Tag: Sourav Howlader

চড়ক ও চৈত্র-সেল
পুনরায় চৈত্র আসিয়া পড়িল। বাংলার মানুষের শীত এবং বসন্তের আতিশয্য কাটিতে না কাটিতে যাবতীয় দাবদাহর প্রতিশ্রুতি লইয়া তিনি প্রকৃতি মঞ্চে আবির্ভূত হন। বাজারে নতুন পঞ্জিকা আসিয়া গিয়াছে। পলাশ শিমূলের রঙে রুদ্ররূপের প্রস্তুতিও অনুভূত হয়। কিছুকাল পূর্বেও গাজন সন্ন্যাসীদিগের সুর করিয়া “বাবা তারকনাথের চরণে সেবা লাগে, মহাদেব” শব্দবন্ধ পাড়ার অলিতে গলিতে ধ্বনিত হইত। গৃহস্থ বাড়ি হইতে…

অলি-র কথা শুনে
“এলেক্সা, একটা গান চালাবে?”“নিশ্চয়ই, কী গান শুনতে চাও?”“শুক্রবারের রাত, হাতে ডবল অন দ্য রক্স। কী শোনা উচিত?”“গজল জাতীয় কিছু? নাকি আইরিশ কান্ট্রি সঙ বা বাংলা ভাটিয়ালি? বা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ‘অলির কথা শুনে…’”“হেমন্তের গান চলতে পারে, তবে ওই গানটি নয়।”“বেশ, ওটা না হয় বাদ দিলাম।”“যা হয়, তুমি চালাও।”“শুধু ইনস্ট্রুমেন্টাল মেলোডি? চলবে?”“সব চলবে, পর পর দাও।”“বেশ। তবে…

ধর্ম
“ধর্ম এব হতো হন্তি ধর্ম রক্ষতি রক্ষিতঃ।” মহাভারত বন পর্ব! অর্থাৎ , ধর্মকে তুমি রক্ষা করিলে, ধর্ম তোমাকে অবশ্যই রক্ষা করিবে । পক্ষান্তরে যদি তুমি ধর্ম হইতে বিচ্যুত হও, তবে ধর্মই তোমাকে নির্মমভাবে বিনাশ করিবে। অতএব সর্বদা ধর্মের পথে বিরাজ। যাহা ধারণ করে তাহাই ধর্ম। এক্ষণে প্রশ্ন জাগ্রত হয়, কী ধারণ করে? একক মানব চেতন…

গল্পপাঠের আসর- অকূল দরিয়া
এবারের সংখ্যায় শ্রুতিপাঠে সম্প্রতি প্রকাশিত অসামান্য একটি ছোটগল্প ‘অকূল দরিয়া’র সংযোগ রবিচক্রের পাঠক শ্রোতাদের জন্য। গল্পটির লেখক ও কথক সৌরভ হাওলাদার, গানে কাঞ্চন বন্দ্যোপাধ্যায়।নিজের দেশ গ্রাম হারিয়ে আসা সর্বস্বান্ত এক বৃদ্ধের কবি জসীমুদ্দিনের গানের সুরের স্পর্শে আপন মনোজগতকে ফিরে পাবার এক মর্মস্পর্শী কাহিনি। [গল্প শুনতে নিচের ইউটিউব বোতামে ক্লিক করুন। কোন কারণে, বোতামটি আসতে দেরী…

বুড়ি ছোঁয়া
“চীনের প্রেসিডেন্টের ছেলে আমার ছবি তুলে নিয়ে গেছে।”কথাটা শুনে সাত্যকি ঘুরে তাকায়। লোকটার ফুল হাতা সোয়েটার, মাঙ্কি ক্যাপ, গলায় মাফলার। সাত্যকির হাসি পেয়ে যায়। কলকাতায় শীত পড়ল কি পড়লনা, কিছু মানুষ সঙ্গে সঙ্গে এত রকম গরম পোশাক বার করে ফেলবে, যেন বরফ পড়ছে! লোকটির পোশাক পরিচ্ছদ দেখে, কেন ফিরে তাকিয়েছিল, ভুলে যায় সাত্যকি। আবার ঘাড়…

প্রাতঃস্মরণীয়
বাংলায় একটা শব্দ আছে, প্রাতঃস্মরণীয়। এমন শব্দবন্ধ অন্য ভাষায় একই ব্যঞ্জনায় আছে কিনা জানা নেই। ‘শব্দ’-এর ব্যবহারের সঙ্গে, সেই ভাষাভাষী নাগরিক চরিত্র সুস্পষ্ট হয়। একসময় বাঙালির নিশ্চয়ই দৃঢ় বিশ্বাস ছিল; এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের কথা সকাল সকাল স্মরণ করলে, দিন ভাল কাটে। ঘরের দেওয়ালে এই সেদিন পর্যন্ত এই সব যুগন্ধর ব্যক্তিত্বর ছবি টাঙানো থাকত,…

ইন্টারেস্টিং
কাল দুপুরের পর আর খাওয়া হয়নি। আজও সূর্য মাথায় উঠে গিয়েছে। সে সবের মধ্যেও রাস্তা দিয়ে হাঁটছে রতন, যেমন সবাই হাঁটে তেমনই। অনেক লোক আশেপাশে। মহিলা পুরুষ, কয়েকটা পথ কুকুর, এলোমেলো কাক, দুয়েকটা শালিক, গোছা ধরে পায়রা। প্রতিদিন যেমন হয়, কোথাও কোন পরিবর্তন নেই। একেই কি আবহমান বলে? মানুষের ষাট সত্তর আশি বছরের কূপমাত্র জীবনে…

“বাঙালির ঘরে যত ভাই বোন…”
ইছামতির পাশে বসতে ভাল লাগে। জল পেরোলেই সাতক্ষীরা। সে অন্য দেশের গল্প। ভাবতে কেমন মনে হয়? ‘অন্য দেশ’ অর্থ অন্য কিছু? যা আমার মতো নয়? অথচ সীমান্ত পেরলে একই মানুষ, সার দিয়ে গ্রাম বাংলা, একই কান্না হাসি ছড়িয়ে ছিটিয়ে। একই রোদের নিচে একই ভাষায় জড়াজড়ি করে থাকে। পুরোন যাঁরা এখনও আছেন, তাঁদের গলায় ‘হারানোর হাহাকার’…

‘জগৎ-পারাবারের তীরে…’
উৎসব রাতের পর সকালের সূর্য বড় ম্লান হয়ে যায়। হেমন্তে ফসল প্রসবের পর প্রকৃতি যেন ক্লান্ত। তার সেই এলিয়ে পড়া মাঠ শুয়ে থাকে কুয়াশায়। সকালে ঘাসের ওপর শিশিরের ছোঁয়া পায়ে জড়িয়ে যায়। যদিও শহুরে মানুষ, প্রকৃতির উপস্থিতি তেমন ভাবে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পান না, তবু নাগরিক জীবন থিতু হতে চায়। ভাল বা মন্দ কাজের পরিণতিকে…

আবর্জনা
চোরাপথে হাওয়া ঢোকে। মনকে অশান্ত করে তোলে। রণজয়, বিশ্বাস করতে চায় না, যে ওরও মন আছে। অথচ বর্ষার পর আকাশটা মাছরাঙার গলার মতো নীল হয়ে যায়। পাখিটা রোজ পূবদিকের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের বিশাল জলাধারের পাশে এসে বসে। চারপাশে সার দিয়ে লাগানো নারকেল বীথির কোন একটার মগডালের সবুজ পাতার ওপরে মূর্তির মতো স্থির। হঠাৎ একটা তীব্র…
