
ঠিক দশটা বেজে পাঁচ, ট্রেন ছাড়ল। খানিকটা গিয়েই অবশ্য দাঁড়িয়ে পড়ল। উন্নয়নের ঠ্যালা, রেল ব্রীজ মেরামতি চলছে। তবে পনেরো মিনিট রেস্ট নিয়ে এক্সপ্রেস গতিতে এবার সে টগবগিয়ে ছুটল । পৌষ মেলার ভিড়। তারই মাঝে প্রথমে মায়ের ফোন, তারপর রত্নার,”কী রে, কতদূর?”
রত্না আমার ছোটবেলা থেকে ছায়াসঙ্গি । দু’বছর পর দিল্লী থেকে ফিরে বেচারি হাঁকপাক করছে গল্পের ঝাঁপি উজাড় করার জন্য। “বেলা তিনটে থেকে কিন্তু রিহার্সাল ” – এমন হুশিয়ারির সংবাদও পেয়ে গেছি ইতিমধ্যে।

চব্বিশ তারিখ আমাদের মিনির বিয়ে। সেই ছোট্ট মিনির যে কিনা যুক্তরাজ্যে জন্ম নিয়েও বড়ো হতে এসেছিল এই রাজ্যের একটি গ্রামে তার বৃহত্তর পরিবারে। তারপর পড়াশোনার তাগিদে মহারাষ্ট্র গুজরাট হয়ে আবার বিদেশ। প্রত্যেক ডিসেম্বরে সে আমাদের চারপাশের অঞ্চলের অসুস্থ গ্রামবাসীদের চিকিৎসা সেবা দান করে। আমরা দুজন একই গাঁয়ের। মিনির ইচ্ছে সে এই গ্রাম থেকেই বিয়ে করবে। পাত্রর সঙ্গে গতবছরই আমার যথেষ্ট আলাপ হয়েছে, কিন্তু এই তিনিই যে সেই তিনি, সে বিষয়ে আমি হঠাৎই অবগত হই। শুধু গ্রাম নয়, এ কাহিনির মূলে যিনি এখনও বর্তমান, তিনি হলেন আমাদের গাঁয়ের সর্বজয়া বছর ছিয়ানব্বইয়ের তরুণী শ্রীমতি শোভাময়ী দেবী, মিনির ঠাকুমা।

ভাগ্য সুপ্রসন্ন। ট্রেন থেকে নেমেই চিত্রা মোড়, সেখান থেকে পেয়ে গেলাম বাস লাঙলহাটা এক্সপ্রেস। বোলপুর লাভপুর রুটের প্রায় প্রত্যেকটা বাসই সেই আদি যুগ থেকে বিলম্বিত লয়ে চলতেই অভ্যস্ত, কিন্ত এই বাসটোর তেজ দেখে আমি অভিভূত, তাই মাঝেমাঝেই গুনগুনিয়ে উঠছিলাম, “ও কন্ডাকটর বাবু, ক্যানে ঢুসাইন দিলি বল।” এবারে আমি একা নই, বাঁয়ে বগলে কন্যা। উড়ি ন লিয়ে যেচে বাসটো। আমার মতো বিয়ের আইবুড়ো ভাত খাবার দোড় লয়, তেনোমুলের মিটিংয়ে যাবার লেগেই ঝনঝনে দ্যাহ লিয়ে এত হটরপটর।
পাক্কা দুটো পনেরোই পৌঁছে গেলাম বাড়ি। প্রায় সকলে মিলে “চল, চল আগে ভাত খা” গানের কী গুঁতো! বাগানের মিঠে রোদে বসে ভাত, পালং শাক ঘন্ট, ডাল, বাঁধাকপির তরকারি, পুস্তু ( পোস্ত), মাছ, চাটনি, গরম রসগোল্লা সাঁটিয়ে হাত ধোয়া আর হল না, আটকে গেলাম গাবগুবাগুবের ঢঙে, খঞ্জনির ছন্দে, গেরুয়া বসনে এবং নামগানের আরোহে।
এ তুমি বিয়ের আগেই হরেকেত্তন বাজিয়ে দিছ ক্যানে গো। থামাও।
বলে দাও থাইলে কোনটো গাব।
“আমার সকল ধন যে ধন্য হল
বিশ্বজনের কল্যাণে আজ ঘরের দুয়ার খোলো গো।” –
