Category: সোমেন দে
আমাদের সাজ পোশাকে বাঙালিয়ানা- একটি অগোছালো অন্বেষণ
যখন ইংল্যান্ডে প্রথম রেলগাড়ি চালানোর প্রস্তুতি চলছিল, তখন নানা মহল থেকে নানা রকমের প্রতিবাদ উঠছিল। লোকে নানা রকমের ভয় পাচ্ছিল। তার মধ্যে কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থ ইংল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গ্ল্যাডস্টোনকে একটি চিঠি লিখে তাঁর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল এইভাবে এক জায়গার সঙ্গে আর জায়গা জুড়ে দিলে সেই জায়গায় দেশের স্থানীয় বৈশিষ্ট্যগুলি (staple of the country) নষ্ট…
বাঙালি-বিয়ের প্রথা এবং পরম্পরার প্রেক্ষাপট
একজন পুরুষ অথবা একজন নারী যখন সজ্ঞানে নিজেদের জন্য জীবনসঙ্গী বা জীবনসঙ্গিনী নির্বাচন করবে তার মধ্যে ধর্ম কেন এসে নাক গলাবে এ নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঐতিহ্য, পরম্পরা, বিশ্বাস, ইতিহাস, শিকড়, পুরুষানুক্রম এই রকম কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যখন চলে এসেছে তখন অন্য সব আধুনিকতার যুক্তিগুলি পিছু হটেছে। রয়ে গেছে যা আমাদের চিয়ায়ত,…
বটতলা থেকে কলেজ স্ট্রিট – বাংলা বইয়ের পথচলা
ন্যাথিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড সাহেবের ‘ অ্যা গ্রামার অফ দি বেংগলি ল্যাঙ্গুয়েজ’ ছাপা হয়েছিল ১৭৭৮ সালে। বইটি ইংরেজিতে হলেও তাতে রামায়ন, মহাভারত, বিদ্যাসুন্দর ইত্যাদি বাংলা বই থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছিল বাংলা হরফে। সেই হরফ তৈরি করেছিলেন উইলকিনসন নামের এক সাহেব। কিন্তু তারও বছর পাঁচেক আগে উইলিয়াম বোলটস নামের এক সাহেব অনেক পরিশ্রম করে বাংলা হরফ তৈরি…
‘মধ্যবিত্ত বাঙালি ভদ্রলোক’-দের গেছে যে দিন সে কি একেবারেই গেছে …!
আমরা যদি অভিধানে ‘ভদ্রলোক’ শব্দের অর্থ খুঁজতে যাই তা হলে যে সব অর্থ দেখতে পাবো তার সঙ্গে ‘ভদ্রলোক’ শ্রেণি বলতে আসলে যা বোঝায় তার যথার্থ মিল পাবো না। অথবা যা পাবো তা অন্ধের হস্তী দর্শনের মত। খন্ডিত অংশের আভাষ মাত্র। অভিধানে ভদ্রলোকের প্রতিশব্দ বোঝাতে কোথাও লেখা আছে – ‘ভালো আচরণসম্পন্ন ব্যক্তি’ কোথাও বা ‘সজ্জন’ কোথাও…
বাংলা রঙ্গমঞ্চের নটীদের আঁধার পেরিয়ে আসার ইতিবৃত্ত
বাঙালি জাতির সূচনার অনেক রকমের ব্যাখ্যার মধ্যে বাংলাভাষার সৃষ্টিকাল থেকেই বাংলা সংস্কৃতির শুরু সেই ব্যাখ্যাতেই আপাতত থাকা যাক। সেই ব্যাখ্যা অনুযায়ী প্রাচীনতম বাঙলা বলা হয় চর্যাপদকে। সেই চর্যাপদের বৌদ্ধ চর্যাগীতিতে এক জায়গায় একটি পদ পাওয়া যাচ্ছে –নাচন্তি বাজিল, গান্তি দেবীবুদ্ধনাটক বিসমা হোই॥ অর্থাৎ অভিনেতা নাচছে, অভিনেত্রী গান গাইছে। বুদ্ধনাটকের এর চেয়ে বেশি বিবরণ আর কিছু…
