শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

বাংলা গানের উজ্বল কারিগরেরা (পর্ব ৬)

চেনা গানের অচেনা গীতিকাররা

কোনো নিবিড় অরণ্যভূমিতে, যেখানে বৃহদায়তন বনস্পতিরা ডালপালা ছড়িয়ে আকাশ ঢেকে রাখে, সেখানেও বনানীর ফাঁক-ফোকর দিয়ে আসা সূর্যের আলোর ছোঁয়া, মাটিতে মাঝারি বা ছোট গাছ, এমনকি লতাগুল্মেরও জন্ম দিয়ে, তাতে ফুল ফুটিয়ে, ফল ফলিয়ে অরণ্যের শোভা বাড়িয়ে তোলে।

আমাদের এই পর্বের আলোচ্য, আধুনিক বাংলা গানের ‘চেনা গানের অচেনা গীতিকার’দের আত্মপ্রকাশ সম্বন্ধে উপমাটি মনে আসে। স্বর্ণযুগের গানের জগতে যখন প্রতিষ্ঠিত গীতিকাররা স্বমহিমায় বিরাজ করছেন, তখনও এই সব গীতিকাররা তাঁদের গানের ডালি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে আধুনিক বাংলা গানের জগৎকে শোভায় ভরিয়ে দিয়েছেন। প্রতি বছর নতুন নতুন গানের প্রবল চাহিদাই বোধহয় এর মূল কারণ। এঁদের অধিকাংশেরই প্রকাশিত গানের সংখ্যা একটি কি দুটি, খুব বেশি হলে দুই অঙ্কও ছুঁতে পারেনি। তবু এঁদের সমবেত অবদান বড় কম নয়।

এঁদের কথা বলতে শুরু করার আগে বিশ শতকের তৃতীয় দশকের এক অনন্য গীতিকার এবং চতুর্থ দশকের একজন কিংবদন্তী গীতিকার ও একজন মরমী সুরকার- শিল্পীকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই।

সুবোধ পুরকায়স্থ

প্রথমোক্ত উজ্জ্বল গীতিকার হলেন সুবোধ পুরকায়স্থ। তিনি অবিভক্ত বাংলার ত্রিপুরা রাজ্যের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯০৭ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন। কুমিল্লা জেলা স্কুলে পড়াশোনা করার সময় সেখানে বিখ্যাত সুরকার হিমাংশু দত্তকে সহপাঠী হিসাবে পেয়েছিলেন। দুজনের জুটিতে সেই সময় থেকেই গান তৈরী করার কাজ শুরু হয়েছিল। কুমিল্লা থেকে এন্ট্রান্স পাশ করার পরে দুজনেই স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করার জন্য এবং গানের টানে কলকাতায় চলে আসেন। সুবোধ পুরকায়স্থর গীতিকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ গ্রামোফোন কোম্পানিতে গান লেখার সূত্রে। সেই সময়ের প্রায় সব বিখ্যাত শিল্পীরা তাঁর লেখা গান গেয়েছিলেন। সে সময় গ্রামোফোন রেকর্ডে গীতিকারদের নাম উল্লেখ করা হতো না। অন্য গীতিকারদের নিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি গ্রামোফোন রেকর্ডে গীতিকারদের নাম লেখানো চালু করিয়েছিলেন। তিনি এই মহৎ কাজটি না করলে আজকের দিনে এই বর্তমান আলোচনাটি করার কোন অবকাশ থাকত না।

শেষোক্ত কিংবদন্তী গীতিকার হলেন গৌরী প্রসন্ন মজুমদার এবং মরমী সুরকার-শিল্পী হলেন সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। এঁদের সৃষ্ট নিম্নলিখিত গানটিতে আমাদের আলোচ্য গীতিকারদের মনের কথা সুন্দর ভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

কত না হাজার ফুল ফোটে ভুবনেতে।
তার কিছু ফুল দিয়ে গাঁথা হয় মালা,
বাকী ফুল ফোটে অনাদরে ঝরে যেতে।।

এ গান আমার কোন এক ঝরা ফুল।
তবু সে বোঝেনা ফুটিতে চাওয়া তার ভুল।
প্রেমের পূজাতে হল না যে তার ঠাঁই,
নাই বা পেল সে সাধ ছিল যাহা পেতে।।

