
“চোর দেখেছেন?”
“তা, দেখেছি বই কি, ছেলেবেলায় পাড়াতে চোর ধরা পড়ল। ল্যাম্প পোস্টে বেঁধে রেখেছিল। চারপাশে ভীড় জমে গেছে। আমি তখন নেহাতই ছোট। বড়দের পায়ের ফাঁক দিয়ে যতটুকু সম্ভব দেখেছিলাম।”
“কেমন দেখেছিলেন?”
“মানুষের মতোই লেগেছিল।”
“হাসালেন মশাই। মানুষের মতোই তো লাগবে। চোর কি শীর্ষেন্দুর গল্পের মতো হবে?”
“কী রকম?”
“সেকী? পড়েন নি? ওনার চোরেরা খুব ভাল হয়। তারা চুরি করতে ভুলে যায়। ভূতের সাথে গা ঘষে, কখনও এলিয়েনের সাথে কথা বলে।”
“বলেন কী? একেবারে এলিয়েন?”
“তবে আর বলছি কী?”
“সে তো গাঁজাখুরি গল্প, সত্যি অমন চোর হয় নাকি? তাহলে তো দেশ উচ্ছন্নে চলে যেত।”
“ও বাবা! চোর না হলে দেশ উচ্ছন্নে চলে যেত?”
“যেত না? চোরদের কি, যা তা ভাবছেন?
“কী রকম?”
“দেশের জিডিপি-তে চোরেদের কন্ট্রিবিউশন কত জানেন?”
“তাও হয় নাকি?”
“ললিত মোদি, নীরব মোদি, বিজয় মাল্য, মেহুল চোস্কি সহ অন্তত তিরিশ জন আছেন, যারা এই কয়েক বছরের মধ্যে কত হাজার কোটি টাকা তৈরী করেছেন। এটাও তো এক ধরনের উদ্যোগ। এতগুলো টাকা তো এমনি হয় না। শুধু গল্পের চোর ধরে বসে থাকলে হবে? সত্যিকারের প্রফেশনাল চোরের অ্যাটিট্যুডে, থাকবে কিলিং ইন্সটিংক্ট।”

[Story of thief]
“খুন খারাপি? তবে সে চোর কোথায়? ডাকাত হয়ে গেল তো।”
“আরে! এখন ভুবনায়নের যুগ। চোরে ডাকাতে ফিউশান হয়ে যাচ্ছে, তবে না কেত!”
“কী?”
“কীসের কী?”
“ওই যে বললেন কেত না প্রেত?”
“আরে! কেত মানে হল, কেতা। অভিধান অনুযায়ী যাকে বলে কায়দা, অর্থাৎ ফ্যাশন।”
“বাবা! আপনি অভিধান দেখেন?”
“দেখব না? বাংলাটা তো রাখতে হবে।”
“আপনার পায়ের ধুলো নিতে ইচ্ছে করছে।”
“ইচ্ছে করলে, নিয়ে ফেলুন। আমি বাধা দেব না।”
“বেশ! আসলে এই মন্ডপে বসে মায়ের সামনে পায়ে হাত দিতে নেই। তোলা রইল।”
“আচ্ছা, তোলাই থাক। এখন পায়ে তেমন ধুলোও নেই। পুজোগন্ডার দিন, বৌ স্নান না করে নামতেই দিল না।”
“আপনাদের পুজোটাও কিন্তু জবরদস্ত! কত কোটি বাজেট?”
“ছি ছি! এই আপনার সংস্কার? মায়ের কাজে টাকার হিসেব করছেন?”
“এই ঝাড়বাতি, ওই বড়বড় মন্ডপসজ্জা! এসব করতে তো অর্থ প্রয়োজন, সে তো মা এসে করে দেননি।”
“আপনি বড়ই নাস্তিক ভাবাপন্ন। মায়ের নাম নিয়ে যে কোন কাজ, কীভাবে যে উৎরে যায়, ভক্ত ছাড়া আর কেউই জানতে পারে না।”
“শুধুই ভক্ত? নাকি প্রোমোটার, ঠিকাদার, চাকরিপ্রার্থী এরাও লাইনে থাকে?”
“ওরে পাগল! মা কি আমার একার? এরাও তো মায়েরই সন্তান!”
“আপনি খুব মাতৃভক্ত মনে হচ্ছে।”
“মা ছাড়া আমাদের আর কেউ আছে? আপনিও মায়েরই সন্তান, সে আপনি নাস্তিক হন বা আস্তিক, মা ছাড়া আমাদের কারও অস্তিত্ব নেই।”
“আপনি দেখছি একনিষ্ঠ ভক্ত।”
“অন্য উপায় কি আছে? ‘মা আছেন আর আমি আছি, ভাবনা কি আছে আমার? স্নেহের আধার মা যে আমার, আমি মায়ের, মা আমার।’”
“বাপরে! আপনি গান জানেন? এতো জানা ছিল না।”
“ওই যে বললাম, সবই তাঁর ইচ্ছে।”
“কিন্তু এই যে ক্লাবের এত বড় প্যান্ডেল! এত লোকলস্কর ছুটোছুটি! এসবের টাকা কোথা থেকে আসছে, কেউ জিজ্ঞাসা করে না?”
