Category: বিস্মৃতিচারণা
রেবতীভূষণ
চলচ্চিত্র প্রযোজক বি এন সরকারের অনুরোধে বাংলা ভাষার সর্বপ্রথম অ্যানিমেশান ছবি ‘মিচকে পটাশ’এর চরিত্রায়ণ রেবতীভূষণেরই। ছবি আঁকার পাশাপাশি ছড়া লেখা, গান বাজনা, সাঁতারেও রেবতীভূষণের বিপুল উৎসাহ আজীবনের। তাঁর রচিত ছড়ার সঙ্কলনটির নাম “ছড়ানো বই”।
‘মাংপবী’ মৈত্রেয়ী দেবীর সান্নিধ্য-সুখ
বিস্মৃতিচারণা (১১) সময়টা আশির দশকের একেবারে গোড়ার দিক। সম্ভবত ১৯৮১ সাল। আমার পিতৃদেবের আগ্রহে বাড়িতে আসতে লাগল মৈত্রেয়ী দেবীর একের পর এক অসামান্য সব গ্রন্থ। ‘ন হন্যতে’ পড়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। এরপর হাতে এল ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ’। নেশা গভীর হল। আরও, আরও, আরও। এক মহীরুহর মানসকন্যার কলমে বিশ্ববরেণ্য কবির ব্যক্তিসত্তার অন্তরমথিত করা অনিঃশেষ উন্মোচন। পরের পর…
শিব ঠাকুরের আপন দেশে বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনে…(১০)
১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রস্তুতি চলছে কাশীতে সুবর্ণ জয়ন্তী বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের। সাহিত্যপ্রেমী বাঙালির সম্বৎসরিক তিন দিনের সম্মেলন। লেখক ও পাঠকদের এ এক সর্বভারতীয় মিলনমেলা। পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের শাখা-সংগঠনের মাধ্যমে সাহিত্য-সচেতন বাঙালি জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশের মানুষের মধ্যে সম্মেলনে উপস্থিত থাকার ব্যবস্থাদি চলছে পূর্ণদ্যোমে। বলে নেওয়া ভাল, আজকের সময়ে বসে সেদিনের সাহিত্যপিপাসু সাধারণ…
সরস সঞ্জীব-সান্নিধ্যে
বিস্মৃতিচারণা – পর্ব (৯) আশি ও নব্বইয়ের দশকে বাংলার রসসাহিত্যের অদ্বিতীয় লেখক তিনি। বাংলা সাহিত্যের পাঠক মাত্রেই জানেন যে ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়, রাজশেখর বসু (পরশুরাম) ও শিবরাম চক্রবর্তীর পর বাংলা সাহিত্যে রসের ধারাটিকে সজীব করে তুলেছিলেন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় তাঁর সহজাত দক্ষতায়। রাজনীতি, সমাজ, গৃহকোণ সর্বত্রই অবাধে বিচরণ করেছেন রঙ্গব্যঙ্গ, বিদ্রুপ ও শ্লেষের ক্ষুরধার ও তীক্ষ্ণ লেখনীটি…
শ্রীকান্ত-ইন্দ্রনাথের লীলাভূমিতে
বিস্মৃতিচারণা – পর্ব (৮) রাত্রে দেখা সুখস্বপ্ন যেমন কোনো ধারাবাহিকতার ধার ধারে না, ফেলে আসা বিস্মৃত সময়ের সুখস্মৃতিও ক্রমানুসারে মনের চালচিত্রে ধরা দেয় না. ওরা আসে কিছুটা অসংলগ্নতা নিয়ে, কিছুটা বিচ্ছিন্নভাবে। আপন খেয়ালে আপনিই ওরা আসে, আপনিই ভেসে চলে যায়।বিস্মৃতিচারণার এই পর্বের সূচনায় যে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি বার্ষিক অধিবেশনের মধুর স্মৃতিরোমন্থন আমার আলোচ্য বিষয়, ১০০ বছর…
