
রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের উল্লেখযোগ্য কবি অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০১ সালে। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর যখন যোগাযোগ হয়, তিনি তখন ১৬ বছরের একটি কিশোর। অচিরেই কবির স্নেহধন্য হয়ে ওঠেন অমিয়। সেই সময়টিতে তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার অকালবিয়োগে সে প্রবলভাবে কাতর ও চূড়ান্ত অবসাদগ্রস্ত অবস্থায় দিনযাপন করছে। স্নেহসিক্ত কবি এক অসামান্য মনোবিদের মত একটির পর একটি চিঠিতে উজ্জীবিত করতে থাকেন তাঁর প্রিয় অমিয়কে। এর কিছু বছর পরে ২৫ বছর বয়সে অমিয় চক্রবর্তী তাঁর কলকাতার পাঠ সাঙ্গ করে কবির ডাকে সাড়া দিয়ে বিশ্বভারতীর অধ্যাপক ও কবির সাহিত্য-সহকারী হিসেবে যোগ দেন। ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত তিনি রবীন্দ্রনাথের একান্ত আপনজন ও সহকারী হিসেবে কাজ করেন । এর পর রবীন্দ্রনাথের ইচ্ছাতেই তিনি বিদেশে চলে যান উচ্চশিক্ষার জন্য এবং জীবনে সাফল্য লাভ করেন। রবীন্দ্রনাথের পত্রসাহিত্যের অসামান্য ভান্ডারে অমিয় চক্রবর্তীকে লেখা তার পত্রাবলীর উজ্জ্বল মণিমুক্তস্বরূপ। অমিয়কে কবির লেখা প্রাপ্ত চিঠির সংখ্যা ১৩৭। মৃত্যুর দু’ মাস আগে পর্যন্ত কবির এই পত্র-ধারা অব্যাহত ছিল। এই পত্রাবলীর থেকে সামান্য কয়েকটি বাছাই করা চিঠির অংশবিশেষ নিয়ে আমাদের প্রয়াস এই পত্রসাহিত্য পাঠের আসর বা শ্রুতিতে পত্রসাহিত্য। পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের নানা বিশিষ্টজনকে লেখা সাহিত্যগুণ সমন্বিত পত্রগুলিকে আপনাদের সামনে উপস্থাপিত করার বাসনা রইল আমাদের।
[শ্রুতিতে পত্রসাহিত্য শুনতে নিচের ইউটিউব বোতামে ক্লিক করুন। কোন কারণে, বোতামটি আসতে দেরী হলে, অনুগ্রহ করে একটু অপেক্ষা করুন।]