শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Tag: Tanmay Bandyopadhyay

  • স্বেচ্ছাচার কবলিত রবীন্দ্রসঙ্গীত

    স্বেচ্ছাচার কবলিত রবীন্দ্রসঙ্গীত

    নিজের গান সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘এই পার্থিব জীবন ও পৃথিবীর মানুষকে আমি ভালোবেসেছি। এই ভালোবাসা রেখে গেলাম আমার গানের সুরে গেঁথে। মানুষ যদি মনে রাখে, তবে এই গান দিয়েই রাখবে।’ কবির প্রয়াণের পর চুরাশিটি শ্রাবণ অতিক্রান্ত। ইতিমধ্যে বাংলার শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির জগতে ঘটে গেছে আমূল পরিবর্তন, অনেক ভাঙচুর, অনেক পুনর্নির্মাণ। আধুনিক ভাবনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে…

  • আমার ‘বনফুল’ সন্দর্শন

    আমার ‘বনফুল’ সন্দর্শন

    বিস্মৃতিচারণা (১৪) সচেতন তারুণ্যে আমার প্রথম বাংলা সাহিত্যের বনস্পতি সন্দর্শন যাঁর সঙ্গে, তিনি ডাক্তার বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়, ওরফে বনফুল। আমার এই ক্ষুদ্র অতীতচারণার মুখবন্ধে বনফুল প্রসঙ্গে ভাষাতাত্ত্বিক আচার্য সুকুমার সেনের ‘বনফুলের ফুলবন’ গ্রন্থটি থেকে তাঁর দুটি উক্তি স্মরণ করতে ইচ্ছে করছে। তিনি বলেছিলেনঃ “তাঁর সাহিত্য সৃষ্টিতে ’ফুল’ আছে, ‘বন’ অর্থাৎ উপবন – ফলপ্রসু ও ছায়াবৃক্ষও আছে।…

  • গায়ক রবীন্দ্রনাথ এবং তাঁর সংরক্ষিত কন্ঠ

    গায়ক রবীন্দ্রনাথ এবং তাঁর সংরক্ষিত কন্ঠ

    আমাদের একটি দুঃখ কোনোদিন যাবেনা, যে দাপুটে কণ্ঠে ১৮৯৬ খৃস্টাব্দে বিডন স্কোয়ারে কংগ্রেসের অধিবেশনে যুবক রবীন্দ্রনাথ বিনা মাইক্রোফোনে শুধু জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিয়ানো বাদনের সঙ্গে ‘বন্দে-মাতরম’ গানটি গেয়ে প্রায় দশহাজার দর্শক-শ্রোতাকে মুগ্ধ এবংউদ্দীপ্ত করেছিলেন, সেই কন্ঠটিকে কোনো প্রযুক্তি দিয়ে ধরে রাখা যায় নি।কিম্বা ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট হলে যে কণ্ঠের গান শুনে ’রবিরশ্মি’ বইয়ের লেখক চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সভা…

  • বিচিত্র অটোগ্রাফ সংগ্রহকথা : উদয়শঙ্কর ও ইমরান খান

    বিচিত্র অটোগ্রাফ সংগ্রহকথা : উদয়শঙ্কর ও ইমরান খান

    কৈশোরের ঠিক কোন সময়টি থেকে অটোগ্রাফ সংগ্রহের নেশা আমাকে পেয়ে বসেছিল তা আর আজ মনে পড়ে না। তবে এটুকু মনে আছে, আমার মায়ের কাছে তাঁর তরুণীবেলার একটি কাহিনি গোগ্রাসে গিলেছিলাম।

  • মানব সভ্যতায় বেগ ও আবেগ

    মানব সভ্যতায় বেগ ও আবেগ

    বিগত শতকের চারের দশকে দিল্লির ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক পটভূমিতে লেখা সাড়া জাগানো গ্রন্থ ‘দৃষ্টিপাত’-এ ‘যাযাবর’ ছদ্মনামের আড়ালে খ্যাতিমান সাংবাদিক-সাহিত্যিক বিনয় মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন – “আধুনিক বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে আবেগ। তাতে আছে গতির আনন্দ, নেই যতির আয়েস।” মন্তব্যটি বিগত আট দশক ধরে সাহিত্য-পিপাসু বাঙালির মনের মণিকোঠায় আজও সজীব, যা আলাপে আলোচনায় প্রবন্ধে নিবন্ধে অতি ব্যবহারেও…

