
পরিমলবাবু ওষুধের বাক্স থেকে নিয়মমাফিক আজকের ওষুধগুলো বের করে টেবিলের উপর রাখলেন। তাঁর বয়স সত্তরের কাছাকাছি। বয়সের অসুখগুলো হাত ধরাধরি করে তাঁর সঙ্গী। হাই ব্লাডপ্রেসার, সুগার, কোলেস্টেরল, হার্ট আর লিভারের অসুখ। ঝকঝকে ফয়েল থেকে আঙুলের চাপ দিয়ে ট্যাবলেট ও ক্যাপসুলগুলো বের করে ফেললেন পরিমলবাবু।
আড়াই বছরের নাতি পিকু, দাদুর কাজকর্ম নিরীক্ষণ করছিল মন দিয়ে। এবার প্রশ্ন — ” দাদু এগুলো নজেন্স? আমি খাব?”
পরিমলবাবু হা হা করে হেসে উঠলেন নাতির প্রশ্ন শুনে। –
-“হ্যাঁ রে ব্যাটা, লজেন্সই বটে। বুড়োছেলের লজেন্স। খাবি নাকি? দাঁড়া, এক গ্লাস জল নিয়ে আসি আগে।”
এক গ্লাস জল নিয়ে মিনিট পাঁচেক পর যখন ঘরে ঢুকলেন, কোথায় কী? একটা ওষুধও টেবিলে নেই।
ভয়ে বিবর্ণ হয়ে গেল তাঁর মুখ। গ্লাসটা ঠকাস করে নামিয়ে নাতির মুখ চেপে ধরলেন। নাতি গাঁ গাঁ করে উঠল। ওর হাঁ মুখখানার ভিতর যতদূর দৃষ্টি ছড়ানো যায়, ছড়িয়ে দিলেন পরিমলবাবু। না:! কিচ্ছু বোঝা যাচ্ছে না। নির্ঘাত গিলে ফেলেছে ওষুধগুলো। পরিমলবাবু ভয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন, ” প্রতিমা, শিগগির এসো। সর্বনাশ হয়ে গেছে।”

প্রতিমাদেবী তখন কাজের ফিরিস্তি নিয়ে ডলির সঙ্গে বকবক করে চলেছেন। কী কী রান্না হবে, কোন কোন রান্নায় কী কী মশলা পড়বে, মাছের বড়ো টুকরোগুলো কায়দা করে ছোটো করে কাটতে হবে, ডালটা যেন রাঁধুনি দিয়ে ফোড়ন দেয় — সংসারের এইসব খুটিনাটি। যতসব অকাজের ফিরিস্তি। ডলি হাত- টাত ধুয়ে কোমরে আঁচল জড়িয়েছে সবে, পরিমলবাবুর চিৎকার শুনে চমকে উঠল। প্রতিমাদেবীকে ঠ্যালা দিয়ে বলল, “ও দিদা, আগে দেখ, দাদুর কী হল? শিগগির যাও ওই ঘরে। তোমার শুধু কথা আর কথা।”
প্রতিমাদেবী কান খাড়া করলেন। সত্যিই তো, এ ডাক তো সে ডাক নয়। রীতিমতো ভয় পেলেন তিনি। বাতগ্রস্ত ভারী শরীরটাকে টেনে হিঁচড়ে এই ঘরে ঢুকে দেখলেন পরিমলবাবুর চোখ বিস্ফারিত। ভয়ে ফ্যাকাসে হয়ে গেছে তাঁর মুখ। পাশে দাঁড়িয়ে পিকু হাসছে মিটিমিটি। প্রতিমাদেবী ধপ করে বসে পড়লেন বিছানায়।
–” কী হল গো? স্ট্রোক হয়নি তো? বুকের বাঁদিকে ব্যথা করছে? দেখি, দেখি, ঘাম ছাড়ছে নাকি?” পরিমলবাবুর বুকে পিঠে তিনি আকুলভাবে হাত বোলাতে থাকলেন।
–” নিকুচি করেছে তোমার। আমাকে না দেখে নাতিকে দেখ, নাতিকে। আমার ওষুধগুলো গিলে ফেলেছে ব্যাটা।”
— ” অ্যাঁ!” এবার প্রতিমাদেবীর চোখ কপালে। ” কী করে? তুমি দ্যাখোনি? এমন সর্বনাশ কী করে হল? তোমার আক্কেল কবে হবে বল তো? ওর কাছ থেকে ওষুধগুলো সরিয়ে রাখবে তো! এখন কী হবে!”
