
অমলের করুণ মুখ আরো বেশি শুকনো দেখায়।
পাঁচমুড়া পাহাড়ের ঠিকানা সে কবেই গেছে জেনে;
প্রেমহীন মানুষের অত্যাচারে
কত যে শামলী নদী শুকিয়েছে এক শতাব্দীতে।
সুধাও আসে না নিয়ে কুসুমের সাজিখানি তার।
অরণ্যের শ্যামছায়া সরে গেছে আরো কত দূরে।
অনাবৃত পথেঘাটে
পথ হাঁটে যেই সব অসংখ্য মানুষ
অশান্ত ও যান্ত্রিক- তাদের এখন
বিরহমিলন নেই, সুখদুঃখ স্পষ্ট নয় আর।
অভাবিত বিলাস ও বাসনার পাশে –
স্থবির মাছিরা ওড়ে
প্রাত্যহিক হাটে ও বাজারে।
তারই মাঝে ফাল্গুনের দুর্লভ দিনে
আচমকা দখিণ বাতাস বয় ;
মেঘে ঢাকা আকাশের নিচে
বর্ষায় কদম ফোটে।
এখনো বুঝিনি ভালো করে-
বাস্তব ও স্বপ্নের দ্বন্দ্বে
তুমি কোন পক্ষে ছিলে ;
অথবা হয়তো জেনেছিলে,
জীবন এমনই
কবিতার মিলে ও অমিলে
অলখ সুতোয় গাঁথা।
ঋজুরেখ যার পথ,
যত প্রতারিত হোক
জয়ী সে স্রষ্টার কাছে অন্তিম বিচারে।
এই কথা বলে তুমি শেষ উচ্চারণে
চলে গিয়েছিলে আলোয় ছায়ায় মেশা
কোনো এক বাইশে শ্রাবণে।



কবিতাটি মন ছুঁয়ে গেল। অসাধারণ ভাবনা।