শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

“এটা কী গো বিশুদা? কী যেন বলছিলে সেদিন তোমার কাছে নাকি কয়েকটা মুখশুদ্ধি আছে? তাও নাকি আবার তিব্বতের কোন সাধুবাবার কাছ থেকে পাওয়া! এই সেই বস্তুটি বুঝি? কৈ দাও দেখি একটু টেস্ট করে দেখি!”
ডাইনিং টেবিলে রাখা মাঝারি মাপের একটা পাউচ ব্যাগ তুলে বিশুদার দিকে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিলাম।

প্রতি রবিবার লাঞ্চের পর বিশুদার বাড়িতে এই দুপুরের আড্ডাটা এক্কেবারে নিয়ম মেনে চলে আসছে বছরের পর বছর। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, পুজো-পার্বণ নির্বিশেষে। এটা না হলে বড্ড খালি খালি, কী যেন একটা মিসিং-মিসিং মনে হয় পুরো সপ্তাহটা জুড়ে। তবে লাঞ্চে মাটনটা যেন সত্যিই একটু বেশিই টানা হয়ে গেছে আজ। আর আমার মা বানায়ও বটে বেশ জম্পেশ করে। প্রতিবার খেয়েই প্রতিজ্ঞা করি, পরের বার ঠিক বুঝেসুঝে খাবো। কিন্তু ব্যাস! ওই অবধি। তারপর পাতে মাটনের টুকরোগুলো পড়লে যে কী হয়! হাত-মুখ দুটোই চলতে থাকে ব্রেকফেল গাড়ির মতো। তো পেটটা সত্যিই আজ একটু আঁই-ঢাঁই করছে বৈ কি! পাতের শেষে জলপাই এর চাটনিটা ছিল বটে। খেলামও বেশ তৃপ্তি করে। তবুও কেন জানিনা, বিশুদা’র বাড়িতে এলেই যেন মনটা কেমন খাই-খাই করে ওঠে। জিভটা একটু বেশি মাত্রাতেই তাই সুড়সুড় করছে আজ।
পেটপুজো সেরে বিশুদা সবেমাত্র ইজি চেয়ারটায় শুয়ে আয়েশ করে জোড়া পানের ছিলিমটা মুখে পুড়েছেন। হালকা লয়ে চিবোতে চিবোতে চোখ বন্ধ করে শীতের দুপুরে ব্যালকনির হালকা রোদ পোয়ানোর মজাই নাকি আলাদা। এই সময়টা উনি আবার মিনিট দশেক মিউট মোডে চলে যান।
“আরে ও বিশুদা, এটাই কি তোমার সেই ম্যাজিক মুখশুদ্ধি? দু’টো দানা চেখে দেখি তা হলে?”
একটু বিরক্তি নিয়ে চোখ দুটো বন্ধ করেই উত্তর দেন- -‘ওরে বাবা! একটু রসে। তর যেন আর সয়না তোর।’
পাউচের ভেতর থেকে কয়েকটা দানা বের করে দেখার লোভ সামলাতে পারলাম না। কিন্তু এ কী! -‘এগুলো কী গো? কেমন যেন কেঠো-কেঠো ! মশলাপাতিও দেখছিনা গায়ে লেগে আছে কোনও। এ আবার কোন দেশি হজমগুলি গো? তুমি শিওর তো?’
একটু সন্দেহবাতিক হয়েই জিজ্ঞাসা করি।
‘এটাই তোদের সমস্যা। বুঝলি তো!’ খিঁচিয়ে ওঠে বিশুদা। ‘সবেতেই পন্ডিতগিরি দেখানোর স্বভাবটা আর গেলো না।’
আর বোলো না তুমি! মনে মনে বললাম। জীবনে ভুলবো না! বিশুদার কাছ থেকে গার্ডেনিং এর জন্য মাটি সংগ্রহের ঘটনাটা। গতবছর পুজোর আগে। কত্তা-গিন্নী মিলে আন্দামানে বেড়াতে গিয়েছিলেন সপ্তাহ দুয়েকের জন্য। এদিকে আমার বাবার এক ছাত্রী বাবাকে একটা গোলাপের চারা এনে দিয়েছিল। নেহাৎ মাটির অভাবে পোঁতা যাচ্ছিল না।