গাইতে গাইতে খঞ্জনির তাল খুঁজে বেড়াচ্ছি। তিনিও বাজিয়ে চলেছেন।
বিরক্ত হয়ে বলছি “ওগো, হচে না।”
তিনিও ছোড়নেবালা নেহি।

আমি দুগো বিশ্বাস, পুটু চাটুজ্যের ছাত্র বটি, কোনটো বলো ক্যানে। শোনো, পড়া করতাম না বলে আমাকে ইস্কুল থেকে তাড়িন দিয়েছিল, কিন্তু লিজের পড়া আমি লিজেই শিখে লিয়েছি।
মায় নেম ইজ মিস্টার অমুক ঘোষ
আই লিভ অ্যাট দেওয়ার
মায় ফাদার্স নেম ইজ অমুক
মায় মাদার ওয়াজ আন আর্টিস্ট অফ যাত্রা।
বাপরে বাপ, তোমার দর্শন পেয়ে আমি ধন্য, এবার গাবগুবাগুবে ধর “ধা ধিন না, না তিন না।”
দু’তিনবার চেষ্টা করে সফল হওয়া মাত্রই আবার শুরু করে দিলেন হরি বোল।
ওগো তুমি থামবা। ঘরের ভেতরে চলো। আমরা যা গাইব, তার সঙ্গে বাজাবা।
ততক্ষণে হাতের এঁটো শুকিয়ে চচ্চড়ি। গানের দল হারমোনিয়াম নিয়ে রেডি।
“হেরো রাঙা হল সকল গগন, চিত্ত হল পুলকমগন,
তোমার নিত্য আলো এল দ্বারে, এল এল এল গো।
তোমার পরানপ্রদীপ তুলে ধোরো, ওই আলোতে জ্বেলো গো ॥”- তালে সুর মিলিয়ে গেয়ে চলেছি।
হ্যাঁ গো, তোমার পরিবারে কে আছে ? বউ আছে ?
মাই ওয়াইফ ডিড নট লাইক মি। ছেড়ে দিয়েছে।
এত বকবক সহ্য করে থাকা কঠিন বাপু।
ছেলে আমার বত্রিশ হাজার টাকা মাইনে পায়।
বুঝলুম, সেই আনন্দে তুমি নামগান গেয়ে বেড়াও। আর কটা দিন যাক, আমিও বেরোব। এই দ্যাখো খঞ্জনি কিনেছি।
তেনার বক্তৃতার ঠেলায় আমাদের মিনির থিম বিয়ের রিহার্সাল মাথায় ওঠার জোগাড়। জেঠিমা কাকীমা বোনেরা অতিষ্ট হয়ে আমাকে তাগাদা দিচ্ছে, ” ওরে, তুই এবার ওকে ভাগা।”

হু, আমি বললেই যেন ভাগবে। তাও লজ্জার মাথা খেয়ে বললাম, “ওগো, অনেক হয়েছে, তোমার জন্য বাকি কাজ পড়ে থাকছে, এবার বাড়ি যাও।”
ইতিমধ্যে এক কাকা এসে কানেকানে বলে গেল, কিছু টাকা না দিলে ও যাবে না। মিনি কানেকানে জিজ্ঞেস করে গেল, “তোতা দিদি, একশ টাকা দিলে হবে?”
চেষ্টা করছি বোঝবার কিন্তু পারছিনা রে। কথাতেই আছে, ‘খ্যাপার মন বৃন্দাবন।’
এদিকে আসন্ন বিবাহসম্ভবা ডাক্তার কন্যারতনের পেশেন্ট হাজির । হাতের কাছে ফ্রিতে ডাক্তার পেলে মন দেহে রোগ খুঁজতে শুরু করে। আমি সেরকম দু- একটাকে ধরেবেঁধে হাজির করানোর চেষ্টা করলাম। কিটু গত কয়েকমাসে নাচ গানের গুঁতোয় তারা কোথায় ভেগেছে কে জানে !
পাত্রী ডাক্তার শুনে বৃন্দাবন-খ্যাপাও রোগ খুঁজতে শুরু করল।
একটো ওষুধ দাও ক্যানে
পাত্রী বলছে, “কী হয়েছে তোমার যে ওষুধ খেতে হবে?”