কত সাধে গাঁথা মালা, সে ও ঝরে যাবে।
মিলনের মধুরাতি, সে ও তো পোহাবে।।

রবে শুধু স্মৃতি, জেনো তাও দুদিনের।
ফোটা আর ঝরা,খেলা সে তো ক্ষণিকের।
তবু ফুল ফোটে, তবু কবি রচে গান।
মানুষের মন তাই আজও ওঠে মেতে।।

এই সব গীতিকারদের মোটামুটি একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। এঁরা সকলেই কবি এবং গান ভালোবাসা মানুষ। এঁরা পেশাগত ভাবে গানের জগতের মানুষ নন। যদি গানের জগতের মানুষও হন, তবুও গানের জগতের অন্য ধারায় তাঁদের বিচরণ। কিন্তু তাঁদের লেখা আধুনিক বাংলা গান রেকর্ডে প্রকাশিত হয়ে শ্রোতাদের মুখে মুখে ফিরবে, এমন স্বপ্ন এঁরা সকলেই দেখতেন। তাই কোন না কোন যোগাযোগে এঁরা তাঁদের সমসাময়িক প্রতিষ্ঠিত সুরকারদের সাথে পরিচিত হয়ে তাঁদের বন্ধুবৃত্তে পৌঁছে যেতেন। কোন ভাবে সুযোগ হলে এভাবেই তাঁদের লেখা অসংখ্য গানের মধ্যে কোন না কোন গান নির্বাচিত হয়ে কোন শিল্পীর গান হিসাবে রেকর্ডে প্রকাশিত হয়ে যেত।

মীরা দেব বর্মন

এবার এই গীতিকারদের কথা শুরু করা যাক। গত শতাব্দীর তৃতীয় দশক থেকে বাংলা গানের পথ চলা শুরু হয়েছিল। সেই সময় থেকে একজন মহিলা গীতিকার আমাদের কাছে পরিচিত হয়েছিলেন। তিনি শচীন দেব-জায়া মীরা দেব বর্মন। ১৯৩৬ সালে অন্য একজন মহিলা গীতিকারের কথায় হিমাংশু দত্ত’র সুরে একটি অপূর্ব গান প্রকাশিত হয়েছিল। গানটি হল,’ নিশীথে চলে হিমেল বায়’। গীতিকার মমতা মিত্র। গেয়েছিলেন কুমারী সাবিত্রী বসু, পরে যিনি সাবিত্রী ঘোষ হয়েছিলেন। মমতা মিত্রর কথায় আর কোন গান হয়েছিল কিনা জানা নেই। কিন্তু এই একটি গানের সুবাদে তিনি শ্রীমতী মীরা দেব বর্মণের খ্যাতিতে ভাগ বসিয়ে আছেন। পরবর্তীতে গানটি বিংশ শতাব্দীর সপ্তম দশকে নির্মলা মিশ্র এবং নবম দশকে সুমন চট্টোপাধ্যায় (কবীর সুমন)-এর কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছিল। এ থেকে গানটির জনপ্রিয়তা কতটা বোঝা যায়।

শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গীতিকার-সুরকার হিসাবে প্রসিদ্ধি ছিল রবি গুহ মজুমদারের। বেগম আখতারের ‘জোছনা করেছে আড়ি’, ‘চুপি চুপি চলে না গিয়ে’-সহ আরও কিছু গানের কথা ও সুর দিয়েছিলেন তিনি। বিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকের সেরা গায়ক শচীন দেব বর্মণের জন্য তিনি অতি জনপ্রিয় তিনটি আধুনিক বাংলা গান দিয়েছিলেন। শচীন বাবুর সুরে সেই তিনটি গান হল, ‘তুমি আর নেই সে তুমি’, ‘মন দিলনা বঁধূ’ এবং ‘তুমি এসেছিলে পরশু’।

