, সভ্যতার যাবতীয় মন্ত্র এখন এই জাদুযন্ত্রেই ?
ভক্ত – স্যার, আপনি এই বাছাধন-টাছাধন নামক যত ব্যাকডেটেড সম্বোধন ছাড়ুন তো। ‘হে গাইস’ ,’হ্যালো গাইজ ‘এখন খুব খাচ্ছে।
রবি – সম্বোধন খাচ্ছে? ভাষার তো দেখছি ভালোই বিবর্তন হয়েছে।
ভক্ত – ডিজিটাল উন্নতির যুগ স্যার, আজকের ভাষা কাল চেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আপনাকেও সেইভাবে আমাদের সঙ্গে সেটিং করতে হচ্ছে স্যর।
রবি – তাই বলে আমার নামে জাল এক্যাউন্ট ?
ভক্ত – যত জালি, তত তাঁর খ্যাতি ও বৈভব। পৃথিবীতে উন্নয়নের নব নব জাগরণ চলছে স্যার। আপনি তো জানেন, আমরা সুযোগ পেলে বুদ্ধির দৌড়ে কতদূর এগোতে পারি ! এই দেখুন না, আপনি শত দুঃখ সহ্য করে ভেবে ভেবে কত সাত পাঁচ লিখে তবেই একটা নোবেল জোগাড় করলেন। আর এক নিমেষে কে একটা নোবেলটা নিয়ে ভেগে গেল। গেল তো গেল , কেউ ধরতে পর্যন্ত পারলে না। আপনার নোবেলখানিরও ভাগ্য বটে ! স্যার, সত্যি বলতে কি, এখন আমাদের নতুন নতুন শিল্পে লগ্নি চলেছে।
রবি – একটা উদাহরণ সহযোগে ব্যাখ্যা করো তো বাছা।

ভক্ত – চা, চপ আমাদের শিল্পের সিলেবাসে ঢুকে বেশ আশাপ্রদ ফলও দিয়েছে স্যার, একেবারে মুখ্য থেকে প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে মানুষকে সামিল করেছে। বুঝলেন তো, বাংলার অস্মিতা এখন কোন লেভেলে পৌঁছে গেছে।
রবি – আমি তো ভাবতেই পারছি না।
ভক্ত – আপনাকে এবং আপনার মতন বহু বিদ্যারত্নকে ক্রমাগত ঠকতে এবং হেনস্থা হতে দেখেই এমন সিদ্ধান্তে আসতে হয়েছে স্যার।
রবি – কেন কেন? আমার সব শিক্ষাপ্রণালি বৃথা?
ভক্ত – স্যার, বিদ্যাবুদ্ধির ইনভেস্টমেন্ট আপনি ঠিক জায়গায় করতে পারেননি।
রবি – শিক্ষার সঙ্গে জীবন জীবিকার সম্পর্ককে ফলপ্রসূ করবার জন্য শান্তিনিকেতন – শ্রীনিকেতন গঠন তোদের উদ্বুদ্ধ করেনি ?
ভক্ত – স্যার, এত খাটতে যাব কেন, এখন তো না খেটেই বিরাট লাভের সুযোগ। সবই ঢপ বাজির অবদান স্যার। খেলা হবে, খেলা হবে গাইতে গাইতে একবার এই দুনিয়ার লাভজনক ক্ষেত্রে নেমে পড়তে পারলেই কেল্লা ফতে।
রবি – খেলাধুলা স্বাস্থ্যের পক্ষে অতি প্রয়োজনীয়। মনের বিকাশও ভালো হয়।
ভক্ত – স্বাস্থ্যের ব্যাপারটা স্যর তর্কসাপেক্ষ কিন্ত মন আমাদের একেবারে সদা ফুরফুরে উৎসব মুখরিত। কোনো পুজোতেই এখন আর ফান্ডের কোনো অভাব নেই। দেব-অসুরে যুদ্ধ এখন অতীত, সেটিং চলছে। হাত চালাতে পারলেই গেটিং মানে পাওনা, এটা ওরা এতদিনে বুঝে গেছে স্যার।
রবি – হেঁয়ালি না করে পুরোটা খোলসা করে বলো, সভ্য মানুষের তো কোথাও দাঁড়াবার জায়গা নেই আর !
ভক্ত – দরকার নেই স্যার, ওদের সংখ্যাটা এত কমে গেছে যে কোনো দলই আমল দিচ্ছে না।
রবি – ইস্কুল কলেজ কি দেশ থেকে উঠে যাচ্ছে তাহলে ?
