
এখনো আকাশে বাদল মাদল
ধিতাং নাতিন বাজে
মাঠমঞ্চে মুষলধারে
বৃষ্টিরা ওই সাজে।
মুখোশ খোলা মুখের কথা
বলছে ওরা শোন
অনিশ্চিতের পাতকুয়োতে
নতুন দৃষ্টিকোণ।
বাদলবাবু মনে আছে, পাগলা ঘোড়া করার সময়ে শম্ভূ মিত্র বলেছিলেন,’আচ্ছা হুইস্কি কি নীট খাওয়া যায়? শ্মশানের ওই চারজন তো খাচ্ছে?’ স্বভাবসিদ্ধ তাৎক্ষণিক জবাব ছিল, ‘আপনার কথা জানি না আমি অন্তত তো নীটই খাই!’ বিশ্বাস করুন আজ আমিও ওই যাকে বলে নীট – নইলে কিছুতেই শুরু করতে পারছিলাম না। মানে চৌমাথায় দাঁড়িয়ে কোন রাস্তা ধরে পরিক্রমা শুরু করবো ঠাউর করা মুশকিল হয়ে উঠছিলো। সেকি চলচ্চিত্রকার বারিন সাহা, অর্থনীতিবিদ অমিয় বোসের সঙ্গে সর্বভারতীয় রেল রোকো আন্দোলন, সেকি উত্তাল ষাট দশকে অনিশ্চয়তায় আক্রান্ত আপনি এবং ইন্দ্রজিৎ, সেকি অমল পালেকারের সামনে জরুরি অবস্থার সময়ে ‘মিছিল’ অভিনয় চলাকালীন পুলিশের লাঠিচার্জ নাকি কার্জন পার্কে মাঠমঞ্চে দেবাশীষ চক্রবর্তী আর নামকরা ডেন্টিস্ট সুমিত ঘোষাল-এর লক্ষ্মীর পাঁচালীর কথকথা, গান আর ভিড়ের মধ্যে চিত্ত ঝলমল, হতে পারে জীবনসঙ্গিনী, খুঁজে পাওয়া।

যাইহোক, তবু, মানে ভ্যান্তারা মেরে শব্দের ক্যাঁথা পাল্টানো আপনিও ভালোবাসেন না আমিও না। বিষয়ে আসি। শুরুটা তাহলে করি ‘তেরো নদীর পার’ ছবি-খ্যাত আপনার অভিন্ন হৃদয় বন্ধু বারীন সাহার ভাইয়ের সঙ্গে আপনার বাড়ি যাওয়া থেকে। মনে আছে দরজা খুলে আপনি খোঁজ করেছিলেন মণিদার – গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের। রবীন্দ্র কবীন্দ্রের রাজ্যে একমাত্র মনিদাই আপনার ওপর একটা তথ্যচিত্র করবার সাহস করেছিলেন। যাই হোক থার্ড বেল পড়ে গেছে শুরু করি।
স্থান – পিয়ারী রো। বাড়ির একতলার ঘর। আসবাব বলতে লম্বা কাঠের বেঞ্চ। একটা গোল টেবিলের ওপরে রাখা এস্পেরান্তো ভাষায় বাদল সরকারের অনুদিত, সুকুমার রায়ের ‘হ য ব র ল’ বই। তার ওপর বিকেলের তেরছা আলো। ঠিক যেমনটা আপনি – বাদলবাবু, ফেলতেন স্পার্টাকাস নাটকের সেটে।
প্রশ্ন এক : থিয়েটার কার ?
উত্তর এক : থিয়েটার মানুষের। সব মানুষের। সর্বসাধারণের। ভাত কাপড়ও মানুষের। সর্বসাধারণের। কিন্তু ভাত কাপড়, থিয়েটার, আজ পণ্য। বাজারে কেনা-বেচার মাল।
প্রশ্ন দুই : থিয়েটার কোথায় ?
উত্তর দুই : থিয়েটার পাড়ায়, হাটে, রাস্তায়। যেখানে মানুষ, সব মানুষ। কিন্তু থিয়েটার আজ কাঁচে কংক্রিটে ঘেরা শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত জাদুঘর। বিশিষ্ট ব্যক্তির বিলাস-প্রাসাদ।
প্রশ্ন তিন : থিয়েটার কেন ?
উত্তর তিন : থিয়েটার অনুভবের জন্য। কিন্তু থিয়েটার আজ বুদ্ধি – বিদ্যার সুড়সুড়ি। বিদগ্ধ চিত্তের বিনোদন।
প্রশ্ন চার : থিয়েটার কি ?