গিরীন চক্রবর্তী

তেমনি পল্লীগীতি-লোকগীতির বিখ্যাত গীতিকার,সুরকার ও গায়ক ছিলেন গিরীন চক্রবর্তী। যদিও তিনি বিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে বেশ কিছু আধুনিক বাংলা গান লিখেছিলেন, কালের সীমা ছাড়িয়ে তার একটি বাংলা গান স্বর্ণ যুগের গান হিসাবে জনপ্রিয় হয়েছিল। কমল দাশগুপ্ত-র সুরে, তালাত মামুদের কণ্ঠে সেই গানটি হল, ‘দুটি পাখি দুটি তীরে’। তালাত মামুদের কণ্ঠে, নির্মল ভট্টাচার্যের সুরে আর একটি বিখ্যাত গানের গীতিকার ছিলেন অনিল ভট্টাচার্য। গানটি হল ‘আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায় ‘। তালাত মামুদের কণ্ঠে, রবীন চট্টোপাধ্যায়ের সুরে আরও একটি বিখ্যাত গানের গীতিকার ছিলেন কমল ঘোষ। গানটি হল ‘চাঁদের এত আলো’। কমল ঘোষ ও রবীন চট্টোপাধ্যায়ের জুটিতে তৈরী ‘ওগো মোর গীতিময়’ গানটি গেয়েছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়।

কমল দাশগুপ্তর সুরে জগন্ময় মিত্রর ‘তব গানের পাখিরা যত’ গানের গীতিকার সুশীল ঘোষ। সুবল দাশগুপ্তর সুরে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের ‘অশ্রু যমুনা দুলে দুলে ওঠে’ গানের গীতিকার শৈলেন দাস। সৌমেন মুখোপাধ্যায়ের কথায় ও দেবু চ্যাটার্জীর সুরে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের একটি জনপ্রিয় গান ‘শোন শোন কথাটি শোন’।

মান্না দে র গাওয়া আধুনিক বাংলা গানের প্রথম পর্বে তাঁর নিজের সুরে প্রায় সব গানেরই গীতিকার ছিলেন গৌরী প্রসন্ন মজুমদার। কিন্তু সেই পর্বের একটি বিখ্যাত গানের গীতিকার ছিলেন বঙ্কিম ঘোষ। গানটি হল, ‘এই কূলে আমি আর ওই কূলে তুমি’। বঙ্কিম ঘোষের কথায় আর একটি গান পাওয়া যায়। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে সেই গান ‘চাঁদ তুমি এত আলো’। গেয়েছিলেন সুবীর সেন।

গীতা দত্তর গানের তালিকায় গীতিকার আর সুরকার হিসাবে অনেক অচেনা নাম দেখতে পাওয়া যায়। সম্ভবত এঁদের সঙ্গে বোম্বাইয়ের সঙ্গীত জগতের যোগ থাকতে পারে। যেমন, অমিয় রায়ের কথায় ‘একটি কমল ফুটেছিল’ এবং সুনীল বিশ্বাসের কথায় ‘এখনও দুস্তর লজ্জা’, গান দুটিতে সুর দিয়েছিলেন মুকুল রায়। আবার গীতা দত্তর ‘এই তো হল পরিচয়’ এবং ‘ভুলিতে যে পারিনা’ গান দুটির কথা ও সুর নির্মল চক্রবর্তীর। বাদল রায়ের কথায় এবং জীবন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে গীতা দত্ত গেয়েছিলেন ‘কোন সে বিরহী আপনারে দহি’ গানটি।

বিখ্যাত সুরকার নচিকেতা ঘোষ গানের কথার ব্যাপারে ভীষণ খুঁতখুঁতে ছিলেন। কোন গানের বিষয় জানিয়ে দুই কিংবদন্তী গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার ও পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায়ই লড়িয়ে দিতেন। যাঁর গানটি পছন্দ হত তাঁর গানটি নিয়ে অন্যটি অনায়াসে বাতিল করে দিতেন। এহেন মানুষটি বটকৃষ্ণ দে’র লেখা দুটি গানে সুর দিয়েছিলেন। একটি দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের ‘হে মহাপৃথিবী’ ও অন্যটি নির্মলা মিশ্রের ‘পাহাড়ে বিকেল নামে’।গীতা দত্ত র কণ্ঠে, সুধীন দাশগুপ্তর সুরে ‘কৃষ্ণচূড়া আগুন তুমি’ গানটির গীতিকারও ছিলেন বটকৃষ্ণ দে।