–” আরে, ওষুধগুলো রেখে জল আনতে গেছি। পাঁচ মিনিটের মধ্যে তোমার নাতি কাজ সেরে ফেলবে, জানা ছিল, নাকি?”
পরিমলবাবু আর প্রতিমাদেবীর পরিত্রাহি চিৎকারে আনাজপাতি আর মাছের টুকরো ফেলে দুদ্দাড় করে ছুটে এসেছে ডলি। ওদের কথাবার্তায় বুদ্ধিমতী ডলি বুঝে নিয়েছে এবার কিংকর্তব্য। সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলের বোতাম টিপেছে। দাদা আর বৌদিমণির ফোন নম্বর তো করায়ত্ত। বুড়োবুড়ি আর একজন শিশু, থুড়ি তিনজন শিশুকে তো সে একা হাতেই সামলাচ্ছে। যখন তখন বিপদ ঘটে যেতে পারে।
–” ও পিকু, দাদুর ওষুধগুলো কি গিলে ফেলেছিস নাকি? সত্যি করে বল দাদা, ক্যাডবেরি দেব। আইসক্রিম খাওয়াব, খেলনা কিনে দেব। সোনা আমার, বল, বল না ভাই।”
পিকু হাসছে, ঘাড় নাড়ছে, চোখ পিটপিট করছে। দাদু আর ঠাম্মাকে বিপদে ফেলে এ কেমন খেলা!
–” দেব গালে এক থাপ্পড়। বদমাশ ছেলে। এখনও দুধের বোতল ছাড়েনি পুরোপুরি, আর দাদু ঠাম্মাকে ল্যাজে খেলাচ্ছ?”

এদিকে ডলি মোবাইল কানে ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘরময়। বড়ো বড়ো চোখে, কোঁচকানো ভুরুতে, মুখের তুবড়িতে,
” বৌদিমণি, শিগগির এসো দাদাবাবুকে সঙ্গে নিয়ে। পিকু দাদুর ওষুধগুলো গিলে ফেলেছে।”মিলিতা আর সৌম্য তখন সবে গলির মুখে। মিলিতাকে স্কুলে নামিয়ে সৌম্য অফিসে দৌড়াবে। আজ তার জরুরি মিটিং। মিলিতার চোখমুখের অবস্থা দেখে ঘ্যাচাং করে ব্রেক কষল সৌম্য। মিলিতা কথা বলতে পারছে না। ওর হাত থেকে মোবাইলটা ছিনিয়ে নিয়ে লাস্ট নাম্বারে রিং ব্যাক করে যা জানার জেনে নিল সৌম্য। মিলিতা তখন অঝোর ধারায় কেঁদে চলেছে। গাড়ি ঘোরালো সৌম্য। সরু গলিটার মুখে মিনিট পাঁচেক গাড়িটা থেমে থাকার জন্য ছোট্ট একটা যানজট। অটো, সাইকেল, দু- তিনটে গাড়ি। পথচলতি মানুষ।
— ” ডিসগাস্টিং! কেন যে এমন একটা জায়গায় বাড়ি করলাম? আর তোমাকেও বলিহারি! এখন কেঁদে ভাসালে কী হবে? চাকরির শখ মিটেছে? আমার ছেলের যদি কিছু হয়ে যায় মিলি, তোমার কপালে দু:খ আছে।”
চোখের জল- টল মুছে মিলিতা এখন স্বাধীন স্বাবলম্বী নারী।
— ” তোমার ছেলে মানে, আমার ছেলে না? চাকরির শখ মানে? আমার উপার্জনের টাকায় সংসারের সাশ্রয় হয় না বলছ?”
মিলিতার রূপ- বদলে এবার সৌম্যও ভয় পেয়েছে। নরম গলায় বলল, “এখন মাথাগরম কোরো না মিলি। ছেলেটাকে আগে বাঁচাতে হবে তো?”