ভক্ত – না স্যার, তবে সরকারি ব্যবস্থা নিভু নিভু হলেও সরকার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে ব্যাপক সাহায্য করছে। ওখান থেকে রেভেনিউ ভালো স্যার। সরকারীতে তো শুধুই ব্যয়, তাই ডিজিট্যাল।
রবি – প্রকৃত শিক্ষার লক্ষ্য চট্ জলদি মুনাফা নয়, দেশ ও জাতি গঠন।
ভক্ত – এত সময় নেই স্যার, বললাম তো, এখন ডিজিটাল যুগ এখন। আপনার পক্ষে বোঝা মুশকিল। আমিই পিছিয়ে যাচ্ছি, পুটকে পুটকে শিশুরাই এগিয়ে যাচ্ছে। আপনি স্যার ছোটবেলা বড়বেলা কোনো বেলাতেই ইস্কুল কলেজ যেতে চাননি। আপনার বাবা কি কোনদিন পয়সার লোভ দেখিয়ে ইস্কুলে পাঠাবার বন্দোবস্ত করেছিলেন ?
রবি – শিশুদের লোভের পথে লেলিয়ে দেওয়া যে অন্যায়, তিনি তা বিচক্ষণ বুঝতেন। স্বরোজগারের ভাবনায় উদ্বুদ্ধ করা আমাদের জাতীয় লক্ষ্য হওয়া উচিত।
ভক্ত – সে পথ দেখাতে গিয়েই তো এমন সব শিল্পের আবির্ভাব। স্যার, সে যুগে দশটা বারোটা ভাইবোন কোনো ব্যাপারই ছিল না। এখন স্যার একটি কিংবা দুটি। কিন্তু তাদের ব্রেনে স্যার দশ বারোটার একত্রিত বুদ্ধি। জন্মের পরদিন থেকেই হাতে মোবাইল। কান্নাকাটি মা বাবা সহ্যই করতে পারছে না। তারাও তুখোড়। হাতে যন্ত্রটি পেয়েই এমন এমন সাইট আবিষ্কার করে ফেলছে যে মা বাবা শিক্ষক শিক্ষিকা এমনকি সরকার পর্যন্ত তাজ্জব, সবাই বিস্ময়ে অন্ধ। সরকার থেকে জামা জুতো বই খাতা এমনকি পকেটমানি দিয়েও কাউকে ইস্কুলে ধরে রাখতে পারছে না। বলে কিনা, পড়ে কী লাভ ?
রবি – এই বয়সে দুরূহ লাভক্ষতির অংক বুঝে গেছে ?
ভক্ত – তবে আর বলছি কি, স্যার। এই বয়সে আপনি জানালা দিয়ে জল পড়লে বোকার মতো বেকার পাতা নড়া দেখতেন।
রবি – ওরা প্রকৃতি দেখে না ?
ভক্ত – নিশ্চয় দেখে, কিন্তু মোবাইলে দেখে রিল বানিয়ে রোজগার করে।
রবি – পড়াশোনা কি তাহলে উঠে গেছে ?
ভক্ত – উঠবে কেন, আছে। শিক্ষা নিয়ে এত পরীক্ষা নিরিক্ষা চালাতে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের এই হাজারটা পরীক্ষার চাপে জীবন অতিষ্ট হওয়াতে ওরা এখন টুকলি বৃত্তি অবলম্বন করেছে। দাঁড়ান, আরেকটু বুঝিয়ে বলি – আপনি কী ভাবছেন, পড়াশোনা লাটে উঠেছে? মোটেও না, এত বুদ্ধি থাকলে বেশি পড়ার দরকার হয়না। পড়া ধরলেই, ছেলে ফুড়ুৎ। তবে পরীক্ষার ঘটাও কম নয়। কত রকমের যে মূল্যায়ন, সমীক্ষা হয় আজকাল নিজেও বুঝিনা, কাউকে বোঝাতেও চাই না। ছেলেদের না পড়লেও চলবে, শিক্ষকদের না পড়ালেও চলবে, কিন্তু খাতায় কলমে প্রত্যেকের ভালো রেজাল্ট চাই এবং দেনা পাওনার হিসাবটি সযত্নে মেলানো চাই-ই-চাই। এটাই সিস্টেম।
রবি – যত শুনছি, ততই যেন পিছিয়ে পড়ছি, লজ্জা লাগছে, নিজের বিদ্যাবুদ্ধি বৃথা মনে হচ্ছে।
ভক্ত – সংকোচের বিহ্বলতা নিজেরই অপমান (ভক্ত ড্রাম পিটিয়ে গেয়ে ওঠে )
রবি – ওরে থাম থাম, একি আমার গানের ভয়াল রুদ্র রূপ ?
