
মৃতপ্রায় বাঙালির প্রাণের প্রদীপটা এখনও টিমটিম করে জ্বলছে বটে। যেটুকু জ্বলছে, তা কিন্তু জ্বালিয়ে রেখেছেন তিনি, মুখ্যত তিনিই! তাঁর সেই উদ্বেগের ১৪০০ সালটা পেরিয়ে গেছে অনেক দিন হল। দক্ষিণের বারান্দায় বসে কোনো কল্পনার অবগাহনে তাঁর পাঠানো অনুরাগে সিক্ত কবিতা তো সেই ‘তুমি’র এখন পড়ার কথা। কিন্তু হয়তো আজকের বাঙালি-হৃদয়ের রক্তক্ষরণের এমন পরিস্থিতি তাঁর ভাবনাতে ঠাঁই পায়নি তখন। বাঙালি সম্পর্কে তাঁর আবেগ প্রায়শই ধাক্কা খেলেও, অনাগত ভবিষ্যতে তাদের এমন শোচনীয় অস্তিত্বের সংকট প্রসঙ্গে ‘সভ্যতার সংকট’-এর মতো সেই দূরদর্শী ভাবনার প্রত্যাশা তখন কী করেই বা করা যায়! তবু, তা সত্ত্বেও, আজ যখন বাঙলির মূল্যবোধের ঐতিহ্য অনিবার্য গঙ্গাপ্রাপ্তিরই অপেক্ষায়, অগত্যা তাঁকেই স্মরণ না করে ‘আর তো গতি নাহি রে মোর নাহিরে’।

মাতৃ-জঠর থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ একতাল রক্তাক্ত মাংসপিণ্ড আলোর সঙ্গে প্রথম আত্মীয়তার সূত্রে ফুসফুস উজাড় করে তার অস্তিত্ব ঘোষণা করে। সে বলতে চায় – “মা, মা-গো মা, আমি তোমার অতল-কালো-গভীর-স্নেহের আশ্রয়ে পৃথিবীর সমস্ত রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে বাঁচতে এলাম”। কিন্তু এই শিশুকে বাসযোগ্য করার অঙ্গীকার কে বা কারা নেবে আজ? বর্তমানের ক্লেদাক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি আর তারই সৌজন্যে বৌদ্ধিক সমাজের ভেক ধরা একদল মেরুদণ্ডহীন সরীসৃপ – যাদের উদ্দেশে সেদিনকার বসন্তের আনন্দ-অভিবাদন পাঠাতে চেয়েছিলেন তিনি? কী আর করার, আজকে পতনের শেষ সীমায় পৌঁছে যাওয়া ক্ষমতার আত্মরতিতে লিপ্ত উত্তরসুরীদের সম্পর্কে এমন ধারণাটা যে কল্পনার অতীত ছিল তাঁর!
আচ্ছা, তাঁকে কি কখনও ‘বুদ্ধিজীবী’ বলে বিজ্ঞাপিত করার প্রয়োজন হয়েছে? না, হয়নি। তিনি তো দেশ ও জাতির কণ্ঠস্বর। তথাপি, না। ঈষৎ ঝুঁকে হাঁটলেও তাঁর মেরুদন্ডটা ছিল যে বড়ই ঋজু আর সোজা। বহুবার তাঁকে দেখেছি রুদ্র মূর্তিতে – দেশে বিদেশে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে। তাঁর নানা সৃষ্টির অতুলনীয় বৈভবই শুধু নয়, তাঁর শঙ্কাহীন বরাভয়ের মধ্যে আছে আশ্রয়। জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বিশেষ সম্মান চিহ্ন বর্জন করে কবি হিসাবে তাঁর দায়িত্ব কী আর করণীয়ই বা কী, এ-কথা লর্ড চেমসফোর্ডকে তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছিলেন –“…the very least that I can do for my country is to take all consequences upon myself in giving voice to the protest of the millions of my countrymen, surprised into a dumb anguish of terror.” সুতরাং আতঙ্কে নির্বাক দেশবাসীর মৌন প্রতিবাদকে জাগরিত করার সময় এসেছে, বিশেষ করে যখন তাঁর ব্যক্তিগত সম্মানের পদবীগুলি জাতিগত অবমাননার অসামঞ্জস্যের মধ্যে নিজের লজ্জাকেই স্পষ্টতর করে প্রকাশ করছে – ‘The time has come when badges of honour make our shame glaring in their incongruous context of humililiuation, and I for my part wish to stand, shon of special distinctions, by the side of those of my countrymen, who, for their so-called insignificance, are liable to suffer a degradation not fit for human being.’

