শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

এত হাসি আছে জগতে তোমার…

একটি অসমর্থিত রসিকতা ঘুরে বেড়ায় পশ্চিম বঙ্গের আনাচে কানাচে। কিম্বদন্তী রাজনীতিবিদ শ্রদ্ধাস্পদ জ্যোতি বসু – হাসতেন না। সে সময়ের বাঙলা দেশের রাষ্ট্র প্রধানের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে শেখ মুজিবরের কন্যা নাম বললেন ‘শেখ হাসিনা’। জবাবে শ্রী জ্যোতি বসু না কি বলে ছিলেন ‘শেখবার কিছু নেই আমিও হাসিনা’। দুখিরামের মনে আছে এ রকম একটি পত্র যুদ্ধের অবতারণা হতেই আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পত্রে ছাপা হয়েছিল জ্যোতিবাবুর একটি হাস্যোজ্বল ছবি । তবে একটিই। এ থেকে আবার জল ঘোলা করে খাবার লোক পুকুরে ঠ্যাং ডুবিয়ে ছিল। মাত্র একটি ? তবে কি ‘আবাপ’-র বিপুল মহাফেজখানায় আর কোনো ছবি … । সে কালে অবশ্য অহেতুকী বিষয়ে খুব বেশী টানাটানি ছিল না – কারণ ঘরে ঘরে বোকা বাক্স তখনো জাঁকিয়ে বসেনি। তবে সেই আলোচনা এক কৌতুকী জীবন জিজ্ঞাসার জন্ম দিয়েছিল দুখিরামের মনে। তাতে কোনো রাজনীতি নেই। আছে এক গুরুত্বপূর্ণ আত্ম আবিষ্কার। আপনারা হাসেন তো ? আর যদি হাসেন তার অর্থ কি?

এই প্রসঙ্গে কিছু বৈজ্ঞানিক ফলাফল আলোচনা করে নেওয়া যায় (অনাগ্রহীরা এই পরিচ্ছেদটি পিছলে যেতে পারেন)।

দুখিরামরা জানে – হাসি – কাঁটায় কাঁটায় জীবন কাটানো মানুষের অবসাদ কাটায়। মানসিক দিক থেকে চনমনে করে তোলে। মস্তিষ্কের ঝুল কালি সাফ করে ইতিবাচক ঝাড় লন্ঠন দুলিয়ে দেয়। কিন্তু যা স্বল্প আলোচিত তা হল – সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং শারীরবৃত্তীয় গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে যে হাসি পেশীর সক্রিয়তা বাড়ায়। মুখের প্রায় পনেরটি পেশীর ব্যায়াম ঘটে এক বার হাসলে। এই অতি সাধারণ ক্রিয়ার সঙ্গে যোগ ব্যায়াম তুলনীয়। ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি পদ্ধতি অবলম্বন করে দেখা গেছে যে হাসলে – শরীরের অভ্যন্তরীণ পেশীর সক্রিয়তা সাধারণ ব্যায়ামের তুলনায় বাড়ে বেশি। হৃৎস্পন্দন ছন্দে কাঁপে আর রক্তচাপ ওঠে পড়ে নাগালের মধ্যে। এমন কি বাহ্যিক পেশির উপরে ও – বিশেষত মেরুদণ্ড আর স্নায়ু – হাসির প্রভাব যথেষ্ট ইতিবাচক। এছাড়া ও পাচন, রেচন, মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ থেকে হরমোনের ক্ষরণ সব ক্ষেত্রেই হাসির ভূমিকা রাশি রাশি। আরো গবেষণা চলছে। কাজেই হাসির কাঁসি বাজাতে থাকুন।

কিন্তু যা গবেষকরা খুঁজে পান নি বা দেখেন নি, তা নিয়ে দুখিরামের অভিজ্ঞতা কিছুটা আলাদা। এবার সেটা বলতে চায় সে।

