Category: ভ্রমণ

রাঢ় বাংলার অন্দরে
মুকুটমণিপুর। কলেজ জীবনে আমার প্রথম ফীল্ড ওয়ার্কের জায়গা। প্রসঙ্গতঃ, আমার পড়াশুনো এমন একটা বিষয় নিয়ে যে, অন্য বিজ্ঞানের শাখার practical টা যেমন laboratory র চারদেওয়ালের মধ্যে হয়, আমাদের laboratory টা হয় উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে, মাঠে-পাহাড়ে, পাথর দেখে দেখে! তো সেই সুবাদে, কলেজের সেকেন্ড ইয়ারে, ১৯৮২ সালে, আমাদের নিয়ে আসা হয়েছিল এই মুকুটমণিপুরে। তখনও এই জায়গা কোনো…

সাতকোশিয়ার সাতকাহন
উড়ানটাই জীবন। বাকি সময়টা সেই জীবনের জন্য অপেক্ষা করা। জুতোকে বিরাম দিতে নেই। এদিক ওদিক বেড়ানোর স্মৃতি নেড়েচেড়ে এই মুহূর্তে অপেক্ষা করি আবার কবে জুতোটা পায়ে উঠবে। গারদের মেয়াদ সবার বুকেই চেপে বসছে প্রতিদিন। শুধু প্রকৃতির কাছে সমর্পণ, নানা জায়গার উড়ান স্মৃতি নিয়ে জীবনের সাত কাহন গড়ে ওঠে। ভূতের রাজার জুতো পাইনি তো গুপীবাঘার মতো।…

“সিন্ধু পারের পাখি”: পণ্ডিচেরি
সম্প্রতি পণ্ডিচেরি গিয়েছিলাম। বছর শেষের ছুটির আমেজে কলকাতার বাইরে গিয়ে কদিন কাটিয়ে আসার ইচ্ছে তো ছিলই। তাছাড়াও ছিল আমার সতেরো বছর বয়সে দেখা সমুদ্রতীরবর্তী শহরটিতে আরেকবার ফেরার আকাঙ্ক্ষা। ফরাসি উপনিবেশ হিসেবে পণ্ডিচেরি শহরের স্থাপন হয়েছিল ১৬৭৩ সালে । কিন্তু বাঙালিদের সঙ্গে এখানকার বিশেষ যোগসূত্রের কারণ নিশ্চয়ই শ্রী অরবিন্দ ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত আশ্রম । অগ্নিযুগের তেজোদ্দীপ্ত…

জনৈক ভ্রমণবিলাসীর চোখে অন্য কাশ্মীর
সেবার লাদাক থেকে ফেরার পথে ফিরছিলাম। মাঝে দু’দিনের বিরতি শ্রীনগরে। এর আগেও দু’বার কাশ্মীর ভ্রমণ করেছি, কিন্তু ‘ডাউন টাউন’ কাশ্মীরে কখনো যাওয়া হয়ে ওঠেনি। যাঁরা জানেন না, তাঁদের জন্যে বলি, ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল শ্রীনগর শহরের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা শহর-ই-খাস নামে পরিচিত ডাউন টাউন। এলাকার বেশিরভাগটাই শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় পাঁচ…

নীলপাহাড়ের পাঁচালি
জন্মভূমিকে ‘রানি’ সবারই মনে হয়। তবে ভারতবর্ষকে হয়তো সকল দেশের ‘রানি’ ভেবে নেওয়ার সঙ্গত কারণ রয়েছে। শুধু সঙ্গত নয়, তারা সহজ ও স্বতঃসিদ্ধ। খুঁজতে গেলে দশদিগন্তই মানচিত্রের মধ্যে চলে আসবে। যেমন ধরা যায় ভারতীয় উপদ্বীপের পূর্বঘাট আর পশ্চিমঘাট পর্বতমালা । সেগুলির সৌন্দর্য এককথায় ‘স্বর্গরাজ্য’-এর মতোই। অবশ্য স্বর্গ আর কেই বা দেখেছে? পূর্বে বঙ্গোপসাগর আর পশ্চিমে…

পাহাড়ের দিনলিপি
গত ১৫ ই জুন ছিল আমাদের কলকাতা থেকে কালিম্পং রওনা হবার দিন। তার কিছু আগে থেকেই শুনছি উত্তর বঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা। কলকাতা আর দক্ষিণ বঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যখন বহুকাল বৃষ্টির দেখা নেই, উত্তর বাংলা তখন ভেসে যাচ্ছে অবিরল ধারাবর্ষণে। অতএব যাত্রাপথে বাধাবিঘ্নের আশঙ্কা যথেষ্ট ছিল, কিন্তু সেরকম কোন সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি। তিস্তাবাজারে পৌঁছেই…

হে পূর্ণ তব চরণের কাছে …(পর্ব ২)
[পর্ব -২] একসময়ে পৌঁছে গেলাম চিক্কা। এখানের উচ্চতা ৯৩০০ ফুট। নদীর পাশে একটুকরো সমতল জায়গা, সেখানে প্রচুর ভেড়া নিয়ে কয়েকজন মেষপালক, ভেড়াদের লোম কেটে বস্তাবন্দী করছে। পশমের বস্ত্র তো আমরা সকলেই গায়ে দিই, কিন্তু সেই পশম আহরণের একেবারে প্রাথমিক ধাপটা প্রথম চাক্ষুষ করলাম। বিশেষ একটা কায়দায় ভেড়াগুলোকে চেপে ধরে রেখে, একটা অদ্ভুত আকৃতির কাঁচি দিয়ে…

হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে …
[পর্ব -১] দিল্লি পৌঁছোনো অবধি একটু দ্বিধা ছিল, কীভাবে এগোব পরবর্তী গন্তব্যে। ইন্টারনেট মারফৎ জানা গেছিল, দিল্লি থেকে হিমাচল প্রদেশের কুলু আকাশপথে যাওয়া সম্ভব, কিন্তু তার টিকিট এই অন্ধ্রপ্রদেশের রাজামুন্দ্রিতে বসে পাওয়া সম্ভব ছিলনা (বলে রাখি, সময়টা ছিল ২০০৩ সাল) । তাই টিকিটের অনুরোধ রেখেছিলাম আমাদের দিল্লি অফিসে, কিন্তু কোনও উত্তর পাইনি। দ্বিধা সেই কারণেই…