“কে করবে? আমিই এই ক্লাবের প্রাণ ভোমরা! আমাকে কে প্রশ্ন করবে?”
“প্রতিবার আপনার ক্লাবের দুর্গাপুজোর এই যে এত ধুমধাম, এ নিয়ে কেউ জানতে চায় না?”
“সবাই আনন্দ করছে। সেটা ভাল নয়? আচ্ছা, আপনি কে? হঠাৎ করে এই সব প্রশ্ন করছেন কেন?”
“আমি আপনার মতো কেষ্টু বিষ্টু কেউ নই। আমি সাধারণের দলে। আপনার ক্লাবের পুজোর কথা কত শুনেছি, তাই এবারে চক্ষু কর্ণের মীমাংসা করতে এলাম।”
“তা এসেছেন, খুব ভাল। পুজোর দিনে আমরা কাউকে ফেরাই না। আপনি মায়ের ভোগ খেয়ে যাবেন। আমি বলে দিচ্ছি। এই কে আছিস..”
“বেশ বেশ! আপনাকে ব্যস্ত হতে হবে না। আমি ঠিক খুঁজে নেব।”
“কী খুঁজে নেবেন?”
“ওই যে ভোগের কথা বললেন। কোথা থেকে আসবে, কোথায় যাবে?”
“অত খোঁজার কিছু নেই, আমি বলে দিচ্ছি। ভলেন্টিয়ার আছে। ওরাই নিয়ে যাবে।”
“আপনিও তো খাবেন?”
“হ্যাঁ একটু সেবা তো দিতেই হবে, না হলে দেহ মন্দির তো থাকবে না।”
“সত্যিই আপনার শরীরটা দাক্ষিণাত্যের মন্দিরের মতো বিশাল!”
“বাহ্যিক আবরণ দেখে ঘাবড়াবেন না। অন্তর দিয়ে দেখার চেষ্টা করুন।”
“আরে! সেটাই তো আমার কাজ।”
“আপনার কাজ? মানে?”
“ওই, যা বাইরে থেকে দেখা যায় না, তাই খুঁজে বের করি।”
“তাই নাকি? আপনিও ধ্যানযোগ করেন বুঝি?”
“এও এক রকমের ধ্যান, বিশেষতঃ অনুধ্যান। অর্থাৎ সর্বক্ষণ চিন্তা করা এবং চিন্তা দিয়ে তাঁকে পাওয়া।”
“এমন ইষ্টচিন্তা থাকা ভাল।”
“যার যেমন পথ, তার তেমন ইষ্ট।”
“আপনি দীক্ষিত?”
“ওই আর কী? আমার নিজের মতো করে।”
“দীক্ষাটা নিয়ে ফেলুন। আপনার আধার আছে, কেবল সদগুরুর প্রয়োজন। তিনি কৃপা করলেই আপনার সিদ্ধি অবশ্যম্ভাবী।”
“এমনিতেই আমাদের নানা রকম নিয়মে থাকতে হয়, তার ওপর সদগুরুর নিয়মের বশ থাকবে না।”
“কী যে বলেন? একবার কৃপাদৃষ্টি পড়লে, সব অটোমেটিক্যালি হয়ে যায়। এই যেমন আমি কোন কালে পুজোআচ্চার ধার দিয়ে যেতাম না। তা বউ বলল, অষ্টমীর দিন অঞ্জলি না দিয়ে খাবে না।”
“অঞ্জলি দিলেন?”
“দিতে হবেই। এই পুজো আমার, সেখানে আমাকেই সকলের সামনে দৃষ্টান্ত খাড়া করতে হয়।”
“আপনি বৌ-এর খুব বাধ্য।”
“না হয়ে উপায় আছে? কালই পিসি চন্দ্র থেকে ঘড়াং করে একটা নেকলেস কিনে ফেললে।”
“গহনা কেনা শুভ। বিশেষ করে এমন পুজোর দিনে।”
“কেন শুভ কেন?”
“সে আছে, অনেক রকম তত্ত্ব। মা দুর্গাকে অনেক দেবতা মিলে গয়না দিয়ে, অস্ত্র দিয়ে সাজিয়েছে তো।”
“কিন্তু আমার বৌকে তো আমাকে একাই সাজাতে হয়, কেউ তো সাহায্য করতে আসে না।”
“আহা! তাঁর তো দশ হাত!”
