শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

বিভূতিভূষণ- রেখে যাওয়া সূত্রের খোঁজে

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম দুটি উপন্যাস প্রকাশিত হবার পর থেকেই তিনি বাঙালি পাঠকের চোখে প্রকাশিত হয়েছিলেন এক বিশেষ ভাবমূর্তিতে । গ্রামীণ প্রকৃতির নির্জন নিভৃত সৌন্দর্যের, সামান্যতম মানুষের সুখদুঃখের তিনি মহাপ্রতিভাবান ভাষ্যকার, অন্যদিকে লক্ষ আলোকবর্ষ দূরের নক্ষত্রলোকের প্রতি তাঁর বিস্ময় ও আগ্রহ অপরিসীম। কিন্তু এই দুই জগতের মধ্যবর্তী যে কঠোর পৃথিবী- যেখানে মানুষের নানা সামাজিক সমস্যা ও অস্তিত্বের সংকট- সে বিষয়ে তাঁর লেখনী তত স্বচ্ছন্দ নয়। এমনকি শঙ্খ ঘোষের মতো বিদগ্ধ সমালোচকও মন্তব্য করেছেন যে “নম্রমধুর লোকজীবন” তাঁকে এতটাই মুগ্ধ করে রেখেছিল, যে জীবনের “তীব্রমধুর” দিক তেমন করে চোখে পড়ে নি বিভূতিভূষণের।

প্রকৃতিপ্রেমিক , অরণ্যপ্রেমিক, অতীন্দ্রিয়ের প্রতি গভীর ভাবে আকৃষ্ট বিভূতিভূষণ- সম্পূর্ণ সত্য ও সঙ্গত এই পরিচয়কে তাঁর সৃষ্টি অতিক্রম করে গেছে বার বার। এমন নয় যে রূঢ় বাস্তব থেকে আড়াল খুঁজে নিতে তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন প্রকৃতির শান্তি বা দার্শনিক চিন্তায়। তাঁর সাহিত্যে আমরা কি লক্ষ্য করি না পারিপার্শ্বিক সম্বন্ধে লেখকের তীব্র সচেতনতা, বুদ্ধিদীপ্ত এবং বহু বিষয়ের জ্ঞানে সমৃদ্ধ একটি সজীব মন? তাঁর প্রথম নায়ক, বাংলা সাহিত্যের অনন্য চরিত্র অপুকে তিনি সৃষ্টি করেছিলেন কেবল নিজের দরদী মন ও আত্মমগ্ন প্রকৃতিপ্রেম দিয়ে নয়, তার মধ্যে সঞ্চার করেছিলেন প্রচ্ছন্ন উচ্চাকাঙ্ক্ষা, নিজের পরিবেশকে ছাড়িয়ে যাবার অদম্য স্পৃহা। যে গ্রাম্য বালকের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে অর্থের অভাবে, প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে যাকে বইপত্র চেয়ে আনতে হয়, রাতে যার পড়ার জন্য প্রদীপের তেলটুকু জোটে না- সে যখন ভাবে “সে জগৎ জানার, মানুষ চেনার দিগ্বিজয়ে যাইবে “, তখন তার এই অবোধ স্বপ্ন সম্বন্ধে একটি অর্থপূর্ণ মন্তব্য করেন লেখক। তিনি বলেন, অপু যদি তার ইচ্ছে সফল হওয়ার পথে বাস্তব সমস্যাগুলি সম্বন্ধে সচেতন হত, তাহলে “তাহার আশাভরা জীবনপথের দুর্বার মোহ, সকল ভয় সকল সংশয়কে জয় করিতে পারিত; কিন্তু এসকল কথা তাহার মনেই ওঠে না।”

এই মন্তব্য বিভূতিভূষণের সমাজ সচেতনতার অকাট্য প্রমাণ। দরিদ্রের সন্তানের আশা ও তার সফলতার মধ্যে যে কতখানি বাধাবিঘ্ন লুকিয়ে থাকে সেকথা তিনি নিশ্চিত জানতেন, নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়েই।