না মানে কিছু হয়নি তাও……, যাতে না হয়
আরে ওই র্যানটাক জিনট্যাক খানিক দাও।
আচ্ছা মুশকিল তো।
আবার চেঁচালাম, “আর জ্বালিও না বাপু।”
তিনি দিব্যি বুঝতে পারছেন, সকলের এই বিরক্তির মধ্যেও কোথাও যেন এক স্নেহমিশ্রিত প্রশ্রয়ের সুর ফল্গুধারার মতো বয়ে চলেছে।
আসলে যাকে এ নেশায় পেয়েছে, তাঁকে মরণেরও সাধ্য নেই মারবার। সে সুর হয়েই জেগে থাকবে মাঠে ঘাটে, জীবনের ভালবাসায় যন্ত্রণায়।
বড়রা শেষ মুহূর্তের অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে, ছোটদের নিয়ে আমাদের সুন্দরী বিদূষী বোন টোরা রানি নাচের মহড়া দিচ্ছে।

এদিকে নাচ দেখে তেনার আবার নাচন-ব্যথা চাগিয়ে উঠল।
ঝুলি থেকে বেরোল ঘুঙুর ও প্রেমঝুরি।
গান ছেড়ে তড়াক করে লাফিয়ে ঝিনুক বৌদির ” বলি, ও ননদী আর দু মুঠো চাল ফেলে দাও” এর তালে তালে তিনি সারা উঠোন ঘুরে ঘুরে নেচে বেড়ালেন। তাঁর সঙ্গে আমাদের দেহ মন প্রাণ তালে তাল ঠুকছে, কিন্তু যথাসম্ভব চিত্তচাঞ্চল্য রদ করে ভাবের ঘরে খিল এঁটেছি। বিয়ের কনে মিনি, তিনি আজ ভাবের ঘরের সমস্ত জানালা দরজা হাট খুলে দিয়েছেন। বর অনীশও আইবুড়ো ভাত খেতে রাত্রে আসছেন। তাই প্রেমের জোয়ারে সোহাগ চাঁদবদনি দিব্যি নাচতে লাগল। কন্যার মা, অর্থাৎ যিনি এই সকল খ্যাপামির নাটের গুরুমা, হাইব্রিড মোডে কখনও মোবাইলে কখনওবা আড়াল থেকে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। আমি কেবল নাটের গুরুকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। ভাগ্যিস, তিনি বরযাত্রী আনতে ইস্টিশনে গেছেন।
লোকজন বিস্মিত। নাচ শেষ। ঘুঙুর খুলতে খুলতে দিগ্বিজয়ী ঢঙে বিরাট রেলা নিয়ে বললেন –
কী পারি না বলোতো আমি ! একবার কেবল বলবা, তারপর দেখে লেবা কেমন প্রতিভা আমার। মাঝেমাঝে আমি ভাবি, আমার এতসব জানার বাইরেও কি কিছু আর আছে ?
তখন কোত্থেকে খবর পড়ার আওয়াজ বেরোচ্ছে। ঠাওর করার চেষ্টা করতেই তেনার ঝুলি থেকে বাঘ বেরোলো। অর্থাৎ একখানি বড়ো মাপের পুরনো সন্তোষ রেডিও।
অষ্টপ্রহর ওনার জ্ঞানের সাপ্লায়ার।
খানিকক্ষণ থামাও ক্যানে বাপু, একে তোমার বাণী, তার ওপর এই আকাশ বাণী। বেশি প্রতিভা থাকার একটাই ঝামেলা গো, বউ টেকেনা।
শোনো, বউ টিকুক আর না থাকুক, কোনো মেয়ের দিকে আমি লজর দিই না। আজ পর্যন্ত কেউ আমার চরিত্র লিয়ে কোনো কুকথা বলতে পারবে না।
এদিকে গানের দল খাতার পাতায় “প্রেমের মিলন দিনের” কথা খুঁজতে ব্যস্ত। তিনি তৎক্ষণাৎ একপাশে রাখা ঝুলিখানি টেনে মাথায় ছুঁইয়ে বললেন,
এই গান! এমন গান কত লেবা বলো ক্যানে.. ঝুলি থেকে বের করে আমাকে দিলেন তাঁর প্রাণের আরাম গীতবিতান।
এই বইটো তোমার আছে বটে কিন্তু আমার মতন নাই। পাতা উল্টে দেখি, সেখানে প্রতিটি গান ইংরেজি অনুবাদ সহ। তারপর আবার সেই একই সুর….
মাই নেম ইজ মিস্টার ঘোষ
মাই গুরুদেব ইজ দুগো বিশ্বাস,
আই লিভ অ্যাট দেওয়ার।
“এ যে বিষম জ্বালা ঝালাপালা, দিবি সবায় পাগল করে।
ওরে, তুই কী এনেছিস, কী টেনেছিস ভাবের জালে?