‘আরে আমি থাকতে চিন্তা কী!’-
মনে পড়ায় ছুট লাগালাম বিশুদা’র বাড়ির দিকে। বিশুদা বলে রেখেছিলেন যে সার মেশানো ভালো মাটি নাকি ওকে বানিয়ে দিয়ে গেছে ওর সুদক্ষ মালী।
বাড়িতে ঢোকার মুখেই দুদিকে এক ফালি করে কিছুটা খোলা জায়গা। আর সেখানেই বিশুদার যত্ত কেরামতি। সাত মিশালি রঙের হাজারো ফুল গাছের সম্ভার জায়গাটা জুড়ে। জবা, টগর, বেল, জুঁই, নয়নতারা, মাধবীলতা, কল্কে থেকে শুরু করে শীতকালে মরশুমি দোপাটি, চন্দ্রমল্লিকা আরো কত কী! গোলাপেরই তো নয়-নয় করেও কম করে গোটা পাঁচেক ভ্যারাইটি।


শীতকালে সূর্যমুখী-ডালিয়া-দোপাটি-চন্দ্রমল্লিকার সাজে পুরো বাগানটাই নয়, আমাদের পাড়ার জৌলুসটাও বেড়ে যায় অনেকখানি। শুনলে বিশ্বাস হবেনা, কোত্থেকে কোত্থেকে লোকজনও ঠিক চলে আসে বিশুদার সাধের বাগান দেখতে। এ তো গেল ফুলের বাহার। বাড়ির পেছনটা আবার ছোটখাটো ফার্ম হাউস গোছের। সেখানে সারা বছর ফলন হয় উচ্ছে, টম্যাটো, বেগুন, কাঁচালঙ্কা, লাউ, কুমড়ো, ঝিঙা। আর শীতকালে স্পেশাল ফুলকপি, বাঁধাকপি আর ধনেপাতা আর বম্বেটে লঙ্কা। শীতের সন্ধ্যায় তাই প্রত্যেকটা সপ্তাহান্তে কিংবা ছুটির দিনে সান্ধ্য আড্ডায় ফুলকপির শিঙাড়া থেকে শুরু করে ভেজিটেবল চপ, লঙ্কা, ধনেপাতার বড়া দিয়ে আড্ডাটা একেবারে হতেই হবে। যেকোনও মূল্যেই। তবে, এই গার্ডেনিং এর আগাগোড়া পুরোটাই হয় আমাদের গ্রেট বিশুদা’র খাটাখাটনিতে। মালী কাকু আসে ওই মাসে একবার কি দুবার। কিছুটা তদারকি আর টুকিটাকি উপদেশ দিতে। সার-কীটনাশক-বীজ এর খুঁটিনাটি থেকে অর্গানিক ফার্মিং এর নতুন খবরাখবর এসব নিয়ে চলে আলোচনা।
প্রফেশনাল টাচ ছাড়া নাকি ফিনিশিং-টা ঠিক আসেনা- মনে প্রাণে বিশ্বাস আমাদের বিশুদার। তবে হ্যাঁ! বৌদির অবদানও কিন্তু কম নয়। শুকনো হাড়গোড়-ডিমের খোলা, ভেজানো সর্ষে খোল দিয়ে আজ অর্গানিক সার বানানো তো কাল কোথা থেকে নিত্য নতুন চারাগাছ জোগাড় করা— এসব লেগেই আছে বারো মাস জুড়ে। তার ওপর বিশুদাকে সামলানো। ওনার ‘প্রখর স্মৃতিশক্তির’ দৌলতে আজ কোদাল খুঁজে পায়না তো কাল বেলচা। খুরপি আর কাস্তে তো হাত পা গজিয়ে নিজে নিজেই ঘুরে বেড়ায় এদিক ওদিক। এই সমস্ত কিছুর ঝক্কি পোহাতে হয় সেই বৌদিকেই।
ছোটখাটো ছিমছাম দোতলা বাড়ির সীমানাটা বেশ লম্বা সারি করে সুপারি গাছ দিয়ে ঘেরা। সব মিলিয়ে এক্কেবারে ছবির মত।
মেইন গেট খুলে বাড়ির চৌহদ্দিটা ভালো করে চোখ বুলিয়ে নিলাম। কিন্তু এদিক ওদিক তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোত্থাও আলাদা করে রাখা কোনও মাটির হদিশ পেলামনা।
আরে ওটা কী? বড় একটা বস্তা মতন! সবেধন নীলমণির আশায় দৌড়ে গেলাম বাড়ির কোনে দেয়ালের কাছে।
কিন্তু কই? কোথায় মাটি? এ তো আধা বস্তা একটা সিমেন্টের বস্তা মোটে! অথচ, সকালেই তো ফোনে বারবার কনফার্ম করলেন বিশুদা।
হতাশ হয়ে লাগালাম একটা হোয়াটস আপ ভিডিও কল। বিশুদা কলটা রিসিভ করলো একটু দেরিতে। ভিডিও ধরতেই দেখি বিশুদা আর বৌদি বসে আছে হোটেলের ডাইনিং-এ। সামনে অজস্র রকমারি পদের বাহার! জিভটা কেমন সুরসুর করে উঠলো। পেটের ইঁদুরগুলো না জানি বিদ্রোহ করে ওঠে আবার। তাই দেরি না করে ঝটপট মোবাইল ফোনের লেন্সটা তাক করলাম বিশুদার বাড়ির পেছনের দেওয়াল সংলগ্ন জায়গাটায়।
“কোথায় গো? কোথায় তোমার স্পেশাল মাটি? তন্নতন্ন করে খুঁজেও পেলাম না কিন্তু….!”
“পেলি না মানে? মালী কাকাকে আমি পই পই করে বলে এসেছি মাটিটাকে ওখানে রেখে দিতে যত্ন করে। ভালো করে খুঁজে দ্যাখ। তোরাও হয়েছিস বটে। না আছে কোনও মনোযোগ না ধৈর্য!”
“সবই তো বুঝলাম। কিন্তু না থাকলে খুঁজেই বা কী হবে শুনি?”
“আরে ধুর বোকা! ওই তো ওটা। ওটা কী তোর সামনে দেখতে পাচ্ছিস না যে বড়?”