বটকৃষ্ণ দে

নচিকেতা ঘোষ আরো দুজন গীতিকারের কথায় দুটি বিখ্যাত গানের সুরারোপ করেছিলেন। পিন্টু ভট্টাচার্যের কণ্ঠে ‘দেখ মেঘের কোলে ঘুমিয়ে আছে চাঁদ’ গানটির গীতিকার কমলাক্ষ ঘোষ। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘ওগো সিঁদুর রাঙা মেঘ’ গানটির গীতিকার ছিলেন কামাক্ষ্যা ঘোষ। এই গানটির বেশ অভিনবত্ব আছে। রাধাকৃষ্ণের প্রেম বিষয় নিয়ে অসংখ্য গান রচিত হয়েছে। সেসব গানে মূলত রাধার বিরহ, অভিসার বা বিভিন্ন পর্যায়ে মনের অবস্থার বর্ণনা আছে। কিন্তু এই গানটিতে পরোক্ষে রাধার শরীরী আবেদনের কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

নচিকেতা ঘোষের সুরে নির্মলা মিশ্রের আর একটি জনপ্রিয় গান ‘তারাদের কানে কানে’র গীতিকার ছিলেন অরূপ ভট্টাচার্য।

দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের ‘আমি কবি এই বিশ্বজনের’ গানটির গীতিকার ভোলানাথ গুপ্ত।

সুধীন দাশগুপ্ত র বন্ধু বা সহকারী বৃত্তে আমরা বেশ ক’জন গীতিকারকে পাই যাঁরা সুধীন বাবুর জন্য গান লিখেছেন। যেমন, গীতা দত্তর বিখ্যাত গান ‘একটু চাওয়া আর একটু পাওয়া’ গানটির গীতিকার অমিতাভ নাহা। পিন্টু ভট্টাচার্যের ‘তুমি নির্জন উপকূলে নায়িকার মত ‘, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তোমার দেওয়া অঙ্গুরীয়’, নির্মলা মিশ্রের ‘চল আজ কিছু পথ চলে যাই’, বনশ্রী সেনগুপ্তর ‘ ছি ছি ছি, একি কাণ্ড করেছি ‘ ইত্যাদি গানের গীতিকার ছিলেন বরুণ বিশ্বাস।পিন্টু ভট্টাচার্যের ‘চলনা দীঘার সৈকত ছেড়ে’ গানটিও বরুণ বিশ্বাসের লেখা। তবে ওই গানে সুর দিয়েছিলেন সুধীন দাশগুপ্তর সহকারী অশোক রায়।

গীতিকার সুবীর হাজরা সুধীন দাশগুপ্তর বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী ছিলেন। ছায়াছবির জগতে সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে সুধীন বাবু সুযোগ পেয়েছিলেন মূলত সুবীর হাজরার সুপারিশে। অন্য পরিচয়ে সুবীর হাজরা আরতি মুখোপাধ্যায়ের প্রথম স্বামী। সুধীন বাবুর সুরে প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘একটা গান লিখো আমার জন্য’, ‘সাতটি তারার এই তিমির’, ‘সাত রঙা এক পাখি’, আরতি মুখোপাধ্যায়ের ‘আয়নাতে মুখ দেখবো না ‘, শ্যামল মিত্রের ‘ভীরু ভীরু চোখে চেয়ে চলে গেলে’, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের ‘এই টুকু এই জীবনটাতে’ ইত্যাদি গানের গীতিকার সুবীর হাজরা। বাপি লাহিড়ীর সুরে আরতি মুখোপাধ্যায়ের ‘তখন তোমার একুশ বছর বোধহয়’, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শরম রাঙা পরম প্রিয়া’ গান দুটিরও গীতিকার সুবীর হাজরা।

সুধীন দাশগুপ্তর আর একজন প্রিয় গীতিকার ছিলেন সুনীলবরণ। সুনীল বরণের কথায় আরতি মুখোপাধ্যায়ের ‘বন্য বন্য এ অরণ্য ভাল’, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের ‘এমন মধুর ধ্বনি’, সুবীর সেনের ‘কি ভাল লাগল চোখে’, ‘আকাশ যেখানে গল্প বলে’, সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের ‘আকাশ এত মেঘলা’, মৃণাল চক্রবর্তীর ‘পথ নির্জন চলনা এখন’, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘প্রেম শুধু এক মোমবাতি ‘ ইত্যাদি গানের সুর সুধীন দাশগুপ্তর। অনল চট্টোপাধ্যায়ের সুরে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের ‘কাল সারারাত চোখে ঘুম ছিলনা’, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের সুরে ও কণ্ঠে ‘ভালোবাসার এমনই গুন ‘, প্রশান্ত ভট্টাচার্যের সুরে, মৃণাল চক্রবর্তীর ‘নদী চলে যাবেই জানি’, শৈলেন মুখোপাধ্যায়ের সুরে তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘যাক যাক দিন যাক’, ‘সোনার নামে নাম দিল কে’ ইত্যাদি গানেরও গীতিকার ছিলেন সুনীলবরণ।