“আমার বউ-ও দশভূজা।”
“তা, সব বউ-রাই এমন। কয়েকদিন আগে হোন্ডা সিটি নিলেন। সেতো ওনার জন্যেই?”
“আর বলবেন না। ওর এক বন্ধু একটা মারুতি নিয়ে ফেলল, তাতে বউয়ের প্রেস্টিজে লাগল।”
“তা তো বটেই! প্রস্টিজ তো পাংচার হতে দেওয়া যায় না? যা হোক, আমরা চোর নিয়ে আলোচনা করছিলাম।”
“তাই কি? আমার তো মনে হচ্ছিল, আপনি পূজাবার্ষিকীতে শীর্ষেন্দুবাবুর গল্প নিয়ে কিছু বলতে চাইছিলেন।”
“সে, একই হল। দেখুন না আজ এই অষ্টমী পুজোর দিন! কোথায় বাড়িতে হরাইজেন্টাল হয়ে পূজাবার্ষিকী পড়ব, তা নয় ডিউটিতে গেঁথে দিল।”
“ডিউটি? কীসের?”
“ওই এক রকম খেলার ডিউটি।”
“খেলা? আপনি স্পোর্টসম্যান নাকি? তা দেখে তেমনই আন্দাজ হচ্ছিল। বেশ পেশীবহুল চেহারা!”
“ওই একটু আধটু জিম করি।”
“নিশ্চয় বউএর গুঁতোয়।”
“তা হতে পারে।”
“হতে পারে মানে? আলবাত তাই। আমার ভুঁড়ি হয়ে যাচ্ছে বলে, বউ কত কী যে করে! ভাবতেই পারবেন না। চিয়া সিড, অ্যাপেল সিড থেকে কেটো ডায়েট, আরও কত কী!”
“তবে, ভূঁড়িটা বেশ নধর!”
“দেখলে হবে? খরচ আছে।”
“তা তো আছেই, আর খরচ আছে মানে রোজগারও আছে।”
“এটার একটা বর বউ থিওরি আছে।”
“এখানেও বউ?”
“কী বলছেন মশাই! সবখানে বউ। শুনুন, একজন বউ-এর কত খরচ করা উচিত? আপনার কী মনে হয়?”

[Political satire]
“আমার মনে হওয়াতে কী এসে যায়? আপনার থিওরি কী বলে?”
“বর-এর যা রোজগার, বউ-এর উচিত সবসময় তার চেয়ে বেশি খরচ করা।”
“সেকী? তাহলে চলবে কী করে?”
“হাসালেন মশাই। সেই জন্যই তো, বর-এর উচিত বউ-এর চাহিদার চেয়ে বেশি রোজগার করা। দুয়ে মিলে হল, বর বউ থিওরি।”
“তা আপনার কি বউ একজন?”
“মানে? কী বলতে চাইছেন?”
“আপনার স্ত্রী বোধহয় বছর কয়েক আগে গত হয়েছিলেন, তাই না?”
“আহা! আমি তো এটা একটা জেনেরিক স্টেটমেন্ট দিয়েছি। সকলের বউ-এর কথা ভেবে।”
“লজ্জা পাবেন না। আমি মরাল পুলিশ নই। আপনি শিক্ষিত, পূর্ণ বয়স্ক, সমাজের মাথা, আপনার এক দুটো বান্ধবী থাকলে কিছু এসে যায় না।”
“বলছেন? তা আমি একটু রসেবশে থাকি। জানেনই তো ঠাকুর বলে গেছেন।”
“আবার ওনাকে এর মধ্যে জড়াচ্ছেন কেন? উনি আমাদের স্বেচ্ছারিতার লাইসেন্স দিয়ে যান নি। বরং…”
“আচ্ছা আচ্ছা, ওনাকে বাদ দিয়ে বলছি। সবই মায়ের ইচ্ছা।”
“মায়ের ইচ্ছে তে বান্ধবী?”
“ও ভাবে নেবেন না। মা চাইলেন, ছেলেকে প্রেম-এ রাখবেন।”
“তা সেই জন্যেই কী ফুকেত ঘুরে এলেন?”
“বাবা! আপনি আমার ব্যাপারে এত সব জানলেন কী করে?”
“আরে না না! এ সবই আপনার ফেসবুকে ছবি দেখে।
“আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আপনি আছেন? আগে কখনও দেখিনি তো? এই আবাসনে নতুন?”
“নতুন বলতে, আজই সকালে আসতে হল।”
“তাই বলুন, তখন থেকে ভাবছি, আপনি আমাদের আবাসনের না আপিসের?”
“আমি সব জায়গার।”
“সব জায়গার কী করে?”
“ওই যেখানে কর্তৃপক্ষ পাঠাবে?”
“কোন কর্তৃপক্ষ?”
“সাইবার সেল, ভবানীভবন।”
“ভবানীভবন? আপনি এই আবাসনের কেউ না?”
