
১
ঘরটা প্রায় সারাদিনই বন্ধ থাকে। দরজা, জানলা, আলমারির পাল্লা, নেভা সুইচের সারি, স্নানঘরে শুকনো খটখটে মেঝে, বন্ধ স্টপককের পিছনে থমকে থাকা জল আর তার সমোচ্চশীলতার চাপ – এমনকি শামুকশিশুও আনমনে ঘোরে না, ফেরে না, অনুভবহীনতার সে ফাঁকা জমিতে। এসব সময়েই জন্মদিনের ঘুম ভাঙায় একাধিক ব্যাঙ্কের নানাবিধ বৈধ শুভেচ্ছা – হ্যাপি বার্থডে – তোমার ভবিষ্যৎ হোক আনন্দময় – এমনকি সেদিনও দরজার খোলা পাল্লা দিয়ে আসা আলোছায়া অপ্রস্তুতভাবে অনুপস্থিত থেকে যায়।
লেখা থেকে উত্তম ও মধ্যম পুরুষকে বাদ দিতে চাইলে পড়ে থাকে অবান্তর প্রথম পুরুষ। সেই প্রথম পুরুষের মুখোশে উত্তম পুরুষকে করা প্রশ্নের উত্তর তো কখনও ব্যক্তিনিরপেক্ষ মনে হলেও হতে পারে। পুরুষ-বাচ্য ব্যক্তিবোধকে যদি ঢেকেও দেয়, তার সঙ্গে কি ব্যক্তির ‘নিশ্চিন্ত আশ্রয়’- পরিবারও দোটানায় পড়ে যায়! পরিবার রাষ্ট্রের একক, না কি ধর্মভিত্তিক নীতিবোধের সদর-অন্দর; পরিবার চেতনার ফেঁসে যাওয়া সুতোয় কি কালান্তরের পরিবার-মন সিনেমার মত ছায়া ফেলে যায়! যদিও বিগত বাক্যের সমাপ্তিতে অনিরুদ্ধ প্রকাশ ঘটে আরও এক অসমীচীন প্রশ্নের – সিনেমা কী, তা কি জেনে নেওয়া গেছে দ্বিধাহীন? এইভাবে দুই আকাশগঙ্গার দুই বিষম নক্ষত্রকে একই শুদ্ধচিত্ত লেন্সের তলায় দেখতে চাইলে উপমান-উপমিত প্রেক্ষিতের বাইরে কিছু ভারহীন গল্পাণু ভেসে বেড়াতে পারে।

২
লেখা শেষ হতে চায় না, বিকেল ঘনিয়ে আসে। ফাঁকা পাতার সামনে কলম দন্ডবৎ দাঁড়িয়ে থাকে। মন পালাতে চায় অজানা আকাশের তলায় – অস্ট্রেলিয়ার আউটব্যাক অঞ্চলে – শয়ে শয়ে মাইল নগ্নতায় শুধু প্রাকমানবিক জান্তববোধ – পরিবারের পলিমাটি সেখানে কোন পরত ফেলে যেতে পারেনি। জোন ম্যুইর তাঁর কুকুর সেরাফিন-এর সঙ্গে এই শিশু মহাদেশের দক্ষিণ থেকে উত্তর, পনেরোশো মাইল, হেঁটে পাড়ি দেন ১২৮ দিনে – বুশল্যান্ডের নানা ঝোপ-ঝাড় থেকে খাবার খুঁটে খেতে খেতে। সে বিশাল অস্তি-সমুদ্রে নিজের মানবিক অস্তিবোধ, মানুষের গড়া ঐতিহাসিক মন, মানবিক নীতিকথামালা সব গলে যেতে থাকে, পড়ে থাকে সব মানবিক অভিধার তলায় এক নিয়ত সজাগ মুহূর্তসঞ্চারী দেহাত্মবোধ।

৩
মানুষের অর্বাচীন ইতিহাসের ভাঁড়ার এক তাত্ত্বিক নিশ্চিন্ততার উপর দাঁড়িয়ে – সে মানুষ, সে জন্তু নয়, গাছ নয়, শ্যাওলা নয়, নদী নয়, পাথর নয় – সে মানুষ। সেই অন্টোলজিক্যাল মানুষের পরিবার আছে যা যূথচেতনার চেয়ে অনেক ‘উন্নত’, সে পরিবারে গাঁথা সমাজ আছে, সমাজে গাঁথা রাষ্ট্র – সে তার জীবনের আধার দেহকে দিয়েছে নিয়মশীল দাসের ভূমিকা, দেহাতীতকে বেঁধেছে ভাল-মন্দর ছকে, প্রবৃত্তিকে দুষেছে প্রাণপণে বা চেয়েছে প্রবৃত্তির