উত্তর চার : থিয়েটার মানুষের কাজ। মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগসূত্র। মানুষে মানুষে বন্ধন। থিয়েটার খোলা মাঠ আর আকাশ। থিয়েটার সজীব প্রাণ। থিয়েটার জীবনের নগ্ন কঠিন চেতনা। কয়েক মুহূর্ত বর্ম-মুখোশ ফেলে সত্যিকারের মানুষের প্রকাশের সুযোগ, থিয়েটারে।
প্রশ্ন পাঁচ : তাহলে ?
উত্তর চার : তাহলে শুধু জানি, বন্দি থিয়েটার আর করতে ভালো লাগে না। থিয়েটারকে মুক্ত করতেই হবে। মুক্ত করা ছাড়া কোনো গতি নেই। আমার ভিতরে যে স্বভাব, যে সত্তা আছে সেই তো আসল বাস্তব। তাকে টেনে বার করে না আনলে আর কি বাস্তবধর্মী থিয়েটারের ঝালমুড়ি খাচ্ছি আমরা?
পড়ন্ত বেলার শব্দগুলো উস্কে দিলো কিছুদিন আগে পড়া এক প্রবন্ধের স্মৃতি। রবীন্দ্রনাথের ‘রঙ্গমঞ্চ’। সম-রঙা কথাগুলো একে একে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে পড়ল।

কথা ১ : ভাবুকের চিত্তের মধ্যে রঙ্গমঞ্চ। সেই মঞ্চ সেই পটই নাট্যকারের লক্ষ্যস্থল। তাই নাটকে চিত্রপট নয়, চিত্তপটে নজর দেয়া হোক।
কথা ২ : আমাদের দেশের যাত্রা আমার ওই জন্য ভালো লাগে। যাত্রার অভিনয় দর্শক ও অভিনেতার মধ্যে একটা গুরুতর ব্যবধান নেই। পরস্পরের বিশ্বাস ও আনুকূল্যের প্রতি নির্ভর করে কাজটা বেশ স্বহৃদয়তার সঙ্গে সুসম্পন্ন হয়ে থাকে।
কথা ৩ : বিলাতের নকলে আমরা যে থিয়েটার করিয়াছি তাহা ভারাক্রান্ত একটা স্ফীত পদার্থ। তাহাকে নাড়ানো শক্ত, তাহাকে আপামর সকলের দ্বারের কাছে আনিয়া দেওয়া দুঃসাধ্য। তাহাতে লক্ষ্মীপেঁচাই সরস্বতীর পদ্মকে প্রায় আচ্ছন্ন করিয়া আছে।
কথাদের সংলাপ ছাপিয়ে গলির মোড় থেকে ঘরে আছড়ে পড়ল –
ভেঁ পু পু ভেঁ পু পু টারা রারা রাটটা, লায়লা তোর পেয়ার আমায় করে দিল খাট্টা।
কথা থামিয়ে তড়িৎ গতিতে বেঞ্চি ছেড়ে জানলায় উঠে গেলেন নাট্যকার। দড়ির ওপর শুকনো তামাটে চুল মেয়েটা, হাতে লম্বা শুরু লাঠি, পায়ে পায়ে হাঁটছে। দৃশ্যটি দেখে, আধ পোড়া বিড়ি আরেক বার ধরিয়ে, শিশুর মতো হাততালি দিয়ে চিৎকার করে উঠলেন – ওই তো আমার নায়িকা- ওই তো আমার নাটক – ওই তো আমার নন্দিনী, সলেমান। চল বেরিয়ে পড়ি। নাটকের কথা ঘরে নয়, হোক রাস্তায়, হোক রাজপথে, মিছিলের স্বপথে। আমাদের তো মাও ৎসে তুঙের সেই নগ্নপদ চিকিৎসকের দায়িত্ব। রোগী চিকিৎসকের কাছে যাবে না, চিকিৎসক রোগীর কাছে যাবে। আর এই যাবার জন্য থিয়েটারের আহার্যের বাহুল্য ছাড়তে হবে।
মুক্ত আকাশ। মুক্ত বাতাস। মুক্ত থিয়েটার। গান থামিয়ে, ডুগডুগি বাজিয়ে সূত্রধর গলা উঁচিয়ে বলতে শুরু করলেন, যেন শ্রেণীকক্ষে ঢুকে রোল কল নিচ্ছেন মাস্টার মশাই:
সূত্রধর : স্বাধীনতা?
খুঁটির নিচে মাঝবয়সী, দেহাতি মহিলার তালি মেরে উত্তর, গ্রিন রুমে। মেকাপ হয়নি।
দড়ির ওপরে সলেমানের ডিগবাজি। সমবেত হাততালি।
সূত্রধর : সাম্য –
দেহাতি মহিলা: পেট খারাপ। খালি যাচ্ছে আর আসছে।
সূত্রধর : মৈত্রী ?
