
১
মাস্টারমশাই শিখিয়েছিলেন কীভাবে ভয় পেতে হয়
মা বাবা বাড়ির বড়োরাও সকাল বিকেল সন্ধ্যা পাখিপড়া করে মুখস্থ করিয়েছিলেন ভয় পাওয়ার ইতিবাচক ফলাফল….
পাশের বাড়ির অকেজো লোকটা জীবন দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিল ভয় না পেলে সমাজ সংসার কীভাবে তলিয়ে যায় স্পর্ধার আকাশে……
প্রত্যেকটা বস সদর্পে ঘোষণা করেছে,
“ভয়, না পেলে বেরিয়ে যাও।”
ভয় পেতে পেতে কবেই হারিয়ে ফেলেছি ভাষা
এখন টুকি
কপি পেস্ট করে রচনা করি তোমার নামে আমার জান্নাত
আরো ভয় চাও
তবে এই নাও
বিক্রি করে দিচ্ছি সমস্ত কবিতা
সেইসব বিকৃত শব্দ পড়তে পড়তে
পাঠক, তুমিও হয়ে যাও রাজনৈতিক বন্দি
তোমার চারদিকে এখন কেবলই সুরা
ভয় পেলেই ডুবে যাও মদে
উপভোগ করো ভীত শব্দের খেলা।

২
ভেবেছিলাম কোনো একদিন
তোমাদের নিয়েই গড়ে তুলব আমার শহর
খুলে দেব জানালা – কাপলেটে এঁকে দেব সবুজ প্রহর।
ভৈরবী আলোর মতো প্রবেশ করবে সেখানে
কোনো এক দরবেশ
শ্বেতচন্দনের প্রলেপে স্নিগ্ধ হবে উদ্বাস্তু মন –
ঘুচে যাবে আলোর ছদ্মবেশ।
আজ খুব কষ্ট হচ্ছে
তবু আকাশে উঠেছে উজ্জ্বল চাঁদ
মেট্রো রেলের সুড়ঙ্গতে মায়েদের আলোচনা –
‘এ কোন পথে চলেছি আমরা – বাবার চকোলেটও ফিরিয়েছে মেয়ে – খোলা জানালার রোদ আঁকে ধ্বংসের ফাঁদ।’
হয়ত অভ্যাস হয়ে যাবে সবই
ছুঁড়ে ফেলে দেব দৈনিক সাময়িকী
কোনোদিন আচমকা ফিরে এলে তাকাবো নীড়হারা পথিকের মতো –
ভাবব
কাড়া আঁকাড়ায় ছিল না কোনো মেকি।
ঝাপসা শীতের কুয়াশা
একা একা ডুবে যাচ্ছি বড়দিনের অমনিবাসে
ওপারে অস্তগামী কর্ণ সূর্যালোক –
বহুদিন পর ফিরছি আবার শৈশবে , কৈশোরে , যৌবনের অন্ধকার নিরুদ্দেশে –
বিষণ্ন আকাশে শুধু জলছবি শোক।
ভুলে যাই এ হবার নয় –
শিকড়েবাকড়ে অকারণ খুঁজে ফিরি তোমাকেই
জল ছুঁয়ে থাকে আমাদের সীমানা
দূরে কোনো গাঙচিল অকারণ চেয়ে থাকে –
যদিও মনের ঘরে আছে তার ঠিকানা।
ভালোবাসা বৃষ্টি হয়ে ঝরে সে পথেই
লতায় পাতায় , শিল্পীতুলির জটিল রহস্য ক্ষুধায় –
আমার শহর কাঁদে – এভাবেই এভাবেই।
ভালো লেগেছে।