তিনি রাজনীতি করছেন – এই অভিযোগ এসেছিল ইংলন্ডের বুদ্ধিজীবী মহল থেকে। এই প্রসঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধু উইলিয়াম রোটেনস্টাইনের একাধিকবার উপদেশে বিরক্ত হয়ে তাঁকে উত্তর দিতেই হল –‘I have nothing to do directly with Politics; I am not a Nationalist, moderate or immoderate in my political aspiration. But politics is not a mere abstruction. It has its personality and it does intrude into my life when I am human…. and I can not say to myself, “Poet, you have nothing to do with these facts for they belong to politics.”’ কই তাঁকে তো সত্যের সপক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে ইতিউতি তাকাতে হয়নি, যে বিষয়ে বাংলার আজকের তথাকথিত বিদ্বৎজনেরা যথেষ্ট সতর্ক, পাছে সেটা কোনো ব্যক্তি বা দলের অসন্তোষের কারণ হয়ে তাদের চাল-কলার সংস্থানে ব্যাঘাত ঘটে। এই প্রসঙ্গে তো তাঁর কথা মনে পড়েই। সারা দেশ যখন বিদেশী দ্রব্য পোড়ানো আবেগে থরথর করে কাঁপছে তখন স্রোতের বিপরীত মুখে দাঁড়িয়ে অর্থনৈতিক এবং সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণে তাঁর কথাগুলো বহু মানুষের অপছন্দ হলেও যুক্তি দিয়ে তাকে নস্যাৎ করা কারও পক্ষেই সম্ভব হয়নি সেদিন। মুসলমান সমাজকে শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের প্রসঙ্গে জাতীয় নেতৃত্বকে তীব্র সমালোচনা করলেন তিনি। তাঁর মতে জোর করে দেশপ্রেমের বটিকা গেলানোটা দেশেরই স্বাস্থ্যহানির কারণ। তৎকালীন রাজনৈতিক আন্দোলনের অনেক স্পর্শকাতর বিষয়ে তাঁর ছিল অকপট confession যার ঐতিহাসিক সত্যতা পরবর্তীকালে মান্যতা পেয়েছে হেমচন্দ্র কানুনগো এবং পুলিনবিহারী দাসের মতো অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের আত্মজীবনীতে।

আসলে বাঙালি অস্তিত্বের বিপন্নতাজনিত উদ্বেগ আর যন্ত্রণা থেকে এ-লেখার সূত্রপাত। কিন্তু কবি-পক্ষের আবেগে শুধু নয়, বাঙালি মানসিকতায় কী agony বা কী ecstasyতে তিনি নিত্য বর্তমান। বৈশাখ মাস পড়লে যতটা নব-বর্ষের আবেগ তার থেকে সারা মাস জুড়ে ‘আজ মম জন্মদিন’ অনেক বেশি আবেশে মথিত – সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার চারিত্রিক বিবর্তন সত্ত্বেও। তিনি বিশ্বকবি হতে পারেন, তিনি জাতির কণ্ঠস্বর হতে পারেন, তিনি বিশ্ব-নাগরিকতার গর্বিত অহংকার থেকে এন্ডরুজকে জানাতেও পারেন – ‘I love india, but my India is an idea and not a geographical expresson. Therefore I am not a patriot – I shall ever seek my compatriots all over the world.’। দেশে দেশে তাঁর দেশ আছে, ঘরে ঘরে তাঁর ঘর আছে – আছে তাঁর পরমাত্মীয়; সেই খোঁজার আন্তরিক কথাও তো তিনি আমাদেরও শুনিয়েছেন । সব সত্যি। তবু আসলে তো তিনি চেতনে বা অবচেতনে, মেনে বা না-মেনে আমাদের অস্তিত্ব জড়িয়ে থাকা আমাদেরই প্রতিবেশী দেবেন ঠাকুরের সেই ছোট ছেলেটা – রবি, বাঙালির synonym।