কৃত্রিম মেধা – নুতন যুগের ভোরে, কিছু ভয় ও কিছু ভাবনা
আমরা হলাম সেই প্রজন্মের মানুষ যারা এক জীবনে দম ঘোরানো গ্রামাফোনের টার্নটেবিলে কালো চাকতির ভিনাইল রেকর্ড বসিয়ে কান পেতে গান শুনেছি আবার এখন এলেক্সাকে ইচ্ছে মত গানের ফরমায়েশ করে ‘ব্লু-টুথ’ ইয়ারফোন লাগিয়েও গান শুনছি। দোয়াতে কলম ডুবিয়ে রয়্যাল ব্লু, সুলেখা কালি দিয়ে রুল টানা ফুলস্কেপ খাতায় লেখায় হাত পাকিয়েছি, আবার এখন বিনা কালি-কলমে ল্যাপটপের স্ক্রিনে…
‘পুজোর গান’ এবং বাংলা বেসিক গানের স্বর্ণযুগের তিন অধ্যায়
বাঙালির হয়তো তেমন ব্যবসাবুদ্ধি নেই, অর্থবান হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা নেই, প্রতিষ্ঠা পাবার তীব্র বাসনা নেই। তাই জাত হিসেবে, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে; এটা সত্যি। কিন্তু বাঙালির প্রাণে চিরকাল গান ছিল ভরপুর। দুঃখে, শোকে, উৎসবে, জন্ম, মৃত্যু, বিবাহে সবেতেই বাঙালি গান গায়। নৌকো বাইতে বাইতে, ধান রুইতে রুইতে, ছাত পেটাতে পেটাতে বাঙালি গান রচনা করেছে, এবং গলা…
বিয়ের পদ্য – বাঙালির একটি অবলুপ্ত রীতি
বাঙালিয়ানার অবক্ষয় বা ক্রমাবলুপ্তির প্রকৃত কারণটি কি বাহিরের নয়, আমাদের অন্তরের? প্রশ্ন তুলেছেন লেখক।
দিনান্তবেলায় শেষের ফসল…
পাহাড়ের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের প্রেম তো সেই ছোটোবেলা থেকেই । তাই পাহাড় খুব টানতো তাঁকে। আর মংপু ছিল রবীন্দ্রনাথের খুব প্রিয় পাহাড়ি জায়গা। সেখানে তাঁর স্নেহের মৈত্রেয়ীর বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করছেন এইবার নিয়ে চতুর্থবার। ১৯৪০শের ৫ই মে তারিখে সেখানে একটি ছোটো উৎসবের আয়োজন করা হল। রবীন্দ্রনাথের আশি-তম জন্মদিনের অনুষ্ঠান। জন্মদিন দুদিন আগেই সেরে নেওয়ার কারন, দু’এক…
কোম্পানি-আমলের কোলকাতা এবং বাঙালির কারিগরি কেরামতি
রবীন্দ্রনাথের জীবনস্মৃতিতে সীতানাথ ঘোষ নামের এক ব্যাক্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন। সীতানাথ ঘোষ রবীন্দ্রনাথের প্রাকৃত বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু তাঁর নেশা ছিল নানা রকমের কলকব্জা বানানো। ১৮৭০ সালের হিন্দু মেলায় সীতানাথ ঘোষ তাঁর নিজের তৈরি এয়ার পাম্প এবং যন্ত্র-চালিত তাঁত প্রদর্শন করেছিলেন। তাঁর উদ্ভাবিত যন্ত্রের শেষ পর্যন্ত কি হয়েছিল তা বিশেষ জানা না গেলেও সেই সময়ে…