Category: শৌভিক দে (দুখিরাম)

‘এ কথা খুব সহজ, কিন্তু কে না জানে – সহজ কথা ঠিক ততটা সহজ নয়’ (শঙ্খ ঘোষ)
সত্তরের দশকের প্রথম দিকে টাটা-বাবার গাঁয়ে সে এক শীতার্ত সান্ধ্য প্রহর। কিছু পণ্ডিত, কিছু পণ্ডিতম্মন্য আর কিছু নির্ভেজাল সংস্কৃতি প্রেমিক শ্রোতা জড় হয়েছেন একটি ইশকুলের নাতি বৃহৎ সভাগারে। নিতান্ত বালক দুখিরামও রয়েছে তার বাবার পাশটিতে, লেজুড় হয়ে । কথা হচ্ছে সেই মনোরম শীত সন্ধ্যায় ব্যাডমিন্টন ইত্যাদি না খেলে, মুড়ি পাটালি না খেয়ে, ‘কুমোর পাড়ার গরুর…

দু এক মুহূর্ত শুধু রৌদ্রের সিন্ধুর কোলে … তুমি আর আমি
‘এই যে শ্রীমতী চিত্রিতা এই দিকে … হ্যাঁ এই টেবিলে। বসুন। নমস্কার । আমি ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়।’ = ‘অ্যাঁ! সে দিন তো বলেছিলেন তারাপদ না কি যেন ?’ ‘বাহ। ধন্য আপনার স্মৃতি শক্তি। একটু পরীক্ষা করে দেখলুম। আসলে সেদিন এমন মেঘমেদুর মুখচ্ছবি দেখেছিলেম যে ভাবিনি আমার সাধারণ তারাপদ নামটি আপনার মনে থাকবে। একটি বুড়ো আঙুলের ছবি আপনি…

মহালয়ার প্রাক্কালে, মূর্খের জিজ্ঞাসা
‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে, বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর; ধরণীর বহিরা-কাশে অন্তরিত মেঘমালা; প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমন বার্তা।’। স্বর্গত বীরেন্দ্রকৃ্ষ্ণ শান্ত হলে এবং আপনি নিষ্ঠাবান হিন্দু হলে ভোর ভোর উঠে পড়ুন । স্নানাদি সেরে যে কোন জলাশয়ে দাঁড়িয়ে তিন গণ্ডূষ জলের অঞ্জলি দিয়ে বলুন ” ওঁ আগচ্ছন্তু মে পিতরঃ ইমং গৃহ্ণন্তু অপঃ অঞ্জলিং ” অর্থাৎ হে…

ভূতের দৌলতে
দর্পহারী দাম সাবধানে সদ্য ছাড়া সার্টটিকে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। প্রথম পর্যায়ের নিরীক্ষণ সন্তোষজনক হওয়ায় তিনি দ্বিতীয় পর্যায়ে গেলেন অর্থাৎ নাক থেকে ছয় ইঞ্চি দূরে রেখে একবার অনুলোম স্টাইলে দীর্ঘনিশ্বাস নিলেন। ঠিক তখনই পিছন থেকে শৈবলিনী দাম বললেন ‘ওটা কি হচ্ছে’? দর্পহারী বাবু – যাকে বলে – তড়িতাহতবৎ পিছনে ঘুরে দেখলেন হাতে ধূমায়িত চায়ের কাপ সহ স্ত্রীকে।…

নাথ হে, প্রেম পথে সব বাধা…
জয় তব বিচিত্র আনন্দ, হে কবি জয় তোমার করুণা। (ফোঁস, ফোঁ ……স, ফোঁস) ‘তোর কি ব্যাপার বল তো অমিত ? তখন থেকে দেখছি খালি দীর্ঘ নিশ্বাসে ফুলদানীর ফুল কাঁপিয়ে দিচ্ছিস। বলি হয়েছেটা কি?’ ‘তুই বৈকুণ্ঠের খাতা পড়েছিস?’ ‘কে বৈকুণ্ঠ? আমাদের অফিসে তো কেউ নেই। ও কি হেড অফিসের লোক। তাছাড়া সে তার খাতায় কি লিখেছে…