আত্মাভিমান, স্বাজাত্যবোধ, মূল্যবোধ, সততা ইত্যাদি মানবিক গুণগুলোকে বাঙালির প্রাধান্য দেওয়ার ইতিহাসটা আছে। তবে এমনটা তো নয়, বাঙালির যাপিত জীবনকে তীব্র সমালোচনা স্পর্শ করেনি কখনও। ‘চরিত্রপূজা’য় বিদ্যাসাগরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে বাঙালিদের প্রসঙ্গে তিনি লিখলেন – ‘এই দুর্বল, ক্ষুদ্র, হৃদয়হীন, কর্মহীন, দাম্ভিক, তার্কিক জাতির প্রতি বিদ্যাসাগরের এক সুগভীর ধিক্কার ছিল। কারণ, তিনি সর্ববিষয়েই ইহাদের বিপরীত ছিলেন।’ এই প্রসঙ্গে তাঁর আরও অনুভব, ‘আমরা আরম্ভ করি, শেষ করি না; আড়ম্বর করি, কাজ করি না; যাহা অনুষ্ঠান করি তাহা বিশ্বাস করি না, যাহা বিশ্বাস করি, তাহা পালন করি না; …।’ একেবারে ঠিক কথা। কিন্তু আজকের বাঙালিদের, বিশেষ করে শিক্ষিত এবং রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত যারা, তাদের সীমাহীন লোভ, কপটতা, মিথ্যাচারের দৃষ্টান্ত সেদিন কল্পনার অতীত ছিল। বহু সমালোচনা সত্ত্বেও সেদিনকার বাঙালির একটা সাংস্কৃতিক আভিজাত্য ছিল। সেই সম্ভ্রান্ত পরিচয় ক্রমশ ক্ষীণ হতে হতে একেবারে হাল আমলে এসে অকস্মাৎ ধূলায় ধুলি হয়ে গেল! পানপরাগে নেশাগ্রস্ত বাঙালির কাছে আজ গণেশ পূজা, রামনবমী, হনুমান জয়ন্তী ইত্যাদি এখন অন্যতম ধর্মীয় অথবা সাংষ্কৃতিক উৎসব, যেমন করেই তাকে ব্যাখ্যা করা হোক। পয়লা বৈশাখ নয়, অনেক দিন হল পয়লা জানুয়ারি এখন নববর্ষ। শতকরা নব্বইভাগ বঙালিকে হঠাৎ প্রশ্ন করে জানা যাবে না – ঠিক আজকের বাংলা-সাল, মাস আর তারিখের খবর। তবু ভাল, পঁচিশে বৈশাখ এখনও বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায় নি। ‘আমার বাংলাটা ঠিক আসে না’ – এটা উচ্চবিত্তদের শুধু নয়, আজকের অধিকাংশ নির্লজ্জ মধ্যবিত্তের গর্বিত স্বীকারোক্তি! আজকের চরিত্রহীন স্বভাবের এমন স্খালন সেদিনের সামগ্রিক বাঙালির যাপিত জীবনে অসম্ভব ছিল। এমনকী পরাধীন দেশে যারা ছিল একটা বিশেষ শ্রেণীভুক্ত মুষ্টিমেয় বাঙালি, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কথিত সেই ‘আমরা বিলেতি ধরণে হাসি,/আমরা ফরাসি ধরণে কাশি’ সংস্কৃতি আজ গোটা জাতটাকেই গ্রাস করে নিল বলে। তাই সেদিনকার হরেক দোষ-ত্রুটি তুচ্ছ হয়ে গিয়ে আজকের বাঙালিদের দিকে তাকিয়ে শচীনদেবের গানটাই বুকে বড় বাজে – ‘তুমি আর নেই সে তুমি’!

মনে পড়ছে বামফ্রন্ট আমলের প্রথম দিকে দোকানের সাইনবোর্ডে যেন বাংলায় লেখা নামটি অন্তত অন্যান্য যে-কোনো ভাষায় লেখার সঙ্গে সহাবস্থান করে, এই আবেদন করে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং ‘আজকাল’ পত্রিকার সম্পাদক অশোক দাশগুপ্তের নেতৃত্বে বেশ কিছু বিদ্বজ্জন পথে নেমেছিলেন। অতি সামান্য আর ন্যায্য প্রত্যাশা। তবু এই উদ্যোগে অবাঙালিরা তো বটেই বাঙালি ব্যবসায়ীদরও কোনো উৎসাহ লক্ষ করা যায়নি। বাংলাভাষার জ্যাঠামশায় অভিভাবক আনন্দবাজার পত্রিকাও সেদিন বিষয়টিকে কোনো গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেনি। সেদিন ডান-বাম নির্বিশেষে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো কাছেও বিষয়টি মান্যতা পায়নি। সম্ভবত প্রাদেশিকতার ভুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হয়েছিল তাদের। কারণ, সেই ভোটের জুজু! অথচ অন্যান্য রাজ্যের সরকার এবং জনগণ তো তাদের স্বাধিকার রক্ষায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে কত তৎপর! পরিতাপের কথা এই যে, সামগ্রিক ভাবে রাজনীতি সর্বস্ব বাঙালি সমাজের কাছে তাদের জাতি এবং ভাষা সম্পর্কে মমতা-ভালবাসা-গর্ব-আবেগের ছিটেফোঁটা অবশিষ্টও আজ আর নেই!