জৈব-রাসায়নিক সমীকরণ লিখতে। আর এইসব মোহন ভ্রম হয়ে উঠেছে তার গান্ধারীর চোখের বাঁধন। তাই জন্তুর, গাছের, পাথরের তীক্ষ্ণ অস্তিত্ববোধ তাকে যেন চিরতরে প্রবাসী করে রেখে চলে গেছে। ওয়ের্নার হের্জগ তাঁর ‘গ্রিজলি ম্যান’ ছবিতে মানুষের এই মানবতা-অভিমানী নড়বড়ে সভ্যতা-সৌধে একটি যুগোপযোগী ধাক্কা দিতে পেরেছেন। মেরুভল্লুকের দেশে তাদের মধ্যে দিন কাটাতে থাকা এক একাকী মানব – যে বারবার নিজের ক্যামেরায় স্বঘোষিত উচ্চারণ রাখে – পৃথিবীতে শেষ হোক মানবশাসন – পশুতন্ত্র কায়েম হোক – মেরুর এক মহা-ঋক্ষের থাবায় তার খুলি না ভেঙে যাওয়া পর্যন্ত। যদিও জোন ম্যুইর তাঁর জীবনের বাকি সবদিন অস্ট্রেলিয়ান ভেল্ডেই কাটাবেন না, হের্জগও ফিরে আসবেন, ক্যামেরা হাতে সব মহাদেশ অতিক্রম করে, রাশিয়ান-রক্তে উজ্জ্বল নিজের তন্বী সঙ্গিনীর কাছে – তবুও এসব প্রশ্নের অনুভবের উচ্চারণকে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রগতিসঙ্ঘ ‘সুবিধাবাদী’ বলে গাল পাড়তে চাইলেই তা কি নির্দ্বিধায় খারিজ হয়ে যায়! অনন্তর এটুকু বলা যেতেই পারে যে নিজের ঘরের দেওয়ালটা দিগন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত করতে চাইলে নিজের প্রাকমানবিক সত্ত্বা, নিজের মানবিক সত্ত্বা, নিজের পারিবারিক-সামাজিক সত্ত্বা – এসবের কে কতদূর সে দিগন্তগামী নিজের ছায়ায় সঙ্গ নিতে পারে – সে সম্বন্ধে কিছু প্রাথমিক উপপাদ্য এঁদের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া যেতেই পারে।

৪
বিংশ শতাব্দী ছিল পরিবারবোধের বিবর্তনের এক প্রাঞ্জল সময়। এক শতাব্দীর মধ্যে কৃষিজীবী একান্নবর্তী পরিবার থেকে বহুজীবী যৌথ পরিবার হয়ে, বাস্তুভিটের পাট চুকিয়ে দিয়ে, সমবায় আবাসনে দাম্পত্য সম্পর্কের সুতোয় দু’জনকে জুড়ে, তাদের সন্ততি নিয়ে আর ঝাপসা হতে থাকা পারিবারিক অ্যালবাম সম্বল করে, প্রয়াত মা-বাবার ছবিতে রজনীগন্ধার মালা ঝুলিয়ে, চন্দনের টিপ পরিয়ে, ধূপ জ্বালিয়ে, যথেষ্ট সেন্সাস-আগ্রহী হিসেব-নিকেশ সেরেও শেষরক্ষা হল কই! আপাতত সেপারেশনের আইনী চিঠি ফাইলবন্দি রেখে আর স্কাইপ আলাপ সেরে মানুষের একাকী অবচেতন আর তার প্রবৃত্তিকে ভয় পেয়ে রাষ্ট্রের সুরক্ষাবোধ আশ্রয় নিয়েছে mall-বিলাসী বিকিকিনিতে, যদিও লুকোনো ক্যামেরা-চরের সামনে বিধিসম্মত আচরণও সাথে সাথেই আয়ত্ত করতে হচ্ছে। সামাজিক ন্যায়বোধ টেলিভিশন স্ক্রীনের নীচের তলা দিয়ে ক্রমাগত হামাগুড়ি যেতে থাকে – আর সবশেষ ‘যুক্তি’, সবশেষ দোহাই হয় উন্নয়ন-সুখী পরিবারের নামে। যে পরিবারের সুরক্ষার দিব্যি দিয়ে চুপিসাড়ে সার সার ফাঁসির দড়ি টাঙিয়ে ফেলা যায়, ভোরের বাতাস যাদের টান টান ঝুলন্ত অস্তিত্বে হালকা দোলা দিয়ে যায়। তাই এ দেশে অতিমানবিক সংখ্যার মধ্যবিত্তের উত্থান এক ফ্যাসনেবল ফ্যাসিজমকে প্রায় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই কায়েম করে ফেলতে চাইছে – এই উক্তির জন্য বিশেষ সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার প্রয়োজন আজ অন্তত আর নেই।