ভক্ত – স্যার, আপনার গান এই কারণেই টিকে গেছে, ফ্রি সাইজ, দারুণ ফিটিংস। ‘মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়।’ ( ভক্ত আবার তারস্বরে গাইতে থাকে )
রবি – থাম, কান যে ঝালাপালা করছে। এইভাবে গানের গায়ে দাগ লাগাসনি রে।
ভক্ত – এমন ব্যবস্থায় এরকম একটু আধটু দাগ তো লাগতেই পারে স্যর। এত দেওয়াথোয়ার পরেও ছেলেমেয়েরা পলায়ন উন্মুখ, বাবা মায়েরা সুযোগ পেলেই খেয়ে না খেয়ে ইংরেজি ইস্কুল খুঁজে বেড়াচ্ছে। ইংরেজি না শিখে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে দেশ ছাড়া হতে হচ্ছে, এটাই যখন ভবিতব্য। স্যুট কোট পরা চাকরি চাই, মাঠে ঘাটে কাজ করলে মান যায়। অবিশ্যি ফরেন লেবার হলে অন্য কথা। তবে হ্যাঁ, চিন্তার কোনো কারণ নেই, কোনরকমে একবার ভাতার তালিকায় ঢুকে পড়তে পারলেই নো পরিশ্রম, বসে বসে পয়সা কামান, কামান দাগুন, ফেয়ার এন্ড লাভলি মাখুন, আর জেল্লা বাড়ান। ফালতু কয়েকটা নিদাগ বোকা ছেলেমেয়েদের বাঁচিয়ে লাভ কি ? দাগি দাগি করে মিডিয়ার এত চেঁচামেচি অচিরেই সহ্য হয়ে যাবে, আর কিছুদিন অপেক্ষা করুন, তাদের পাওনাগণ্ডার বহর দেখে আপনিও গণ্ডারের চামড়া গায়ে ওদেরই পিছু ধরবেন, না ধরে উপায়ও থাকবে না।
রবি – আমি তো পরীক্ষায় বই খুলে দেখার সুযোগও রেখেছিলাম। তোরা সেই পদ্ধতি কাজে লাগিয়েই প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারতিস।
ভক্ত – স্যার, আপনি গেঁয়ো যোগী, ফরেনের লোকেরা ভালো না বললে আমরা কাজে লাগাই না। ওরা স্যার, খুঁজে খুঁজে নিয়ে যায়, কিন্তু আমরা এখন ওদের অনেক উপরে।
আমাদের নব্য মেধাবীরা মাথা খাটিয়ে অন্যের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার নিত্য নতুন টেকনিক আবিষ্কার করে এমন বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে যে কী বলব।
রবি – ধরা পড়লে কী হবে ?
ভক্ত – স্যার, ধরা পড়লে তার যে কী সম্মান বেড়ে যায় ভাবতেও পারবেন না। সরকার নিজ উদ্যোগে উকিল ফিট করবে, দরকার পড়লে বিদেশেও সেটেল করিয়ে দেবে। আপনি একবার ভেবে দেখুন স্যার, ওই দাগি অপরাধীর সথে কত মানুষের জীবন জীবিকা জড়িয়ে, সরকারের বিপুল রেভেনিউ দাঁড়িয়ে।
রবি- যা বুঝলাম, চুরি বিদ্যায় নোবেল চালু করা দরকার।
ভক্ত – নোবেল কেন স্যর, আমরা মহাবিদ্যারত্ন কিংবা মহাবিদ্যাশ্রী চালু করে দেব ভাবছি। ওহ্ হ্যাঁ, স্যার যা বলতে বলতে নোবেলে চলে গেলাম, আসল কথা তো বলাই হল না। স্যার, আপনি কিন্তু জীবিত ।
রবি- কোথায় দেখলি আমাকে ?