তার কি মূল্য আছে কারো কাছে কোনো কালে?।
আমরা লাভের কাজে হাটের মাঝে ডাকি তোরে!
তুই কি সৃষ্টিছাড়া, নাইকো সাড়া, রয়েছিস কোন্ নেশায় ঘোরে।”
পাতা উল্টেপাল্টে ঠিক এখানেই চোখ আটকে গেল। রবি কবির খ্যাপামো তো বহুদূর বিস্তৃত, তাই এমনভাবে অনুভব করতে পারেন।
ভাবের ঘোর আর কাটে না, চলল প্রায় রাত্রি আটটা পর্যন্ত। আমরা ততক্ষণে বর আসার প্রতীক্ষায়। খানিক পরেই রেডিওর আওয়াজ পেয়ে বাইরের বারান্দায় এসে রেলিংয়ের ফাঁক দিয়ে দেখি অরোরা বরিয়েলিসের বিচ্ছুরণ…..
আই অ্যাম মিস্টার ঘোষ
মাই গুরুদেব ইজ দুগো বিশ্বাস,
আই লিভ অ্যাট দেওয়ার।
বোন ঘরের ভিতর থেকে আমাকে ডাকছে,”ওরে, তুই আর ওকে দ্যাখা দিস না, মিনি আর অনীশের আইবুড়ো নাম ঘুচুক।”

রাত পোহালেই ওদের বিয়ে।
এ বিয়ে বেশ অন্যরকম, বিজ্ঞানী মাতা পিতাকে বিবাহ প্রণালী সংক্রান্ত বহু গবেষণা করতে হয়েছে। বিয়ের মন্ত্র ঝাড়াই বাছাই করেছেন দুই বিদূষী পুরোহিত -মঞ্জিরা ও তুলিদি। তাঁরা কোনরকম লিঙ্গবৈষম্য মেনে নেননি। তাই কন্যাদান আচার বাদ। সিঁদুর দান করবে উভয়ে উভয়কে।
বিভিন্ন আঙ্গিকের গান দিয়ে আঞ্চলিক লোকাচারসহ কী যে সুন্দর করে এই বিবাহরীতির ভাষ্য তৈরি হল, তার একটি উদাহরণ দিই –
মঞ্জিরা: যথেমে দ্যাবা পৃথিবী সদ্যঃ পর্যেতি সূর্যঃ,
এবা পর্যেমি তে মনঃ|
তুলি: আকাশধরা রবিরে ঘিরি যেমন করি ফেরে,
আমার মন ঘিরিবে ফিরি তোমার হৃদয়েরে।
কত যে কান্ড, তর্কবিতর্ক সেসব নিয়ে! তার উপর আবার পৌষ মাসে ঘরের লক্ষ্মীদের পরের বাড়ি যেতে দিতে নেই। তবে সম্প্রদান যখন নেই, তখন কী বা পৌষ, কী বা মাঘ !
সমাজ মেয়েদের নিয়ে এখনও পাশা খেলে যাচ্ছে।
বর কিন্ত কলকাতা থেকে এসে গেছে। দুজনে একসঙ্গেই আইবুড়ো ভাত খেল। গায়ে হলুদ মাখবেও এ বাড়িতেই। তার পর বরযাত্রীদের আমি গ্রামের ইতিহাস ভূগোল চেনাতে নিয়ে যাব। রাইবেশে শিল্পীরা দেখাবে তাঁদের কসরত। তারপর পৌষের গোধূলি লগ্নে পুরনো নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জীর্ণ শীর্ণ মুখ থুবড়ে জেগে থাকা মুখার্জী দালানের নাটমন্দিরে বসবে বিয়ের আসর। উপনিষদের মন্ত্র গানে ঘুম ভাঙবে শ্যাওলা ধরা পলেস্তরায়, সহস্র গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে সমবেত সুধীজনেরা গেয়ে উঠবেন “প্রেমের মিলন দিনে….”।
ওহ দেখুন না, গানওয়ালার মতো বকবক করতে করতে ভুলেই গেছি বিয়ের পদ্য পড়ে শোনাতে। আসলে নিজের লেখা নিজমুখে অন্যদের পড়তে বলতে লজ্জা করছিল, কিন্তু লিখে বেশ আরাম পেয়েছি। কোনো একদিন ট্রেনে যেতে যেতেই লিখেছিলাম। সুর করে পড়া আর হয়ে ওঠেনি।

পৌষালী দিন লক্ষ্মী মাস শঙ্খ উলু সুরে