স্মৃতি চিত্রণ একঃ

তখন কলেজে দুখিরাম। ফিজিক্স ল্যাবে কিছু পরীক্ষা নিয়ে ল্যাজে গোবরে। এক জন প্রফেসর এলেন দেখতে। সবার টেবিলে ঘুরে ঘুরে দেখলেন। তারপর এক জনাকে দেখে হাসলেন অল্প। ভয়ে নীলবর্ণ হল সেই শেয়ালের। ছাত্র মহলে অধ্যাপকের প্রসিদ্ধি তাঁর হাসির কারণেই। তিনি সব সময় হাসেন না কিন্তু যদি হাসেন তবে বুঝতে হবে প্রলয় আসন্ন। সে ছেলে কিছুতেই পাস করতে পারবে না। তাই হত। হাসি মাত্রেই কল্যাণী হয় না।

স্মৃতি চিত্রণ দুইঃ

দুখিরাম তখন একটি প্রায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শাখা প্রমুখ। ক্ষমতা কম, আবার সেই ক্ষমতার প্রয়োগ ক্ষমতা – আরো কম। বিশেষত যখন রাজ্যের নাম – পশ্চিমবঙ্গ, আকাশ লাল। যে কোনো সময়েই হাতে মাথা কাটা যেতে পারে। অথচ দায়িত্ব পালন করা চাই। এক দিন এক উত্তেজক বাদানুবাদের মধ্যে হঠাৎ টেবিলের ওই পার থেকে এক জন চেঁচিয়ে উঠলেন ‘দেখুন সকলে ওনার মুখে কি এক ব্যঙ্গাত্মক হাসি। কি ভেবেছেন আপনি’। এরপর সভার অভিমুখ গেল ঘুরে – মূল বিষয় হল দুখিরামের হাসি। দক্ষযজ্ঞ পণ্ড হল। দুখিরাম বুঝল যে তার সহজ হাসি মোটেও সহজ নয়।

স্মৃতি চিত্রণ তিনঃ

ওই একই স্থান। সকালের গমগমে দপ্তরে হঠাৎ চেঁচামেচি । দুখিরাম তার কোটরে চিঠি পত্র দেখছে। উত্তেজিত এক মহিলা কর্মী এসে বললেন ‘স্যার ওরা আমায় দেখে হাসাহাসি করছে’। দুখিরামের ঈষৎ ‘সসেমিরা’ অবস্থা। ওরা কারা ? ইনি তো সবার দিদি স্থানীয় – আর ওরা শাখা প্রবন্ধকের বিরুদ্ধে বিপ্লবী হতেই পারেন কিন্তু আদতে ভদ্রলোক সবাই। তাহলে ওনাকে দেখে হাস্যকর কি পেল – কে বা কারা? কিন্তু তার প্রশাসনিক বুদ্ধি বলল ব্যাপার কিছু অন্য। এই মুহূর্তেই পার্থেনিয়াম ঝাড় কেটে ফেলতে হবে, কণ্ঠ ছাড়তে হবে জোরে। মহিলাকে বললে ‘বসুন এখানে’। বাইরে হল ঘরে গিয়ে ঝোলানো পাখার দিকে তাকিয়ে হাঁক দিল দুখিরাম। দু একটি ভারতীয় দণ্ড সংহিতার ধারা উল্লেখ করে জানিয়ে দিল কোনো মহিলার অনিচ্ছায় – তাঁর দিকে তাকাতাকি করা বা হাসাহাসি করা দন্ডযোগ্য অপরাধ আর তেমন কিছু হলে দুখিরাম কাউকে বাঁচাতে পারবে না। মিনিট পাঁচেকে শান্তি, দুখিরামের কোটরে প্রত্যাবর্তন। মহিলা এবার হাসলেন প্রাকৃতিক সহজতায়। এক কাপ চা খেয়ে – খুশি মনে গেলেন নিজের চেয়ারে। হাসিটা ঠিক কেন ও কি প্রকার ছিল তা নিয়ে দুখিরামের ধন্দ যায় নি এখনও।