ভক্ত – স্যার, আপনাকে কিন্তু ভোট দিতে দেখি। চুপি চুপি একটা কথা বলি স্যর, আপনার ভোট কিন্তু আমাদের দলেরই।
রবি – করেছিস কী ? এতো পাপ, অন্যায়। তুই বলে ফেললাম, কিছু মনে করিস না, গোপন কথা শুনে বড়ো আপন বোধ হচ্ছে তাই।
ভক্ত – এ আমার পরম সৌভাগ্য, স্যার। অন্যায় নয় স্যার, এটাই ন্যায়। এটাই বাজারে ভাইরাল, স্যার। প্রেতাত্মারাই এখন ভোট দিয়ে আমাদের এত ক্ষমতাশালী করে রেখেছে ।
রবি – তোরা তো ব্রিটিশদেরও ছাপিয়ে গেছিস রে। ভুলে গেছিস, ভাইরাল শব্দের উৎস।
ভক্ত – ভুলিনি স্যার, ভাইরালকে ফ্যাটাল করে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছি স্যার। কেমন কোভিড দেখলেন, বলুন। দুশো বছরের শিক্ষা বিফল হয়নি স্যার। ওরা অনেক পিছিয়ে গেছে। ওদের দেশও আমরা অচিরেই দখল করে নেব, চুক্তি হয় গেছে। বাংলা টনিক পাঠাব, ওরা কেবল আপনার লেবেলের চরম ভক্ত স্যার। নিজেরা খাবে, আবার নষ্ট পচা শিশি বোতল ওদের লেবেল মেরে পাঠিয়ে দেবে।
রবি – যদি ধরা পড়ি, তাহলে তো আমার কুশপুত্তলিকার ফাঁসি দিবি তোরা।
ভক্ত – আপনি চিন্তা করবেন না স্যার, আপনার বিচার শেষ হতে হতে আরো হাজার রবীন্দ্রনাথকে আমরা ভোটার তালিকায় ঢুকিয়ে দেব ।
রবি- সবই তো বুঝি রে, মৃত মানুষের এই তো অসুবিধা, প্রতিকারের কোনো উপায় থাকে না। তা তোদের লেখক শিল্পীরাও কি মৃত ? জনগণকে জাগানোর দায়িত্ব তো তাঁদেরই।
ভক্ত – ওরা স্যর কেউ আপনার মতো বোকা নয়। সবাই সবাইকে প্রশংসা করতেই ব্যাকুল, যে যত প্রশস্তিপত্র রচনা করতে পারবে, তাঁর তত খ্যাতি, তত পুরস্কার। সেই আইহোল প্রশস্তি থেকে যার সূচনা স্যর। আপনাকে স্যার নোবেলটা কাউকে ট্যাগ করতে হত, তাহলেই ওটা সুরক্ষিত থাকত। আমরা যেমন লাইক বাড়াতে শত শত মানুষকে ট্যাগ করি, সেরকম কোনো ব্যবস্থা করে গেলে এমনটা হত না।
রবি – ট্যাগ কী রে ?
ভক্ত- ত্যাগের বিপরীত, সোস্যাল মিডিয়ায় খুব চলে স্যার।
রবি- আচ্ছা, আমার লেখায় লাইক কমেন্ট কেমন পড়ে রে !
ভক্ত – এসব জিজ্ঞেস করে আর লজ্জা দেবেন না স্যার। তবে আপনি থাকবেন, স্যার। আপনাকে কীভাবে বেচতে হয়, আমরা সে ব্যাপারে ক্রমাগত রিসার্চ করে চলেছি।
রবি- কারা কিনছে ?
ভক্ত- মদ কোম্পানি স্যার। সরি, স্যার জল কোম্পানি।
রবি- বলিস কী ? জলের অপর নাম ….
ভক্ত- ওইজন্যই তো কবিতাটা মুখস্ত করছিলাম।
“তাই ভেবেছি আজিকে খেলিতে হইবে
নূতন খেলা
রাত্রিবেলা।
মরণদোলায় ধরি রশিগাছি
বসিব দুজনে বড়ো কাছাকাছি,
ঝঞ্ঝা আসিয়া অট্ট হাসিয়া
মারিবে ঠেলা
আমাতে প্রাণেতে খেলিব দুজনে
ঝুলনখেলা
নিশীথবেলা।”
রবি – বাঃ, খুব ভালো। কোনো অনুষ্ঠান করবি নাকি ?