আলোচ্য গীতিকারদের গান-জীবনেও এক সময় স্বর্ণযুগ এসেছিল। তার সম্ভাব্য কিছু কারণ অনুমান করা যায়। যখন বাংলা ছায়াছবির জগতেও স্বর্ণযুগ চলছে তখন নামজাদা সুরকার ও গীতিকাররা ছায়াছবির গান নিয়ে খুবই ব্যস্ত। এদিকে প্রায় প্রতি বছরই নতুন নতুন শিল্পী গানের জগতে আত্মপ্রকাশ করছেন। পুরনোরা তো আছেনই। তাই প্রতি বছর নতুন নতুন গানের চাহিদা বাড়ছে। ফলে যেসব সুরকাররা ছায়াছবির কাজে তেমন ব্যস্ত ছিলেন না তাঁদের উপরে চাপ ছিল অসম্ভব। খুব বড় শিল্পীদের জন্য গান তৈরী করে দিতেন নামজাদা গীতিকার ও সুরকাররাই। একটু নজর করলে দেখা যায় বাকিদের জন্য ভরসা ছিলেন সলিল চৌধুরীর সেই তিন সহযোগী প্রবীর মজুমদার, অনল চট্টোপাধ্যায় এবং অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা নিজেরা গীতিকার হলেও তাঁদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব ছিল সবার জন্য গান লিখে, সুর করে গান তৈরি করে দেওয়া। তাই তাঁদের বন্ধুবৃত্তে থাকা বেশ কিছু গীতিকার তখন পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে এসেছিলেন। এছাড়া অতটা পরিচিত নন, এমন কিছু গীতিকার-সুরকারও এগিয়ে এসে শিল্পীদের গানের জোগান দিয়েছিলেন। বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে এঁদের সকলের কাজের বিবরণ দিলেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এঁদের কথা শুরু করার আগে নির্মলা মিশ্রের গানের তালিকা নিয়ে একটু বলা প্রয়োজন বলে মনে হয়। কারণ, এই তালিকার গানগুলিতে গীতিকার সুরকারদের এক বিচিত্র সমাবেশ দেখতে পাওয়া যায়। এখানে বিখ্যাত গীতিকার ও সুরকাররা যেমন আছেন তেমনি বিখ্যাত নন এমন বেশ কয়েকজন গীতিকার সুরকার আছেন। ভবেশ গুপ্তর কথায় রবীন্দ্র জৈনের সুরে ‘তোমার আকাশ দুটি চোখে’, রবীন্দ্র-প্রশান্তর সুরে ‘যা রে আমার ময়না’, ‘যায় রে এ কি বিরহে’, জয়দেব সেনের কথা ও সুরে ‘এই বাংলার মাটিতে’, ‘নয়নে কাজল নেই’, আশিস চ্যাটার্জীর কথায়, প্রবীর মজুমদারের সুরে ‘সুখ যে আমার’, সমীর দেবের কথা ও সুরে ‘আজ কোন কাজ নেই হাতে আমার’, নির্মলা মিশ্রর স্বামী প্রদীপ দাশগুপ্তর কথায় ও সুরে ‘ভুল বুঝে ব্যথা পেও না’, বাবু গুহ ঠাকুরতার কথায় ও প্রদীপ দাশগুপ্তর সুরে ‘আমি তো তোমার চিরদিনের’,’ছোট্ট সে কথা ভালোবাসা’, ‘পূর্ণিমা রাত ভাল লাগে না’ ইত্যাদি গান উল্লেখযোগ্য।এই সব গানগুলিকে একই রকম জনপ্রিয় করে তোলার জন্য নির্মলা মিশ্রকে আমার ‘বিস্ময় গায়িকা’ বলে মনে হয়।