বাঙালির বোধ-বুদ্ধিকে জাগ্রত করার থেকেও আগে বড় প্রয়োজন পড়েছে তাদের নির্বুদ্ধিতাকে আঘাত করা, যে কাজে তিনি একক, অনন্য এবং অবিকল্প। সাত কোটি সন্তানের মুগ্ধ জননীর প্রতি কতকাল আগেই তো তাঁর নিদারণ অভিমান ব্যক্ত; তারা বাঙালি হয়েও মানুষ তো হল না! সেই-সেই-সেই, আবার সেই মানুষের কথা তাঁর সমস্ত সত্তা জুড়ে, জীবন জুড়ে। না, হিন্দু-মুসলমান-খ্রিস্টান নয়, এমনকী তাঁর আজন্মলালিত ব্রাহ্ম-সংষ্কারও পারল না। অবিচল আস্থা রইল শেষ পর্যন্ত শুধু একটি ধর্মেরই প্রতি – ‘The Religion of Man’; যেন ‘সব পথ এসে মিলে গেল শেষে তোমার দুখানি নয়নে’। এত অন্ধকার, এত ঝড়-ঝঞ্ঝা বিধ্বস্ত জীবনে কি রাখা যায় এমন বিশ্বাস? যায়। মনে পড়ে, অবিশ্বাসী সন্দীপের প্রতি নিখিলেশের প্রত্যয়ী উচ্চারণ ছিল –“…দেখো সন্দীপ, মানুষ মরণান্তিক দুঃখ পাবে কিন্তু তবু মরবে না। এই বিশ্বাস আমার দৃঢ আছে, তাই সব সইতে আমি প্রস্তুত হয়েছি, জেনেশুনে, বুঝেসুঝে ।” হ্যাঁ, এমন গুরুবাক্যে প্রাণিত না হয়ে পথ চলা যায় না।
[লেখকের অন্য লেখা]
আজকের দিনে কবিকে নিয়ে এই স্মরণভাবনা অত্যন্ত জরুরী ছিল আত্মসচেতন বাঙ্গালীদের জন্য। হিমাদ্রিদা সেটাই করে আমাদের কৃতজ্ঞতাভাজন হলেন।
ভাল লাগল।
একরাশ মুগ্ধতা,খুব ভাল লাগল। আবার নতুন সূর্য উঠবেঽ উঠবে। এই প্রত্যাশায় রইলাম।
খুব ভালো লাগল । প্রতিবাদী রবীন্দ্রনাথকে অনেকটাই তুলে ধরেছেন । রবীন্দ্রনাথের সব সময় প্রতিবাদ করেছেন খুব দৃঢ় , স্পষ্ট অথচ মার্জিত ভাবে। বলা যেতে পারে অভিজাত ভাবে। শুধু একবার সেই নোবেল পাওয়ার পর শান্তিনিকেতনের আম্রকুঞ্জে কলকাতা থেকে আসা একদল অতিথিদের উদ্দেশ্যে তাঁর ভাষনটি একটু বেশি কড়া হয়ে গেছলো বলে আমার মনে হয় । যারা সেদিন গেছলেন , তাদের মধ্যে কিছু মানুষ তাঁর সমালোচক ছিলেন বটে , কিন্তু সবাই তো নয় । হাজার হোক তারা তো তাঁর শান্তিনিকেতনে অতিথি হয়েই গেছলেন ।
হ্যাঁ, তাঁকে এমন অবিনয়ী হতে আর দেখেছি বলে মনে পড়ে না। আসলে সব সময়, সর্বত্র তাঁর পরিশীলিত জীবনের সামান্য স্খলনও আমাদের কাছে অভিপ্রেত নয়। সেদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথম সারিতে বসা কিছু মুখ, কলকাতায় বসে যাঁদের নিক্ষিপ্ত শরে তিনি ক্রমাগত ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছিলেন, তাঁর স্থৈর্যচ্যুতির কারণ হয়েছিল। তথাপি তাঁর পক্ষে এমন বেমানান চিত্ত-চাঞ্চল্য তাঁর একান্ত আপনজনদেরও সেদিন অস্বস্তির কারণ ছিল। সত্যি তো, সেদিন শান্তিনিকেতনে তাঁকে যথার্থ শ্রদ্ধা আর ভালবাসা জানাতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যাই তো বেশি ছিল। তাঁদের কথা মনে হলে আমরাও স্বস্তি পাই না।
“আপন সৃষ্টিক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ একা
কোন ইতিহাস তাকে সাধারণের সঙ্গে বাঁধে নি”
কবির এই উক্তির যথার্থতা তাঁর সৃষ্টির ক্ষেত্রে যতখানি সত্য তাঁর জীবনেতিহাসেও ততখানিই। সেই সত্যসন্ধী বলিষ্ঠ কবিচিত্তের অসাধারণত্বের দ্বিধাহীন
উন্মোচন আপনার নিবন্ধে। রবিপক্ষের এ এক অসামান্য শ্রদ্ধার্ঘ্য।
খুব প্রাসঙ্গিক লেখা।তিনি সবসময় মানবতার জয়গান গেয়েছেন।আর এখন আমাদের দেশে এই মানবতাই লঙ্ঘিত হচ্ছে প্রতিদিন।