রবীন্দ্রসঙ্গীত সাধনার স্বাধীনতা
কত রাজা আসে যায়, ইতিহাসে চিহ্নহীন তার পদ ধ্বনি বেজে বেজে চলে …। ( ফেরারি ফৌজ, প্রেমেন্দ্র মিত্র) ‘স্বপন দেখিছে রাধারানী, আহা স্বপন দেখিছে রাধারানী’। না । রাধারানী নন – স্বপ্ন দেখছিল দুখিরাম। সে ভারি খুবসুরত খোয়াব, জীবন ধন্য করা খোশখেয়াল। অক্ষাংশ – 22.5422 আর দ্রাঘিমাংশ – 88.3442 যেখানে কাটাকুটি করেছে স্বপ্নের শুরু ঐখানে। পাঠক…

যে জীবন ফড়িঙের…
‘বাবা আজ যদি তুমি বলতে না পারো ভদ্রলোকে – আমিই বলব’।‘একদম না। তুমি কি বলতে কি বলবে। আমি বলব’।‘ঠিক আছে । তুমি কিন্তু আগেও বলব বলে – বলনি। আজ…’।‘ওরে বলার মত একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে – তবে তো’।‘তাহলে আর হয়েছে । ছাড়ো। আমি আজ …’।‘কিছুতেই – না। ঠিক আছে বলছি তো … আজ বলে দেব’।‘ও…

রম্যাণি বীক্ষ্য
দুখিরাম এই সদ্য সাড়ে তিনশো খানেক “পাত্র পাত্রী চাই” বিজ্ঞাপন পড়ে উঠল। এটি তাঁর অবসর কালীন রবিবাসরীয় যাপন। বাংলা ভাষা শেখা ইস্তক যে বহুল প্রচারিত ঢক্কা নিনাদ সংবাদ পত্রটি – সে রোজ দাঁতে কাটে, তাতেই প্রতি রবিবার আলাদা কয়েকটি পাতা সংযোজিত হয়। সেখানে পুত্র গৌরবান্বিত আর কন্যা দায়গ্রস্ত মা বাবারা আইন মাফিক স্বজন সন্ধানে ইস্তাহার…

নিভাননী সিরিজ
(১) তখন ছিল সন্তুলন, অল্প ছিল চাওয়া,দপ্তরেতে অলস পাখা, এখন শীতাতপ,বদলিয়াছে যাপন রেখা, উচ্চাশার দিক –পাইয়াছিলে মসী জীবন এক্ষণে ল্যাপটপ। “বদল” শুধু রাজনীতির? মুঢ়তা এ যে ভারি,ভিক্ষুকের বদল আসে, দেবতা বদলায়,উহাই শুধু সুনিশ্চিত সময় সম্ভব,ঘাঁটিয়া দেখো ইতিহাসের পর্চা কোবালায়। আমিও জানি – তুমিও জান ধন্ধ তবু থাকে,বসন্ত যে আসিল দ্বারে – তুমি কি কিছু জান…

এত হাসি আছে জগতে তোমার…
একটি অসমর্থিত রসিকতা ঘুরে বেড়ায় পশ্চিম বঙ্গের আনাচে কানাচে। কিম্বদন্তী রাজনীতিবিদ শ্রদ্ধাস্পদ জ্যোতি বসু – হাসতেন না। সে সময়ের বাঙলা দেশের রাষ্ট্র প্রধানের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে শেখ মুজিবরের কন্যা নাম বললেন ‘শেখ হাসিনা’। জবাবে শ্রী জ্যোতি বসু না কি বলে ছিলেন ‘শেখবার কিছু নেই আমিও হাসিনা’। দুখিরামের মনে আছে এ রকম একটি পত্র যুদ্ধের অবতারণা…