আবার তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গানের তালিকা নিয়েও একই কথা বলা যায়। সমরেশ রায়ের সুরে ‘বদনাম হবে জেনেও তবু’ ও মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সুরে ‘চম্পাকলি গো কত নামে ডেকেছি তোমায়’ গানদুটির গীতিকার শ্যামলাল গুপ্ত প্রসাদ। আবুল কাশেম রহিমুদ্দিনের কবিখ্যাতি সম্বন্ধে আগেই জানতাম। গত শতাব্দীর ছয়ের দশকে কাজী সব্যসাচী ওঁর একটি কবিতার আবৃত্তি রেকর্ড করেছিলেন। তারও আগে ওঁর কথায় ও নচিকেতা ঘোষের সুরে তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ওগো আমার কোকিল কালো মেয়ে’ গানটি প্রকাশিত হয়েছিল। যদিও এই প্রতিবেদনে অপ্রাসঙ্গিক, তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি জনপ্রিয় গানের গীতিকার-সুরকারের এক বিরল যুগলবন্দী দেখা গেছে। গানটি হল ‘পান্না হীরা চুনী তো নয় তারার মালা’। এই গানের গীতিকার প্রবীর মজুমদার ও সুরকার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।

এবার আমার খুব পছন্দের এক গীতিকার অমিয় দাশগুপ্তর কথায় আসব। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে শ্যামল মিত্রর বিখ্যাত গান ‘হংস পাখা দিয়ে’ গানের গীতিকার অমিয় দাশগুপ্ত। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে সুবীর সেনের ‘নগর জীবন ছবির মতন হয়তো’, ‘তুমি বলেছিলে ওগো’, তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ইলোরা অজন্তার কারুকাজের মত’, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ওই আকাশে ক্লান্তি নেই’, ইলা বসুর ‘একটি দিনের চেনা’, উৎপলা সেনের ‘এত মেঘ এত যে আলো’, অনল চট্টোপাধ্যায়ের সুরে, তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তন্বী তনু বহ্নি আঁখি’, ‘তুমি একটি পলাশ’ ইত্যাদি গানগুলির গীতিকারও অমিয় দাশগুপ্ত।

পরবর্তী গীতিকার আনন্দ মুখোপাধ্যায়। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের ‘আহাহা ডালিম ডালিম রূপ’, ‘আমি ভাবি শুধু ভাবি’, জপমালা ঘোষের ‘ঝুঁটি বাঁধা কাকাতুয়া আয় না’, নির্মলা মিশ্রর ‘কেন এই গান গাওয়া’, ‘সন্ধ্যাবেলার একটু হাওয়া’, সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের ‘তুমি মেঘলা দিনের নীল আকাশের’, আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দোল দোল দুলুনি’, মৃণাল চক্রবর্তীর ‘যদি দূরে চলে যাই কোন ফাগুনের ভোরে’, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ‘যদি আমাকে দেখো তুমি উদাসী’, নচিকেতা ঘোষের সুরে নির্মলা মিশ্রর ‘তোমার ওই ঘুম জড়ানো’, রতু মুখোপাধ্যায়ের সুরে নির্মলা মিশ্র র ‘অনেক সোনালী দিন’, ‘ভাল লাগে আকাশ জুড়ে’, অনল চট্টোপাধ্যায়ের সুরে শিবাজী চট্টোপাধ্যায়ের ‘দিন আসে দিন যায়’ ইত্যাদি গানের গীতিকার আনন্দ মুখোপাধ্যায়।