–” আমার পিকুর কী হবে গো? এতক্ষণে মারাত্মক ওষুধগুলো নিশ্চয়ই তার কাজ শুরু করে দিয়েছে।”
ভয়ে উদ্বেগে মিলিতা আকুল কান্নায় ঢলে পড়ল সৌম্যর কাঁধে।

” কিওর নার্সিংহোম “। বাইরেটা দিব্যি ঝকমক করছে। মনে হচ্ছে ব্যবস্থাপত্র ভালোই। বাড়ি থেকে এই নার্সিংহোমটাই সবচেয়ে কাছে। সৌম্যর মাথা এখন আর কাজ করছে না। দেরি না করে পিকুর স্টমাক এখুনি ওয়াশ করাতে হবে। মিলিতা পিকুকে বুকের মধ্যে চেপে এখনও কাঁদছে। এই অবস্থায় সৌম্যকেই মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।
ভিজিটরদের জন্য ছোট্ট লাউঞ্জ। একপাশে রিসেপশন কাউন্টার। অন্যপাশে অফিস। রিশেপশন কাউন্টারে ল্যাপটপ আর টেলিফোন। দু’ জন কমবয়সী মেয়ে ঠোঁটে মাপা হাসি আর লিপস্টিক মেখে বসে। সাদা পোষাকে কয়েকজন নার্স ঘোরাফেরা করছে ইতস্তত। তাদের মুখে অদ্ভুত নির্লিপ্তি। লাউঞ্জে বেশ ভিড়। একটাও চেয়ার খালি নেই। উদ্বিগ্নস্বরে চাপা গুঞ্জন। একজন মাঝবয়সী রুগীকে স্ট্রেচারে শুইয়ে লিফটে ঢোকানো হচ্ছে।
–“পেশেন্ট ভর্তি করাবেন? ইমার্জেন্সি? “
–“হ্যাঁ, বললাম তো” ঝাঁঝিয়ে উঠল সৌম্য।
–“দাদা, শান্তভাবে কথা বলুন। ফর্মালিটিজগুলো আগে সেরে নিই?”।
–“কী করতে হবে বলুন? প্লিজ, দেরি করবেন না।”
— “স্টমাকওয়াশ? আর ইউ শিওর যে বাচ্চা ওষুধগুলো খেয়ে ফেলেছে? ” মেয়েটি কৌতুকের স্বরে বলল।
মিলিতার ধৈর্যের বাঁধ এবার ভেঙে পড়েছে। –” তবে কি আমরা তামাশা করতে এসেছি?”
–“আ:! মিলি, আমাকে ফর্মটা ফিল-আপ করতে দাও।” সৌম্য মিলিতার কাঁধে হাত রেখে ওকে শান্ত করতে চাইল।
–“টাকাটা পাশের কাউন্টারে জমা দেবেন।” নিরুদ্বেগ গলায় বলল মেয়েটি।
–“অ্যাডমিশন করতে হবে কেন? ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করতে চাই এখুনি। স্টমাক ওয়াশ করতে হবে ইমিডিয়েটলি। এত দেরি করলে চলবে না।” মিলিতার গলা কান্নায় ভেঙে পড়ছে।
–“সবকিছুর একটা নিয়ম আছে ম্যাডাম।” রিসেপশনের কন্যাটি ভারিক্কি চালে বলে উঠল।
–“কত টাকা দিতে হবে যেন? সৌম্য ফর্ম ফিল- আপ করে ততক্ষণে পাশের কাউন্টারে। পার্স খুলে টাকা বের করছে।
–“চার হাজার।”মণি ঘরে ঢুকেই ঘাবড়ে গেল। পরিমলবাবু মাথা নিচু করে বসে আছেন নিজের চেয়ারে। প্রতিমাদেবী হাপুসনয়নে কাঁদছেন। ডলির এক হাতে মোবাইল। উত্তেজিত স্বরে কারও সঙ্গে কথা বলছে। অন্য হাতে হলুদমাখা।
–” কী হল? তোমরা এরকম করছ কেন মামীমা? ও মামা! পিকু কোথায়? পিকুকে দেখছি না যে?”
–” মণি, সর্বনাশ হয়ে গেছে রে। পিকু আমার সব ক’টা ওষুধ খেয়ে নিয়েছে। ওকে ওরা হাসপাতালে নিয়ে গেছে।”
–” সব্বোনাশ!” মণি আঁচল বিছিয়ে ওখানেই বসে পড়ল।
–” কী করে বুঝলে, পিকু সব ক’টা ওষুধ খেয়ে নিয়েছে? ও কি তাই বলেছে? ওইটুকু ছেলে এতগুলো ওষুধ গিলবে কী করে? গলায় আটকাবে না?”
