শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

দুপাশ দিয়ে বড় বড় গাছগুলো, জঙ্গলের ভেতরে রাস্তা ঢেকে রেখেছে। রাতের অন্ধকারে জয়ন্ত-র মনে হচ্ছে, একটা লম্বা কালো সুড়ঙ্গের মধ্যে ঢুকে গেছে। হাল্কা বৃষ্টির মতো হচ্ছে। তাপমাত্রা ঝপ করে চার পাঁচ ডিগ্রি কমে গেল। শীত-শীত শিরশিরানি বোধ জয়ন্তকে আলতো নাড়া নিয়ে যায়, স্টিয়ারিং একটু কেঁপে উঠল। হঠাৎ গাড়ির জিপিএস ট্র্যাকার বলে ওঠে, “ভিজিবিলিটি উইল বি পুওর, অ্যাহেড।” সত্যি সত্যি একটু পরেই উইন্ডস্ক্রিন জুড়ে জলীয় বাষ্পের পুরু আস্তরণ পড়ে যায়। ওয়াইপার চালিয়েও পরিস্কার হয় না। সেই ঝাপসা কাচের ওপর অন্যদিক থেকে আসা গাড়ির হেডলাইট প্রতিফলিত হয়ে চোখে সর্ষের ফুল দেখার মত ঝিকিয়ে ওঠে। একবার মনে হয়, গাড়ি একপাশে দাঁড় করিয়ে দেয়। কিন্তু এ তো তেমন ঝুম বৃষ্টি নয়, যে থামার জন্য অপেক্ষা করবে। বাতাসে ভেসে থাকা গাঢ় জলীয় বাষ্প ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে সরে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। খুবই সন্তর্পনে গাড়ি চালাবার চেষ্টা করে জয়ন্ত। এমন সময়, সামনে একটা ট্রাকের দেখা পাওয়া গেল। ওর পিছনের লাল বাতিদুটো যেন জয়ন্তর দিক-নির্দেশের উপায়।

এবার মনের চাপ কতকটা হাল্কা হল, জয়ন্ত ট্রাকটির পিছন পিছন চলতে থাকে। ফলতঃ সামনের রাস্তা দেখা না গেলেও ওর কোন সমস্যা নেই, ট্রাকটিই ওকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে। ভাড়ার গাড়ির পিছনে নানা রকমের দার্শনিক কথা লেখা দেখা যায়। এই ট্রাকটির পিছনের লেখাটা পড়ে, জয়ন্তর গায়ে কাঁটা ফুটে ওঠে, ‘বন্ধু, এই পথই শেষ’।

ট্রাকের পিছনে আশ্রয় নেওয়ার সৌভাগ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। জঙ্গলের রাস্তায় হাইওয়ে পেট্রল দাঁড়িয়ে থাকে। তারা টর্চ দেখিয়ে ট্রাকটি দাঁড় করায়, হয়তো কোন বিশেষ তল্লাশি হবে। জয়ন্তর গাড়ির সামনে থেকে ট্রাকের আড়াল সরে যায়। এখন সামনে আবার ধূসর পথ। হেডলাইটের আলো বড়জোর পঞ্চাশ মিটার আলোকিত করছে, তারপরেই ঘোলাটে সাদা কুয়াশার আচ্ছাদনে পথ হারিয়ে গেছে। জয়ন্ত ভাবতে থাকে ঠিক কী করা উচিত? গুলঞ্চতলা পৌঁছতে এখনও তিরিশ-পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার বাকি। অন্যসময়, এটুকু রাস্তা পার করতে জয়ন্তর পঁয়তাল্লিশ মিনিটের বেশি লাগার কথা নয়, অথচ আজ রাতে এই পথটাই যেন দুর্লঙ্ঘ্য মনে হচ্ছে।

সেই সকাল থেকে গাড়ি চালাচ্ছে, একেবারে ঘরে পৌঁছে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য মন প্রস্তুত হয়ে আছে। তাই যাত্রার শেষ পর্যায়ে এসে থামতে মন চাইছে না। কিন্তু সব কিছু তো নিজের চাহিদা অনুসারে হয়না। গাঢ় কুয়াশা ভেদ করে, হঠাৎই সামনে চলে আসে একটা ব্যারিকেড। রাস্তার মাঝখানে দাঁড় করানো সেই কাঠামোর ওপর একটা হাতে লেখা কাগজ টাঙানো রয়েছে, “রাস্তা বন্ধ”। জয়ন্তর গাড়িতে তেমন গতি ছিলনা, আচমকা ব্রেক কষে দাঁড়াতে অসুবিধা হয়নি। ইঞ্জিন বন্ধ করতেই হেডলাইট নিভে যায়, গোটা পৃথিবীর যেন পাতাল প্রবেশ হয়ে গেল।