স্মৃতি চিত্রণ চারঃ-

ভবিষ্যতে প্রত্যাবর্তন – কয়েক দিন আগে। একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় দুখিরাম প্রেক্ষাগৃহে বসে। সামনে একজন যৌবন যাই যাই মহিলা যিনি লোধ্ররেণুর আস্তরে আর কুরুবক ফুল মাথায় দিয়ে প্রাণপণে ঠেকিয়ে রাখতে চাইছেন তাঁর ধুসর পাণ্ডুলিপি। আর এক জন অনুরূপ বনলতা সেন এসে বসলেন তাঁর পাশে এবং এক কূট হাসি বিনিময় হল। তারপর কথোপকথনে পরিষ্কার হল – দুজনেই গীত শিল্পী। দু জনকেই আজকের অনুষ্ঠানে মঞ্চে ডাকা হয় নি। দুখীই তো হবার কথা, তাহলে হাসি কেন? দুখিরাম বুদ্ধিতে একটু ধোঁয়া দিয়ে বুঝল ব্যাপারটা বোধহয় – আমাকে ডাকেনি – ঠিক আছে – ও ও তো ডাক পায়নি…। ওম শান্তি।

স্মৃতি চিত্রণ পাঁচঃ- এটি একটু পরে বলা হবে।

চার রকমের হাসির উদাহারন দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হল যে হাসি মাত্রেই আনন্দের প্রকাশ নয় , মনের বহু গূঢ় অবস্থার পাক খাওয়ানো প্রকাশ রয়েছে এই ক্রিয়ায়। কিছু কিছু মানুষের হাসি তাঁর সাক্ষর সংকেত। যেমন বাঙালির মাঝ দুপুরের তারকা – গুরু। তাঁর হাসিও কিন্তু প্রথমে অতটা মর্মঘাতী ছিল না। আপনারা আর একবার ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ দেখে নিতে পারেন। ইঙ্গিত ছিল তখনই, কিন্তু প্রাণ কাড়ল পরে। ধরুন সপ্তপদী, ইন্দ্রাণী, দেয়া নেয়া, আন্টনি ফিরিঙ্গী, অপুর সংসার। এই রে, লাইন ভেঙে পুলুবাবু, মানিক বাবুর রাজ্যে ঢুকে পড়েছি। তা – হেসে মন মজাতে পুলু বাবুও কম যেতেন না, সেটা ওই অপুর সংসারে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। অবশ্য তাঁর অধিকাংশ ছায়া ছবিতেই পরিচালকরা তাকে হাসতে দেন নি। এমন কি ‘বিলেত ফেরত’ কিম্বা ‘ বসন্ত বিলাপ’ এর মত আদ্যন্ত হাসির চলচ্চিত্রেও তিনি মোটের ওপর ‘রাম গরুড়’। অন্য দিকে ‘ঝিন্দের বন্দী’তে ‘ময়ূর বাহন’ এর উচ্চহাস্য – চিরাচরিত খল নায়কের হাসির দফা সেরেছিল। ‘চৌরঙ্গী’ আর ‘ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বইতে অবশ্য নারী খাদক হাসি হেসেছেন বেশ কবার। এই দেখুন আবার গুলিয়ে যাচ্ছে। ওই হৃদয় জুড়ানো মুখভঙ্গি তো ছিল শুভেন্দু বাবুর। তাঁর হাসিও ‘ডাকাতিয়া’ ছিল। আর নায়িকা দের মধ্যে যাঁদের নাম না করলেই নয় তাঁরা হলেন … না আর এই বয়সে সাংসারিক বিপদ বাড়াবো না। কায়াহীনের কাহিনী বাদ দেওয়া হল।