৫
“পায়ে হেঁটে বাংলার অনেক গ্রামেই ঘুরেচি, সর্ব্বত্রই দেখেচি সমান অবস্থা… ভদ্রলোকের পাড়ায় ভগ্ন অট্টালিকা, মজাপুকুর, ভগ্ন দেবালয়, ঘন বনজঙ্গল… ভদ্রলোকদের মধ্যে সাধারণত যারা শিক্ষিত ও উপার্জনক্ষম, তারা থাকে বিদেশে শহরে… (গ্রামের) এইসব ভদ্রবংশের লোকের না আছে খাটবার ক্ষমতা, না আছে উদ্যম-উৎসাহ কোনো কাজে, কোনো নবাগত উৎসাহী লোক জনহিতকর কোনো কাজ করতে চাইলে এরা তাদের বুঝিয়ে দেবে যে ওরকম কাজ অনেক হয়ে গেছে, ও করে কোন লাভ নেই।” – ‘অভিযাত্রিক’, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। জীবনের মাটি থেকে ঐতিহাসিক কারণে বা ‘উন্নতির’ পথে হাঁটতে গিয়ে দু-প্রজন্মের ব্যবধানে যে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাদের গ্রামের বসতবাড়ির দেওয়াল ভেঙে বা ভাঙার শব্দ পেয়ে চলে এল, প্রথমে তারা কিছুদিন চেষ্টা করেছিল তাদের, এমনি জেলাভিত্তিক হলেও, সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই ‘নবজীবন কলোনী’ গড়ে তুলতে (দ্রষ্টব্য ঋত্বিক ঘটকের ‘সুবর্ণরেখা’), নির্মীয়মান শহর, যে শহর কখনও বিন্যাসের সম্পূর্ণতা পায় না, সে শহর তাদের সবাইকে ‘গড় মানুষ’, ‘সাধারণ মানুষ’, ‘পাবলিক’-এ বদলে দিল – তারা সবাই সাংস্কৃতিক স্রষ্টা থেকে সাংস্কৃতিক ভোক্তায় বদলে গেল, তাদের দূরের দৃষ্টিপথ ঘিরে থাকল বাজারের অগুন্তি স্বপ্রভ চিহ্ন। সেসব বিপণনচিহ্ন তাদের অস্তিবোধে বসে গেল রক্তাভ আলপনার মত – নানা স্পেস জুড়ে যেতে থাকল সেসব বাজারী অভিধার চারপাশে, সারা ভারত জুড়ে থাকুক না কেন এক বিশাল শহর, যেখানে থাকুক এইসব বাজারের এক অনিবার বসত। আর যেখানে সে বাজারের শৌখিন মুখাবয়ব নেই, সেসব আলো নেভা ‘তেলেনাপোতা’ সব একাকার হয়ে পড়ে থাক এক অন্ধকারের পিন্ড হয়ে, বাজার-দ্যুতির শেষ সীমানা পেরিয়ে – এটাই কি এখন নবীকৃত মানবিক ভূগোল নয়! আর তাই এখানে গড় মানুষের গড় পরিবারবোধ, আত্মবোধহীন পারিবারিকতা, ‘প্রবৃত্তির ভূত’ থেকে নিয়ত বাঁচার সুখসন্ধানী সঙ্ঘারাম – সেখানে পরিবারবোধের ছেঁড়াখোঁড়া জান্তব টুকরোগুলো অচিরেই ঢাকা পড়ে যাবে বিগবাজারের বেনামী কার্পেটের তলায়।

৬