–” তাই তো। ঠিকই বলেছিস মণি।”
পরিমলবাবুর মাথা এবার আস্তে আস্তে পরিষ্কার হচ্ছে। জল ছাড়া গিলবে কী করে ওষুধগুলো? তা আবার একটা না, পাঁচ -পাঁচটা ওষুধ। চিবিয়ে বা চুষে খেলেও তো তেতো লাগবে।
প্রতিমাদেবীও এবার চোখ-টোখ মুছে স্থির হলেন। –“সত্যিই তো, এই কথা আমরা কেউ ভেবে দেখিনি। মণি, মা আমার, একবার ঝাড়ু দিয়ে দেখ না, ওষুধগুলো কোথাও পড়ে আছে কিনা?”
এরকম একটা নাটকীয় পরিস্থিতিতে রান্নাবান্না সংক্ষেপে
সারছিল ডলি। মোবাইল বন্ধ করে বলল, “আর পেয়েছ! এতক্ষণে পিকুর পেট ধোয়া হয়ে গেল বলে।” মণির দিকে কটাক্ষ করে সে এগোলো রান্নাঘরের দিকে।
মণি ডলির উদ্দেশ্যে বলল, “সাজুগুজু করে মোবাইল হাতে নিয়ে ভদ্দরনোক হলেই কি আর মাতায় বুদ্ধি গজায় মামীমা? আমাদের মোবাইল নেই ঠিকই, কিন্তু ভগবান বুদ্ধিসুদ্ধি দিয়েচে।”
ঘরের আগাপাছতলা ঝাড় দেয়া হল। খাটের তলা, আলমারির তলা, সোফার নিচ, সেন্টার টেবিল সরিয়ে একপ্রস্ত ধুলো ময়লার সঙ্গে বের হয়ে এলো রঙবেরঙের ওষুধগুলো। পরিমলবাবু আর প্রতিমাদেবী উল্লাসে চেঁচিয়ে উঠলেন।
“পাওয়া গেছে, পাওয়া গেছে। পিকু তাহলে ওষুধগুলো খায়নি। হে ঈশ্বর! অপার করুণা তোমার। ” প্রতিমাদেবী চোখ বুজে বিড়বিড় করছেন। থমথমে মুখে খুন্তি হাতে সেখানে ডলির প্রবেশ।
–” সব ক’টা ওষুধ পেয়ে গেলে তাহলে? দাদু, তুমি তো পাঁচটা ওষুধ খাও সকালবেলায়, পাঁচটা বড়ি পেয়েছ তো?”
পরিমলবাবুর আবার সেই খেয়াল ছিল না। হুমড়ি খেয়ে পড়লেন ধুলোর উপরে। ধুলো ঘেঁটে তিনটে ট্যাবলেট পেলেন।
–” আর দুটো কই? ও মণি, ভালো করে খোঁজ মা।” পরিমলবাবুর গলায় তখনও উদ্বেগ। চোখ বুজে ঈশ্বরকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছিলেন প্রতিমাদেবী, চোখ খুলে চেঁচিয়ে উঠলেন আবার।
–” তাহলে বাকি ওষুধ দুটো নির্ঘাৎ খেয়ে ফেলেছে। ও ডলি, তুই দাঁড়িয়ে রইলি কেন? খোঁজ না, একবার।”
মুখঝামটা দিয়ে বলে উঠল মণি, বাকি দুটো আমিই খুঁজে বের করব। ওকে ছেড়ে দাও মামীমা। ও রান্না করছে, করুক।”
মণি সারাঘরের ধুলো মাড়িয়ে পাশের ঘরের চৌকাঠে পা দিয়েই উল্লাসে চেঁচিয়ে উঠল, ” ওই তো। গোলাপি রঙের বড়িটা ড্রেসিংটেবিলের তলা থেকে উঁকি মারচে। ঝাড়ুর বাড়ি খেয়ে গড়িয়ে গ্যাচে বোধায়। “
–” আর একটা। আর একটা পেলেই কেল্লা ফতে!” পরিমলবাবুর ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ছে। এতক্ষণ অপরাধবোধে জর্জরিত হচ্ছিলেন তিনি।
মণি ততক্ষণে মেঝের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়েছে। –” পেয়েচি মামা। ওই দ্যাখ, নীল বড়িটা ঠাকুরের আসনের নিচে।”
–” পেয়েছিস? বৌমাকে বলে তোকে একটা সুন্দর শাড়ি কিনে দেব মণি।”
প্রতিমা আঁচল দিয়ে ঘাম মুছছেন। স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলে ডলির দিকে তাকালেন এবার।
–” হাঁ করে দেখছিস কী? রান্নার কতদূর? রান্না চাপিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে আছিস যে? পুড়ে যাবে তো।”
ডলি মুখ চাপা দিয়ে হাসছে।
–” দেখ দিদা, তোমার আদরের মণির ফাঁকিবাজি। রোজ নাকি ঘর ঝাড়ামোছা করে। দেখ, দেখ, এক মন ধুলো বেরলো আজ।”পিকু ঝিমিয়ে পড়েছে। মিলিতা অস্থির হয়ে পায়চারি করছে। কান্নাভেজা গলায় সৌম্যকে বলল,
” ওষুধগুলোর রিঅ্যাকশন বোধহয় শুরু হয়ে গেছে। দেখ, পিকু কেমন নেতিয়ে পড়েছে। ওগো, দেখ না একটু। ওরা এত দেরি করছে কেন?”