কিন্তু অপু ও তার স্বপ্নকে তিনি জিতিয়ে দিলেন শেষ পর্যন্ত। কাশীতে পিতৃবিয়োগের পর নিশ্চিন্দিপুরের বিচ্ছেদে কাতর কিশোরকে তিনি গ্রামে ফিরতে দিলেন না। ততদিনে লীলার দেওয়া “মুকুল” পত্রিকায় পোর্তো প্লাতায় ডুবো জাহাজের কথা জেনেছে অপু; তাকে উদ্ধার করার আবছা সংকল্পও জেগেছে তার মনে। সে অস্পষ্ট ভাবে বুঝেছে, জীবনের পথ অনেক দীর্ঘ- নিশ্চিন্দিপুর , সে যতই প্রিয় হোক, সেখানে থামলে তার চলবে না। মায়ের স্নেহচ্ছায়া ছেড়ে প্রথমে দেওয়ানপুরের বোর্ডিং স্কুল, পরে কলকাতায় চলে আসে সে উচ্চশিক্ষার জন্য।

কলকাতায় ছাত্রাবস্থায় কঠিন দারিদ্র্যের মুখোমুখি হয় অপু। বিভূতিভূষণ লেখেন, ” ..শীঘ্রই অপু বুঝিল – কলিকাতা দেওয়ানপুর নয়। এখানে কেহ কাহাকেও পোঁছে না। ইউরোপে যুদ্ধ বাধিয়া গত কয়েক মাসের মধ্যে কাপড়ের দাম এত চড়িয়াছে যে, কাপড় আর কেনা যায় না। ” কাহিনীর নেপথ্যে আর্থ-সামাজিক বাস্তবকে জানানো জরুরি মনে করেন তিনি। অচেনা শহরে নবাগত তরুণটি অনাহার ও নিরাশ্রয় অবস্থার সঙ্গে সংগ্রাম করেও হারায় না বিদ্যার প্রতি তার সহজাত তীব্র অনুরাগ। তাই কয়েক বছর পরে তার প্রিয় বন্ধু প্রণব জানায়, নিরন্তর দুঃখের সঙ্গে আপোষহীন লড়াই করে চলা অপুকে সে অপদার্থ ধনী ছেলেদের চেয়ে অনেক বড় মনে করে।
কলেজের লাইব্রেরিতে অসংখ্য সাহিত্য ও ইতিহাসের বইয়ের মধ্য দিয়ে অতীত ও বর্তমান বিশ্বকে চিনতে শেখে অপু । কিন্তু ততদিনে সে নিজেও তো জীবনকে আবিষ্কার করেছে অনেকখানি, সংগ্রাম, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও ভালোবাসায়। তার মনে হয় বিখ্যাত ঐতিহাসিকরা সাধারণ মানুষের কথা যথেষ্ট লেখেন নি- ইতিহাস তো কেবল রাজার শাসনের ইতিবৃত্ত নয়- সে চায় ইতিহাসে লেখা থাকবে যে ” প্রতিদিনের জীবন, হাজার হাজার বছর ধরিয়া প্রতি সকালে ও সন্ধ্যায় যাপিত হইয়াছে ” – তার কথা। এ আসলে বিভূতিভূষণের নিজেরই মনোভাব, যা তিনি লিখেছিলেন তাঁর দিনলিপিতে । অপু যেমন চেয়েছিল, একালে ইতিহাস চর্চায় সেটাই স্বীকৃত পন্থা। কতকাল আগে এক উনিশ বছরের তরুণের অনুচ্চারিত ভাবনায় বিভূতিভূষণ তার আভাস দিয়ে গেছেন।