ভক্ত – স্যার, সারা বৈশাখ জুড়ে শুধু আপনি আর আপনি। ‘কবিগুরুর বাংলা’ ব্র্যান্ডের কাটতি বাড়াতে এই সামান্য আয়োজনটুকু আমাকে করতেই হয়। রাত দিন শুধু গান কবিতা গল্প, হাই থেকে লো – সব শিল্পীদের এই মহাযজ্ঞে সামিল করেছি। ভাতাও দিচ্ছি স। নাম লেখানোর জন্য মারামারি লেগে যাচ্ছিল, তাই ‘ফেল কড়ি মাখো তেল’ মার্কা ব্যবস্থা করতে বাধ্য হলাম, স্যার। তাজ্জব ব্যাপার কি জানেন স্যর,তাতে মানুষের উৎসাহ দ্বিগুণ বেড়ে গেল।অবশেষে নিলামে টিকিট বিকতে হল । এক টাকা চাইলে দু টাকা নিয়ে হাজির। চাকরি বিক্রিতেও ঠিক এভাবেই গণদেবতার কৃপায় এক লাখ থেকে কুড়ি পর্যন্ত পৌঁছেছিল স্যার। আমরা ফ্রি তে দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কে কার কথা শোনে ! ওই যে, ছেলেমেয়েদের কষ্ট বাপ মা সরকার কেউ সহ্য করতে পারছে না, স্যার। গণেশ স্যারের পুজোর রমরমা তো সেই থেকেই।
রবি – মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করছে রে।
ভক্ত – ও কিছুনা স্যার, আরেকটু বসুন। এখনও চাখলেনই না, শুধু শুনেই মাথা ঘুরছে। এই দেখুন নেশার ঘোরে আপনাকে বসতে পর্যন্ত বলিনি। একটু চেখে দেখুন না স্যার।
“ভেবেছিনু মনে মনে দূরে দূরে থাকি
চিরজন্ম সঙ্গোপনে পূজিব একাকী–
কেহ জানিবে না মোর গভীর প্রণয়,
কেহ দেখিবে না মোর অশ্রুবারিচয়।
আপনি আজিকে যবে শুধাইছ আসি,
কেমনে প্রকাশি কব কত ভালোবাসি॥ “
কথা সুরের একটু এদিক সেদিক হয়ে গেলে মাফ করে দেবেন স্যর।
রবি – সে না হয় করে দিলাম।
ভক্ত – কী যে কাটতি স্যর, বলে বোঝাতে পারব না। দামে কম, নামে ভালো। শিক্ষিত বেকার, চাকরিহারা বেকারদের একমাত্র অবলম্বন “কবিগুরুর বাংলা ব্র্যান্ড ” স্যর। আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে যত ছেলেপিলে কমছে, এই বাংলা বাজারের খদ্দের তত বাড়ছে। চাকরি পেয়ে সব ফরেন লিকার ধরেছিল, এখন আপনার ব্র্যান্ড পেয়ে ওরা জাত বাঁচাতে পেরেছে স্যর। আবার স্যার,পরিযায়ী শ্রমিকের ঢল নেমেছে। ওরা তো আবার পাতি গোদা বাংলা ছাড়া কিছু বোঝে না। মাত্র দু ঢোকেই সব দুঃখ পগার পার, স্যর। কী যে মহিমা !
রবি – সব যুগেই এমন নেশা ছিল রে, কিন্ত এমন ব্যাপক ফায়দা তুলে তোরাই দেখিয়ে দিয়েছিস।
ভক্ত – এখন স্যার এমনই চলছে। সেদিন এক শিল্পী তো দেশাত্মবোধক সঙ্গীত হিসেবে “শারাবি “গানটাই গাইল।
রবি – শরাব মানে তো মদ।
ভক্ত – প্রথমটা স্যার আপনার মতো আমিও চমকে গেছিলাম, আমার সন্তান আমার চেয়ে আরো কয়েক কদম এগিয়ে উত্তর দিল, যে গান দেশকে মুনাফা যুগিয়ে বাঁচিয়ে রাখে সেই গানই প্রকৃত দেশাত্মবোধক ।
রবি – ওকে আমার প্রণাম জানাস।
ভক্ত – কী বলছেন স্যার, আপনি হলেন গিয়ে গুরুদেব। আপনি স্যার, আমাদের ব্যবসার মূলধন। একটু আধটু গোঁজামিল না ঢোকালে লাভ কমে যায়।
রবি- লাভ নাহয় একটু কমই হল, তাতে কী এসে যাবে ? বিবেক দংশন বলে কিছু তো বেঁচে থাক।
ভক্ত- আমাদের দর্শনে স্যার এটি বাদ, দংশন আমাদের রোজকার সাফল্যের পন্থা। যে যেমনে পারো কামিয়ে নও। পরস্পরকে কামড়াকামড়ি করতে করতে কেড়ে খাওয়া, এটাই আমাদের বিবেকের নয়া সংজ্ঞা।
রবি- এইজন্যই মর্তে এত অবনমন।
ভক্ত- কী বলছেন স্যার, মর্তে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। না চাইতেই শাসক কত কি দিচ্ছে। মানুষ যত পায়, তত চায়, পোষায় আর না।
রবি – এই সেই ত্যাগের ভারতবর্ষের সংস্কৃতির নয়া চেহারা তাহলে ?