সাজিয়ে বাসর উষ্ণতার, আজকে মিনির বিয়ে
ধানের ছড়া, সর্ষে ফুল, শীত ছোপানো রোদ্দুর
বরণ ডালায় রইল সবই, সঙ্গে কিছু সুর সুমধুর।
পুরোনো সব কড়িকাঠে জমেছিল যত ধুলো
রাঙা হলুদ খবর পেয়ে তারাও হল আলো
মুখরিত ইমন কল্যাণ, প্রাঙ্গণে তার সহস্র অভ্যাগত
শোভাদেবীর পক্ষ থেকে সব্বাইকে, সাদর স্বাগত।
ইতিহাস যখন ঢেকে গেছে আগাছায়
কীভাবে দিই রামনগরের নগর পরিচয়
ময়ূরাক্ষী জেগে আছে আবিল পরিহাসে
ক্ষীণ ধারা প্রবাহে, বালিহীন মরিচীকায়।
একদা যেখানে পাল যুগে ছিল বাণিজ্য নগর
তারিণী মাঝির ঘাটে রয়ে গেছে শেষ চিহ্ন
ব্রিটিশরা সেখানেই গড়ে তোলেন বন্দর
যদিও নির্বাক এখন দেশের প্রথম রেশম কুঠিটিও।
অদূরেই রামনগর সাহোড়া বিদ্যালয়
বিষাদ চোখেও সভ্যতার মায়া
বহু গ্রাম এসে মিলেছে সেখানে
কত ছাত্র পেয়েছে জ্ঞানের ছায়া।
বৃহস্পতি ও রবিবার – আজও বসে শতাব্দী প্রাচীন হাট
প্রার্থনা করি, শস্যপূর্ণ থাক আমাদের চিরকল্যাণী মাঠ ঘাট।
এমনই এক গ্রাম-নগরের কন্যা মিনি, বাতাসে যাঁর সুগন্ধ মেলে
মাটির স্পর্শ, নদীর আশীষ, ছুঁইয়ে দিলাম সীমন্তিনী ভালে।
সাক্ষী হয়ে জেগে থাক আদি জীবন বৃক্ষপিতা রামেশ্বর
সাক্ষী থাক স্মৃতি বিস্মৃতি, পঙক্তিতে প্রেম যুগ ও যুগান্তর।
অমিয় হোক বরণ ডালা, ফিরুক সুজন বাংলার ঘরে ঘরে
পৌষ মাস লক্ষ্মী মাস, বাঁচুক পল্লী, বরেণ্য সবুজ প্রান্তরে।

কাবুলিওয়ালার আসার কথা ছিল, আসতে পারেনি। গোঁফ জোড়া কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসেছিল। কেউ তাঁর সেই রূপ ধরতে চাইনি। মিনির মায়ের খুব ইচ্ছে ছিল, ” তাঁর মতো কেউ সাজুক”। এ কাজ যে বড়ো কঠিন, প্রত্যেক কন্যার বাবা তা বোঝে, কিন্ত বোঝাতে পারেনা! তার বদলে হয়তো হাজির হয়েছিলেন এই গানওয়ালা ।
মাই নেম ইজ মিস্টার ঘোষ
মাই গুরুদেব ইজ দুগো বিশ্বাস,
আই লিভ অ্যাট দেওয়ার।
সানাই বেজে চলেছে। এই সুর শুনলেই আমার ভিতর কোনো এক রহমত হারানো সুরের মতো জেগে উঠে বলে, “খোঁখী, তোমি সসুরবাড়ি যাবিস?’
গল্প নয় সত্যি।
ভীষন ভালো লাগলো পড়ে। ছবির মত মিনীর বিয়ে চোখের সামনে ভেসে উঠল। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই সুন্দর লেখাটি আমাদের উপহার দেবার জন্য।
গিয়ে দেখতে পারিনি, প্রচুর কৌতুহল রয়ে গেছে এই অনন্য মেলবন্ধনের অনুষ্ঠান নিয়ে। আপনার অসাধারণ লেখায় কিছুটা compensated হল। ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার লেখায় দেশজ সংস্কৃতির সঙ্গে আধুনিক মননের মিশেলটি মনকে স্পর্শ করে। লেখাটিতে ছবি গ্রন্থনা ও সম্পাদনার কাজটি করতে গিয়ে এটা গভীরভাবে অনুভব করেছি। আপনার মনন ও কলম দীর্ঘজীবী হোক।