কলকাতায় কর্মজীবনে নানা সামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িত হয় অপু। ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক স্বাস্থ্য প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার সময়ে এক সহপাঠীর সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয়ে তার বিতর্ক হয়। “অপুর দৃঢ় বিশ্বাস – যুদ্ধের পর ভারতবর্ষ স্বাধীনতা পাইবে। বিলাতে লয়েড জর্জ বলিয়াছেন, যুদ্ধশেষে ভারতবর্ষকে আমরা আর পদানত করিয়া রাখিব না। …Indians must not remain as hewers of wood and drawers of water .” বিভূতিভূষণের অন্তর্মুখী রচনার স্রোত মাঝেই মাঝেই সমকাল সম্পর্কে এমন প্রখর চেতনায় দীপ্যমান হয়ে ওঠে ।

“অনুবর্তন” উপন্যাসে বাস্তব জীবনের ছায়া আরো অনেক স্পষ্ট। এই রচনার পটভূমি সম্পূর্ণ নাগরিক, এবং সেই কারণে তাঁর অন্য উপন্যাস থেকে চোখে পড়ার মতো আলাদা। বিভূতিভূষণ দীর্ঘ সময় কলকাতার মেস বাড়িতে কাটিয়েছেন, মেলামেশা করেছেন শহরের শিক্ষিত, অভিজাত সমাজে। সেই সূত্রে, এবং সহজাত পর্যবেক্ষণ ক্ষমতায় তাঁর চোখে যেমন ধরা পড়েছিল নগর জীবনের সংকীর্ণতা, তার অসুন্দর পথঘাট অলিগলি, তেমনই তিনি দেখেছিলেন শহরে দিনযাপনের স্বাচ্ছন্দ্য, তার শিক্ষা সংস্কৃতির জৌলুষ । সেই আলো আঁধারে কোনোমতে জীবনধারণ করেন ক্লার্কওয়েল সাহেবের স্কুলের নিম্নবিত্ত শিক্ষকরা, যাঁদের নিয়ে লেখা ” অনুবর্তন ” উপন্যাস। বিভূতিভূষণ নিজেও মধ্য কলকাতার এমন একটি স্কুলে পড়িয়েছিলেন কিছুদিন। সেখানে তাঁর সুখদুঃখের বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছিল। ইংরেজ শাসনাধীন সেই সাবেক কালের কলকাতায় অতি স্বল্প বেতন, টিউশনি আর বিজাতীয় হেডমাস্টারের কাছে অসম্মান সম্বল করে বেঁচে থাকা শিক্ষকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন বিভূতিভূষণ। তিনি জানতেন, এঁদের কাছে কর্তব্যবোধ বা মহত্ত্ব আশা করা বৃথা। নারাণবাবুর মতো দু একজন আদর্শবাদী শিক্ষক অবশ্যই ব্যতিক্রম। কিন্তু এই বঞ্চিত শিক্ষকদের অসহায়তা, তাঁদের স্খলন ও বিচ্যুতি, বিকেলে সামান্য একটি চায়ের দোকানের মজলিশ ঘিরে তাঁদের আনন্দময় প্রতীক্ষা এত পরিপূর্ণ সহানুভূতির সঙ্গে বিভূতিভূষণ নিরীক্ষণ করেছিলেন বলেই হয়তো চরিত্রচিত্রণের দিক থেকে “অনুবর্তন” তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। কলকাতা শহর এই নিরীহ শিক্ষকদের দেয় নি কিছুই, কিন্তু তবুও তাঁরা শহর ছেড়ে থাকতে পারেন না গ্রীষ্মের ছুটিতে বরিশালে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে তাই নারাণবাবুর মনে হয় “কী বিশ্রী জায়গা এ সব, বৃষ্টির পরে বাঁশবনের চেহারা দেখিলে মনে হয়, কোথায় যেন পড়িয়া আছেন। এমন জায়গায় কি মানুষ থাকে! কলিকাতার ফুটপাতে কোথাও এতটুকু ধুলা কাদা নাই- কি বিশাল জনস্রোত ছুটিয়াছে নিজের নিজের কাজে…” পল্লীপ্রেমিক বিভূতিভূষণের লেখায় এমন বক্তব্য অনেকেরই অভাবিত মনে হবে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাস্টারমশাইদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি ঘটিয়ে দিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। তখন কলকাতায় ব্ল্যাক আউট চলছে, জাপানী বোমার ভয়ে শহর ছেড়ে বাইরে চলে যাচ্ছেন বাসিন্দারা। স্কুলের আর্থিক সংকট প্রবল হয়ে দেখা দিল, প্রাণভয়ে বিপন্ন শিক্ষকরা বাধ্য হয়েই কলকাতা ছেড়ে চলে গেলেন যে যার পৈতৃক গ্রামে। বিপর্যয়ের শেষে স্কুল আবার খুলল, কিন্তু সকলের আর ফেরা হল না। ” অনুবর্তনে”র গোটা কাহিনীই নির্মিত হয়েছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের উপরে। যুদ্ধকালীন কলকাতার সেই সব দুঃস্বপ্নের রাত্রি আজও সত্য হয়ে আছে এই লেখায়।