যাত্রায় হাসতেন শেখর চট্টোপাধ্যায় … সে প্রায় দেড় মিনিট এক সঙ্গে। তাছাড়া দিলীপ মুখোপাধ্যায় সাজাহান বেশে। মাইকেলের চরিত্রাভিনয়ে স্বপন কুমার – জীবনের বিভিন্ন ভেঙে পড়ার মূর্ছনা বেজে উঠত সেই হাসির স্তরে স্তরে। থিয়েটারে অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় হাসতেন ‘শের আফগান, নানা রঙের দিন’ কিম্বা ‘তিন পয়সার পালা’ তে। উৎপল দত্ত ‘দুঃস্বপ্নের নগরী’তে, শম্ভু মিত্র ‘অয়েদি পাউস’ এ , অরুণ মুখোপাধ্যায় ‘জগন্নাথ’ সেজে, রুদ্রপ্রসাদ ‘ ব্যতিক্রম’-এ , মনোজ মিত্র ‘সাজানো বাগান’-এ – হেসেছেন সবাই নিজের মত করে। । যাঁরা শুনেছেন সে সব ধন্য তাদের জীবন। জীবনের এক একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তাঁদের উপলব্ধি জারিয়ে যেত দর্শক মন। শুনেছি শিশির-বাবু যখন প্রফুল্ল নাটকে যোগেশের ভূমিকায় ‘আমার সাজানো বাগান শুকিয়ে গেল’ বলে হাসতে হাসতে কেঁদে ফেলতেন তখন প্রেক্ষাগৃহে দর্শকবৃন্দ করতালি দিতেও ভুলে যেত। সে অননুকরণীয় অভিনয় ভাষায় প্রকাশ করার নয়।

অসাধারণ থেকে মুখ ফেরানো যাক সাধারণের দুনিয়ায়। বছর কুড়ি আগে কর্মপোলক্ষে মুম্বাই গিয়েছিল দুখিরাম, ছিল সমুদ্র সৈকতে, কিশোর কুমারের বাড়ির পাশে একটি হোটেলে। সেখানে ভোর হয় বেশ দেরীতে। তাই সকাল সাতটা নাগাদ সাগর তীরে ঘুরে বেড়াত দুখিরাম। প্রতিদিন দেখত এক দঙ্গল মাঝ বয়সী – অকারণে ছন্দে ছন্দে হেসে খুন হচ্ছে আর কিছুটা দূরে ব্যায়ামরত আরেক দল – এদের দেখে হেসে লুটোপুটি। দুদিন দেখার পরে দ্বিতীয় দলটিকে দুখিরাম প্রশ্ন করল এরা হাসে কেন? একজন হাসতে হাসতেই বলল ‘কে জানে – পাগল সমস্ত। এখানে গাড়ি চড়ে হাসতে আসে’। ‘ হাসির সঙ্ঘ’ কথাটা তখন বহুল প্রচার পায় নি। অনেক পরে জেনেছে দুখিরাম। জেনে তারও হাসি পেয়েছে মন্দ না। নিজের জীবন থেকে আনন্দ ছেঁচে নিতে না পারলে সংঘবদ্ধ হয়ে হাসতে হবে পরে। হয়ত গাড়ি চড়ে আসতে হবে অকুস্থলে। হয়ত কিছু উপুড় হস্ত করার ব্যবস্থাও হবে। তাই সই – কিন্তু পরিবার, স্বজন, বন্ধুদের জমায়েতে হাসবে না তারা। অ্যালেকজান্ডার আর কি দেখলেন বিচিত্র ভারত।

তাহলে আপনাদের কি করা উচিৎ?

এক কথায় বলা যায় – হাসুন প্রাণ খুলে। যেমন হাসতেন সুকুমার বাবুর ‘আহ্লাদী’রা, অন্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। যে কথায় হয়ত কান্না পাওয়ার কথা – তার রং বদলে ধনাত্মক করে দিন। দুখিরামের এক কর্তা সদা পজিটিভ থাকার বার্তা দেবার ঠেলায় সব কথাতেই বলতেন ‘গুড’। নেড়া মাথা এক অধস্তনকে দেখে বললেন’ নন্ডা মুন্ড কাঁইকি’? সে বেচারা মন দুঃখে জবাব দিল ‘ আঁইগ্যা বাপ্পা চালি গলে’। কর্তা বললেন ‘ গুড’। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে বুঝলেন ‘ফাউল’ হয়ে গেছে , বাবার চলে যাওয়া – তা সে যেমন বাবাই হোক – গুড হতে পারে না। সামনে বিরাট হাঁ করা দুখিরামকে দেখে দ্রুত ‘শ্বেত পত্র’ প্রকাশ করলেন – ‘ইউ নো – হি ওয়াজ সাফারিং ফর সো মেনি ইয়ার্স, নাউ হিজ ফ্যামিলি ইজ রিলিভড। ‘। তারপর সামান্য হাসির ছোঁয়া দিয়ে নিজের কোটরে ঢুকে দরজা ভেজালেন। দুখিরাম জিজ্ঞেস করল ‘ কঁড় হৈথিলা বাপ্পারো ‘? ন্যাড়া বলল ‘ এক্সিডেন্ট, সে গোটিয়ে নড়িয়া গাছেরে চডুথিলা। খসিগলা’। নারকেল গাছ থেকে পড়ে মৃত্যু। তবে যে স্যার বললেন শরীর খারাপ? এবার ন্যাড়া হাসল ‘মোর জনা নাই, স্যার জানি থিবে’। দুই হাসি দু রকম, ঘটনাও সামান্য, কিন্তু শিখতে হবে হেসে পরিস্থিতি সামাল দেবার চারুকলা।