এই নিরুপম গণতন্ত্রের কৌটোয় মোড়া জীবনশৈলীর গর্ভসন্ধিতে যে অচেনা উপদ্রুত মন-চারণভূমি, সেখানে শক্ত-খুঁটির ব্যারিকেডের মত খাড়া রয়েছে এক অনড় সংবিধান-লালিত পরিবার-সংজ্ঞা। পরিবার-বোধ যেন প্রাচীন প্রজ্ঞাময় এক শিলালেখের মত, যেন তা মূলত নীতিহীন মানুষকে এক নৈতিক রথের রশি কাঁধে করে আজীবন জগদ্দল টেনে নিয়ে যাবার পারমার্থিক আলেয়া। অ্যানথ্রোপসেন্ট্রিজমের সরলসাধ্য মানসাঙ্ক যেন হয়ে যায় ফ্যামিলিসেন্ট্রিজম। স্ট্যাটিক পরিবারবোধ যেন নুনের পুতুলের নুনের সমুদ্রে গলে যাবার ভয়ে নিজের চারিদিকে নুনেরই নিশ্ছিদ্র ঘেরাটোপ রচনা করার চেষ্টা। ‘আমি-আমরা’ কীভাবে ‘তুমি-তোমরা’, ‘সে-তারা’ থেকে আলাদা হবে – তারই যুক্তিতে সারি সারি পুরুষতান্ত্রিক পদবী কালান্তরের অন্ধকারে অন্ধ-হেঁটে সূর্যবংশ বা সনাতন ঋষিকালে পৌঁছে যায়। নারীর ঊরুসন্ধিতে আটকানো থাকে অদৃশ্য ধাতব তালা, যার নিয়মতান্ত্রিক চাবি থাকে কেবল অধিকারী পুরুষের কাছে। মা, বাবা, ভাই, বোন, স্ত্রী, স্বামী আরও নানা তুতো সম্পর্ক – তাদের নিয়ত যাচাই ঘটে না মানুষ নামের এই শরীর প্রজ্ঞায় জারিত সূক্ষ্ম সংবেদনশীল প্রজাতির অন্তরে। মাতৃবোধ – সন্তানবোধের দু’দিকে যে প্রলম্বিত আসনে নিয়ত মৃত্যুভয়ের ঘূর্ণি থেকে মনের নিরাময়ের অস্বচ্ছ উপচার – তা যেন সচেতনে আসার আগেই বাষ্প-শরীর পেয়ে যায়। পরিবারবোধের যে সচল বিচরণ প্রত্যেক মানুষের জীবনকে এক আত্মজৈবনিক মহাকাব্য করে তুলতে পারে, নিজের জীবনবোধে যে নিরীক্ষার অনুভব অনেক পাথুরে প্রথার চেয়ে বেশি জান্তবভাবে মানবিক, সে আত্ম-স্বীকৃতিটুকুও ব্যর্থভাবে অপ্রয়োজনীয় থেকে যায়। কিন্তু এর চেয়ে পরিবারচেতনার এক ডায়নামিক সংস্করণ কেন নয় শ্রেয় – এ প্রশ্ন করার বেলা তো প্রায় যেতে বসল। পরিবার কোনো নির্দিষ্ট মানুষজনের সমষ্টি নয় বরং এক পরিবর্তনকামী প্রক্রিয়া, যাতে নিজের যে ‘পর’, তার সাথে ক্রমাগত অপর-বোধ অতিক্রান্ত সম্পর্ক গড়ে ওঠে – জীবন জুড়ে নানা মানুষে ‘সন্তান’, ‘মা’, আরও যা যা গহন পারিবারিক অভিধা, সেসব খুঁজে চলা যেতে পারে। নির্দিষ্ট মানুষের বদলে গুরুত্ব পেতে পারে যোজন-ক্ষম মনের অনুপ্রাণিত দ্বৈত এমনকি একক বা একাধিক সংলাপও, যেখানে প্রবৃত্তির অনুরণনতনুমন একাকার রাখে। ‘ডিনার উইথ আন্দ্রে’ ছবির আন্দ্রের বিবৃতির মত মনে হতেই পারে – সেই যে একদা নিজের ছোট শিশুটি, তারপর বালক, তরুণ, যুবা – এর মধ্যে কোথায়, কে আসলে ছিল নিজের সন্তান – আর আজই বা সে সন্তান গেল কোথায়? কিংবা চিলির পরিচালক প্যাট্রিসিও গুজমানের ‘নস্টালজিয়া ফর লাইট’ ছবির মহাভাষ্য – ছায়াপথের নক্ষত্রকণা মহাজাগতিক ক্যালসিয়াম কীভাবে অ্যাটাকামা মরুভূমিতে প্রায় বিলীন হয়ে আসা মানবিক হাড়ের টুকরোর ক্যালসিয়াম সঞ্চয়ে এসে পড়ে – সে বোধ কেন আজ আপনতর হবে না!