ভক্ত – সংস্কৃতির ভার এখন আমাদের হাতেই। পয়সা ঢালতে হয়, স্যার। আপনি এখনও ধ্বংস ও পুনর্জন্মের মাঝখানে দাঁড়িয়ে।
রবি – এ তো কোনো সুস্থ সংস্কৃতি নয়, সাংস্কৃতিক তাণ্ডব !
ভক্ত – সে আপনি ঠিকই বলেছেন স্যার। তবে আজকাল এটাই চলছে। তাণ্ডব না করলে লাইক কমেন্ট শেয়ার কোনোটাই মেলে না। সবই ‘টি আর পি’ নামক শেয়ার বাজারের খেলা স্যার।
রবি – যত শুনছি তত বিস্ময় আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
ভক্ত – এ আর নতুন কথা কী স্যার,আপনি তো স্যার চিরকালই বিস্ময়তাড়িত।
রবি – ভক্ত, আরও বলো, নেশার পারদ ক্রমশ চড়ছে।
ভক্ত – সবই আপনার কৃপা, আমার আবিষ্কার আজ ধন্য। স্যার, আপনার জন্যই, স্রেফ আপনার জন্যই সেদিন জোর বেঁচে গেছি স্যার।
“কবিগুরুর বাংলা” – নামটা কেমন হয়েছে , বললেন না তো ,স্যার ?…একেবারেই শান্তিনিকেতনি স্টাইলে স্যার ।
রবি – তুই যে আমায় এমন নেশার ঘোরে ফেলবি, তা আমার কল্পনারও বাইরে ছিল রে।
ভক্ত – নেশাতেই তো শান্তি স্যর।
রবি – তুই বলে যা, আমি শুনছি…
ভক্ত- আপনি তো স্যার লেখার নেশাতেই যাবতীয় শোক দুঃখ ভুলে ছিলেন, তেমনি আমি মানুষকে নেশা ধরিয়ে কিঞ্চিৎ শান্তি দিই স্যার। কেউ ধর্মের নেশা ধরায়, কেউবা চুরি জোচ্চুরির, কেউবা উন্নয়নের। আমি স্যার ঠকে যাওয়া মানুষদের আপনার নামের নেশা ধরাই। তবেই না আপনার দেখা পেলাম। নেশার ঘোর না ধরলে এক মৃত কি আরেক মৃতকে এমনভাবে হাজির করাতে পারে ?
রবি – সমীকরণ খুব জটিল দেখছি।
ভক্ত – স্যার, আমরা ঠিক করেছি, যে অন্যায়ের প্রতিকার করতে চাইবে, তাকেই দাগিয়ে দেব। ইস্কুল কলেজ স্বাস্থ্য সর্বত্র এই পন্থা অবলম্বন করে হু হু করে লাভ বেড়েছে স্যার। ভোটের মার্জিন লাফিয়ে এগোচ্ছে।
রবি – সেকি, মানুষ এখন তাই চাইছে ?
ভক্ত – সামান্য লাভের গুড় ছড়িয়ে দিতে পারলে পিঁপড়ের অভাব হয় না স্যার।
রবি – গুড় নাকি বিষ ?
ভক্ত – বিষ ছাড়া আমরা বাঁচব না স্যার।
রবি – মর্তে বিষের এত কদর ? ভাগ্যিস, নজরুলকে ডাকিসনি, নইলে সে তো মুহূর্তেই কুরুক্ষেত্র বাধাত।
ভক্ত – ওনার নাম উচ্চারণ করবেন না স্যার, দাঙ্গা হাঙ্গামা হয়ে গেলে, এখন ব্যবসার ক্ষতি। দেখলেন না, গাধা পাবলিকের সাম্প্রদায়িকতা উস্কে ভারত পাক যুদ্ধ বাধিয়ে সরকারকে ব্যবসাতে কেমন ঘোল খেতে হল !