“বিপিনের সংসার” বিভূতিভূষণের কিছুটা কম আলোচিত উপন্যাস। কিন্তু তাঁর এই রচনায় নিহিত আছে একটি যুগান্তরের বার্তা। গ্রামের স্বল্পশিক্ষিত, দরিদ্র যুবক বিপিন জমিদার বাড়িতে নায়েবের চাকরি নেয় অভাবের তাড়নায়। অতীতে এই পরিবারেই নায়েবের কাজে নিযুক্ত ছিলেন তার বাবা বিনোদ চাটুজ্জে – তিনি কাজ করেছেন দাপটের সঙ্গে, প্রজাপীড়ন করেছেন অক্লেশে। কিন্তু বিপিন সেই ধাতুতে গড়া নয়- দরিদ্র প্রজাদের শোষণ করে খাজনা আদায় করতে সে চায় না। জমিদারের কন্যা মানী- যে ছেলেবেলায় তার খেলার সাথী ছিল, এবং অনেকদিন পরে যাকে দেখে তার মনে অনুরাগের সঞ্চার হয়েছে, সে বিপিনের চাকরি ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্তকে নৈতিক সমর্থন জানায়। প্রকৃত বন্ধুর মতো এই শিক্ষিতা তরুণীটি তাকেও শিক্ষিত করে তোলার সংকল্প করে- তার নিজের সংগ্রহ থেকে বইপত্র পড়তে দেয় নিয়মিত, তার মধ্যে সহজ বাংলায় ডাক্তারি শেখার একটি বইও আছে। মানী বিপিনকে পরামর্শ দেয় এই বইটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে, যাতে চিকিৎসার সুযোগহীন কোনো গ্রামে সে দরিদ্র রোগীদের সারিয়ে তুলতে পারে। বিপিন বোঝে মানীর নির্দেশিত এই পথই যথার্থ সার্থকতার পথ; তার এবং মানীর বাবা দীনদরিদ্র মানুষের রক্তশোষণ করে যেভাবে অর্থ সঞ্চয় করেছেন, সেই অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত সন্তান হয়ে তাদেরই করতে হবে। কঠিন, দুরারোগ্য অসুখে নিজের ছোটো ভাইয়ের অকালমৃত্যুর পর নতুন করে বিপিনের মনে হয় “বিনোদ চাটুজ্জে আজ মাত্র সতেরো আঠারো বছর মারা গিয়াছেন – ইহার মধ্যেই তাঁহার পুত্রবধূ খাইতে পায় না- পুত্র বিনা চিকিৎসায় মারা যায়…। অসৎ উপায়ে উপার্জনের পয়সাই বা আজ কোথায়- কোথায় বা জমিজমা ।”

Intel(R) JPEG Library, version [2.0.18.50]