দেহাতি মহিলা : ওর কোনো সংলাপ নেই। নেক্সট-
সূত্রধর : গণতন্ত্র ?

এবার পাগল বাবর আলীর চোখের মতো এলোমেলো আকাশের নিচে, দেহাতি মহিলা, সলেমানের মা, উঠে এসে ভিড়ের মধ্যে খুঁজতে থাকে। ডাক ছাড়ে, লম্বা ডাক – গ – ণ – তন্ত্র – ও – ও – ও!!! নিস্তব্ধ চারিধার, শহর প্রাকার। মহিলা ডেকে চলেছেন- গ – ণ – তন্ত্র – ও – ও – ও!!!
(দড়ির ওপর সলেমান সমানে ডিগবাজি খেয়ে চলেছে। এক সময়, হাতে লাঠি, সূত্রধর নিজেকে কুঁজো করে থুথ্থুরে বুড়ো সেজে মাঝখানে দাঁড়িয়ে বলতে শুরু করলেন)
সূত্রধর : লিকার। দারু। রাম। হারিয়ে যাওয়ার ভালো দাওয়াই। হারাও, গণতন্ত্র, হারাও। শুধু হারাও। (ভিড়ের দিকে এগিয়ে এসে) গণতন্ত্র হারিয়ে গেছে কবে। পথে পথে, মিছিলে মিটিংয়ে, খুঁজে খুঁজে বুড়ো আমি আজ। তবু ওকে খোঁজার শেষ নেই আজও। সেই কবে থেকে হাঁটছি। খুঁজছি। কিন্তু ঘুরে ফিরে শালা একই জায়গায় এসে পৌঁছচ্ছি। একবার রাস্তার ডান দিকটা তাড়া করে একবার বাঁ দিকটা দাঁত খিঁচিয়ে এগিয়ে আসে।
(এইসব বলতে বলতে আমরা দেখতে পাই, বৃদ্ধ অচৈতন্য হয়ে পড়ে গেলেন মাটিতে। তিনজন মিলিটারি-বেশী বাহক এগিয়ে এলেন। বৃদ্ধকে কাঁধে তুলে ঘুরতে লাগলেন গোল করে।)
বাহকবৃন্দ সমস্বরে: বলো হরি হরি বল, ভারাভারাকে খাটে তোল। বলো হরি হরি বল, গণতন্ত্রকে শিকে তোল। বলো হরি বল, হুনুমানের পাছা গোল। বলো হরি হরি বল রাম সীতা ঝাল ঝোল। বলো হরি হরি বল গুলি করে বাজা খোল।
(ঘুরতে ঘুরতে একসময়ে বাহকেরা ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়। ফুটপাথে তখন খোল-কর্তালের আওয়াজ। নামাবলী গায়ে গুরুদেব ও তাঁর ভক্তদের প্রবেশ। হাতে প্ল্যাকার্ড। লেখা – আত্মনির্ভর অর্থনীতি, মুখোশ পড়ুন, প্রাণে বাঁচুন/ খিদে পেলে জোরে হাঁচুন; গেরুয়া, সবুজ, লাল টকঝালমিষ্টি লজেন্সের হরিলুট, থালা বাজিয়ে কীর্তন।)
ভজ গৌরাঙ্গ, দেশটা ত্রিভঙ্গ, করে রাখ ব্যাটা তোরা সব রে ধর্মের ল্যাজ তুলে, পেটে কিল মেরে মুড়ে দুঃখকে সহ্য কর রে।
এই হোলো বাদল থিয়েটার, ন্যাংটো থিয়েটার, ছকে বাঁধা, মধ্যবিত্তের মুখোশ খোলার থিয়েটার, কলারের তলায় রুমাল পাতা ঘেমো কেরানিকে আঙুল তুলে প্রশ্ন করার পাঁচিল-বিরোধী থিয়েটার, প্রলেতারিয়েত নয়, প্রিক্যারিয়েত থিয়েটার।
‘বাদলবাবু, প্রিক্যারিয়েত কারা?’
‘সেইসব মানুষগুলো যারা দীর্ঘ মেয়াদের কাজ পায় না, যার ফলে তারা মৌলিক সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত; যাদের চাইলেই নিয়োগ করা যায়, ডাকলেই পাওয়া যায়, ইচ্ছে হলেই স্বার্থসাধনের জন্য ব্যবহার করা যায়, খেয়াল হলেই ছাড়িয়ে দেওয়া যায়; যারা অনিশ্চিত অবস্থায় টিঁকে আছে আর ‘প্রার্থনা’ জানাচ্ছে এই জগতের বড় তথা বদমানুষদের কাছে তাদের গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য, রোজ কাজ পাওয়ার জন্য; যাদের সকলেরই মুখ আছে, নাম আছে, কিন্তু সবাই মিলে নিপীড়িত জনগণ যাদের নাম – প্রিক্যারিয়েত। শিল্পযুগের প্রলেতারিয়েতের মতোই উত্তর শিল্পযুগের এরা, অশান্ত সামাজিক সত্তা।’
‘এদের কোনো ম্যানিফেস্টো – গান – স্লোগান?’