“এটা? এটা তো সিমেন্ট মেশানো রাবিশ গো। এতো মিহি আবার মাটি হয় নাকি তাও আবার কেমন যেন কালো কালো?”
রীতিমত বকাঝকা দিয়ে জোর জবরদস্তি বিশ্বাস করতে বাধ্য করালো আমায় বিশুদা। হ্যাঁ। ওটাই নাকি অতি উর্বর গার্ডেনিং এর বিশেষ মাটি। বিশেষ উপায়ে কারিগরি করে অতি উর্বর সেই মাটি বানানো হয়েছে। তারপর যা হলো, সে তো ইতিহাস! মাটি ভেবে ভরাট করা তিন-তিনটে সাধের টব আমার আজ রক সলিড শক্ত সিমেন্টের মনুমেন্ট। ওহ্ কিছু দৃঢ়তা ও প্রত্যয় বটে!

পানটা প্যায়ার সে চিবোতে চিবোতে বলা শুরু করে বিশুদা।

“বুঝলি সে এক আজব গল্প! সিকিমের জঙ্গলে ট্রেকিং করতে গিয়ে পথ হারিয়ে ঢুকে পড়েছিলুম তিব্বতের কোন এক গ্রামে। সেখানেই পরিচয় ওয়াংচুক লামার সাথে। মৌনী বাবা । বছরে মাত্র একদিন মুখ খোলেন তাও আবার আধ বেলা। তামাম দুনিয়ার কোনও ভাষাই নাকি নেই তাঁর কাছে অজানা। ভক্তকুলের চাহনির ভঙ্গি-ই ওনার কাছে একম ও অদ্বিতীয়ম সংকেত। আমাকে দেখা মাত্রই ভূত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ নিমেষে বলে ফেললেন। মানে ইশারায় অবিশ্যি। পাশে বসা দুটো চ্যালা চামুণ্ডা ব্যাখ্যা করে দিল।
আর সাথে দিলেন একটা ছোট্ট থলিতে ভরা কিছু হজমিগুলি গোছের। দোভাষী স্যাঙাৎ দুটো বলে দিল খাবারের পরে একটা করে খেয়ে নিতে। পাথরও নাকি হজম করে দেবে। তাও স্রেফ এক ঘণ্টায়।”
বলতে বলতে চোখ মুখ উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে।
গর্বে যেন বুকের ছাতিটা ইঞ্চি খানেক বেড়ে যায় বিশুদার।
“আয়ুর্বেদিক গুণাগুণে ভরপুর বুঝলি? টাচ উড্। ওটা খেয়ে আমার হজমের সব সমস্যা এক্কেবারে টা-টা বাই বাই আপাতত।’ বলতে থাকে বিশুদা। সকালে লুচি-আলুরদম, ডিমভাজা তো দুপুরে চিংড়ি পোলাও মাটন আর রাতে ইলিশ চিকেন তন্দুরি ! সাথে ভরপুর দই মিষ্টি তো লেগেই আছে।”
অতিমারি কোভিড উত্তর পর্বে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চলছে। মাসে দু-চারবার আপিস যেতে হয়। ওখানকার ক্যাফে-ক্যান্টিনের খাবারে নাকি সেই জুৎটাই নেই, যেটা বৌদির হাতের জাদুতে আছে।

“জানিসই তো খাবারদাবার অপচয় করাটা মোটেই পছন্দ করিনা আমি।”
“হুঁ হুঁ সে আর বলতে!” বিশুদা’র ‘হ্যাঁ’-তে হ্যাঁ মেলানোটাই এখন সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ এ সময়। মনে পড়ে গেল, সে বার টাকিতে পিকনিকে গিয়ে বৌদির শুধুমাত্র একটা কথাতেই সে কী রাগ!