বাংলা সাহিত্যের সম্মেলন থেকে ভেসে আসা বর্ণময় কিছু খন্ডচিত্র
বাংলা সাহিত্যের সম্মেলন থেকে ভেসে আসা বর্ণময় কিছু খন্ডচিত্র ইতিপূর্বে আপনাদের শুনিয়েছি বোম্বাইতে অনুষ্ঠিত ১৯৭৬-এর সাড়া জাগানো বঙ্গ সাহিত্য সম্মিলনের প্রথম দিনের প্রভাতী অধিবেশনে বিশিষ্ট সাহিত্যিকদের শরৎ-সাহিত্য বিতর্ক। তারই রেশ ধরে মনে পড়ছে অধিবেশনের তিনটি দিন ধরে পর্বে পর্বে ছোট ছোট ঘটনার আরও কিছু খন্ডচিত্র।
উত্তমকুমার সমীপে
সত্তরের দশকের প্রায় মধ্যভাগ। তখনও কলেজের গন্ডী পেরোইনি। একদিকে উত্তমকুমার, অন্যদিকে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে চলেছেন। বাকি সব মহীরুহসম শিল্পীদের কুর্নিশ করেও বলি, এক বিরাট সংখ্যক বাঙালির মতো এই দুজনকে নিয়ে আমাদের আবেগের আতিশয্য ছিল বেশি। তা, হেমন্তবাবুকে দেখা, একাধিক বার তাঁর গান শোনা, হয়ে গেছে। কিন্ত মহানায়কের সাক্ষাৎ দর্শন? তার সুলুক সন্ধান তখনও…
আরব সাগর তীরের সাহিত্য বাসরে সুনীল, সন্তোষকুমার, সমরেশ এবং শরৎচন্দ্র
বিস্মৃতিচারণা (পাঁচ) সালটা ১৯৭৬। ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শতবর্ষ পূরণের উদযাপন উপলক্ষ্যে সুদূর বোম্বাইতে বসেছে বাংলা সাহিত্যের তিন দিন ব্যাপী রাজসূয় সাহিত্য বাসর। তখনও বাণিজ্য নগরী দেশী নামকরণে মুম্বাই হয়ে যায়নি আর বঙ্গ সাহিত্যেরও এমন নক্ষত্রবিহীন ম্যাড়ম্যাড়ে দুর্দশাগ্রস্ত হালচাল হয়নি। প্রখ্যাত ‘দেশ’ সম্পাদক সাগরময় ঘোষের কণিষ্ঠ ভ্রাতা স্বনামধন্য প্রবাসী সাংবাদিক সলিল ঘোষের আহ্বানে…
শিব্রাম চকরবরতি ও পেনেটির গুপো সন্দেশ
বিস্মৃতিচারণা (পর্ব ৪) আমার এবারের বিস্মৃতিচারণায় ভেসে আসছে সত্তরের দশকের মাঝামাঝি বাংলা সাহিত্যের রসসম্রাট শিবরাম চক্রবর্তীর আগরপাড়ার প্রভাসতীর্থে আগমন ও তাঁর অসামান্য ভোজনপ্রিয়তার ইতিবৃত্ত। কলকাতার বঙ্গ সাহিত্য সম্মিলনের তিন দিনব্যাপী আসর বসেছে প্রভাসতীর্থের সভাঘরে। এক এক দিন বিভিন্ন পর্বে এক একটি বিষয় নিয়ে বিশিষ্ট অতিথিদের বক্তৃতা, আলোচনা, সাহিত্য পাঠ। আসছেন বাংলা সাহিত্যের তদানীন্তন কুশীলবরা। দিনটা…
বিচিত্রকর্মা এক ঠাকুরের কথা
বিস্মৃতিচারণা – পর্ব (৩) স্মৃতি-বিস্মৃতির আলপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে খ্যাত অখ্যাত কত মানুষই যে ভেসে ওঠেন চোখের সামনে! আজ আমার কৈশোর স্মৃতির আয়নায় ধরা দিলেন রবীন্দ্রনাথের তৃতীয় প্রজন্মের এক অসামান্য পুরুষ। তিনি সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। পরিচয়টা একটু বিশদভাবে জানিয়ে আমার স্মৃতির ঝাঁপিটি খুলব। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের প্রপৌত্র, কবির বড়দাদা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৌত্র তিনি। পিতা, সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর।…