‘ভোমা হাঁকে – হেঁইয়ো। বিষ ঝাড়াবে – হেঁইয়ো। বাঘের থাবা – হেঁইও। ভোমার থাবা – হেঁইও। সাপ তাড়ুয়া – হেঁইও। কুমির মারা – হেঁইও। নুনের সাগর – হেঁইও। রক্তের নুনে – হেঁইও। আগুন জ্বলে – হেঁইও। ভোমার চোখে – হেঁইও। আগুন জ্বলে – হেঁইও। আবাদ ওঠে – হেঁইও। ভোমার কুড়াল – হেঁইও। হাসিল করো – হেঁইও।’
‘বাদলবাবু, পুলিশের ভ্যান!!!’
‘ওটাও এক ধরণের অ্যাম্বুলেন্স। সংশোধনাগারে নিয়ে যাবার পোঁ পোঁ গাড়ি।’
‘চলুন ঘরে ফিরে যাই। ওখানে গিয়ে আবার করে কথাগুলো একবার, মানে যদি আরেক বার – ‘।
‘আবার সেই ঘর!!! আবার সেই ভুলতে হবে নিজের অস্তিত্বটাকে!!! পাঁচিল ভেঙে বেরিয়ে এসেছি সেই ষাটের দশকের শেষে। তখন থেকেই মনে হচ্ছিলো, যেখানে কাঞ্চনমূল্যে প্রবেশ পত্র কিনলে প্রাচীর ভেদ করে অন্দরে যাবার অধিকার জন্মায়, সেখানে সমানাধিকার নেই। কাঞ্চনমূল্যের ওপর নির্ভর করে দর্শকরা কোথায় বসবেন। এরপর নেমে আসবে অন্ধকার। ফলে সামনের লোক পেছনের লোক পাশের লোক সবাইকে যথাসম্ভব ভুলে যাবার চেষ্টা করতে হবে। এই যে টাকার বিনিময়ে আসন কিনে পরিপার্শ্ব ও অস্তিত্ব ভোলানিয়া নাটকের আয়োজন তা মানুষের সঙ্গে মানুষের অসংযোগের পথ প্রস্তুত করছে। এই অসংযোগটাকেই তো পুঁজি, কায়েমী স্বার্থ সাধনের জন্য ব্যবহার করে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর রক্তকরবী নাটকে যক্ষপুরীর প্রশাসনিকদের এই আধারেই তো দেখিয়েছেন। নাটক আমার কাছে হাতিয়ার। সে আমার নন্দিনী, আমার সলেমান – যে যুগে যুগে রাষ্ট্রশক্তির অসংযোগের পরিকল্পনাকে পদে পদে বিনষ্ট করে যক্ষপুরীর আগল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।’

‘এই বুঝি আপনার কৃত রক্তকরবীর অভিযোজনের মূলমন্ত্র?’
‘একদম। পথসেনা ওটা করেছে শুনেছি।’
‘বৌদ্ধিক সমাজ তো আপনাকে নাট্যকার হিসেবে রবীন্দ্রনাথের পরেই রেখেছেন।’
‘রবীন্দ্রনাথ নাট্যকর্মী ছিলেন না আমাদের মতো। থাকলে বাংলা গানের মতো নাটকও অনেক উন্নত এবং একটা নির্দিষ্ট দেশজ দিশা পেত। তাছাড়া আর তো কেউ নেই। ফাঁকা মাঠ। এবং এটাই দুর্ভাগ্য। বাংলা ভাষায় নাট্য সাহিত্য বলে কিছু গড়ে উঠলো না। এখনো সেই গিরিশ ঘোষ, ক্ষিরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ, রবীন্দ্রনাথ আর বিজনদার নবান্ন। এই দেখো না, দেশ পত্রিকা, ওরা পরপর দু’বছর আমার নাটক ছাপালো। তারপর দেখলাম দেশ পত্রিকায় সাহিত্যকর্ম হিসেবে একটা লিস্ট করা হয় তাতে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ভ্রমণকাহিনী সবই আছে, কিন্তু নাটকের কোনো উল্লেখ নেই। এটা আমার কাছে খুব অর্থবহ মনে হয়। কারণ, দেশ-এর মতো পত্রিকাও নাটককে সাহিত্য বলে মনে করে না। আর তাই নিয়ে কোনো প্রতিবাদ হয়েছে বলে জানা নেই। তাছাড়া আরো একটা কথা। বাঙালি মধ্যবিত্তের জীবন এতটাই হিসেবে ছকে বাঁধা সেখানে প্রতিবাদের স্পৃহাটাই নেই। নাটকও নেই।’
‘ফলত নাটকের কথা শেষ পর্যন্ত নাট্যকারের নিজের কথা!’
