
প্রার্থনা
এই তো ছিল হালকা খবর, তাও লুকিয়ে মিথ্যে কথা!
রাগ আসে না খুব সহজে— তাই নিদারুণ বিনম্রতা।
দিন কেটে যায় অসম্ভবে, খোঁজ রাখি তাই অন্ধরাতে,
কেউ জানেনা সবাই থাকে, রাত্রে আমার প্রার্থনাতে।
এই তো জীবন একটা মোটে,
রাখব ধ’রে যতই হারাও—
সময় পেলেই খোঁজ নেব তাই
আমায় যতই উপেক্ষা দাও।
আমায় যতই যাও এড়িয়ে হাত তুলে তাও বলব আছি,
উল্টোদিকের ডাক আসে না; জল ছুঁয়ে তাও মুষড়ে বাঁচি।
এই তো আমার ক্লান্ত নদী যাই ভেসে যাই জলের সাথে,
শান্ত হ’য়ে রোজ খুঁজি দোষ আর ডুবি ফের আর্তনাদে—
সক্কলে তাই থাকবে আমার রাত্রিকালীন প্রার্থনা-তে।

শোভাবাজার
আমার কলেজ শোভাবাজারে
তবু যাইনি কখনও নিষিদ্ধ পল্লীতে,
আমি নৈতিকতার রাজপথে শুয়ে
অনায়াসে পারি যৌনতা গিলে নিতে।
দেখি মেট্রো রেলের সিড়ি থেকে উঠে
মানুষের গিজগিজ,
এই যানজটে যেন বোবা হয়ে গেল
রবীন্দ্রনাথ, কিটস।
আজও নির্ঘুম রাতে কোনো কোলরিজ
নেশা করে বসে আছে,
তবু উড়ে গেল সেই নাইটিঙ্গেল,
কবিতা আসেনি কাছে।
আমি মুখোশের ভিড়ে ঘুরতে ঘুরতে
ভুলে গেছি আজ মুখ,
আমি হাজার আঘাতে পুড়তে পুড়তে
প্রতারিত উজবুক।
আমি নির্মম বলে কেক কিনে খাই
Mio Amore থেকে আর,
ফুটপাতে থাকা বাচ্চা ছেলেটা
তাকিয়েছে বারবার।
সহনাগরিক অভুক্ত তাও ঝটপট করে
খেয়েছি গ্রীষ্মে শীতে,
তবু নৈতিকতার রাজপথে শুয়ে অনায়াসে পারি
যৌনতা গিলে নিতে।
আমি কোনটা পারি ও কোনটা পারিনা,
আমি কতোটা ভন্ড- নিজেও জানি না।
শুধু ভাগাভাগি করি ছাগলের মতো মূর্খে ও শিক্ষিতে,
আমি অর্থহীনের রাজপথে শুয়ে
অনায়াসে পারি কাব্যতা ছুঁড়ে নিতে।



দুটো কবিতাই বেশ লাগল। ভবিষ্যতে আরও পড়ার ইচ্ছে রইল।