–” পেশেন্টকে নিয়ে আসুন। ডক্টর মুখার্জি ডাকছেন আপনাদের।” যান্ত্রিক গলায় বলে চলে গেল একজন নার্স।
মিলিতা পিকুকে কোলে করে ছুটল নার্সটির পিছনে। ঠিক সেইসময় সৌম্যর মোবাইল বেজে উঠল।
মোবাইলে ও প্রান্তের কথা শুনতে শুনতেই সৌম্য দৌড়ালো ওদের পিছনে।
–” সরি, ভেরি সরি! একটু শুনুন সিস্টার। পেশেন্টের স্টমাক ওয়াশ করার দরকার নেই। ওষুধগুলো পাওয়া গেছে। ও খায়নি ওষুধগুলো। “
মিলিতা থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছে। পিকুকে কোল থেকে ধপাস করে নিচে নামিয়ে সৌম্যকে জড়িয়ে ধরল আনন্দে।
— “কোথায় পাওয়া গেল ওষুধগুলো? আমি ঠিক জানতাম, আমার ছেলে কখনও এমন কান্ড করতে পারে না।”
সৌম্য হাতজোড় করে নার্সকে বলল, ” ক্ষমা করে দিন। ভুল হয়ে গেছে। এবার আমাদের ছেড়ে দিন প্লিজ। সকাল থেকে ছেলেটা কিছু খায়নি। ওর মুখটা শুকিয়ে গেছে। “
নার্সটি মুখঝামটা দিয়ে বলে উঠল, “তা আমি কী করব? ইরেসপন্সিবিল সব আজকালকার বাবা- মা। কাউন্টারে যান। ফর্ম ফিল- আপ করতে হবে। ডিসচার্জ স্লিপ তৈরি না হলে ছাড়া পাওয়া যাবে না। সবকিছুর একটা নিয়মকানুন আছে।”
মিলিতা হেসে বলল, ” তা তো নিশ্চয়ই। সৌম্য, তুমি ফর্মালিটিজগুলো কমপ্লিট কর। আমি পিকুকে ক্যান্টিন থেকে কিছু খাইয়ে আনি।”
শুকনো মুখে পিকু হাসছে অমলিন। মিলিতার গলা জড়িয়ে বলছে, ” মাম্মা, খিদে পেয়েছে। এখন খাব তো?”
মিলিতা ছেলের গাল টিপে বলল, “দুষ্টু ছেলে, দাদু ঠাম্মাকে বলতে পারোনি যে, তুমি ওষুধগুলো খাওনি। ফেলে দিয়েছ?”
পিকু অকপট সুরে বলে উঠল, ” নজেন্সগুলো আমি খাইনি তো। ছুড়ে ফেলে দিয়েছি। বাট, এখন তো কিছু খেতে দাও। খিদে পেয়েছে।”

মিলিতা রিস্টওয়াচে সময় দেখল। শীতের দুপুর তাড়াতাড়ি গড়িয়ে কখন যেন বিকেল নেমে এসেছে। পাঁচটা বাজে প্রায়। সকলকে নাজেহাল করে সারাদিনের নাটকের শেষে সূয্যিমামা এবার কেটে পড়ার তাল করছে।


গল্পটার মধ্যে অনেকটা উত্তেজনা রয়েছে। পাঠক একনাগাড়ে পড়তে বাধ্য হবে। ভালো লাগলো।
ধন্যবাদ