‘হ্যাঁ আমি একা। আর কেউ নয়। আমি একা। এ আমার কথা।’
‘কি কথা?’
‘নাগরদোলার আবর্ত ছন্দে অংশ চেতনা নিয়ে উদ্বেগের কথা।‘
তবু এ আমার – এ আমার কথা, এ ঘর আমার, এ আমার বিষ, যত কথা আছে আনাচে কানাচে ছায়াতে ছায়াতে কোন খাঁজে মিশে যত কথা আছে সবই একা আমি একে একে এনে পুষে পুষে রেখে দিয়েছি।

বের্টোল্ট ব্রেখটের মতো কবিতার হাত ধরে বাদলবাবুর নাটকের জগতে প্রবেশ। ছন্দপ্রেম, লন্ডন শহরে টাউন প্ল্যানিঙের ডিপ্লোমা করার সময় থেকে। এবং ব্রেখটের মতোই নাট্যজীবনে তাঁর কবি সত্তা জাগ্রত ছিল সর্ব সময়। প্রত্যেক কবিতা ডায়েরির পাতা জোড়া গভীর আত্মজিজ্ঞাসা। সেগুলো পরবর্তী কালে ঝরে পড়েছে নাটকে – এবং ইন্দ্রজিৎ’এ, সারা রাত্তির-এ, যদি আর একবার-এ। কবি ও নাট্যকার এসে মিলে গেছে এক বিন্দুতে।
‘জীবনের প্রথম প্রভাতে বিনা দ্বন্দ্বে, বিনা প্রশ্নে উন্মুক্ত দু’হাতে তীর্থপথ মহাদীক্ষা করেছি গ্রহণ। দিবসান্তে আজ যেন মন নাহি ভোলে সেই দীক্ষা। তীর্থ নয়, তীর্থপথ আমাদের – মনে যেন রয়।’
‘বাদলবাবু, কবিতাগুলো বড্ডো রবীন্দ্রময় নয় কি?’ ইচ্ছে করে খোঁচা দিয়ে বললাম।
প্রত্যাশিত ভাবে, খন্ড প্রকাশের জ্বালা উগড়ে দিয়ে উত্তর এলো – ‘রবীন্দ্রনাথের নকল? সে তো কবিতাটা। আজকের আমি তো রবীন্দ্রনাথের নকল নই। আজকের মাথা খারাপ করা প্রশ্ন আজকের বাঁচবার যন্ত্রনা তো রবীন্দ্রনাথের সমস্যা নয়। আমার যদি ক্ষমতা থাকতো নিজের ভাষায় নিজের কথা বলি, তাহলে আজকের প্রশ্নের বহু মীমাংসা হয়ে যেত। তা পারছিনা বলেই তো যন্ত্রনা।’
রবীন্দ্রনাথের মতো, ব্রেখটের মতো বাদল বাবুর নাটকের কুশীলবদের মুখেও কবিতা গান ছড়া উচ্চারিত হয়েছে। বারবার তাদের মাধ্যমে ফিরে এসেছে তীর্থপথের কথা, অনন্ত পথ চলার কথা, মুহূর্ত কণা বা অনুখন্ডিত জীবনটাকে সমগ্রতায় দেখার ভ্রান্তির কথা।
অন্ধকারেরা চুপি চুপি কথা কয় কত অপেক্ষা, তবু তো গেলো না শোনা। ওরা কি জানেনা – আমার এ সঞ্চয় নিঃশেষ হলে কি গভীর যন্ত্রনা!
আবার বারবার তাদের মাধ্যমে জীবনটাকে নিয়ে প্রচুর হেসেছেন, হাসিয়েছেনও। এই প্রসঙ্গে মনে আসছে শ্রদ্ধেয় ধরণী ঘোষের কথা। ‘কবিকাহিনী’ দেখে ফেরার পথে ওনার উক্তি: ‘ছকে বাঁধা মধ্যবিত্তরা নাটক দেখে মনটাকে হালকা করে হাসতে ভুলে গেছে। বাদলবাবু সেখানে ব্যতিক্রম। যেকোনো মানুষকে হাস্যকর করে তুলে তার মনের গভীর ক্রাইসিসগুলো বিশ্লেষণ করা কম কথা নয়। এ ব্যাপারে বাংলা নাট্য সাহিত্যে উনি পথিকৃৎ।’ অনেক কিছুর মধ্যে মনে এলো এবং ইন্দ্রজিতের সেই অনবদ্য ছড়া:
কেন তুমি ঘড়ি ধরে অফিসেতে ছুটবে? / কেন তুমি তরকারি বঁটি দিয়ে কুটবে? / তেল দিতে কেন বাছ অন্যের চরকাই / সব্বাই করে বলে সব্বাই করে তাই?