ইদানীং মানুষ চৌদিকে শুধু অসূয়া, অবিশ্বাস অনৃত ভাষণে বিপর্যস্ত। সংবাদপত্র, দূরদর্শন ,সামাজিক মাধ্যমে শুধু নৈরাজ্যের দামামা বাজে। ‘মানুষ বড় কাঁদছে’। তাহলে তাকে আনন্দ দেওয়ার নুন্যতম সুযোগ এড়ানো উচিৎ নয়। ভূমা-নন্দ থেকে তরিতানন্দ কেউ কাউকে সাজিয়ে দেয় না, তা আহরন করে নিতে হয়। আপনি / আপনারা যখন তখন না চেঁচিয়ে – হাসুন না। অন্যকে মঞ্জু হাস উপহার দিন । উল্লাসের পরিবেশে অট্টহাস হোক। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি হলে – তর্ক আর না বাড়িয়ে অল্প হাসির বিনিময়ে সামাল দিন। হাসি দিয়েই বুঝুন, বোঝান দুনিয়াকে। দুখিরাম আপনাদের সাথে আছে।

স্মৃতি চিত্রণ পাঁচঃ-

এটা একটু অন্য রকম তবু নকশী কাঁথার জীবনে আর একরকম হাসির ফোঁড়। শেষের আগে শুনিয়েই দেওয়া যাক। চাকরি জীবনের প্রথম দিকে দুখিরামের এক বন্ধু বিয়োগ হয়েছিল। যাবার বেলায় ছেড়ে গিয়েছিল এক শিশুপুত্র ও স্ত্রী। পৃথিবী ছাড়ার প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক ছিল না। আইন রক্ষকদের সঙ্গে বেশ টানা পোড়েন হয়েছিল। সে সমস্ত মিটিয়ে শেষকৃত্যের জন্যে দুখিরাম গেছে তাঁর স্ত্রীকে জানাতে। কিছু শাস্ত্রীয় কাজ যদি হয়। ছেলে নিয়ে বসে ছিল সে একাই। দুখিরাম মাথা চুলকে সংবাদ দিতে তার মুখে ফুটে উঠল এক বিচিত্র হাসি । অস্ফুটে বলল ‘মরেও শান্তি দিল না দাদা। এখন এই দুগ্ধ পোষ্য শিশুটিকে নিয়ে যেতে হবে এসব কাজে’? বন্ধুর নেশার মাশুল পারিবারিক বাদ বিসম্বাদের খবর কিছু মিছু জানতো দুখিরাম। নেশা ছাড়তে পারল না, পৃথিবীই ছাড়তে হল তাকে। আজ আর সে কথা আলোচ্য নয় । তবে সেই অল্প হাসি যত কথা বলে ছিল – চার ফর্মার বই তা বলতে পারে না।

[লেখকের অন্য রচনা]

Facebook Comments Box

আপনি এই পত্রিকা পড়ছেন জেনে ভাল লাগল।

নতুন লেখা বা ভিডিও সংযোজন, অথবা রবিচক্রের অন্যান্য খবরাখবর সম্পর্কে জানতে, ইমেল নথিভুক্ত করতে পারেন।

We don’t spam! Read our privacy policy for more information.


0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x