রবি – কিসের ব্যবসা ?
ভক্ত – সেটাতেই তো আসছি, আপনি যে কতদূরে চলে গেছেন, নীচে নামতে নামতে সব বুঝতে পারবেন। সময় দেন স্যার।
রবি – আর কত নীচে নামাবি তুই ?

ভক্ত – লাভ করতে গেলে স্যার একেবারে তৃণমূল স্তরে নামতে হবে, অর্থাৎ গলা পর্যন্ত ডুবতে হবে। মুখটুকু কেবল বেরিয়ে থাকবে। নইলে শ্বাস বন্ধ, পটল অনিবার্য।
আপনাকে একটু আগেই বললাম না, আপনি যা যা বর্জন করেছিলেন সব আমরা গ্রহণ করেছি। বর্জ্য পদার্থের লাভজনক ব্যবস্থাপনা – এটাই আমাদের নয়া ম্যানেজমেন্ট গেম প্ল্যান।
রবি – গেম প্ল্যান ?
ভক্ত – এত তাড়াতাড়ি চমকাবেন না স্যার, সবে তো শুরু।
…এবার একটু বিশ্ব রাজনীতিতে আসি স্যার।
রবি – তার সঙ্গে কী সম্পর্ক ?
ভক্ত – বিশ্বের বসদের সঙ্গে এখন আমরা পাল্লা দিচ্ছি স্যার । ওরাও যা ফেলে দিচ্ছে, তাও আমরা কপ করে তুলে নিয়ে রূপান্তর করে ওদেরকেই এক্সপোর্ট করে ব্যাপক লাভ করেছি স্যার।
রবি – এখন লাভ হচ্ছে না ?
ভক্ত – মিথ্যা আঁতাতে বেশ চলছিল স্যার, কিন্তু ওরা আমাদের মিছে ভক্তির শক্তি বুঝে বাণিজ্যে শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছে ।
রবি – লোভেই পাপ, এ সত্য দেখছি এখনও খাটে।
ভক্ত – ওদের লোভে পাপ নেই স্যার ?
রবি – ওরা তোমাদের থেকে ভালো জিনিসটি চায়, আর তোমরা অতি চালাকি করে ওদের মন্দ নিয়ে ভালোর মোড়কে সেই মন্দকে পাচার করে দিয়ে নিজেরাই আত্মহত্যায় মেতে উঠেছ।
ভক্ত – আত্মহত্যার ফাইলটা আর খোলাবেন না স্যর। আপনার জীবনের ওই কেস নিয়ে কত লেখক ব্যবসা করে জাতে উঠেছে, সেসব তো জানেন স্যার।
এখন স্যার এমনিই চলছে।
রবি – থাম থাম, এই টনিকের নেশায় আমি তলিয়ে যাচ্ছি এবার। তোর সঙ্গে আজ দেখা না হলে নিজেকে আবার নতুন রূপে আবিষ্কার করতে পারতাম না রে। সবই প্রকৃতির লীলা । হে প্রভু, আমারে তুমি অশেষ করেছ এমনই লীলা তব, তাই নিজেকে নিঃশেষ করেও শেষটুকু অধরা।
ভক্ত – প্রাণেতে আমাতে মুখোমুখি আজ
চিনি লব দোঁহে ছাড়ি ভয়-লাজ,
বক্ষে বক্ষে পরশিব দোঁহে
ভাবে বিভোল।
দে দোল্ দোল্।
স্বপ্ন টুটিয়া বাহিরেছে আজ
দুটো পাগল।
দে দোল্ দোল্।
স্যার, স্যার কোথায় আপনি ?
যাহ, চলে গেলেন, স্যার।
“তোমার অসীমে প্রাণ মন লয়ে…. যতদূর আমি ধাই ( বাঁশিতে গানটির সুর বেজে ওঠে )
কোথাও দুঃখ, কোথাও মৃত্যু, কোথা বিচ্ছেদ নাই ॥”



অসম্ভব ভালো লাগলো, ধন্যবাদ।
খুবই প্রাসঙ্গিক লেখা। দেখে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। হয়েছি মূক, হয়েছি বধির, হইনি দৃষ্টিহারা। দুর্ভাগ্য আমাদের।