‘আচ্ছা, আপনি কোনো পলিটিকাল থিয়েটার – উৎপল বাবুরা ওই যাকে বলে আর কি, সেই রাজ – ইত্যাদি নৈতিক থিয়েটার কোনো দিন করেছেন বলে মনে করেন?’
‘হ্যাঁ করি। কিন্তু পার্টি-পলিটিকাল থিয়েটার করি না। আমরা আমাদের পলিটিক্স চেনাই। ব্যাপক অর্থে পলিটিক্স কথাটার অর্থ হলো একটা দর্শন, যা প্রত্যেক মানুষের আছে। তার জীবন দর্শনই তার পলিটিক্স। আমরা সেভাবেই নাটকটা করি। কিন্তু, যে কোনো পার্টিই, একটা ব্র্যান্ড না থাকলে সন্দেহ করে। আমাদের সম্পর্কের এটাই সন্দেহের। আমরা হয়ে যাই কখনো নকশাল, কখনো ধর্মীয় মহাপ্রভু, কখনো জোড়া বলদ, কখনো প্রতিক্রিয়াশীল কিমিতিবাদী।’
‘মানে যার ল্যাজে যখন পা ফেলেছেন সে তখন তার মতো করে শনাক্ত করে ফাঁসিতে চড়িয়েছে’।
‘যার ল্যাজ যত মোটা, তার বিষ তত ফোঁটা।’
মোটা ল্যাজ উদাহরণ ১ : উৎপল দত্ত : বাদল সরকার অযোগ্যতার কারণে মঞ্চে সুবিধে না করতে পেরে থিয়েটারের নামে যে শারীরিক কসরত দেখিয়ে আসর জমাবার চেষ্টা করে, তার আসলে কোনো ভিত্তি নেই।
মোটা ল্যাজ উদাহরণ ২ : সফদার হাশমি : বাদলবাবুর থার্ড থিয়েটার সাধারণ মানুষের নাট্যচর্চার জগতে এক অন্তহীন দুর্যোগের শুরুয়াত। কেবলমাত্র বিন্যাসকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়কে পিছনে ঠেলে উনি দেখাতে চাইলেন বিন্যাসই থিয়েটার। এইগুলি খুবই আকর্ষক, কিন্তু এর বেশি কিছু না। উনি এক নিঃশ্বাসে মার্কস থেকে এঙ্গেলস, ফ্রয়েড থেকে হিটলার, বরিস বেকারে চলে যান। সব কিছুকে যেন একই অবস্থানে মনে হয়। এটা তাঁর স্বভাব। তাঁর চিন্তায় নৈরাজ্য কাজ করে। তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করে যেসব শক্তি বাদলবাবু তাদের সংগেই কাজ করেন। বুর্জুয়া প্রেস তাঁকে এমন ভাবে প্রচার করেন যেন তিনি একটা বিপ্লব এনে ফেলেছেন।
‘শুনলেন তো। কি বলবেন? সত্যকে অস্বীকার করার সংকীর্ণতা?’

