
ফাগুন শেষে মাটির কষ্ট, তৃষ্ণা কাতর প্রাণ
আগুন ছোঁয়া শস্য ক্ষেতে,
মনের বিরূপ টান।
দীঘল চোখে শুকিয়ে কাজল
রাতমোহিনী হাঁকে,
‘জল চাই গো, জল যে খরা,
জল কোথাকে পাই’-
এ পোড়া দেশ ক্লান্ত বড়ো,
নটে গাছটি মুড়াই আরো
বাউড়ি পাড়ার পথে ঘাটে
উড়ছে ধুলোর ছাই।
‘জল চাই গো, জল যে খরা,
জল কোথাকে পাই।’
ফাগুন শেষে একলা ঘর- একলা মনের টান
রাত দুপুরে প্রসব ব্যথায়
পোয়াতি আনচান।

ঋণের দায়ে ধুঁকছে চাষী
ছড়াচ্ছে শোক লাশে-
নদীর কপাল ঝরাচ্ছে ঘাম
একফোঁটা প্রাণ আশে।
রাতমোহিনীর ছড়ায় ব্যথা-
‘জল চাই গো, জল যে খরা’,
জিভ শুকিয়ে কাঠ।
জলের ঘরে হরেক পোকা
আমি তুমি খাচ্ছি ধোকা
কৃশানু মাঠ ঘাট।
এ দেশ তবু নকল হাসে, মানুষ ভাসে মিষ্ট ভাষে
জীবন মরণ ধর্ম সাধন
জল-অভাবী মৃত মাসে।
ঘুরছে মরা বাতাস, ত্রস্ত আল-আকাশ
ফিরতি পথে শুকনো পাতার ঘ্রাণ-
অশথ তলায় বাঁশের মাচায়
দুলছে শতক, দুলছে দশক
দোদুল্যমান-
নানান অপমান।