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ‘হাজার মনের গভীরে তোমার ঠিকানা’ গানের গীতিকার পরাশর রায়। দ্বিজেন বাবুর কণ্ঠে ওঁর নিজের সুরে ‘যদি বলি তোমার দুচোখ’ গানের গীতিকার সঙ্গীত শিল্পী দীপঙ্কর চট্টোপাধ্যায়।
অনল চট্টোপাধ্যায়ের প্রিয় গীতিকারদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবোধ ঘোষের কথায় মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ‘বর্ষা ক্লান্ত ও দুটি নয়ন’, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ছলকে পড়ে কলকে ফুলে’, ‘মেঘ রাঙানো অস্ত আকাশ’, ‘প্রজাপতি প্রজাপতি রে’, গীতা দত্তর ‘কত গান হারালাম’, আরতি মুখোপাধ্যায়ের ‘জানি এ ভুল’ ইত্যাদি গানের সুরকার অনল চট্টোপাধ্যায়। এবং ওঁর কথায় ইলা বসুর ‘কি যেন আজ ভাবছো বসে’, সনৎ সিংহের ‘রাধার মন গিয়েছে চুরি হয়ে’ ইত্যাদি গানে সুর দিয়েছিলেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে সুবীর সেনের ‘যখন হাত বাড়ালেই আকাশ’ গানটির গীতিকার বাবু গুহ ঠাকুরতা। সুবীর সেনের কণ্ঠে ওঁর নিজের সুরে ‘আমি সাগর কখনো দেখিনি’ গানটির গীতিকার কাজল গুপ্ত।ইলা বসুর ‘ঝলমলে তারার পানে’ গানের গীতিকার বৈদ্যনাথ বিশ্বাস। গায়ত্রী বসুর ‘তুমি আমার নিত্য কালের’ গানটির গীতিকার রতন কুমার। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গীত প্রতিভার অঙ্কুরোদগম করিয়েছিলেন যে অগ্রজ অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর কথায় অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে গায়ত্রী বসুর আর একটি গান ‘মেঘ মেঘ মেঘ কত মেঘ করেছে ‘।

অনল চট্টোপাধ্যায়ের সুরে গীতা দত্তর ‘কৃষ্ণনগর থেকে আমি কৃষ্ণ খুঁজে এনেছি’ গানটির গীতিকার কাজল ঘোষ। আরতি মুখোপাধ্যায়ের ‘ওগো মনের দুয়ারে দাঁড়িয়ে থেকো না’ গানটির গীতিকার দীপক ভট্টাচার্য। এই গীতিকারের মাত্র এই একটি গানই তাঁকে আধুনিক বাংলা গানের জগতে বিশিষ্ট করে রাখবে বলে আমার মনে হয়েছে। গানটিতে এক নারী কোন এক পুরুষকে মন সমর্পণ করার পর সরাসরি শরীরী আহ্বান জানাচ্ছে। অথচ সেটা এত পরিশীলিত ভাষায় যে, কোথাও গানটিকে অশ্লীল বলে মনে হয়না। অনল চট্টোপাধ্যায়ের সুরও অনবদ্য এই গানে।

অনল চট্টোপাধ্যায়ের সুরে সমীর দেবের কথায় ‘তুমি একটি ঝলক হাসি’, ‘তোমার শিশির ভেজা’ গানদুটি গেয়েছেন সুবীর সেন। শ্রীকান্ত (এই নামটি আমার কারো ছদ্ম নাম বলে মনে হয়)-র কথায় তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মধুমতী যায় বয়ে যায়’ গানটির সুরকারও অনল চট্টোপাধ্যায়।

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে নির্মলা মিশ্র র জনপ্রিয় গান ‘বলতো আরশি তুমি’ গানের গীতিকার ভাস্কর বসু। ওঁর কথায় গীতা দত্তর ‘ওঠ ওঠ মা গৌরী’, দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের ‘ভাঙা তরীর শুধু এ গান’, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘এপার গঙ্গা ওপার গঙ্গা’ গানের সুর দিয়েছিলেন সুধীন দাশগুপ্ত। মৃণাল চক্রবর্তীর ‘খোলা জানালার ধারে’, সনৎ সিংহের ‘অহল্যা কন্যার’ গান দুটির কথা ভাস্কর বসু ও সুর মৃণাল চক্রবর্তীর। দীনেন্দ্র চৌধুরীর সুরে মৃণাল চক্রবর্তীর ‘সে এক পাহাড়ী বাংলো থেকে ‘গানটির গীতিকারও ভাস্কর বসু।ওঁর কথায় ও নচিকেতা ঘোষের সুরে ছোটদের জন্য আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গান ‘সজলপুরের কাজল মেয়ে’ ও ‘যমুনাবতী সরস্বতী’।ওঁর কথায় ও শৈলেন দত্তরায়ের সুরে সনৎ সিংহের গান ‘বাজে ডুম টাক ডুমা ডুম’।