“ওই ধরে নিন, আমি সবার। আপনার, আমার, আবাসনের, আপনার কোম্পানির।”
“কী হেঁয়ালি করছেন?”
“হেঁয়ালির কিছু নেই। আপনার বিরুদ্ধে আপনার কোম্পানি তহবিল তছরুপের অভিযোগ দায়ের করেছে। আর সেটি আপনি করেছেন ইন্টারনেট-এর মাধ্যমে। আমার কাছে ওয়ারেন্ট আছে। আমার সহকর্মীরা গত তিনঘন্টা ধরে, আপনার আপাতত খোঁজ পাওয়া চারটি ফ্ল্যাট সেঁচে ফেলেছে। আপনার স্ত্রী ওরফে বান্ধবী অনেকটাই বলে দিয়েছেন।”
“আঃ আপনি এরকম করতে পারেন না। এই কে আছিস? আশ্চর্য্য! কেউ আসছে না কেন?”
“সবাইকে আপনার নাম করে বলা আছে, জরুরী বৈঠক চলছে। কেউ যেন বিরক্ত না করে। উঁহু, উঠবেন না। পালাবার চেষ্টাও করবেন না। আর ফোনগুলোও দিয়ে দিন। আপনার উকিল কোকিল সবার সাথে আমরাই যোগাযোগ করিয়ে দেবো। চিন্তা করবেন না”
একসাথে পঁচিশটি ঢাক বেজে ওঠে। সন্ধিপুজো শুরু হয়ে গেল। ঘন ঘন উলু আর শঙ্খধ্বনিতে সম্পূর্ণ পরিবেশ অন্য রকম হয়ে ওঠে। শাদা পোশাকের কয়েক ডজন পুলিশ পান্ডেলের অদূরে এই কথোপকথনের জায়গাটা ঘিরে রাখে। বাইরে থেকে কেউই বুঝতে পারে না, ঠিক কী হচ্ছে? একটা নীল বাতি লাগানো সাদা গাড়ি এসে দাঁড়ায়।

“উঠে পড়ুন। নাকি হ্যান্ড কাফ লাগাতে হবে?”
“এটা কি ঠিক হচ্ছে?”
“তাহলে কি ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে ফেলব? অন্তত পাড়ার লোক এখনই এসে দেখতে পারবে।”
“আপনারা এভাবে কিন্তু পারেন না। আপনি ভাবতেই পারবেন না, আমি কী করতে পারি?”
“ভাবতে পারি না তো। সেই জন্যই আপনাকে নিয়ে যাওয়া জরুরী, সেখানে বসে, আমাদের পুরোটা ভাবার সুযোগ দেবেন। একটা একটা করে কীভাবে এই অর্থ জড়ো করেছেন?”
“আপনারা কিছু প্রমাণ করতে পারবেন না।”
“আপনি স্বীকার করে নিলে, আমাদের পরিশ্রম করে প্রমাণ করার প্রয়োজন হবে না।”
“আমি এখন চিৎকার করলে, এই ক্লাবের সবাই ছুটে আসবে। তখন আপনারা পালানোর পথ পাবেন না।”
“এখনই লোক জানাজানি করতে চাইলে, আমার আপত্তি নেই। আমি আপনার ব্যক্তিত্বর ওজন দেখেই গোপন করতে চাইছিলাম। তা, আপনি যদি সবাইকে জানাতে চান। এই কে আছেন?”
“আচ্ছা! লোক দেখানো চেঁচাতে হবে না। আমি গাড়িতে উঠছি।”
আশ্বিন আসে মানুষকে আশ্বস্ত করতে। তার রোদে, আকাশের নীলে, পুকুরের জলে নীরব মোক্ষণের কাজ চলে। সদ্য বিগত বর্ষার ঘোলা জল থিতিয়ে যায়। স্বচ্ছ জলের তলদেশ থেকে মৃণাল উঠে আসে শতদলের কুঁড়ি বুকে নিয়ে। দূষিত পদার্থ নিজে থেকেই সরে যায়। তেমনি ভাবে প্রভাবশালী, বিত্তশালী, ক্ষমতাবান চোর কে নিয়ে সাদা গাড়িটা বিশাল দুর্গা মন্ডপের থেকে ধীরে ধীরে অপসৃত হয়।
[Society scenario]
পরতে পরতে শ্লেষ, গল্পের মোড়কে সাম্প্রতিক কুনাট্য রঙ্গর উপভোগ্য উপস্থাপন।
উপভোগ্য রচনা। একদম শেষ লাইনটা না থাকলে, আমার মনে হয়েছে, অভিঘাতটা আরো তীক্ষ্ণ,আরো তীব্র হ’ত। অবশ্যই এটা একেবারে আমার নিজস্ব ধারণা।
আপনি পড়ছেন জেনেই সুখ