
(১)
তখন ছিল সন্তুলন, অল্প ছিল চাওয়া,
দপ্তরেতে অলস পাখা, এখন শীতাতপ,
বদলিয়াছে যাপন রেখা, উচ্চাশার দিক –
পাইয়াছিলে মসী জীবন এক্ষণে ল্যাপটপ।

“বদল” শুধু রাজনীতির? মুঢ়তা এ যে ভারি,
ভিক্ষুকের বদল আসে, দেবতা বদলায়,
উহাই শুধু সুনিশ্চিত সময় সম্ভব,
ঘাঁটিয়া দেখো ইতিহাসের পর্চা কোবালায়।
আমিও জানি – তুমিও জান ধন্ধ তবু থাকে,
বসন্ত যে আসিল দ্বারে – তুমি কি কিছু জান ?
জানালা নীল, বারান্দাতে কুসুম ভরা মাস,
কোকিলও বুঝি ডাকিল – আহা! প্রাকৃত সোপ্রানো।
তোমার ঘর অন্য কোথা, আমারও সব আছে,
পুত্র, দারা, পিঠে চাপড়, মাসিক বখশিশ।
পাঁচটি ঋতু কাটে যেমন কাঠেতে উইপোকা,
বাকিটি বড় বেয়াড়া – কানে স্মৃতির ফিস ফিস।

সত্য – সবি চলিয়া গেছে তিন দশক পার,
সত্য আজি রক্তে শুধু ওষুধ বহে যায়,
ভ্রু-কুঞ্চিত ভিষক মাপে প্রায়শ “লাপ ডুপ”,
কি হবে এই জীবন লয়ে? গভীর সংশয়।
সকল কিছু বদল হলে মানুষ যাবে কই ?
ও নিভাননী – বছর ভোর অবচেতনে থাকো।
কিন্তু যেই কুসুম ফোটে, বাতাস তির্যক –
হিন্দোল যে হৃদয়ে বাজে, বধির হয়ো না কো।
পাঠক তব মুখের হাসি ব্যঙ্গে বঙ্কিম,
ভাবিছ মনে প্রেমের তবে পেনসনও কি আছে ?
সফলতার তুঙ্গ ঢাক নীরব করে খোঁজো –
সবার মনে নিভাননী, শাক ঢাকে না মাছে।

(২)
বাতাস বড় বিস্ফোরক, পর্ণমোচী তরু,
আকাশলীনা পলাশ শাখা খুনখারাপি লাল,
জবা কুসুম সূর্য হাসে, বসন্ত যে দ্বারে। –
ও নিভাননী – লিখিয়াছিলে হাঁটুতে গোলমাল?
প্রাকৃত কার পদধ্বনি, নূপুর ছমছম,
পিকের শিষ, অহর্নিশ, যেন অকস্মাৎ –
হৃদয় ঘাটে ছলাৎ ছল ষাঁড়াষাড়ির বাণ।
পত্র-যোগে জানায়েছিলে গ্রন্থি গত বাত।

সকালে যবে খাটালে যাই দুগ্ধ সন্ধানী,
একটি শাখা শিমূল দেখি পলাশ ডালে মেশে।
রৌদ্র বাড়ে আমি সে ছায়ে নীরবে বসে থাকি।
ও নিভাননী একাকী থাকা, কাহার কল্মষে?
অভ্র-লেহী মিনার, তার কুঠরি গুহাপম,
নগরে সেই কপোতাবাসে ছানাপোনার বাস।
দুয়ের ঠাঁই হবে না তাই যা হল যৌক্তিক –
উকিল ছাড়া ভাঙিয়া গেল দীর্ঘ সহবাস।

তনয় বয় জননী ভার, দুহিতা নিল পিতা।
বিমানে পথ ঘণ্টা দুই, দুজনা দুই ধারে।
ভৌম সুখ অপরিমিত, রয়েছে সমাদরও,
তবুও কহো – সন্তান কি সকলই দিতে পারে?
রক্তে চাপ, পলি ও চিনি, যমের উঁকি ঝুঁকি।
খেদ কি তাহে? বেদনা হোক শ্মশানে অবসৃত।
বাতাসে যাহা অম্লজান, সন্নিকটে তুমি,
যেমত ছিল সেই জীবন ভরসা সংবৃত।
সেই জীবনে অপ্রতুল, অপূর্ণতা ছিল।
ধন্ধ, দ্বেষ, দোষারোপন – অসার বাতুলতা।
মুগ্ধ বোধ কহিব – হেন ফাগুন বুঝি নাই,
আমি তো ছিনু কণ্টিকারি, তুমি ব্রিড়াবনতা।
পীড়া দায়ক তোমার হাঁটু , আমার হৃদি বড়,
জরাও আছে। থাকুক চল – ঐক্য বাসে ফিরি।
ডাকিবে যবে পরম পিতা স্ব-গৃহে ফিরে যাব।
যে কটি দিন প্রবাসে আছি – থাকিব যূথচারী।



রসরাজের কলমে অসামান্য একটি কবিতা। রম্যরচনা জাতীয় গদ্য লেখায় আপনার পারদর্শিতা সম্পর্কে আমরা অবহিত । কিন্তু কবিতা ও ছন্দের অঙ্গনেও আপনার যে স্বচ্ছন্দ কুশলতা দেখছি, তাতে আপনাকে কোন বিভাগে ফেলব আর এরপর থেকে কোন ধরনের লেখার আর্জি জানাবো, রীতিমতো ধন্দে পড়ে যাচ্ছি।
চমৎকা!