অন্ধকার সয়ে নিতে খানিক সময় লাগে। জয়ন্তর চারিদিকে বড়বড় শাল সেগুনের জঙ্গল, মাথার ওপর পাতায় ঢাকা আকাশ, সেখানে কোন তারা বা চাঁদের অস্তিত্ব নেই, হয়তো মেঘ জমে আছে। আর মাটিতে রয়েছে কুয়াশার আচ্ছাদন।

উপায় না দেখে দরজা খুলে নিচে নামে জয়ন্ত। রাস্তার সামনে পিছনে অন্য কোন গাড়ির হেডলাইট বা টেইললাইট কিছুই দেখা যাচ্ছে না। সব জঙ্গলের একটা নিজস্ব গন্ধ থাকে, সেখানকার পাতা, ফুল, পশু, পাখি, কীট, পতঙ্গর মিলিত ঘ্রাণ। মিশমিশে অন্ধকারে ঝিরঝির বৃষ্টির মধ্যে সেই অন্যরকম ঘ্রাণ জয়ন্তর প্রতিটি ইন্দ্রিয়কে প্রভাবিত করে।

ঠিক তখন অন্ধকার ফুঁড়ে একটি বাচ্চা ছেলে বেরিয়ে এল। “রাস্তা তো বন্ধ আছে, স্যার।” আবছায়াতে জয়ন্ত বোঝে, আগন্তুক আকৃতিতে একটি কিশোরের মতো হলেও, এক মুখ দাড়ি গোঁফ নিয়ে আদতে পূর্ণবয়স্ক পুরুষ। অন্ধকারের মধ্যেও লক্ষ করে, ওর বুকের ওপর একটা বড় গোলাপি রঙের পাথর। জয়ন্ত একটু ধাতস্থ হয়ে জিজ্ঞেস করে, “তাহলে আমি গুলঞ্চতলা যাব কী করে?”

“এদিক দিয়ে তো যাওয়া যাবে না। আপনাকে একটু পিছিয়ে গিয়ে ঝিলমবাজারের রাস্তা ধরতে হবে।”

“ঝিলমবাজার? সে তো প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার আগে ফেলে এসেছি!”

“এছাড়া উপায় নেই। এখানে কাজ হচ্ছে। সকালের আগে রাস্তা খুলবে না”

জয়ন্ত ভাবনায় পড়ে যায়। এই লোকটির কথা অনুযায়ী যদি ঘুর পথে যেতে হয়, গুলঞ্চতলা পৌঁছতে সকালই হয়ে যাবে। এতক্ষণ গাড়ি চালানোর গতিতে ছিল, কিন্তু এখন মাটিতে নামার পর খুব ক্লান্ত লাগছে। ঠিক করে, গাড়িতেই একটু ঘুমিয়ে নেবে। আগন্তুক বোধহয় কিছু বুঝলো, “আপনি এখানে গাড়ি রেখে আমার সঙ্গে আসতে পারেন।”

জয়ন্ত অবাক হয়ে বলে, “কোথায়?”

লোকটা হাসে, দাড়ি গোঁফের জঙ্গলে লেগে থাকা কুয়াশার ভেতর হাসিটা কেমন লেপটে থাকে আর বুকের গোলাপি পাথরটা ঝিকিয়ে ওঠে, “আমরা জঙ্গলের মানুষ, আপনি আমাদের কাছে বাকি রাতটা বিশ্রাম নিতে পারেন।”

বিশ্রাম শব্দটা জয়ন্তকে টানছে।

জয়ন্ত দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে গাড়ি লক করে। তারপর লোকটির পিছন পিছন জঙ্গলের পথে ঢুকে পড়ে। পথ বলতে যা বোঝায়, এখানে তেমন কিছু মালুম হচ্ছে না। বড় বড় গাছের ফাঁক দিয়ে পায়ে চলার মতন সামান্য একটু ঘাস জমি। তার ভেতর দিয়ে দুজন চলতে থাকে। উঁচু নিচু মাটির ওপর লম্বা লম্বা ঘাস, পা ফেলে এগিয়ে যাওয়া বেশ দুষ্কর। জয়ন্ত বুঝতে পারে ওর সামনের মানুষটি এই ঘাসের ভেতর পা ফেলে চলতে অভ্যস্ত। বুনো খরগোশের মতো প্রায় লাফিয়ে লাফিয়ে চলেছে। দুদিকের গাছগুলো থেকে ছোট ছোট ডালপালা যেন হাত বাড়িয়ে জয়ন্তর চলা আটকে দিতে চাইছে। সে সব দুহাতে সরিয়ে, জয়ন্ত চলেছে। ডালপালার ধাক্কায় মাঝেমাঝে হাতে গলায় গালে আঘাত লাগছে, মনে হচ্ছে যেন চামড়া কেটে গেল, কিন্তু থামতে পারছে না। সামনের লোকটি সমানে এগিয়ে চলেছে। জঙ্গলের ভেতর এখন পথ হারালে আরও বিপদ! সাপখোপ বা হিংস্র জানোয়ারও থাকতে পারে, জয়ন্ত ভয়ে সিঁটিয়ে থাকে, কেন যে দুম করে লোকটার কথায় রাজি হল? গাড়িতে ঘুমিয়ে দিব্যি রাতটুকু পার করে দিতে পারত।

জঙ্গলের ভেতর ঠিক কতটা হেঁটেছে, মনে করতে পারে না, হঠাৎ গুমগুম আওয়াজে গোটা পৃথিবীটা যেন দুলে উঠল। সামনের লোকটা ভয়ার্ত গলায় বলে ওঠে, “পালাও!”

জয়ন্ত বুঝতে পারেনা, কেন পালাবে? আর কোথায় পালাবে? কিন্তু ওর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলতে থাকে, ভীষণ বিপদ! পালাও!

গুমগুম শব্দটা ক্রমশঃ বাড়ছে, মাটি কাঁপছে। জয়ন্ত অনুভব করে, ভূমিকম্প। কী করবে? শুয়ে পড়বে? ওই লোকটিই বা কোথায় গেল? বিশাল বিশাল প্রাচীন গাছগুলো দুলছে। হুড়মুড় করে গাছেরা একে অন্যের ওপর হেলে পড়ছে। অন্ধকারের মধ্যে জয়ন্ত প্রলয় প্রত্যক্ষ করে। একটা প্রবল জলোচ্ছাসের শব্দ, একই সঙ্গে বৃষ্টি নামল, তুমুল বৃষ্টি। জয়ন্তর সামনে একটা হেলে পড়া বড় গাছের গুঁড়ি। খানিক প্রতিবর্ত ক্রিয়াতে সেই গুঁড়ির ওপর উঠে পড়ে।

সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটা বুনো জন্তু উর্ধশ্বাসে দৌড়ে গেল। তার মধ্যে ওটা কী? অত বড়! জয়ন্তর হৃদপিন্ড শুকিয়ে যায়, ওটা কী সেই বই-এর পাতায় দেখা ব্রাকিওসরাস? জয়ন্ত গাছটা বেয়ে যতটা সম্ভব ওপরের দিকে উঠে যায়। ভয়ে আতঙ্কে, এই অসম্ভব দুর্যোগের মধ্যে জয়ন্ত নিজের হৃদস্পন্দন সবচেয়ে জোরে শুনতে পাচ্ছে। আজই সমগ্র পৃথিবী যেন পথের শেষে এসে দাঁড়িয়েছে। গাছের একটা ডাল জড়িয়ে ধরে, ক্রমান্বয়ে ইষ্টনাম জপ করতে থাকে।

এভাবে কতক্ষণ কেটেছে মনে নেই। বুঝতে পারে যে এখনও মৃত্যু হয়নি, চোখ তুলে চারিদিক বোঝার চেষ্টা করে। ওপর থেকে অনেকটা দূর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। মেঘের অন্ধকার কেটে সামান্য একটু আলো চেনা যায়। তুমুল বৃষ্টির মধ্যে একটা প্রবল স্রোত চতুর্দিক ভাসিয়ে এদিকে ধেয়ে আসছে। জঙ্গলের বড় বড় গাছগুলোকে অন্ধকারে খড়কুটোর মতো মনে হচ্ছে। তারা সব ভাসতে ভাসতে একদিক থেকে অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। জয়ন্তর গাছটি অল্পের জন্য এই ভয়ঙ্কর স্রোত থেকে রেহাই পেয়েছে। এই দাপুটে নদীর পাড় থেকে বেশ খানিক দূরত্বে হেলে পড়েও দাঁড়িয়ে রইল। জয়ন্ত খেয়াল করে, শুধু গাছপালা নয়, ভেসে চলেছে অজস্র পশু। ওপর থেকে বুঝতে পারে, সেগুলো আকারে আয়তনে বেশ বড়, যেন কোন প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে উঠে এসেছে। আর্ত পশুগুলোর কান ফাটানো চিৎকার শোনা যাচ্ছে। জয়ন্তর খুব ক্লান্ত লাগছে। ওর সামনেই একটা বড় পাখি, ঠিক যেন বই-এ পড়া আর্কিওপ্টেরিক্স। পাখিটাও যেন ভয় পেয়ে রয়েছে। ঘাড় বেঁকিয়ে জয়ন্তর দিকে তাকিয়ে আবার চোখ ঘুরিয়ে ফেলে। জয়ন্তও মোটা একটা ডালে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

কতক্ষণ এইভাবে কেটেছে জানা নেই। রোদের তাপে ঘুম ভাঙে। বেলা কত হল? জয়ন্ত উঠে বসে। এখনও গুলঞ্চতলায় পৌঁছানো হয়নি। তবে যে ভয়ঙ্কর দুর্যোগ হল, গ্রামের সব বাড়িঘর কি আছে? ঠিক তখন একজন ডেকে ওঠে, “কী মশাই ঘুম ভাঙল?”

জয়ন্ত চোখ মেলে দেখে একজন সৌম্যদর্শন মানুষ দাঁড়িয়ে, “আরে! কত আর ঘুমবেন?”

“ঝড় থেমেছে?”

“আপনার কী মনে হয়? ঝড় হচ্ছে?”

জয়ন্ত একটু অপ্রস্তুত হয়ে যায়। চারিদিকে ঝলমল করছে রোদ। ঝড় বৃষ্টির কোন চিহ্নমাত্র নেই। ভদ্রলোকের সঙ্গে বেশ কয়েকটি অল্পবয়সী ছেলেমেয়ে রয়েছে। ওদের পোশাক দেখে মনে হচ্ছে স্কুলের ছাত্র ছাত্রী, সকলেই এক ইউনিফর্ম পরে আছে। ভদ্রলোকটি বেশ সপ্রতিভ, “আপনাকে দেখে খুব ক্লান্ত মনে হচ্ছিল, তাই ডাকিনি। আমরা ঝিলমবাজার হাইস্কুল থেকে এসেছি। প্রকৃতি পড়ুয়ার ক্লাস।”

জয়ন্ত জিজ্ঞাসু চোখে তাকায়, “ওরা গাছপালা চিনছে?”

“শুধু গাছ নয়, এখানে আরও বিস্ময়কর জিনিস রয়েছে, গাছের ফসিল অর্থাৎ জীবাশ্ম।” এই বলে, ভদ্রলোক আঙুল নির্দেশ করে দেখান। জয়ন্ত তাকিয়ে দেখে, বড় বড় পাথরের তৈরি গাছের অংশ বিশেষ। কোনটা সবজেটে, কোনটা গোলাপি, কোনটা কালো।

জয়ন্ত অবাক হয়ে বলে, “এগুলো জীবাশ্ম!”

“হ্যাঁ কয়েক কোটি বছর আগে কোন ভূমিকম্পের কারণে এরা মাটির নিচে এমন জায়গাতে চলে গিয়েছিল, যেখানে অক্সিজেন পৌঁছয় না। তাই পচন ধরে মাটির সঙ্গে মিশে যায়নি। বরঞ্চ মাটির চাপে বিভিন্ন খনিজ দ্রব্যর বিক্রিয়াতে এই গাছেরা প্রস্তরীভূত হয়ে যায়। যেখানে যেমন খনিজ পদার্থ থাকে, সেখানে তেমন রূপ পরিগ্রহ করে। যেমন ওই পাথরটি সবজেটে, ওটাতে তামার পরিমাণ বেশি আছে। অন্যদিকে ওই গাছের পাথরটি গোলাপি, ওখানে ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে।”

জয়ন্ত ভদ্রলোকের দৃষ্টি অনুসরণ করে একটা পাথরের দিকে তাকায়। বিশাল গাছের আকৃতির পাথরটিতে আলো পড়ে গোলাপি রঙ ঝিকিয়ে উঠছে। মুহূর্তে গতরাতের সেই খর্বকায় মানুষটির বুকে ঝোলানো পাথরের কথা মনে পড়ে যায়। জয়ন্ত অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে, “এই গাছগুলো কতদিন আগের হবে?”

“সঠিক বয়স বুঝতে পরীক্ষা করতে হবে। তবে আনুমানিক কয়েক কোটি বৎসর আগে, এরা তাদের বৃক্ষ পরিচয় হারিয়ে ফেলেছে।”

জয়ন্ত দু-পা এগিয়ে গোলাপি পাথরের গাছটিকে স্পর্শ করে, “এটা কী গাছ ছিল? শাল বা সেগুন জাতীয় কিছু?”

“আকৃতি দেখে তেমন মনে হচ্ছে না। যদিও শুধু দেখে সবটা বলা যায় না। প্রাচীন গন্ডোয়ানা ল্যান্ড-এ হয়তো এমন গাছ ছিল।”

“তাহলে এরা এখানে কী করে এলো?”

ভদ্রলোক চশমা মুছে সামনে আসেন, ছাত্রছাত্রীদের ইঙ্গিতে নোট নিতে বলেন। ছেলেমেয়েরা পাথরগুলো সম্পর্কে ওদের মাস্টামশাইয়ের কথা, নিজেদের খাতায় লিখতে থাকে। ভদ্রলোক বলতে থাকেন, “হতে পারে কোন ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল থেকে গাছগুলো কোনভাবে এখানে এসেছে।”

“কীভাবে এল? মানুষ নিজের কাজের জন্য এনেছিল?”

এবার ভদ্রলোক হেসে ওঠেন, “ওই সময় মানুষ কোথায়? চারিদিকে হয়তো ডায়নোসর বা ম্যামথ চরে বেড়াচ্ছে।”

কথাটা শোনামাত্র জয়ন্ত চমকে ওঠে, “তাহলে কী করে এল? পশুরা নিশ্চয় এই গাছ ঘাড়ে করে আনবে না?”

“হতে পারে, ভূমিকম্পের ফলে, প্রবল জলচ্ছাসের সৃষ্টি হয়, সেই অপ্রতিরোধ্য ফ্ল্যাশ ফ্লাড অথবা হড়পা বানে সব ভেসে এখানে আসে, তারপর কোন ফাটল দিয়ে পাতাল প্রবেশ করে।” এতটা বলে একটু থেমে আবার বলেন, “যদিও এসব আমার কল্পনা।”

জয়ন্ত ভাবে, “না এসব কল্পনা নয়।” কিন্তু মুখে বলতে পারে না। “এই পাথরগুলো কী গয়নায় ব্যবহৃত হয়?” জয়ন্ত আঙুল তুলে ওই গোলাপি পাথরটাকে দেখায়।

ভদ্রলোক ভ্রূ কুঁচকে তাকান, “এমন গয়না পরে কাউকে দেখেছেন নাকি?”

জয়ন্তর কথা জোগায় না। গতরাতের সেই লোকটির বুকে ঝোলানো পাথরটা অবিকল এমনই ছিল। কিন্তু এসব কথা বললে যদি এরা হেসে ফেলে? তাই আর কিছু না বলে, জিজ্ঞেস করে, “বড় রাস্তা কোন দিকে?”

ভদ্রলোক আঙুল তুলে রাস্তা দেখিয়ে দেন। জয়ন্ত হাত জোড় করে বিদায় জানায়। এখন জঙ্গল থেকে বেরিয়ে ওর গাড়িটির কাছে পৌঁছতে হবে। গুলঞ্চতলা এখনও অনেক দূর!

অনলাইনে বই সংগ্রহ করতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন। ২০২৬ কলকাতা বইমেলায় প্রাপ্তিস্থান- পরম্পরা প্রকাশন, স্টল নম্বর ৩৫৫

[লেখকের রবিচক্রে পূর্ব প্রকাশিত রচনা]

অন্যত্র প্রকাশিত কিছু গল্পঃ

শোকযাত্রা – ছোট গল্প

ঠাঁই – ছোট গল্প
গয়না – ছোট গল্প
ছোটদের গল্প: পুজো আসছে
শাড়ি
পূর্বাভাস
অভিযোগ
জঙ্গলের প্রতিশোধ
গল্পঃ ঘুড়ি
মানুষ

আরও গল্প

বাংলা লাইভে প্রকাশিত গল্প


আপনি এই পত্রিকা পড়ছেন জেনে ভাল লাগল।

নতুন লেখা বা ভিডিও সংযোজন, অথবা রবিচক্রের অন্যান্য খবরাখবর সম্পর্কে জানতে, ইমেল নথিভুক্ত করতে পারেন।

We don’t spam! Read our privacy policy for more information.


5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x