‘আসলে বহু রঙের তাঁবু গেড়ে বসে আছে যে সব রাজনৈতিক দলের মুখপাত্রেরা তার কোথাও না কোথাও তোমাকে ঢুকতেই হবে। চাঁদ সওদাগরের সেই ব্যক্তিমানুষের হাহাকার তো প্রায় সব সচেতন ব্যক্তিসম্পন্ন মানুষের। হয় ‘বেণীনন্দন’ নয় ‘করালী’ কারো না কারো আশ্রয়ে থাকতে হবে কেন! হতে হয় কেন না শাসকদের প্রচলিত হিসেবে যে তোমায় বুঝতে পারছে না। যেমন রাজা স্পষ্ট করে জানতে বুঝতে চায় তার সব প্রজাকে। তাহলেই তার শাসন প্রণালী অটুট থাকবে। সেই প্রণালীকে অস্বীকার করে যে রঞ্জন, তুচ্ছ মনে করে যে নন্দিনী – রাজা তাকে সইতে পারবে কেন! ফলে ক্রোধ বাড়ে। নিন্দা বাড়ে। ভুল বিশ্লেষণে অস্তিত্বহীন করে দেবার বহুতর প্রচেষ্টা চলে।’
বাংলায় প্রগতিশীল সংস্কৃতির পয়ে রফলা ছাড়া প্রবাহে এ কোনো নতুন ব্যাপার নয়। স্থিতিশীল, ডায়াপার পরা বামপন্থার প্রাতিষ্ঠানিক শাসন এমনি ভাবে থাবা বসিয়েছে বহুবার। তপন সিনহা যখন দিলীপ কুমারকে নাচিয়ে কুঁদিয়ে সাগিনা মাহাতো করেন তখন কমরেডরা আহ্লাদে গড়িয়ে ননী হয়ে যান। কিন্তু বাদল বাবু যখন সাগিনার মাধ্যমে বলতে থাকেন ব্যবস্থার ভিতরে ছিবড়ে হতে থাকা একজন মানুষের কথা তখন তাঁরা নিগূঢ় ষড়যন্ত্র দেখতে পান। হায় বামপন্থা! বিজনবাবু আপনাদের দিকেই আঙুল তুলে বলেছিল – আই প্রোটেস্ট। আপনারা ভয়ে পেয়ে হুইস্পারিং ক্যাম্পেন চালিয়ে কোমল গান্ধার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়কে ফাঁসি দেয়া নাটা মল্লিকের ওপর জোশি জোসেফের তথ্যচিত্রের প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল নন্দনে। বৌদ্ধিক কমরেড কবি ভয় পেয়েছিলেন। ব্যাগ থেকে বেড়াল পাছে বেরিয়ে পরে।
ঘরে যোগ্য কল্কে না পেলেও, একই সালে জন্মানো (১৯২৫ ) ঋত্বিকের ছবির মতো, বাদল সরকারের নাটক চৌকাঠ ডিঙিয়ে আন্তঃরাষ্ট্রীয় তথা আন্তর্দেশীয় সমীকরণের উজান ঠেলে পাড়ি দিয়েছে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে, বিদেশে। তাঁর ‘মিছিল’ নাটকের হাত ধরে শুরু হয়েছিল পাকিস্তানের নবনাট্য আন্দোলন। ষাটের দশকের শেষ দিকে শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজয়া মেহতা পৌঁছে গিয়েছিলেন বাদলবাবুর সিএমডিএ অফিসে বল্লভপুরের রূপকথার অনুবাদ তথা অভিনয়ে স্বত্ব নেবার জন্য। মারাঠি ভাষায় ‘বল্লভপুরচি দন্তকথা’এ প্রথম অভিনয় করেন অমল পালেকার, আবহ সংগীত দেন রাহুল দেব বর্মন, সহ পরিচালক ছিলেন সচিন টেন্ডুলকারের বাবা, সাহিত্যিক রমেশ টেন্ডুলকার। ২০০৫-এ পুনেতে, বাদল সরকার রঙ্গ মহোৎসবে ‘সারারাত্তির’ পাঠ করতে ওঠেন সস্ত্রীক নাসিরুদ্দিন শাহ। ‘পাগলা ঘোড়া’ পড়েছিলেন নানা পাটেকার। এবং ইন্দ্রজিৎ – অমরিশ পুরি, রোহিনী হাত্তাঙঘড়ি। দিল্লির এনএসডি’তে ইব্রাহিম আলকাজি পরিচালনা করেছেন, বাকি ইতিহাস, এম কে রায়না-স্পার্টাকাস, সত্যদেব দুবে-পাগলা ঘোড়া। দাক্ষিণাত্যে রোডস স্কলার গিরিশ কার্নাড-কে আলোড়িত করেছেন দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে যাবার সাবলীল প্রক্রিয়া দিয়ে। তিনি ইংরিজিতে অনুবাদ করে উপস্থাপন করেন ‘এবং ইন্দ্রজিৎ’। তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক ‘হয়বদন’এর ভূমিকায় কার্নাড স্বীকার করেছেন ‘এবং ইন্দ্রজিৎ’ নিয়ে এতদিন পড়ে না থাকলে এই নাটকটির কথা কোনোদিন ভেবে উঠতে পারতাম কিনা সন্দেহ আছে। এগুলো কোনোটাই হঠাৎ আলোর ঝলকানি নয় তবু আশ্চর্য, বাংলা থিয়েটারে বাদলবাবুর এইসব নাটক ঘটনা হয়ে উঠতে পারে নি। কলেজ স্ট্রিটে নাট্য সমগ্র কিনতে গেলে শুনতে হয় – এক হপ্তা পরে আসুন খুঁজে রাখব।

হায় বাংলা! যায় বাংলা!!! হায় বাঙালি, সব হারালি!!! কুয়োর জলে, দিন কাটালি!!!