  • রেবতীভূষণ

    রেবতীভূষণ

    চলচ্চিত্র প্রযোজক বি এন সরকারের অনুরোধে বাংলা ভাষার সর্বপ্রথম অ্যানিমেশান ছবি ‘মিচকে পটাশ’এর চরিত্রায়ণ রেবতীভূষণেরই। ছবি আঁকার পাশাপাশি ছড়া লেখা, গান বাজনা, সাঁতারেও রেবতীভূষণের বিপুল উৎসাহ আজীবনের। তাঁর রচিত ছড়ার সঙ্কলনটির নাম “ছড়ানো বই”।

  • বিশ্বাস, ভক্তি, প্রাপ্তি ও কিছু প্রশ্ন

    বিশ্বাস, ভক্তি, প্রাপ্তি ও কিছু প্রশ্ন

          পুরাকালে, যেন বহু জন্মের আগে, সুর ও অসুর, সৎ ও অসৎ, দু’টি পক্ষ ক্ষীরসমুদ্র মন্থন করেছিল অমৃত কুম্ভের সন্ধানে। সেই মহামন্থনের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল হলাহল, যা ধারণ করে নীলকণ্ঠ হলেন মহাশিব। আর অমৃত? সে যে শত সাধনার ধন! সবটুকু কালকূট কেবল মহাদেবের জন্য নির্ধারিত হলেও মৃত সঞ্জীবনী সুধা অমৃতের ভাগ ছাড়তে তো দিতি বা…

  • শ্রুতিতে পত্রসাহিত্যঃ রবীন্দ্রনাথের চিঠি অমিয় চক্রবর্তীকে

    শ্রুতিতে পত্রসাহিত্যঃ রবীন্দ্রনাথের চিঠি অমিয় চক্রবর্তীকে

    রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের উল্লেখযোগ্য কবি অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০১ সালে। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর যখন যোগাযোগ হয়, তিনি তখন ১৬ বছরের একটি কিশোর। অচিরেই কবির স্নেহধন্য হয়ে ওঠেন অমিয়। সেই সময়টিতে তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার অকালবিয়োগে সে প্রবলভাবে কাতর ও চূড়ান্ত অবসাদগ্রস্ত অবস্থায় দিনযাপন করছে। স্নেহসিক্ত কবি এক অসামান্য মনোবিদের মত একটির পর একটি চিঠিতে উজ্জীবিত করতে থাকেন…

  • ‘মাংপবী’ মৈত্রেয়ী দেবীর সান্নিধ্য-সুখ

    ‘মাংপবী’ মৈত্রেয়ী দেবীর সান্নিধ্য-সুখ

    বিস্মৃতিচারণা (১১) সময়টা আশির দশকের একেবারে গোড়ার দিক। সম্ভবত ১৯৮১ সাল। আমার পিতৃদেবের আগ্রহে বাড়িতে আসতে লাগল মৈত্রেয়ী দেবীর একের পর এক অসামান্য সব গ্রন্থ। ‘ন হন্যতে’ পড়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। এরপর হাতে এল ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ’। নেশা গভীর হল। আরও, আরও, আরও। এক মহীরুহর মানসকন্যার কলমে বিশ্ববরেণ্য কবির ব্যক্তিসত্তার অন্তরমথিত করা অনিঃশেষ উন্মোচন। পরের পর…

  • হাসির সাতকাহন ও বাঙালি

    হাসির সাতকাহন ও বাঙালি

    মানুষের অভিব্যক্তির সর্বোত্তম প্রকাশ হাসিতে। প্রফুল্লতা, আনন্দ, উচ্ছ্বাস হইতে শুরু করিয়া বেদনা, যন্ত্রণা, দুঃখ পর্যন্ত নানা আঙ্গিকের হাসির রকমফেরে আবেগের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ। পৃথিবীতে মানুষই একমাত্র প্রাণী যে হাসিতে জানে, হাসিকে মূলধন করিয়া বন্ধুত্বের বন্ধনীতে বাঁধা পড়ে। হাসির স্বপক্ষে সর্বাপেক্ষা বড় যুক্তি বোধহয় ইহাই যে হাসির আবেদন সার্বজনীন, দেশ-কাল, এমনকি ভাষা-নিরপেক্ষ। দেশ ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে…