
বিস্মৃতিচারণা (১১)
সময়টা আশির দশকের একেবারে গোড়ার দিক। সম্ভবত ১৯৮১ সাল। আমার পিতৃদেবের আগ্রহে বাড়িতে আসতে লাগল মৈত্রেয়ী দেবীর একের পর এক অসামান্য সব গ্রন্থ। ‘ন হন্যতে’ পড়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। এরপর হাতে এল ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ’। নেশা গভীর হল। আরও, আরও, আরও। এক মহীরুহর মানসকন্যার কলমে বিশ্ববরেণ্য কবির ব্যক্তিসত্তার অন্তরমথিত করা অনিঃশেষ উন্মোচন। পরের পর হাতে আসতে লাগল ‘রবীন্দ্রনাথ গৃহে ও বিশ্বে’, ‘বিশ্বসভায় রবীন্দ্রনাথ’, ‘স্বর্গের কাছাকাছি’ ইত্যাদি গ্রন্থরাজি। সেই কন্যার সুললিত বর্ণনায় কী অমোঘ বিশ্বাসযোগ্যতায় আমার নবীন চোখে মূর্ত হয়ে উঠল কবির ব্যক্তিসত্তা, পিতা, গুরু, পরম বন্ধু ও পথপ্রদর্শকের ভূমিকা, পৃথিবীর দেশে দেশে পরাধীন দেশের এক বিশ্বমানবের হিরন্ময় পরিক্রমা! মন প্রাণ নিবেদিত বর্ণনার আনুপূর্বিকতায় একটা ঘোরের মধ্যে সাত পাতা জোড়া একটি পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখে পাঠিয়ে দিলাম স্বনামধন্য লেখিকার দরবারে। তাঁর কাছে সেদিনের তরুণের সেই আবেগের প্রকাশ হয়তো অপ্রয়োজনীয়ই ছিল, কিন্তু তরুণ পাঠকটির বড্ড প্রয়োজন ছিল তাঁকে এভাবেই দূর থেকে প্রণাম নিবেদনের।
নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের স্থানীয় শাখার কর্মসমিতিতে আলোচনার পর স্থির হল সেবারের পঁচিশে বৈশাখের কবি-প্রণামের অনুষ্ঠানে বর্তমান প্রভাসতীর্থের সভাঘরে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হবে শ্রীমতী মৈত্রেয়ী দেবীকে এবং সেই সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক সম্বর্ধনা দেওয়া হবে তাঁকে। সিদ্ধান্ত হল, আমন্ত্রণ জানাতে তাঁর বালিগঞ্জের বাড়িতে পৌঁছবেন নবীন ও প্রবীণদের সম্মিলিত একটি ছোট দল।

সিদ্ধান্ত তো হল, কিন্তু এমনও সংবাদ পাওয়া গেল যে তিনি কোনও সভা সমিতিতে তখন যান না, বক্তৃতা বা আলোচনা সভায় অংশগ্রহণে উনি প্রবলভাবে বিমুখ। হয়তো এর কারণ ছিল ওঁর কালজয়ী অ্যাকাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত গ্রন্থ ‘ন হন্যতে’র মূল দর্শনকে উপেক্ষা করে এক শ্রেণীর ব্যক্তিজীবনানুসন্ধিৎসু বাঙালির ওঁকে ঘিরে অতি উৎসাহী মানসিকতা, যা সৃষ্টির সাহিত্য মূল্যকে অস্বীকার করে সাহিত্যিকের অসম্মান ও অবমূল্যায়ন ঘটায়।
তথাপি একটা চেষ্টা করে দেখার মানসিকতা নিয়ে দূরভাষে যোগাযোগ করে তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পাওয়া গেল। নির্দিষ্ট দিনটিতে সন্ধ্যাবেলা পৌঁছনো গেল মৈত্রেয়ী দেবীর আদি বালিগঞ্জের বাড়িতে। দলপতি ছিলেন আমার পিতৃদেব প্রভাস বন্দ্যোপাধ্যায়। বাড়ির সদর দরোজা থেকে খবর পাঠানোর পর আমাদের ডাক পড়ল তাঁর দোতলার ঘরটিতে। সুসজ্জিত বসবার ঘরে একটি আরাম কেদারায় উপবিষ্ট মৈত্রেয়ী দেবী। চোখ টানল তাঁর শুভ্রতার সমারোহ। প্রশস্ত ঘরটিতে ঢুকে দেখলাম, শ্বেতশুভ্র গাত্রবর্ণের মাতৃমূর্তিতে সরু পাড়ের ধপধপে সাদা শাড়ি ও চোখে সরু সোনালি ফ্রেমের চশমায় শোভিত অসামান্য এক আভিজাত্যে উজ্বল রবীন্দ্রস্নেহধন্য প্রবীণ লেখিকা একটি আরামকেদারায় উপবিষ্ট। স্মিতহাস্যে তিনি স্বাগত জানালেন অতিথিদের। আমাদের আসন গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়ে ধীরে ধীরে জানতে চাইলেন আমাদের পরিচয়, কোথা থেকে আসছি, আমাদের সংগঠনের ক্রিয়াকলাপ। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির প্রতি আমাদের আগ্রহের গভীরতা ও ঐকান্তিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তাঁর। মনোযোগ দিয়ে সকলের কথা শুনলেন এবং প্রায় প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বললেন আলাদা করে।
তখনও আমরা মূল প্রসঙ্গে আসবার অবকাশ পাইনি। এই প্রাথমিক পর্বের পর তিনি নিজেই প্রসঙ্গে এলেন, ‘আপনাদের সব কিছু শুনে আমার ভাল লাগল। কিন্তু আমি তো এখন গৃহবাসী জীবন যাপন করি, আমার কাছে কী চান আপনারা? অর্থাৎ কী উদ্দেশ্যে আমার কাছে আজ আপনাদের আগমন?’… স্মিত অথচ উজ্বল হাসি নিয়ে কথাগুলো বললেন তিনি।
আমরা আমাদের উদ্দেশ্য দ্বিধাহীন কণ্ঠেই জানালাম তাঁকে। রবীন্দ্রনাথের স্মরণানুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে তাঁকেই আমরা প্রধান অতিথি ও মূল বক্তা হিসেবে চাইছি। পাশাপাশি এই উপলক্ষ্যে একটি সম্বর্ধনা সভার আয়োজন। সোৎসাহে জানালাম যে কবির জন্মদিন উপলক্ষ্যে আমরা সম্বর্ধিত করতে চাইছি রবীন্দ্রচর্চায় নিবেদিতপ্রাণ তাঁরই অন্যতম স্নেহধন্যাকে।

শুনে নিঃস্পৃহতা ছাড়া ভিন্ন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখলাম না তাঁর অভিব্যক্তিতে । শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠেই বললেন, ‘আপনাদের রবীন্দ্রস্মরণানুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করছি। কিন্তু আমার পক্ষে আপনাদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দুঃখিত। ব্যক্তিগত কারণে আমি এখন কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি না। কোনো সম্বর্ধনা গ্রহণ করি না।’ তাঁর এরকম সুস্পষ্ট মন্তব্যের পরও নিরুৎসাহিত না হয়ে নবীন সদস্যরা তাঁর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সনির্বন্ধ আবেদন করলেন তাঁকে! সে আবেদনও সস্নেহে শোভনতার সঙ্গে প্রত্যাখ্যাত হল। আমরা বুঝলাম যে বারংবার অনুরোধেও এই দৃঢ়চিত্ত প্রবীণার সিদ্ধান্ত বদল অসম্ভব। তাঁকে আমরা পাব না।
অতঃপর বিদায় নেবার জন্য নমস্কার করে উঠে দাঁড়ালাম আমরা। উনি নবীনদের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন, ‘মন দিয়ে রবীন্দ্রনাথ পড়ো তোমরা। বাঙালি ওঁকে এখনও চিনতে পারেনি। আর, মনে দুঃখ নিয়ে আমার কাছ থেকে যেওনা যেন! শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করো তাঁকে, মনোযোগ দিয়ে পাঠ করো তাঁর রচনা। সেটাই হবে প্রকৃত স্মরণ।’
মুখে হাসি থাকলেও স্বাভাবিকভাবেই ম্রিয়মাণ ছিলাম আমরা নবীনেরা। এতক্ষণ অধিকাংশ সময় প্রায় নীরবেই কথোপকথন শুনছিলেন আমার পিতৃদেব। এবার একটু হেসে তিনি বলে উঠলেন, ‘আজ যাই। আপনি ভাল থাকবেন। আপনার সঙ্গে আলাপ আজকের সন্ধ্যায় আমাদের একটা বড় প্রাপ্তি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে একটা আক্ষেপ নিয়ে আজ ফিরে যাচ্ছি।’
জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালেন মৈত্রেয়ী দেবী। বললেন, কেন ভাই? কি আক্ষেপ আপনার?’
বাবা মৃদু হেসে বললেন, ‘আক্ষেপটি হল এই যে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনের স্মরণসভা, আর কবির মানসকন্যা তার আমন্ত্রণ গ্রহণে অনিচ্ছুক বা অপারগ! অথচ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কবির কথা বলার মত আপনার চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি আর কেই বা আছেন!’
আকস্মিকভাবে ঘরে নিস্তব্ধতা নেমে এল ক্ষণিকের জন্যে। নিঃশব্দে মাথাটি নামিয়ে নিলেন মৈত্রেয়ী দেবী। ওঁর প্রতিক্রিয়ায় আমরা একটু থমকে দাঁড়িয়ে। অতঃপর হাতের ম়দু ইশারায় আমাদের বসতে বললেন তিনি। মুখে যেন ফুটে উঠল পরাজয়ের মলিন হাসি। আবার একটু সময় নিলেন তিনি। এরপর আমার বাবার দিকে চেয়ে কিছুটা যেন কম্পিত কণ্ঠে বললেন, ‘এরপর আমার না বলার পথ আপনি রুদ্ধ করে দিলেন।’ … একটু থেমে সহজভাবে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনারা তাহলে সেদিন কটার সময় আমাকে নিতে আসবেন?’…

আজও ভাবি, কবির স্নেহের ‘মাংপবী’র চোখে কি সেদিন পরাজয়ের আনন্দাশ্রু দেখেছিলাম আমরা? আমার অন্তত সেইরকমই মনে হয়েছিল। পিতৃদেবের মন্তব্যে তাঁর একান্ত গোপন অনুভূতির একটা অতি সূক্ষ তার বোধহয় বেজে উঠেছিল, যা অস্বীকার করা সম্ভব ছিল না কবির ওই বিদূষী স্নেহধন্যার!
অনুষ্ঠানের দিন তাঁকে সাদরে সভাস্থলে নিয়ে আসার দায়িত্ব বর্তেছিল এই অর্বাচীন ও তার এক সহচরের ওপর। বালীগঞ্জ থেকে আগরপাড়া… বহুদিন বহুবার এ পথে যাতায়াত করেছি, কিন্তু সেদিন এক অসামান্যার সাহচর্যে এই যাত্রাপথ যে এতটা মোহনীয় হয়ে উঠবে সে কি কখনো ভাবতে পেরেছি! দীর্ঘ পথ, গাড়ির সামনে আমরা দু’জন, পেছনের আসনে তিনি। স্বাভাবিকভাবেই প্রীতি নমস্কার জানিয়ে গাড়ির আসনে তাঁকে বসানোর পর থেকে সসম্ভ্রমে নীরব ছিলাম আমরা। তাঁর অনুমতি নিয়ে গাড়ি চলতে শুরু করল। আমার সঙ্গীটি স্বল্পবাক হলেও, আমার সম্পর্কে উল্টো অভিযোগই শুনে এসেছি চিরটাকাল। কিন্তু এতটা পথ যাব, কী বলব, কীই বা গল্প করব এমন একজন অভিজাত মননসমৃদ্ধ প্রবীণা সাহিত্যিকের সঙ্গে, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে যাঁর একাত্মতা কিম্বদন্তীর মতো, রবীন্দ্রনাথ যাঁর আন্তরআচার্য, যাঁর জীবনদেবতা!
আমাদের জড়তা কাটানোর জন্য নিজেই শুরু করলেন আলাপ। রবীন্দ্রসাহিত্যের কোন্ কোন্ লেখা পড়েছি, তাঁর উপন্যাস, ছোট গল্প, কবিতার মধ্যে কি কি বেশি ভাল লাগে, গল্পগুচ্ছ, ছিন্নপত্রাবলী পড়েছি কিনা, এমনতরো কত প্রশ্ন। এই বুঝি ধরা পড়ে যাই, প্রতি মুহুর্তে এই আশঙ্কায় চিন্তিত হয়ে যথাসম্ভব সাবধানে তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করছি। গাড়ি চলছে। আলোচনা জমে উঠেছে দুটি অসম বয়স, মন ও মননের মানুষের মধ্যে। ধীরে ধীরে সাহস সঞ্চয় করে পাল্টা প্রশ্ন করতে শুরু করলাম ভেতরে জমে থাকা কৌতুহলগুলোকে মূলধন করে। উত্তরে ভারি মিষ্টি করে বলতে লাগলেন কবি-কথা। হঠাৎ বলে উঠলেন রবীন্দ্রনাথ রচিত শেষ কবিতাটি কি বলতো? বললাম, ‘তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি/ বিচিত্র ছলনা-জালে/ হে ছলনাময়ী’। সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করলেন, ‘আবৃত্তি কর?’ করতে ভালবাসি শুনে বললেন, ‘শোনাও তো কবিতাটি’। স্বীকার করলাম, স্মরণে নেই। ততক্ষণে সাহস কিঞ্চিৎ বেড়ে গেছে। বললাম, আপনার তো কণ্ঠস্থ নিশ্চয়ই। আপনার কণ্ঠে যদি শুনতে পেতাম! আমাদের বিস্মিত করে চলন্ত গাড়ির মধ্যে সুরেলা কণ্ঠে আবৃত্তি করতে শুরু করলেনঃ
“তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি
বিচিত্র ছলনা-জালে,
হে ছলনাময়ী।
মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিপুণ হাতে
সরল জীবনে।
এই প্রবঞ্চনা দিয়ে মহত্ত্বেরে করেছ চিহ্নিত;
তার তরে রাখ নি গোপন রাত্রি।
তোমার জ্যোতিষ্ক তারে
যে পথ দেখায়
সে যে তার অন্তরের পথ,
সে যে চিরস্বচ্ছ,
সহজ বিশ্বাসে সে যে
করে তারে চিরসমুজ্জল।
বাহিরে কুটিল হোক অন্তরে সে ঋজু,
এই নিয়ে তাহার গৌরব।
লোকে তারে বলে বিড়ম্বিত।
সত্যেরে সে পায়
আপন আলোকে ধৌত অন্তরে অন্তরে।
কিছুতে পারে না তারে প্রবঞ্চিতে,
শেষ পুরস্কার নিয়ে যায় সে যে
আপন ভাণ্ডারে।
অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে
সে পায় তোমার হাতে
শান্তির অক্ষয় অধিকার।”
তাঁর অন্তরের স্বতোৎসারিত আবেগে মরমী আবৃত্তি আমাদের মোহিত করে দিয়েছিল ওই ছুটে চলা গাড়ির আবহেও। কবিতার আবৃত্তি শেষ হলে বুঝিয়ে দিলেন কবিতাটির প্রেক্ষাপট, অর্থ, ব্যঞ্জনা। ৩০ জুলাই ১৯৪১ সকাল সাড়ে নটায় অপারেশন টেবিলে যাবার আগে মুখে মুখে কবিতাটি বলে গিয়েছিলেন কবি। কিছু পুনর্মার্জনের ইচ্ছে ছিল, তার সুযোগ তিনি আর পাননি। শোনালেন সেই কাহিনিও।