“বিপিনের সংসার” প্রকাশিত হয় ১৯৪১ সালে। তার চব্বিশ বছর আগে রাশিয়ায় ঘটে যাওয়া বিপ্লবের আদর্শ বিভূতিভূষণ কতখানি গ্রহণ করেছিলেন, সেকথা বলার মতো তথ্য নেই। কিন্তু দরিদ্রের সমব্যথী এই লেখকের কাছে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চয়ই প্রাসঙ্গিক বিষয় ছিল, দিন যে বদলে যাচ্ছে তা তিনি লক্ষ্যও করেছিলেন। “বিপিনের সংসার” উপন্যাসের নিভৃত পরিসরে বিভূতিভূষণ তাঁর শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্নকে রেখে গেছেন একথা বললে অত্যুক্তি হবে না। বিপিন ও মানীর মধ্যে যে সখ্য, সে শুধু ব্যক্তিগত নয়, নতুন যুগের প্রতিনিধি হিসেবেও।

সংসারে অর্থাভাব ও আরও নানা সমস্যায় জর্জরিত বিপিন যখনই গ্রামে ফেরে, তখনই পাশের গ্রামে আইনদ্দি নামে এক দরিদ্র,অতি বৃদ্ধ চাষির সঙ্গে সময় কাটিয়ে আসে। প্রায় শতবর্ষ প্রাচীন সেই মানুষটি তাকে গ্রামের প্রাচীন ইতিহাসের গল্প বলে, নিজের হাতে তামাক সেজে খাওয়ায়। বিদ্যাসুন্দর বা রামায়ণ মহাভারত তার কন্ঠস্থ । এই সদানন্দ, মুক্তমন, অসমবয়সী, অন্য ধর্মাবলম্বী বৃদ্ধটি বিপিনের যত আপন, গ্রামের কোনো বন্ধু বা প্রতিবেশী ততটা নয়।

আইনদ্দির এই চরিত্রের মধ্য দিয়ে পাঠককে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কোনো বার্তা বিভূতিভূষণ দিতে চেয়েছিলেন কিনা, তা নিশ্চিত বলা সম্ভব নয়। কারণ চরিত্রটি অসাধারণ হলেও কাল্পনিক নয়, তাঁর দিনলিপিতে আমরা তার উল্লেখ দেখি। তাঁর সঙ্গে এই সরল বৃদ্ধের অন্তরঙ্গ আলাপ ছিল। তাই এটুকু অবশ্যই বলা যায় যে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে যেখানে মানুষ পরস্পরের সঙ্গে প্রীতির বন্ধনে জড়িত, সেটাই বিভূতিভূষণের কাছে আদর্শ সমাজ। সেই সমাজদর্শনের প্রভাব তাঁর সাহিত্যে অলক্ষ্য কিন্তু গভীর। তবে সেই সত্যকে প্রমাণ করার কোনো দায় লেখকের ছিল না।

Facebook Comments Box

আপনি এই পত্রিকা পড়ছেন জেনে ভাল লাগল।

নতুন লেখা বা ভিডিও সংযোজন, অথবা রবিচক্রের অন্যান্য খবরাখবর সম্পর্কে জানতে, ইমেল নথিভুক্ত করতে পারেন।

We don’t spam! Read our privacy policy for more information.


0 0 votes
Article Rating
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Sulata Bhattacharya
Sulata Bhattacharya
5 months ago

গভীর অভিনিবেশওনিবিড় নিষ্ঠানিয়ে প্রকৃতিপ্রেমিক”আরণ্যক” বিভূতিভূষণের সাহিত্যপাঠের নিদর্শন তোমার এই নিবন্ধটি।

সাহিত্যকোবিদ্ শ্রীশঙ্খঘোষের মতে যেখানে তাঁর শক্তি সেখানেই তাঁর দুর্বলতা। কিন্তু আমরা জানি
তৎকালীন সমাজের অসাম্য, দারিদ্র্য, বঞ্চনার ইতিহাস তাঁর সংবেদনায় অধরা থাকেনি। যদিও
তাঁর কলমের ভাষা কখনই তীব্র বিদ্রোহী হয়ে ওঠেনি।তাই অপেক্ষাকৃত অনালোচিত থেকেগেছে
তাঁর সমাজচেতনার এই দিকটি।তোমার লেখাটি
পাঠকসমাজে আদরণীয় হবে এ আমার বিশ্বাস।