
এখানে বৃষ্টি আদরে সোহাগে
আবেগে-আবেশে, রাগে-অনুরাগে
মাটিরে রাখে না ধরে।
বাজিয়ে নূপুর টইটম্বুর দীঘির জলে,
আপন ছন্দে আপনি বিভোর –
আনমনা সেই বরষা কিশোরী
শালুকের সাথে খেলে না এখানে,
সারসের সাথে মেলে না ডানা।

এখানে মগন শিল্পী বরষা
খেলে না রঙের খেলা,
জলরঙা ছবি আঁকে না সে আর
দিগন্ত জোড়া ক্যানভাসে তার;
বিদায় নিয়েছে মেঘমল্লার,
সুরের সাধক বাদল গায়ক
এখানে অন্ধ ফেরে দ্বারে দ্বারে,
সকল দুয়ার বন্ধ।

এখানে শহরে পিচ ঢালা পথ বেয়ে
চকিতা বরষা আসে এক ভীরু মেয়ে।
কংক্রিট বেয়ে চুঁয়ে চুঁয়ে পড়ে,
ট্রাম লাইনেতে মাথা কুটে মরে।
অবিরাম চলা গাড়ির চাকায়
কুমারী হৃদয় লাঞ্ছিত হয় –
হরিণী বরষা লুটায় মাটির পরে।

তবুও বরষা চপলা তরুণী
মনে একরাশ স্বপ্ন –
সুদূর গগনে উড়ে যেতে চায়,
তবুও সে হায়, যেতে নাহি পায়।
দাঁড়ের পাখির মতোই যে আজ
পায়ে তার বেড়ি;
শিকলের সাথে সকরুণ এক সন্ধি।
বরষা এখানে নগর জীবনে বন্দী।