অতঃপর মুগ্ধ আপ্লুত দুটি তরুণ জীবনভোর জমিয়ে রাখার মতো এক পথস্মৃতিকে সঞ্চয় করে কবির মানস কন্যাকে নিয়ে পৌঁছল প্রভাসতীর্থের দোরগোড়ায়। সভা তখন উন্মুখ তার অতিথিটিকে বরণ করার অপেক্ষায়।
সভা শুরু হতে তখনও কিছু সময় বাকি। আসন গ্রহণ করে তিনি আসর জমালেন উপস্থিত কিছু কচিকাঁচা ও তরুণ তরুণীর সঙ্গে। নানান গল্প ও রসালাপের মাঝখানে তাঁর এক তরুণী ভক্ত পাঠিকা বলে বসল, ‘আপনার ‘ন হন্যতে’ পড়ে আমি মুগ্ধ হয়েছি। বড্ড জানতে করে, মির্চা এলিয়াদ কি এখনও বেঁচে আছেন?’
মৈত্রেয়ী দেবীর উজ্বল মুখাবয়বে একটা ছায়া নেমে এল। খুব সংযত ভঙ্গিতে বললেন, ‘সাহিত্য পাঠের সময় ব্যক্তিকে বা কারুর ব্যক্তিগত জীবনকে খুঁজো না কাহিনিতে, সাহিত্যকে উপভোগ করো, লেখকের ভাবনার অন্বেষণ করো।’
ঘটনার আকস্মিক অভিঘাতে আমি কিঞ্চিত বিচলিত হয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু লক্ষ্য করলাম যে মৈত্রেয়ী দেবী তাঁর অন্তরের ঔদার্যে ঘটনাটি উপেক্ষা করলেন। বরং তাঁর তরুণ পাঠিকাকে সর্বসমক্ষে যে পাঠশিক্ষাটি দিলেন, তা অমূল্য বলে আমার মনে হল।


সেদিন সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনাথের গান, কবিতা, পাঠের অনুষঙ্গে মৈত্রেয়ী দেবীর স্মৃতিচারণায় রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তি ও শিল্পী মানসের এবং জীবনচর্যার যে অন্তরঙ্গ ছবি উঠে এসেছিল, তা বড় মোহময়, বড় আন্তরিক। সে যেন কন্যার দৃষ্টির প্রতিফলনে কাছ থেকে দেখা মহীরুহসম এক পিতার জীবনদর্পণ!
সময় যতই বিস্মৃতির প্রলেপ রচনা করুক, প্রায় চারটি দশক আগে মৈত্রেয়ী দেবীর সঙ্গে আলাপ থেকে আলোচনা আমাকে যে মনন-সম্পদ দান করেছিল, আজও তার বৈভব মনকে আনন্দ দেয়।
আলোকচিত্রঃ ব্যক্তিগত (২টি) ও আন্তর্জাল সংগ্রহ (৪টি)
চার দশক পূর্বের তারুণ্যের আবেগমথিত বর্ণনায় সমুজ্জ্বল লেখাটি
পাঠকদেরপৌঁছে দিল সেই দিনটিতে। রবীন্দ্রনাথের মাংপবীর সংহত ভাব স্মিতহাস্য কখনো বা ম্লান মুখচ্ছবি ;তাঁর আবৃত্তির বাচনিক বৈশিষ্ট্য তাঁর উপদেশ last but not the list তাঁর শুচি রুচির সৌম্য শুভ্র রূপটি লেখকের বর্ণনার নৈপুণ্যে অতীতের তীর হতে জীবন্ত হয়ে উঠল। নও ছবি নও ছবি নও নও শুধু ছবি।
নও ছ