৭
একদিকে ঘটুক মানবিক সম্পর্কে শুদ্ধ প্রবৃত্তির সচল ক্রিয়ার নিয়ত স্ফূরণ, আর অপর পৃষ্ঠায় খেলা করুক মাথার চুল ছুঁয়ে যাওয়া নক্ষত্রের উল্কি – এক জীবনেই খুঁজে পাওয়া যাক অনেক মা, কিছু অপ্রয়োজনীয় বাবা, অনেক সন্তান, অনেক সঙ্গী, এক মানুষে খুঁজে পাওয়া যাক বহুধা অনুভূতি, অনেক সংসার, বহু জন্ম স্বপ্নদর্শন ঘটে যাক একরৈখিক জীবনকালে – দেহাত্মবোধকে প্রসারিত করে ক্যামেরা, সাউন্ড রেকর্ডার হয়ে উঠুক ইন্দ্রিয়ের আত্মীয় – সে ধ্বনি, ছবিতে ভেসে উঠুক পরিবারের বেড়ে চলা পরিধি এক গোত্র থেকে আরেক গোত্রে – ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’-এর আপ্তবাক্য পর্যন্ত; গয়ায় পিন্ডদানের পুরোহিতদের খেরোর খাতায় পাওয়া যাক বিস্মৃত পূর্বজের স্বাক্ষর, এক্সপ্রেস ট্রেন থামে না – এমন গ্রামের গাছতলায় পোড়ামাটির হাতিঘোড়ার স্তূপে অধিষ্ঠাত্রী দেবীর মধ্যে শুনতে চাওয়া যাক আদিমাতার প্রতি অভিভূতা পূর্বজদের যৌথ উচ্চারণ আর প্রাচীন উলুধ্বনি; নিজের বুড়ো আঙুলের ছাপ আর নিজের জন্মক্ষণের নক্ষত্রদশার ভিত্তিতে অগস্ত্য নির্দেশিত পন্থায় রচিত বিশিষ্ট এক তালপাতার পুঁথিতে খুঁজে পাওয়া যাক নিজের নানা অতীত জন্মের ইতিকথা; নিজের লালার এক ফোঁটার বিশ্লেষণ ধরে দিক যুগ যুগ ধরে মহাদেশ পাড়ি দিয়ে নিজের দৈহিক অস্তিত্বের দিকে ধাবমান মানুষী জিনসমূহের অসংখ্য জীবনব্যাপী পরিক্রমার ইতিহাস – শেষপর্যন্ত এদেশে বিজ্ঞান-অবিজ্ঞান, মিথ-মীমাংসা মিশে থাক পরিবারের প্রবৃত্তি-অনুভবে, প্রবৃত্তির পরিবার চারণে।
সূত্র নির্দেশ –
লিখিতঃ
• Jon Muir – Alone Across Australia
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় – অভিযাত্রিক
• প্রেমেন্দ্র মিত্র – তেলেনাপোতা আবিষ্কার
চলচ্চিত্রায়িতঃ
• ঋত্বিক ঘটক – সুবর্ণরেখা
• Louis Malle – Dinner with Andre
• Patricio Guzman – Nostalgia for Light
• Werner Herzog – Grizzly Man.