আলোচ্য গীতিকারদের সমসাময়িক একজন গীতিকার-সুরকার হলেন দিলীপ সরকার। গায়ত্রী বসুর ‘কোন দূর বনের পাখী’, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের ‘তন্দ্রা এল বল জাগি কেমন করে’, মৃণাল চক্রবর্তীর ‘যমুনা কিনারে’ গানের কথা ও সুর দিলীপ সরকারের। সন্তোষ মুখোপাধ্যায়ের কথায় গায়ত্রী বসুর ‘শুকতারা আকাশের কোনেতে ‘গানের সুরকারও দিলীপ সরকার।

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের ‘কপালে সিঁদুর সিঁদুর টিপ পড়েছো’, ‘মন মধুকর যা উড়ে যা’ গানের গীতিকার রঞ্জিত দে। ওঁর কথায় ও প্রবীর মজুমদারের সুরে সনৎ সিংহের দুটি বিখ্যাত গান ‘এক এক্কে এক’ ও ‘না না না বাজে না’। নির্মলেন্দু চৌধুরীর সুরে জপমালা ঘোষের ‘সোনার বরণ যাদু রে’ গানের গীতিকারও রঞ্জিত দে।
ছোটদের গানের গীতিকারদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের কথা ইতিমধ্যেই উল্লিখিত হয়েছে। সনৎ সিংহের ‘ঝমাঝম মল বাজে’ গানের গীতিকার শিশির মজুমদার ও ‘বুদ্ধির গোড়াতে জল দাও’ গানের গীতিকার প্রসূন বর্ধন। দু’টি গানেরই সুর প্রবীর মজুমদারের। আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কানামাছি ভোঁ ভোঁ’ গানের গীতিকার চারু মুখার্জী ও সুরকার গোপেন মল্লিক। সুকুমার রায়ের ‘বাবুরাম সাপুড়ে’ ও ‘এই দুনিয়ায় সকল ভাল’ কবিতা দুটিতে সুর দিয়েছিলেন অরুণ বসু। বলা বাহুল্য, গেয়েছিলেন সনৎ সিংহ।

এই প্রসঙ্গে ইতি টানবো আর একজন গীতিকারের কথা বলে। তিনি হলেন শ্যামল ঘোষ।ওঁর সময়ের উনি একজন পরিচিত নাট্যব্যক্তিত্ব। প্রবীর মজুমদারের সুরে তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ কনক চাঁপা ধান’, বনশ্রী সেনগুপ্তের ‘কাল বিকেলের ডাকে তোমার চিঠি পেলাম’ এবং নির্মলা মিশ্রের ‘শিল শিলাটন’ গান তিনটির গীতিকার শ্যামল ঘোষ। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে সুবীর সেনের ‘সন্ধ্যা লগনে স্বপ্ন মগনে’ ও দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের ‘সাতনরী হার দেব’ গান দুটির কথাও শ্যামল ঘোষের।

এ‘ পর্যন্ত এই প্রতিবেদনে যে তালিকা দেওয়া হল, সেটা নিঃসন্দেহে অসম্পূর্ণ। অসংখ্য চেনা গানের গীতিকার ও সুরকারদের পরিচয় পাওয়া যায়না। খুব অল্প পরিশ্রমে যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে তাই একত্রিত করে এই সব মানুষের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মরণ করার চেষ্টা করেছি, অন্তত গানমাত্র আর নামমাত্র পরিচয়ে এঁরা আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন এই আশায়।

[লেখকের অন্য রচনা]

আপনি এই পত্রিকা পড়ছেন জেনে ভাল লাগল।

নতুন লেখা বা ভিডিও সংযোজন, অথবা রবিচক্রের অন্যান্য খবরাখবর সম্পর্কে জানতে, ইমেল নথিভুক্ত করতে পারেন।

We don’t spam! Read our privacy policy for more information.


0 0 votes
Article Rating
2 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
shouvik De
shouvik De
7 months ago

এই একটি কাজ – লেখকের আগের অধ্যায় গুলির চেয়ে অবশ্যই বেশি দামী। যারা ততটা বিখ্যাত নন তাদের বিস্মৃতির সমুদ্র গর্ভ থেকে তুলে আনা। পরিশ্রম বেশি, হাততালি কম। তবে আমার অকুণ্ঠ সাধুবাদ রইল। খিদেও রইল আরো ।

Chandan Sen Gupta
Chandan Sen Gupta
Reply to  shouvik De
7 months ago

আপনারা খুশি হলে আমার এইটুকু পরিশ্রম সার্থক মনে হয়।অনেক ধন্যবাদ।