কথায় কথায় রাত শিকড় ছেড়ে দেয়াল গড়িয়ে নামতে শুরু করেছিল। ওগুলোকে বিভিন্ন আকারে ছেঁটে কেটে নানান নিরিখে নাট্যকার রং-বেরঙের কোলাজ তৈরী করেন। ট্রাঙ্কের মধ্যে রেখে দেন। প্রান্ত বেলার শান্ত নেশা।
‘এবার উঠি তাহলে?’
‘বসতেও পারো যতক্ষণ না বস্তা হও।’
‘বস্তা মানে তো সস্তা। বাঙালির শেষ অবস্থা।’
‘তা বটে। দেখে যাও এ-জাতের কপালে আরো কি ঘটে।’
‘তবু যাবার আগে একটাই আবেদন।’
‘বলে ফেলো, শুনছি বিলক্ষণ।’
‘নাম করব কিছু বিদগ্ধজনের, মতামত আশা করি বিজ্ঞ মনের।
‘ইচ্ছে হলে বলবো, না হলে নয়।’
‘শুরু করছি, দেখা যাক কি হয়।’
‘শম্ভূ মিত্র’?
‘বেনেভিৎজ আমাদের নাটক দেখতে এসে বলেছিলেন, আই ওয়ান্ট গ্যালিলিও, নট এন ওল্ড ম্যান। একদিন উনি পাগলা ঘোড়ার মহলার সময়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কার্তিক যদি আত্মহত্যা করে কি হয়? আমি বলেছিলাম – তাহলে ওটা আমার নাটক থাকেনা।
‘অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়’?
‘ভালো পরিচালক। আরো ভালো অভিনেতা।’
‘খালেদ চৌধুরী?’
‘অসাধারণ! বিজনদা, বটুকদা অসাধারণ!’
‘ঋত্বিক ঘটক’?
‘ওঁর একটাই প্যাশন ছিল। ওঁর কাছে দেশ একটা প্যাশন, কনটেন্ট।’
‘মোহিত চট্টোপাধ্যায়?’
‘ভালো নাট্যকার। একসময়ে ও আর শ্যামল ঘোষ বাজার মাত করেছিল। এবং সেটা ইতিহাস। কজন জানে তা জানি না।’
‘কোক, পেপসি – ।’
‘ইরাকের ঘটনার পর আর খাই না।’
‘সায়েন্স ফিকশন।’
‘আমেরিকান সায়েন্স ফিকশন কেবলি-ই যুদ্ধ। অন্যদিকে রাশিয়ানগুলোতে কৌতূহল। জানবার ইচ্ছা। স্বপ্ন। দুঃখজনক যে আগামী প্রজন্ম সন্ত্রাসবাদীদের ফিল্ম কারখানায় মশগুল হয়ে শুধু যুদ্ধের আদব কায়েদাই শিখছে। ষ্টার ওয়ার্জ, ইত্যাদি।
কথা শেষ। আলো নিভে এলো। অদৃশ্য পর্দা নামার শব্দ। গলি থেকে বেরিয়ে মানিকতলার মোড়। মাথার ওপর ঘড়ি। লক্ষ্য করলাম, বাদল বাবু এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছেন ওর দিকে।
‘কি ভাবছেন?’
‘১৯৮৬র মতো আবার যদি সবাই মিলে নাটক নিয়ে গ্রাম পরিক্রমা করা যেত। মছলন্দপুরে যেমন করেছিলাম। আমার প্রেসার নেই, সুগার নেই। তাই ভাবছি, যদি আরেক বার – যাই হোক, লরেটো স্কুলে এস – পাগলা ঘোড়া হবে – আমি থাকব।’
অনুষ্ঠানের দিন খুব ভিড় হয়েছিল মনে আছে। চোখে মুখে কি উৎসাহ। হাত তুলে বললেন এবার অন্য নাটক করবো। আমি একশো বছর বাঁচব। কিন্তু তা আর হয়নি। মানিকতলার কাল ঘড়ি করতে দেয় নি।

২০১১’র ১৩ই মে, রাত পৌনে নটার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে ঘরছাড়াকে ফিরিয়ে নিয়েছিল ঘরে। যে ঘরে পাঁচিল নেই, ছাদ নেই, যে ঘর একটা বিরাট স্পেস, বাদল সরকার, পিটার ব্রূক, জার্জি গ্রোটোস্কির সর্বপ্রিয় এম্পটি স্পেস। শেষ করে দিয়েছিলো, সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় – বাংলার শেষ জ্যান্ত রূপকথা; সর্বভারতীয় সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাংলার শেষ নেতৃত্বের সংজ্ঞা।