শুধু “একটু বুঝেশুনে খেয়ো গো!” এটুকুই ছিল বৌদির ‘স্লিপ অফ টাং’। ব্যস! আর যায় কোথায়! রেগেমেগে খাবেনা খাবেনা বলে শেষমেশ সবাই মিলে অনেক অনুনয়-বিনয় করাতে নয়-নয় করেও ৬ টা ফিশফ্রাই, চার-চারটে করে কাতলা, পাবদা, কম করে ডজন খানেক প্রমাণ সাইজের কষা খাসির পিস, প্রায় আধ হাঁড়ি ভাতের সাথে। এক জামবাটি কুলের চাটনি। আর সবার শেষে গুনেগুনে দশ-দশটা পেল্লাই সাইজের রাজভোগ আর আধ ডজন পান্তুয়া! শেষ পাতে মিষ্টি খাওয়া নাকি হজমের পক্ষে ভালো ওঁর কথায়। সত্যি! রাগই বটে। বেঁচে থাক এরকম রাগ।
অবিশ্যি, বিশুদা নিজে যেমন ভোজনরসিক, সেরকম অন্যকে খাইয়েও যেন তার থেকেও বেশি মজা পান। আমাদের ডেকে ডেকে আজ এটা তো কাল ওটা। এরকম ভুরিভোজ লেগেই আছে। খেতে খেতেও যেন হাঁফ ধরে যায়।
“তোদের কথা সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ে গেলো রে। যা জন্ম-পেটুক তোরা! তায় পেট রোগা। বিশেষ অনুরোধে আরো এক পাউচ নিয়ে আসলাম।” বেশ তারিয়ে তারিয়ে বলতে থাকে বিশুদা।
“খেয়ে দ্যাখ দেখি একবার। হাতেনাতে বুঝবি, খিদে পাওয়া কাকে বলে!”
মনে মনে বললাম, ‘এর ওপরে আবার খিদে! দিবানিশি সব সময়ই তো মনে হয় পেটের ভেতর এক গণ্ডা ছুঁচো ডন মারে! তার ওপর যত না পেটের খিদে তার থেকে বেশি চোখের।’
“কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ফেরার সময় একটা মোটা অঙ্কের রাশি উৎসর্গ করে এসেছি অবিশ্যি লামাজী’র আশ্রমে। জানিসই তো আমি একটু আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী…”
বলতে বলতে চোখমুখ কেমন ভাবুক হয়ে যায় বিশুদা’র।
আশ্রমের চারপাশটা নাকি একটু সংস্কার করবে। বাবাজিকে পেন্নাম ঠুকে যেই উঠতে যাবো হুট করে হাত দুটো তুলে আমাকে অপেক্ষা করার ভঙ্গি করলেন। মনে মনে কী যেন বিড়বিড় করে হাতটা শূন্যে বার কয়েক পাক খাইয়ে কোত্থেকে একটা ছোট্ট কাপড়ের পাউচ তুলে ধরলেন আমার চোখের সামনে। চ্যালা দুটোর ইশারায় করজোড়ে হাত মেলে ধরলাম আর টুপ করে হাতে এসে পড়লো বাবার আশীর্বাদ। ওটা নাকি অতি দুর্লভ সহস্রপদ্মের বীজ। সুদূর মানস সরোবরেও নাকি এই জাতের পদ্ম ফোঁটে। একদম অরিজিনাল। তো আমতা আমতা করে বলেই ফেললুম, “মানে ইয়ে সে তো বুঝলাম, কিন্তু আমাদের দশমাস গরমের রাজ্যে ফুল ফোটা থাক, এই বীজ থেকে চারা গজাবে তো?”
বাবাজির ঘাড়টা দেখলাম কেমন আশ্বাস দেওয়ার মতো ওপর নিচে দুবার দুলে উঠলো। মানে এই যে, ‘চিন্তার কিচ্ছু নেই। স্রেফ পাতি জলেই নাকি তরতরিয়ে বাড়বে, সাথে ফুলের ফুলঝুরি!’ একটা চ্যালা ফোড়ন কাটল পাশ থেকে।


মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনছি বিশুদার বাবাজি-বর্ণন। মুখে দেওয়া দু-দুটো মুখশুদ্ধি ততক্ষণে আমার দুই গালে জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু এ কেমনতর পাচন গুলি? কোনও স্বাদ তো দূরের কথা! কেমন যেন কষ কষ আবার! হতেই পারে। মন্ত্রপূত বলে কথা! যাকগে, কামড় দিয়ে চাপ দিলে বরং স্বাদটা বেরোতে পারে! এই ভেবে মারলাম কড়কড় করে গোটা চারেক মোক্ষম রাম-কামড়। এই রে…! গতমাসেই করা দাঁতের ফিলিংটা গেলো বুঝি খসে!

আরে আমার সহস্রপদ্মের বীজের থলেটা কোথায় গেলো আবার! আর পারিনা বাপু। এখানেই তো ছিল! গেল কোথায় ! সারাদিন ধরে শুধু খুঁজি আর খুঁজি!
ব্যালকনি থেকে হাতে একগাদা মাটি ঝেড়ে হন্তদন্ত হয়ে ডাইনিং টেবিলে কী যেন হন্যে হয়ে খুঁজতে লাগল বৌদি।
“আরে নিলুর হাতে এটা কী? আরে হ্যাঁ, এটাই তো!”
আমার সবেধন নীলমণি এই তো সেই বীজের পাউচ ব্যাগ! কিন্তু এ কী! দুটো বীজ কম কেনো? সকালে উঠেই তো গুনে গুনে দেখলাম…!
“অ্যাঁ!!!!! সে কী? মানে?” বলে তিড়িং করে লাফিয়ে উঠলাম চেয়ার ছেড়ে।

মুখের ভেতর সহস্রপদ্মের বীজের দানা ততক্ষণে দাঁতের কামড়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ! সহস্রগুঁড়োয় বললেও বাড়াবাড়ি বলা হবে না বোধহয়। অর্ধেক পরিমাণ গুঁড়ো হয়ে পেটের মধ্যে চালানও হয়ে গেছে ইতিমধ্যে।

[লেখকের অন্য রচনা]

আপনি এই পত্রিকা পড়ছেন জেনে ভাল লাগল।

নতুন লেখা বা ভিডিও সংযোজন, অথবা রবিচক্রের অন্যান্য খবরাখবর সম্পর্কে জানতে, ইমেল নথিভুক্ত করতে পারেন।

We don’t spam! Read our privacy policy for more information.